‘মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ’ নিপাত যাক

শুভ এবং অশুভের দ্বন্দ্ব চিরকাল। পৃথিবী সৃষ্টির আদিকাল থেকেই তা ছিল। জগতে এক শ্রেণির মানুষ আছে যাঁরা কল্যাণকামী, পৃথিবীতে এগিয়ে নেয়ার পক্ষে, আর একশ্রেণির বর্বর-মুর্খ-অজাতগোত্রীয় রয়েছে তাদের কাজ হয়েছে সর্বদাই জগতে অনিষ্ট করা। এরা পৃথিবীর ঘৃণিত সম্প্রদায়। পৃথিবীর বিরামহীন পথচলা থেমে নেই। নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মঙ্গলকামী মানুষ নিয়ে জগতের মঙ্গলকার্যও তার থেমে নেই। কিন্তু রাহুগ্রহরাও সদা বিরাজমান এখানে।এই মর্কট গোত্রীয়রা নিয়তই পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে বোমা সদৃশ হয়ে। কুলাঙ্গারের দল নিয়তই ধ্বংসযজ্ঞে মেতে আনন্দ পায়। প্রকৃতপক্ষে, এরা অমানুষ-অমানবিক এবং অসভ্য শ্রেণির।

এইসব ইতরবর্গীয়রা নানাভাবে এদের নাম বদলায়। কখনো কখনো বোল পাল্টে ফেলে। ইসলামের মতো পবিত্র এক বিষয়ের তকমা পড়ে এরা পৃথিবীর বুকে হাতুড়ি হানে। যেহেতু ইসলাম একটি স্পর্শকাতর বিষয়, এবং মানুষের দুর্বলতার এক চরম জায়গা, সে-কারণে ইসলামের নামে রাজনীতি খুলে মানুষকে বোকা বানায়, ধোকা দেয়। প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ যারা ধর্মীয় আদর্শের মূল বিষয়টা তারা বুঝতে পারে, কিন্তু সমাজের একশ্রেণির মানুষ যাদের শিক্ষার রয়েছে অভাব, সেই মানুষগুলো টাগের্টে পরিণত হয়, জঙ্গিবাদীদের শিকারের গুটি হয়।

বলছিলাম পৃথিবীর বুকে ক্রমশ ধেয়ে আসা মৌলবাদী-জঙ্গিবাদীগোষ্ঠীর অপতৎপর কথা। শান্তিপূর্ণ পৃথিবীতে ইসলামের নামে নানাধরনের জঙ্গিবাদী সংগঠন তৈরি হয়েছে। যারা ইসলাম কায়েমের নামে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। অসংখ্য মানুষের প্রাণহানী ঘটছে প্রতিদিন। এখন এই চলমান প্রগতির পৃথিবীতে মানুষ অনেক সচেতন। ধর্ম সম্পর্কেও মানুষ উদাসীন নয়। বহু মানুষ আছে এই জগতে যারা ধর্ম পালন করে। তাতে তো কোনো সমস্যা নেই। যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে। কিন্তু ধর্মীয় বিষয়ে জোর জবরদস্তির কোনো সুযোগ নেই। ধর্মেও তা নিষেধ আছে। বর্তমান বিশ্ব যে জঙ্গিবাদী থাবায় আক্রান্ত এর পিছনেও রয়েছে নানা কথা। আইএসআইএস নামে পৃথিবী অনিষ্টকারী যে সংগঠন আসলে তারা কি চায়? পৃথিবীতে ইসলাম কায়েম করতে? এখানে তো ইসলাম আছে ভালোভাবেই, তাহলে আবার রক্তপাতের মাধ্যমে ইসলামকে চাপিয়ে দেবার চেষ্টা কেন? এটাতো মধ্যযুগীয় পন্থা। আর আমরা তো ধর্মীয় যুদ্ধের দিন পেরিয়ে এসেছি বহু শতাব্দী আগে। তবে এসব নিয়ে এতো রক্তপাতের কি কারণ? কেনই বা অকারণ বোমার বিস্ফোরণ? আত্মঘাতী হামলা কেন? সাধারণ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়ার অদ্ভূতুড়ে খেলায় মত্ত জীবন? আসলে এর পিছনে অন্য কোনো রাজনীতি নেই-তো? এই সংগঠনগুলো কুচক্রীদের সৃষ্ট নয় তো? আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিহিত নয়তো এর ভিতরে? যারা হয়তো সত্যিকার ইসলামকে বিতর্কিত করতে চায়? অথবা মুসলিম জাতিগোষ্ঠীকে পৃথিবীতে জঙ্গিবাদী শ্রেণিতে পরিণত করতে চায়। এগুলো ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে।

