আসুন, আমরা সবাই নবী মুহাম্মদের আদর্শ অনুসরন করি

আমরা বিশ্বাস করি , মুহাম্মদ হলেন দুনিয়ার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ আর তার আদর্শ অনুসরন করা আমাদের জন্য আবশ্যক। তার আদর্শ অনুসরন করেই আমরা হতে পারি দুনিয়ার সবচাইতে সভ্য ও উন্নত জাতি। তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি বলেই মুসলমানদের আজকের এই দুর্দশা। এখন নবী মুহাম্মদের আদর্শগুলো ভালভাবে জানা যাক।

নবী মুহাম্মদের আদর্শ জানার সবচাইতে ভাল উৎস হলো – কোরান , হাদিস ও সিরাত। কোরান হাদিস ও সিরাত ঘেটে যা জানা গেছে , তার সংক্ষিপ্ত বিবরন নিচে দেয়া হলো:

১। আমাদের নবী ছিলেন গরীব দু:খী মানুষের প্রতি দয়াশীল। তাই আমরাও তার মত গরীব দু:খীদেরকে ভালবাসি ও সাহায্য করি।
২। মুহাম্মদ ছিলেন কৌশলী, যেমন – তিনি পরিস্থিতি বুঝে আচরন করতেন ও বিচার করতেন। তাই আমরাও কৌশলী হই ও তার পথ অনুসরন করি।
৩। মুহাম্মদ ছিলেন পরজীবি, যেমন তিনি খাজিদাকে বিয়ে করার পর ঘরজামাই হয়ে খাদিজার সম্পদের ওপর ভর দিয়ে জীবন কাটাতেন। তাই আসুন , আমরাও পরজীবি হই।
৪। মুহম্মদ ছিলেন বহুগামী, তিনি জানা মতে ১৩ টা বিয়ে করেছিলেন। তাই আসুন আমরাও ১৩টা বিয়ে করি।
৫। মুহাম্মদ দাসীদের সাথে সহবত খুব ভালবাসতেন। তিনি মারিয়া নামের এক সুন্দরী দাসীর সাথে নিয়মিত সহবত করতেন। তাই আসুন আমরাও দাসীদের সাথে সহবত করি। এখন দাস প্রথা না থাকায়, কাজের বেটির সাথে সহবত করি।
৬। মুহাম্মদ যুদ্ধবন্দিনী নারীদের সাথে সহবত করতেন ও তার সাহাবীদেরকে সেটা করতে বলেছেন। তাই আসুন , আমরাও কাফের , ইহুদি নাসারাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে , তাদের নারীদেরকে বন্দি করে তাদের সাথে সহবত করি।
৭। মুহাম্মদ তার পালিত পুত্রের বধু জয়নবকে বিয়ে করেছিলেন। তাই আসুন আমরাও কোন এতিম শিশুকে পালক নিয়ে , তাকে বিয়ে দেয়ার পর , আবার তালাক দিয়ে তার স্ত্রীকে বিয়ে করি।
৮। মুহাম্মদ শিশুদের খুব ভালবাসতেন, তাই তিনি ৫১ বছর বয়েসে ৬ বছর বয়েসের আয়শাকে বিয়ে করেন। তাই আসুন আমরাও বুড়াকালে ৬ বছরের শিশু বিয়ে করি।
৯। মুহাম্মদ ৯ বছরের শিশু আয়শার সাথে যৌনসঙ্গম করেন। তাই আসুন , আমরাও তার আদর্শ অনুসরন করে , কোন শিশুকে বিয়ে করে তার ৯ বছর বয়েসে তার সাথে যৌনসঙ্গম করি।
১০। হাদিসে আছে , নবী কোন নারীকে দেখামাত্র উত্তেজিত হয়ে পড়তেন , সাথে সাথে বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম করতেন। তাই আসুন আমরাও রাস্তায় কোন নারী দেখলে উত্তেজিত হয়ে পড়ি ও নবীর পথ অনুসরন করি।
১১। নবী মদিনার জীবনে , বানিজ্য কাফেলা আক্রমন করে , মালামাল লুটপাট করতেন , বনিকদেরকে হত্যা করতেন। এটা ছিল আসলে ডাকাতি। আসুন আমরাও নবীর আদর্শ অনুসরন করে , ডাকাতি শুরু করি। ডাকাতি করা মালামালকে গণিমতের মাল হিসাবে ভোগ করি।
১২। আমাদের নবী বলেছেন – যে পর্যন্ত শেষ অমুসলিম ইসলাম গ্রহন না করবে , ততক্ষন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যেতে হবে। তাই আসুন , আমরা দুনিয়ার সকল অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে , নিজেদের জান ও মাল দিয়ে অর্থাৎ প্রয়োজনে , আত্মঘাতী হামলা করে হলেও অমুসলিমদেরকে নিধন করি।
১৩। নবীকে কেউ সমালোচনা করলে , তিনি তাকে হত্যা করতেন। আসুন তারই দেখান পথে , যারাই নবীর সমালোচনা করবে , তাদেরকে চাপাতি দিয়ে হত্যা করি।

নবীর আরও অনেক আদর্শের বর্ননা দেয়া যাবে। তবে আপাতত: যেগুলো বলা হলো , সেগুলোই পালনের চেষ্টা করি। আর তাহলেই আমরা হতে পারব খাটি সহিহ মুসলমান। তাহলে বেহেস্তের পথ আর আটকায় কে ? বলুন , সুবহান আল্লাহ !

