রক্তের দায় শুধিতে হবে আজ

রাজাকারদের বিচার পুর্বক দ্রুত ফাসি কার্যকর দেখতে চাই। খুব দ্রুত রাজাকারদের বিচার সম্পন্ন পুর্বক ফাঁসি কার্যকর চাই। সেই সাথে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে ও জামায়াতিরা যে ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী তা জনগনকে পবিত্র কুরআন শরীফ, হাদিস ও প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ এর আলোকে বুঝাতে হবে। এই বিষয়ে সরকারকে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ১৯৭৫ এর পর হতেই পাকিস্তানী প্রেতাত্মা জামায়াত-শিবির ভয়ংকর ফনা তুলেছে। বিষে বিষে নীল করছে আমার লাল সবুজের পতাকা, আমার মানচিত্র আর আমার প্রিয় শহীদ মিনার। নিয়েছে আমার রক্ত। ছিন্নভিন্ন করছে আমার নীল নিলিমা আর সবুজ ভুমিকে। এখন তা ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। বাংলাদেশকে স্বাধীনতা অর্জন করতে মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে যে পরিমান ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তার সমতুল্য আর কোন ইতিহাস পৃথিবীর বুকে এখনও রচিত হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

এদেশের সাধারণ মানুষ লড়াই করেছিল পাকিস্তানের সুশিক্ষিত ভারী সমরাস্ত্র সজ্জিত সেনাবাহিনীর নরপশুদের বিরুদ্ধে। এই লড়াই এই দুই পক্ষের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলে হয়তো আর দশটা দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মতো এই ইতিহাসকেও বিশ্লেষণ করাটা সহজ হয়ে যেত। কিন্তু তা হয়নি। আমাদের দেশের জনগনকে লড়তে হয়েছে এ দেশীয় কিছু বেজন্মার বিরুদ্ধেও। যারা এদেশের আলো-হাওয়াতে পরিপুষ্ট হয়ে ধর্মের নাম ভাঙিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীকে সমর্থন করেছিল পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে। এই রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস গোষ্ঠী পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করতে গিয়ে গলায় ছুরি চালিয়েছিল এদেশের জনগনের। গনিমতের মাল সাপ্লাই এর দায়িত্ব নিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতন ক্যাম্পগুলোতে। কারণ পবিত্র যুদ্ধের নামে সব জায়েজ। ১৯৭১ সালে জামাত রাজাকার আল বদর আল শামস এর সহায়তায় পাকিদের নারী নির্যাতন [শাহনাজ পারভিনের গবেষণাধর্মী গ্রন্থ “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীর অবদান” শীর্ষক বইটি থেকে ‘নির্যাতনের স্বরূপ’ দেয়া হল (পৃষ্ঠা: ১৬৩ থেকে ১৬৫)। নির্মম এবং বেদনাদায়ক তথ্যগুলো সংবেদনশীল ও দুর্বল চিত্তের পাঠকদের জন্য হানিকারক হতে পারে।]

নারী নির্যাতন ১৯৭১ – নির্যাতনের স্বরূপঃ

(১) পাঞ্জাবী সেনারা প্রতিটি যুবতী মহিলা ও বালিকার পরনের কাপড় খুলে একেবারে উলঙ্গ করে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়ে বীভৎস ধর্ষণে লিপ্ত হতো।

(২) পাকসেনারা অনেক সময় মেয়েদের পাগলের মতো ধর্ষণ করে বক্ষের স্তন ও গালের মাংস কামড়াতে কামড়াতে রক্তাক্ত করে দিত, বর্বর পাকসেনাদের উদ্ধত ও উন্মত্ত কামড়ে অনেক কচি মেয়ের স্তনসহ বক্ষের মাংস উঠে এসেছিল; মেয়েদের গাল, পেট, ঘাড়, বক্ষ, পিঠের ও কোমরের অংশ পাকসেনাদের অবিরাম দংশনে রক্তাক্ত হয়ে যেত।

(৩) সাধারণত যে সকল বাঙ্গালি যুবতী প্রমত্ত পাশবিকতার শিকার হতে অস্বীকার করতো তাদেরকে তৎক্ষণাৎ নরপশু পাঞ্জাবি সেনারা চুল ধরে টেনে এনে স্তন ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে, ওদের যোনি ও গুহ্য দ্বারের মধ্যে বন্ধুকের নল বেয়নেট ও ধারালো ছুরি ঢুকিয়ে দিয়ে বীভৎসভাবে হত্যা করতো।

(৪) অনেক উচ্চপদস্থ পাঞ্জাবি সামরিক অফিসার মদ খেয়ে হিংস্র বাঘের মতো উলঙ্গ বালিকা, যুবতী ও বাঙ্গাল মহিলাদের উপর সারাক্ষণ পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করতো। বহু অল্প বয়স্ক বালিকা নরপশুদের উপর্যুপরি ধর্ষণ ও অবিরাম অত্যাচারে রক্তাক্ত দেহে কাতরাতে কাতরাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতো।