আমাদের ভিতরে একটি প্রশ্ন প্রায়ই কাজ করে, তাহলো আইএস জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী পৃথিবীতে ইসলামী রাজত্ব কায়েম করতে চায়। তো ভালো কথা। তাহলে তাদের ইসলামী পিতৃদেশ সৌদী আরবের এ অবস্থা কেন? একজন পুরুষের ১৫/১৬ জন নারী না হলে রাতের ঘুম হয় না। বাসার কাজের লোকের সঙ্গে একই সাথে দাদা-বাবা-ছেলেরা সঙ্গমে লিপ্ত হয়! শুধু কি তাই প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে আমার শোনা তাহলো, গভীর রাত হলে এইসব নারী লোভী অসভ্যরা দাসীদের নিয়ে গাড়ি চালিয়ে মরুভুমিতে গিয়ে উটের কাঁচা দুধ পান করে আর নারীদের ওপর নির্যাতন চালায়। আহ, কি বর্বরতা। আমি এ কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদীতে নারী কর্মী পাঠানোর বিরুদ্ধে। আশ্চর্যের বিষয় হলো এসব কি আইএস জঙ্গিরা দেখে না। নাকি তারাও এসবের পক্ষীয় গোত্র। আইএস জঙ্গিদের অসাধারণ ইসলাম প্রীতিতে আমার বিস্ময় জাগে।

ইসলাম প্রচারে-প্রসারে ইসরাইলতো মুসলমান জাতির ওপর খড়গ বিশেষ। কিন্তু চরম বিস্ময় যা, তাহলো আইএস জঙ্গিরা তাদেরকে কখনো দেখলাম না তাদের ইসলাম রক্ষায় ইসরাইলের ওপর হামলা করেছে। সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ, একবার ভেবে দেখুন একথা ঠান্ডা মাথায়। তাহলে বিষয়টা কি পাতানো খেলা! এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে পারে। রাজনীতিক গবেষণা হতে পারে। আমার কথা যেটি তাহলো বাংলাদেশ আইএস ঝুঁকিমুক্ত কিনা, বা এখানে আদৌ আইএস জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী আছে কিনা? এর সঠিক সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষমতা আমার নেই, তবে বাংলাদেশ এই শ্রেণির জাতি-গোষ্ঠীর বাইরে যে নেই তা বলতে পারি। বাংলাদেশে এখন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দেবার মতো অবস্থা। আইএস জঙ্গিবাদীরা থাকুক আর নাইবা থাকুক, একশ্রেণির বিজাতীয় জান্তা তারা সদা তৈরি থাকে আগুন আর পেট্ট্রোল বোমা হাতে নিয়ে। সারা বাংলাদেশে তথাকথিত এইসব আইএস জঙ্গিবাদীদের চেলারা ঘাপটি মেরে আছে। সুযোগ পেলেই ছোবল দেবে, এবং বলবে বলছিলাম না এদেশে আইএস আছে! এখানে আইএস মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর থাকার প্রয়োজন নেই বরং তাদের চেয়েও বড় অপশক্তিরা নিয়ত তৎপর। তাদের বিষয়ে সত্যিকার নির্ভেজাল বাঙালিদের সচেতন হতে হবে। সরকারকে সচেষ্ট থাকতে হবে এদেশীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীকে নিমূর্লে।

মনে রাখার দরকার পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ এখন এক উদীয়মান শক্তি। অনেকের কুনজরে পড়েছে। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের স্বল্প সময়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। একসময় দেশিয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে জাতির পিতাকে চলে যেতে হয়েছে। দুরভিসন্ধি থেমে নেই। ঘসেটি বেগমরা বসে নেই। তাদের ছাও-পোনারা আপাত গুহায় শীতনিদ্রায় থাকলেও কোনো এক গরমের রাতে বিষধর সর্প হয়ে দলেদলে বেরিয়ে আসবে।

