ভাল লাগে,এই ভেবে

অনেকটা সময় আগের কথা ।আমি তখন বেশ ছোট।টিভি চ্যানেল বলতে তখন শুধু বিটিভি ।হুমায়ুন আহমেদ স্যারের নাটক মানুষের কাছে তখন রাতে ভাত খাবার পর অনেকটা এন্টাসিডের মতো। আমি তখন তার নাটকের কিছুই বুঝতাম না।বরাবরই ফাকিবাজ। তাই সবার সাথে আমিও নাটক দেখতে লেগে যেতাম। কিন্তু গোলটা বাধতো নাটক শুরু হওয়ার পর।হুমায়ুন আহমেদ স্যারের নাটকের শুরুতেই একটা চাঁদ দেখাতো ।একটা পুর্নিমার চাঁদ।চাঁদটা দেখা যাচ্ছে কোন এক অজ্ঞ্যাত ব্যক্তির জানালা থেকে। চাঁদ টা ঠায় দাড়িয়ে, মেঘ আসছে আবার চলে যাচ্ছে । আর সেই চাঁদ টা দেখেই আমি একদম মুষরে যেতাম।একটা অশরীরী ভয় আমাকে গ্রাস করে নিতও সে সময় ।কাউকে কক্ষনো বলিনি সে ভয়ের কথা,পাছে আমার ফাকি বাজি করার রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যায়।কিন্তু সেই চাঁদ টা ছিলও আমার দেখা সবচেয়ে মন খারাপ করা চাঁদ ।একটা পুর্নিমার চাঁদ কি করে এতটা বিষন্ন হতে পারে আমি জানি না।এরপর দিনে দিনে অনেক দিন চলে গেছে।কবে যে সেই চাঁদ টার কথা মন থেকে মুছে গিয়েছিল মনের অজান্তে আমি নিজেও জানি না । সেই ছোট্ট আমিটি স্কুল কলেজের গন্ডি পেরিয়েছি অনেক আগে। নিজ গৃহ ত্যাগ করে সন্যাসী হয়েছি আজ প্রায় চার বছর।সন্যাস জীবনের সব চেয়ে বড় শর্ত, জীবনে যাই ঘ্টুক না কেন অবাক হওয়া যাবে না । আমিও তাই মেনেই চলছিলাম ।কিন্তু পৃথিবীতে সবই চলে এক অপার নিয়মে ।বাদ সাধলো সেই চাঁদ। অবাক না হয়ে পারলাম না ।আজ দিন শেষে নিজ গৃহে এসে নিজের অজান্তে জানালায় তাকিয়ে যখন দেখলাম সেই চাঁদ টা আজ আমার জানালায়,স্তম্ভিত না হয়ে পারলাম না।সেই আগের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে ।পার্থক্য শুধু এটুকুই ,আজ সেটা বিটিভি তে নয় ,বাস্তবে ।কোন এক অজ্ঞাত ব্যক্তির জানালা নয়,জানালা টা আমার । আর সেই অজ্ঞাত ব্যক্তিটা আর কেউ নয় ,আমি।সত্য বড় নির্মম,বড় কঠিন ।আজ সেই চাঁদ কে দেখে আর সেই অশরীরী ভয়ে মুষরে যাইনি ।বরং আনন্দে একটু হেসে উঠেছি। চাঁদ টা কত একা ।আমি অন্তত অতটা একা নই ।যখন বিষাদ ব্যথা দুঃখে ক্লানিতে নুয়ে পড়ি,আর একটু পথ চলতে কষ্ট হয় ,নিজেকে বড় একা মনে হয়, তখন নিজের জন্য ১০ টা মিনিট সময় বের করে নিয়ে এই পৃথিবী কে লাথি মারলে খুব একটা ক্ষতি হয়না। বরং বাঁচার জন্য আরো কিছুটা ইচ্ছে নিজের ভেতর থেকে জেগে ওঠে।ওই চাঁদ টা কে দেখি কিছুক্ষন।মনটাই ভাল হয়ে হেসে ওঠে নিজ আনন্দে ।কবির ভাষায় বললে,
এটাই তো সন্যাসীর জীবন ,
পরম সন্যাস,পরম ধর্ম ,
কয়জনায় পারে তারে গ্রহন করিতে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 1