(৫) অনেক সময় প্রাণ ভয়ে অন্যান্য মেয়েরা স্বেচ্ছায় পাক নরপশুদের সম্মুখে আত্মসমর্পণ করতো। তাদেরকেও একদিন ধরে ছুড়ি চালিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে বীভৎসভাবে হত্যা করে আনন্দ উপভোগ করতো পাকসেনারা।

(৬) অনেক যুবতী মেয়েকে মোটা লোহার রডের সাথে চুল বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হতো। পাকসেনারা প্রতিদিন সেখানে যাতায়াত করতো, কেউ এসে সেই ঝুলন্ত উলঙ্গ দেহে উন্মত্ত ভাবে আঘাত করতে থাকতো, কেউ তাদের বক্ষের স্তন কেটে নিয়ে যেত, কেউ হাসতে হাসতে তাদের যোনিপথে লাঠি ঢুকিয়ে আনন্দ উপভোগ করতো, কেউ ধারল চাকু দিয়ে কোনো যুবতীর পাছার মাংস আস্তে আস্তে কেটে আনন্দ করতো, কেউ উঁচু চেয়ারে দাঁড়িয়ে উন্মুক্ত বক্ষ মেয়েদের স্তনে মুখ লাগিয়ে ধারাল দাঁত দিয়ে স্তনের মাংস তুলে নিয়ে আনন্দে অট্টহাসি করতো। এসব অত্যাচারে কোনো মেয়ে কোনো প্রকার চিৎকার করতে তার যোনিপথ দিয়ে লোহার রড ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করা হতো।

(৭) অনেক সময় মেয়েদের হাত পিছনের দিতে বেঁধে ঝুলে রাখা হয়েছিল। পাঞ্জাবি সেনারা সেই ঝুলন্ত উলঙ্গ মেয়েদের এলোপাথাড়ি বেদম প্রহার করতো। এভাবে প্রতিদিন বিরামহীন প্রথারে মেয়েদের শরীর থেকে রক্ত ঝরত। কোনো মেয়ের সামনে দাঁত ছিল না, ঠোঁটের দুইদিকের মাংস কামড়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল এবং প্রতিটি মেয়ের আঙ্গুল লাঠি ও রডের অবিরাম পিটুনিতে ভেঙ্গে থেঁতলে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এক মুহূর্তের জন্যও এসব অত্যাচারিত লাঞ্ছিত মেয়েদের প্রস্রাব পায়খানা করার জন্য বাঁধন খুলে দেয়া হত না। অবিরাম নির্মম ভাবে ধর্ষণের ফলে অনেক মেয়ে ঝুলন্ত অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করতো।

(৮) অনেক বন্দি বাঙালি মেয়েদেরকে নদীতে শিকল বাঁধা অবস্থায় স্নান করতে যেত দিত। স্নান করতে একটু দেরি হলেই পাকসেনারা তাদের ঘাঁটি থেকে শিকল ধরে টানাটানি করতো। অনেক সময় শিকলের টানাটানিতে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় রক্তাক্ত দেহে সেউ মেয়দেরকে ঘাঁটিতে পৌঁছতে হতো।

(৯) প্রথম অবস্থায় ক্যাম্পে পাক হানাদারদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেক বাঙালি মেয়েরা পরিধানের ওড়না বা শাড়ির ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলে এরপর থেকে পাকসেনারা মেয়েদের বিবস্ত্র অবস্থায় বন্দি করে রাখে।

(১০) বর্বর পাকসেনারা গর্ভবতী মহিলাকেও নির্মমভাবে ধর্ষণ করে। এতে অনেকেই মৃত্যুবরণ করে।

(১১) পাকসেনারা হঠাৎ গ্রামে অভিযান চালিয়ে পলায়নরত মহিলাকে তাড়িয়ে জোর করে ধরে প্রকাশ্যে দিবালোকে পথে প্রান্তরে ধর্ষণে লিপ্ত হতো।