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী-দেশরত্নখ্যাত শেখ হাসিনা এখন ক্ষমতায়। তাঁর বুদ্ধিমত্তায় বাংলাদেশ এখন পৃথিবীতে এক বিস্ময়। শেখ হাসিনার মুখের দিকে চেয়ে এদেশের মানুষের বিস্ময়ের সীমা নেই। কিন্তু তাঁকেও থাকতে নিরাপদ। একটি মানুষের জন্যে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি ও উন্নয়নের চাকা দ্রুত ধাবমান, তাঁর দীর্ঘমেয়াদী শাসন এবং বেঁচে থাকারও বিকল্প নেই। মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুতে শেখ হাসিনা সদা টার্গেট হয়ে থাকেন। সেদিকটায় সরকারের এবং বিশেষত আওয়ামীলীগের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সজাগ থাকা জরুরি। সে সাথে আরো জরুরি হচ্ছে দল থেকে হাইব্রীড বিতাড়নের। কেননা এদের মধ্যেও রয়েছে সেইসব চিহ্নিত চক্রের রক্ত। আর যে রক্ত বাঙালিদের সঙ্গে বেঈমানী করবেই। বাংলাদেশ চিরকাল মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর বাইরে থাকুক এ আমাদের নিরন্তর প্রত্যাশা।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১২ thoughts on “‘মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ’ নিপাত যাক

  1. ইসলাম প্রচারে-প্রসারে
    ইসলাম প্রচারে-প্রসারে ইসরাইলতো মুসলমান জাতির ওপর খড়গ বিশেষ। কিন্তু চরম বিস্ময় যা, তাহলো আইএস জঙ্গিরা তাদেরকে কখনো দেখলাম না তাদের ইসলাম রক্ষায় ইসরাইলের ওপর হামলা করেছে। সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ, একবার ভেবে দেখুন একথা ঠান্ডা মাথায়। তাহলে বিষয়টা কি পাতানো খেলা! এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে পারে। রাজনীতিক গবেষণা হতে পারে। আমার কথা যেটি তাহলো বাংলাদেশ আইএস ঝুঁকিমুক্ত কিনা, বা এখানে আদৌ আইএস জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী আছে কিনা? এর সঠিক সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষমতা আমার নেই, তবে বাংলাদেশ এই শ্রেণির জাতি-গোষ্ঠীর বাইরে যে নেই তা বলতে পারি। বাংলাদেশে এখন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলে দেবার মতো অবস্থা। আইএস জঙ্গিবাদীরা থাকুক আর নাইবা থাকুক, একশ্রেণির বিজাতীয় জান্তা তারা সদা তৈরি থাকে আগুন আর পেট্ট্রোল বোমা হাতে নিয়ে। সারা বাংলাদেশে তথাকথিত এইসব আইএস জঙ্গিবাদীদের চেলারা ঘাপটি মেরে আছে। সুযোগ পেলেই ছোবল দেবে, এবং বলবে বলছিলাম না এদেশে আইএস আছে! এখানে আইএস মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর থাকার প্রয়োজন নেই বরং তাদের চেয়েও বড় অপশক্তিরা নিয়ত তৎপর। তাদের বিষয়ে সত্যিকার নির্ভেজাল বাঙালিদের সচেতন হতে হবে। সরকারকে সচেষ্ট থাকতে হবে এদেশীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীকে নিমূর্লে।

    1. ইসরাইলের ওপর কিভাবে আক্রমন
      ইসরাইলের ওপর কিভাবে আক্রমন করবে ? করলেই তো আই এস এর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। সুতরাং ইসরাইলের ওপর আক্রমন করছে না , বলে আই এস এর পিছনে ইসরাইল আছে , এটা অতি সরলীকরন। ইরাক একটা দুর্বল রাষ্ট্র। শিয়ারা সেখানে ক্ষমতায় আসার পর সাদ্দাম হোসেনের আমলে সেনাবাহিনীতে যে বিভিন্ন উচ্চপদে সুন্নিরা ছিল , শিয়া শাসক তাদেরকে পাইকারী হারে বরখাস্ত করে। এই কারনেই এরা সবাই আই এস এ যোগ দিয়ে , ইরাক দখল করার চেষ্টা করে। সুতরাং যারা আই এস এর পিছনে ইসরাইল আছে বলে প্রচার করে , তারা সত্যকে ধামাচাপা দিতে চায়। সত্য স্বীকার না করাটা্ মুসলমানদের মজ্জাগত হয়ে গেছে।

      1. ধন্যবাদ আপনাকে। কিন্তু আইএসের
        ধন্যবাদ আপনাকে। কিন্তু আইএসের সৃষ্টিকর্তা যে ইসরাইল এবং আমেরিকা তা বিশ্বাস করেনতো। পুতিনের বক্তব্যে ইউরোপ-আমেরিকা চুপসিয়ে গিয়েছিল, সেটা দেখেননি। ব্রিটেনই চাইলেই আবার সংগঠনের নাম পাল্টে দিচ্ছে। আইএসকে এখন আবার তারা ডায়েস বলছে। সংগঠনটি যে তাদেরই সৃষ্ট। এখন তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্রোহীদের কাজে লাগিয়ে একের পর এক সুপ্রতিষ্ঠিত সরকারের পতন করতে চাচ্ছে তাদেরই কায়েমি স্বার্থে। যেসব দেশের সরকার তারা বিদ্রোহীদের মদদে পতন ঘতিয়েছে, সেসব দেশে কি আজও শান্তি ফিরে এসেছে। না আসেনি। অশান্তি আরও বেড়েছে। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। @ কাঠমোল্লা