নারায় তাকবির , আল্লাহু আকবর !
আল কোরানের আলো , ঘরে ঘরে জ্বালো
আল হাদিসের আলো, ঘরে ঘরে জ্বালো
আমরা সবাই তালেবান , বাংলা হবে আফগান

বি: দ্র: কেউ যদি নবীর আদর্শের ব্যাপারে দলিল থেকে প্রমান চায়, সেটা সাথে সাথে সরবরাহ করা হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “আসুন, আমরা সবাই নবী মুহাম্মদের আদর্শ অনুসরন করি

  1. নবীকে অনুসরন করতে চাইলে
    নবীকে অনুসরন করতে চাইলে কিন্তু সঠিক ভাবে অনুসরন করতে হবে।
    তিনি ইসলাম প্রচার করতেন , তিনি নামাজ পড়তেন , মানুষকে এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে বলতেন, তিনি ৩ জন বিধবা আর ২ জন তালাক প্রাপ্ত মহিলা বিয়ে করেছিলেন, তিনি ২৫ বছর বয়েসে ৪০ বছর বয়েসের তালাক প্রাপ্ত মহিলা বিয়ে করেছিলেন। তিনি কৃত দাস-দাসীদেরকে মুক্তি দিতে আদেশ দিতেন , নারীদের সম্পত্তির উত্তঅরাধিকারের আইন চালু করেছিলেন, গরীবদের জন্য যাকাত চালু করেছেন।
    তাহলে এইসব আপনারাও অনুসরন করুন। কি পারবেন?

    1. মুহাম্মদকে দোষে-গুণে একজন
      মুহাম্মদকে দোষে-গুণে একজন মানুষ ধরে নিলে তো আর সমস্যা থাকে না। কিন্তু তাকে সর্বকালের জন্য আদর্শ, নবি-রসুল এগুলো দাবি করে বসলেই সমস্যা।

      আপনার কাছ থেকে একটি বিষয় জানতে চাই। মুহাম্মদ আর কি কি অপকর্ম করলে তাকে নবি বলে বিশ্বাস করবেন না?

      1. ওমা! আপনারা কোরান, হাদীস আর
        ওমা! আপনারা কোরান, হাদীস আর সীরাত থেকেই তো মুহাম্মদ সা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন । কাজেই আপনাদের দাবী অনুযায়ী কোরান, হাদীস আর সীরাতের পরিবেশিত তথ্য সত্য হয়ে থাকে তাহলে তো কোরান আর সীরাতে মুহাম্মদ সা কে আল্লাহর নবী আর রাসূল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে , সেটাও সত্য। তাই মুহাম্মদ সা নবী বা রাসূল হিসেবে মানতে আমার বা আপনার কাররই সমস্যা হবার কথা নয়। নাকি বলেন!!

    2. জনাব ব্লগে যে আপনার ছবি
      জনাব ব্লগে যে আপনার ছবি দিয়েছেন তা কি জায়েজ ?

      হাদীস শরীফ-এ প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার বিষয়ে দলীল নিচে দেওয়া হলো। عن ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كل مصور فى النار. অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত হাবীবুল্লাহ হুযূর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি ইরশাদ করেন, “প্রত্যেক ছবি তুলনে ওয়ালা জাহান্নামী।” নাঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)

      عن ابى معاوية رضى الله تعالى عنه ان من اشد اهل النار يوم القيمة عذابا المصورون. অর্থ: হযরত আবূ মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উঁনার হতে বর্ণিত, “নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আজাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে।” (মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ পৃঃ ২০১)

      عن عبد الله بن مسعود رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اشد الناس عذابا عند الله المصورون. অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিঁনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন হুযূর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনাকে বলতে শুনেছি- তিঁনি বলেছেন, মহান আল্লাহ্ পাঁক তিঁনি ঐ ব্যক্তিকে কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে। (মিশকাত শরীফ- ৩৮৫)

      عن عبد الله بن عمر رضى الله تعالى عنه اخبره ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الذين يصنعون هذه الصور يعذبون يوم القيمة يقال لهم احيوا ما خلقتم. অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উঁনার হতে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি ইরশাদ করেন, “যারা প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। এবং তাদেরকে বলা হবে, যে ছবিগুলো তোমরা তৈরী করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান কর।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ৮৮০, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ২০১)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 4 =