(১২) পাকসেনারা হঠাৎ কোনো বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পিতার সামনে মেয়েকে ও স্বামীর সামনে স্ত্রীকে পাশবিক অত্যাচার চালাত। পাকিস্তানের রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক মদদপুষ্ট এই দেশদ্রোহী গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের সময় হিটলার বেঁচে থাকলে তিনি হয়তো গোলাম আজম, সাইদী, নিজামী এসব ষড়যন্ত্রকারী দেশদ্রোহীর কাছে দীক্ষা নিতে আসতেন। পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাংলাদেশকে অবকাঠামোগত ভাবে ধ্বংস করে যাচ্ছিল, যখন সদ্য স্বাধীনতা ঘোষিত হওয়া দেশের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়ে তাকে পঙ্গু করে দেয়ার উদ্দেশ্যে নারকীয় তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছিল তখন তাদের আশির্বাদপুষ্ট এই রাজাকারবাহিনী এদেশের মানুষকে হত্যা করার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবেই মেধাশুন্য করে চিরদিনের মতো বিকলাঙ্গ করে দেয়ার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বিধর্মী ও কাফের হত্যার মহান দায়িত্বে নিয়োজিত এই খুনির দল যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে পরিকল্পনার ছক অনুযায়ী দেশের বুদ্ধিজীবি ও প্রথম সারির আন্দোলনকারীদের হত্যা করে তাদের স্মৃতি দেশের মানচিত্র থেকে মুছে দেয়ার কর্ম সম্পাদন শুরু করে। তাদের চরম আঘাত ছিলো ১৪ই ডিসেম্বরের মাত্র এক রাতের মাঝে দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবিকে বধ্যভূমিতে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা। তাদের এই পরিকল্পনার প্রধান কারণ ছিলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী শুভ বুদ্ধির অসাম্প্রদায়িক মানুষগুলোকে হত্যা করে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলাদেশের রক্তস্নাত জন্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ রাখা, যাতে স্বাধীন ভূখন্ড অর্জনের পরেও বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে না পারে। স্বাধীনতার পরে যেসব মানুষের হাতে দেশকে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হতো তাদের হত্যা করে বাংলাদেশের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে এবং দেশের নতুন প্রজন্ম যেন সত্যিকারের ইতিহাস সম্পর্কে সবসময় সাংঘর্ষিক মতবাদ এবং ধোঁয়াশার মাঝে থাকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে তারা।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগনের কাছে পাকিস্তানিদের হাত থেকে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার দিনটি ১৬ই ডিসেম্বর হলেও, নীল নকশার বাস্তবায়নে পাকিস্তানি মদদপুষ্ট এই দেশদ্রোহী রাজাকারবাহিনী অশুভ শক্তির যে বীজ বপন করে তারও নিরব জন্ম এই দিনটিতেই। সরব যুদ্ধের শেষ ১৬ই ডিসেম্বর হলেও নিরব যুদ্ধের শুরুও এই দিনটিই। মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গাটিতে শুন্যস্থান তৈরী করে দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে পরিকল্পিতভাবে তারা বিক্ষুব্ধ একটি ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক, সামরিক এবং অর্থনৈতিক মদদপুষ্ট এই দেশদ্রোহী গোষ্ঠীর কর্মকান্ডের সময় হিটলার বেঁচে থাকলে তিনি হয়তো গোলাম আজম, সাইদী, নিজামী এসব ষড়যন্ত্রকারী দেশদ্রোহীর কাছে দীক্ষা নিতে আসতেন। পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাংলাদেশকে অবকাঠামোগত ভাবে ধ্বংস করে যাচ্ছিল, যখন সদ্য স্বাধীনতা ঘোষিত হওয়া দেশের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিয়ে তাকে পঙ্গু করে দেয়ার উদ্দেশ্যে নারকীয় তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছিল তখন তাদের আশির্বাদপুষ্ট এই রাজাকারবাহিনী এদেশের মানুষকে হত্যা করার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবেই মেধাশুন্য করে চিরদিনের মতো বিকলাঙ্গ করে দেয়ার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বিধর্মী ও কাফের হত্যার মহান দায়িত্বে নিয়োজিত এই খুনির দল যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে পরিকল্পনার ছক অনুযায়ী দেশের বুদ্ধিজীবি ও প্রথম সারির আন্দোলনকারীদের হত্যা করে তাদের স্মৃতি দেশের মানচিত্র থেকে মুছে দেয়ার কর্ম সম্পাদন শুরু করে। তাদের চরম আঘাত ছিলো ১৪ই ডিসেম্বরের মাত্র এক রাতের মাঝে দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবিকে বধ্যভূমিতে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা। তাদের এই পরিকল্পনার প্রধান কারণ ছিলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী শুভ বুদ্ধির অসাম্প্রদায়িক মানুষগুলোকে হত্যা করে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলাদেশের রক্তস্নাত জন্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ রাখা, যাতে স্বাধীন ভূখন্ড অর্জনের পরেও বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে না পারে। স্বাধীনতার পরে যেসব মানুষের হাতে দেশকে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হতো তাদের হত্যা করে বাংলাদেশের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে এবং দেশের নতুন প্রজন্ম যেন সত্যিকারের ইতিহাস সম্পর্কে সবসময় সাংঘর্ষিক মতবাদ এবং ধোঁয়াশার মাঝে থাকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে তারা।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগনের কাছে পাকিস্তানিদের হাত থেকে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার দিনটি ১৬ই ডিসেম্বর হলেও, নীল নকশার বাস্তবায়নে পাকিস্তানি মদদপুষ্ট এই দেশদ্রোহী রাজাকারবাহিনী অশুভ শক্তির যে বীজ বপন করে তারও নিরব জন্ম এই দিনটিতেই। সরব যুদ্ধের শেষ ১৬ই ডিসেম্বর হলেও নিরব যুদ্ধের শুরুও এই দিনটিই। মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গাটিতে শুন্যস্থান তৈরী করে দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে পরিকল্পিতভাবে তারা বিক্ষুব্ধ একটি ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। আমি কি ভুলে গিয়েছি সেই ১৯৭১ এর বেদনা। না ভুলিনি ভুলতে পারি না।

রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর কবিতার মত আমিও…
‘আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে…
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।’

এবার ওদের নগ্ননৃত্য থামাবোই, ঐ শকুনদের আর বাংলার মাটিতে কোন উল্লাস করতে দিবনা বদলা এবার নিবোই নিব।

জহির রায়হান তুমি ঘুমাও শান্তিতে, ঐ শকুনদের জানিয়ে দিচ্ছি আমারা আবার জেগেছি…আর ঘুমাবো না।

ওদের জানিয়ে দাও
-জহির রায়হান
“ওদের জানিয়ে দাও ওরা আমার মা -বাবাকে হত্যা করেছে কুকুর -বেড়ালের মতো স্টীম রোলারের নীচে…
ওদের জানিয়ে দাও ওরা দেখেও যদি না দেখে বুঝেও যদি না বোঝে গরম লোহার শলকা দুচোখ দিয়ে ওদের জানিয়ে দাও… মরা লাশগুলোতে কেমন জীবন এসেছে!”

আমরা হুট করে বুট পরে, বন্দুকের নল ঠেকিয়ে লিখিনি বাংলার নাম ইতিহাস পাতায় যে চাইলেই কেউ, আমার বাংলার অভ্যুদয় অবৈধ বলে ঘোষণা দিয়ে দেবে এক কথায় আমরা রচিনি ইতিহাস, ইতিহাস রচেছে বাংলা স্বতস্ফূর্ত স্বশ্রদ্ধায় অগুণন জেল-জুলুম, ত্যাগ-তীতিক্ষার কীর্তি মহিমায়।

হে পথিক শোন,
“এক নিথর নিস্তব্ধ ঘোর অমানিশার সন্ধ্যাতে
দেখা হলো সেই চিরচেনার সাথে,
শুধালো কই যাচ্ছ
বল্লুম জানিনা পথ বলে দেবে”

আমাদের পথ কন্টকিত জানি, গন্তব্য কই তাও জানি।

“যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ চাই”।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “রক্তের দায় শুধিতে হবে আজ

  1. বাংলাদেশের সাধারণ জনগনের কাছে
    বাংলাদেশের সাধারণ জনগনের কাছে পাকিস্তানিদের হাত থেকে বিজয় ছিনিয়ে নেয়ার দিনটি ১৬ই ডিসেম্বর হলেও, নীল নকশার বাস্তবায়নে পাকিস্তানি মদদপুষ্ট এই দেশদ্রোহী রাজাকারবাহিনী অশুভ শক্তির যে বীজ বপন করে তারও নিরব জন্ম এই দিনটিতেই। সরব যুদ্ধের শেষ ১৬ই ডিসেম্বর হলেও নিরব যুদ্ধের শুরুও এই দিনটিই। মুক্তবুদ্ধি চর্চার জায়গাটিতে শুন্যস্থান তৈরী করে দিয়ে সদ্য স্বাধীন দেশটিকে পরিকল্পিতভাবে তারা বিক্ষুব্ধ একটি ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। আমি কি ভুলে গিয়েছি সেই ১৯৭১ এর বেদনা। না ভুলিনি ভুলতে পারি না।

  2. Very good article. ১৪ই
    Very good article. ১৪ই ডিসেম্বরের মাত্র এক রাতের মাঝে দেশের অসংখ্য বুদ্ধিজীবিকে বধ্যভূমিতে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা। তাদের এই পরিকল্পনার প্রধান কারণ ছিলো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী শুভ বুদ্ধির অসাম্প্রদায়িক মানুষগুলোকে হত্যা করে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলাদেশের রক্তস্নাত জন্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ রাখা, যাতে স্বাধীন ভূখন্ড অর্জনের পরেও বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থে স্বাধীন হতে না পারে। স্বাধীনতার পরে যেসব মানুষের হাতে দেশকে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হতো তাদের হত্যা করে বাংলাদেশের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে এবং দেশের নতুন প্রজন্ম যেন সত্যিকারের ইতিহাস সম্পর্কে সবসময় সাংঘর্ষিক মতবাদ এবং ধোঁয়াশার মাঝে থাকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে তারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 + = 22