        1. সেই একই গৎবাধা বুলি। আই এস
          সেই একই গৎবাধা বুলি। আই এস আমেরিকার সৃষ্টি। আর তাই , ইউরোপ আমেরিকা থেকে বহু মুসলমান তরুন নিশ্চিতভাবেই সি আই এ বা মোসাদের প্ররোচনায় আই এস এ যোগ দিচ্ছে বা দিয়েছে , কি বলেন ? আর সি আই এ বা মোসাদের প্ররোরচনায় এ পর্যন্ত শত শত আই এস যোদ্ধা আত্মঘাতী গাড়ীবোমা হামলা চালিয়েছে , কি বলেন ? আই এসের প্রধান আবু বকর বাগদাদী একজন ইহুদি , না হলে সি আই এ- এর এজেন্ট, তাই না ? অথচ কি না এই লোক বাগদাদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ওপর মাষ্টার্স ও শরিয়ার ওপর পি এইচ ডি করেছে। তার মানে ইসলামের চুড়ান্ত শিক্ষা লাভ করে সে ইহুদিদের গুপ্তচর হয়ে গেছে। সুতরাং প্রমানিত হলো – যারা ইসলাম ভালমতো পড়াশুনা করে , জানে শোনে , তারা আর মুসলমান থাকতে পারে না , হয়ে যায়, সি আই এ বা মোসাদের গুপ্তচর। কি বলেন ?

          1. আমি কি এবং কতোটুকু আপনার দৌড়
            আমি কি এবং কতোটুকু আপনার দৌড় আমার আর বুঝার বাকী নেই। ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্টে এসে অপ্রাসঙ্গিক, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার জন্য। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

          2. অপ্রাসঙ্গিক ? বিদ্বেষমূলক ?
            অপ্রাসঙ্গিক ? বিদ্বেষমূলক ? হা হা হা

            একটা প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারলেন না , তারপর একটা ট্যাগ লাগিয়ে দিলেন ? ইংল্যান্ডে বাস করত এক বাংলাদেশী পরিবার , সদস্য সংখ্যা ১২, বেশ কয়মাস আগে তারা বাংলাদেশে বেড়াতে এসে ফেরার পথে তুরস্ক থেকে সিরিয়াতে চলে যায় ইসলামী খিলাফতে বাস করার আশায়। তাদের পরিবারে – বুড়ো বুড়ি , যুবক যুবতি , শিশু সবাই ছিল। বলুন তো , তাদেরকে কি সি আই এ, নাকি মোসাদ সিরিয়ায় যেতে বলেছে ? কি মনে হয় আপনার ?

            বাংলাদেশে প্রতি নিয়ত মুক্তমনা লোকজন , বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক , এনজিও কর্মী এদেরকেও নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। তো কারা এটা করছে ? প্রধানমন্ত্রী বলছেন , এসব বি এন পি – জামাত করছে। কিন্তু আসলেই কি তাই ? কারা হত্যা করছে , সেটা আপনিও জানেন , আমরাও জানি। যারা করছে , তারা কিন্তু কোরান হাদিসের বিধান মেনেই এসব করছে। সেটাও এতদিনে আপনার জানার কথা। কিন্তু মুখে তাদের নাম নেয়া যাবে না। নিজের আদর্শের , বিশ্বাসের মধ্যে ঘাপলাবাজি স্বীকার করা যাবে না। আর সেজন্যেই সব দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপাতে হবে। কেন যাবে না , সেটাও আমরা জানি। আপনিও সেই দলের লোক। যারা সত্য কথা না বলে মিথ্যার বেসাতী করেন। এভাবে সত্যকে এড়িয়ে , নিজেদের আদর্শের মধ্যে কোন দোষ নাই বলে প্রচার করে , কোনই লাভ নেই। এতে কোন সমাধানও নেই । এটা যতদিন না বুঝবেন , ততদিন দিন দিন পরিস্থিতির অবনতিই ঘটতে থাকবে।

          3. আমি আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে অযথা
            আমি আপনার সঙ্গে এ বিষয়ে অযথা বিতর্কে যেতে চাই না। আপনি দেখছি আক্রমণ করে কথা বলছেন। বাচালতা কখনোই জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ নয়। নিজের আসল নামও ব্যবহার করতে ভয় পান, আবার ছবিবিহীন প্রোফাইল। ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে থেকে মৌলবাদের বিনাশ ঘটানো যাবে না। সৎসাহস নিয়ে জঙ্গিবাদের মোকাবেলা করতে হবে। ভয়ে গর্তে লুকিয়ে থেকে নয়। ভাল থাকবেন। ধন্যবাদ।

  2. অসাধারণ পোস্ট। একমত পোষণ করছি
    অসাধারণ পোস্ট। একমত পোষণ করছি। ইসলামের মতো পবিত্র এক বিষয়ের তকমা পড়ে এরা পৃথিবীর বুকে হাতুড়ি হানে। যেহেতু ইসলাম একটি স্পর্শকাতর বিষয়, এবং মানুষের দুর্বলতার এক চরম জায়গা, সে-কারণে ইসলামের নামে রাজনীতি খুলে মানুষকে বোকা বানায়, ধোকা দেয়। প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ যারা ধর্মীয় আদর্শের মূল বিষয়টা তারা বুঝতে পারে, কিন্তু সমাজের একশ্রেণির মানুষ যাদের শিক্ষার রয়েছে অভাব, সেই মানুষগুলো টাগের্টে পরিণত হয়, জঙ্গিবাদীদের শিকারের গুটি হয়।

  3. মৌলবাদ সম্পর্কে আপনার কোন
    মৌলবাদ সম্পর্কে আপনার কোন ধারনা আছে বলে মনে হয় না। মৌলবাদ হলো মূলে যাওয়া। ইসলামে তাই মৌলবাদ হলো ইসলামের মূলে অর্থাৎ কোরান ও হাদিসে যাওয়া।

    আপনি সৌদি আরবের মানুষের ১৫/১৬টা নারীর সাথে ঘুমানোর কথা বলেছেন। ভাল কথা। আরবী কোরান ও হাদিস , আপনি আমি বেশী বুঝি নাকি আরবীভাষী সৌদিরা বেশী বোঝে ? সুতরাং ইসলাম আপনি আমি বেশী বুঝি নাকি সৌদিরা বেশী বোঝে ? সৌদিরা হাদিস পড়ে জেনেছে , নবী মুহাম্মদ নিজেই ১৩জন স্ত্রীর সাথে ঘুমাতেন। তারা মুহাম্মদকে তাদের আদর্শ মানুষ মনে করে। তাই তারা মুহাম্মদের পদাংক অনুসরন করছে। এখানে তারা তো ইসলামের মূল অর্থাৎ মুহাম্মদকে অনুসরন করছে , তাই তারাই সত্যিকার মুসলমান অর্থাৎ মৌলবাদী। অথচ আপনি তাদেরকে অসভ্য বলছেন। তার মানে আপনি আসলে তারা যাকে আদর্শ মনে করে তার পদাংক অনুসরন করে , সেই মুহাম্মদকেই অসভ্য বলছেন। কিন্তু আপনার মাথায় লজিক কাজ করছে না , তাই সেটা বুঝতে পারছেন না।

    1. ধর্মান্ধতা আর মৌলবাদের মধ্যে
      ধর্মান্ধতা আর মৌলবাদের মধ্যে কোন তফাৎ নেই। তারাই মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী যারা ধর্মান্ধ। আপনি অপ্রাসঙ্গিক, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করছেন, যার উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই। আক্রমণাত্মক কথা বলার মধ্যে কোন ক্রেডিট নেই। আশা করি, কিছুটা হলেও বুঝেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

  4. অত্যন্ত গঠনমূলক একটি লেখা।
    অত্যন্ত গঠনমূলক একটি লেখা। ভাল লাগলো। আপনার সাবলীল ভাষায় লেখা সত্যিই মুগ্ধ করার মত। ইসলাম একটি স্পর্শকাতর বিষয়, এবং মানুষের দুর্বলতার এক চরম জায়গা, সে-কারণে ইসলামের নামে রাজনীতি খুলে মানুষকে বোকা বানায়, ধোকা দেয়। প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ যারা ধর্মীয় আদর্শের মূল বিষয়টা তারা বুঝতে পারে, কিন্তু সমাজের একশ্রেণির মানুষ যাদের শিক্ষার রয়েছে অভাব, সেই মানুষগুলো টাগের্টে পরিণত হয়, জঙ্গিবাদীদের শিকারের গুটি হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 65 = 70