বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্বরূপ উন্মোচন

‘জামায়াতে ইসলামী’ ধর্মীয় চেতনাভিত্তিক একটি পুরনো রাজনৈতিক দল। ব্রিটিশ ভারতে ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর নেতৃতে ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’ নামে এ ধর্মভিত্তিক দলটি গড়ে উঠে। সর্বপ্রথম এ দলটি অর্থাৎ ইসলামী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ভারত বিভাগের বিরধিতায় নামে। তবে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে ‘পাকিস্তান’ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টি হলে জামায়াতে ইসলামী তা মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্টের পর পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী দলটির কর্মকাণ্ড শুরু হয়। ১৯৪৮ সালে জামায়াতে ইসলামী ‘কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে সংবিধান প্রণয়ন’ -এর দাবীকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে অবতীর্ণ হয়। ১৯৫১ সালে মাওলানা আব্দুর রহিমের নেতৃতে পূর্ব পাকিস্তানে দলটি তার শাখা সম্প্রসারিত করে। ১৯৫৬ সালে অধ্যাপক গোলাম আজম জামায়াতের পূর্ববঙ্গ শাখার সাধারন সম্পাদক নিযুক্ত হয়।

জামায়াতে ইসলামী আইয়ুবের পারিবারিক আইনকে ইসলামবিরোধী বলে আখ্যায়িত করে আইয়ুব বিরোধী অবস্থান গ্রহন করে। ১৯৬৫ সালে সম্মিলিত বিরোধী দলের অঙ্গ হিসেবে এ দলটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আইয়ুবের বিরুদ্ধে ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন করেন। ১৯৬৮-১৯৬৯ সালের গন আন্দোলনেও জামায়াতে ইসলামী ‘গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরিসদ’-এর শরীক দল হিসেবে আইয়ুব বিরোধী ভূমিকা রাখে।

কিন্তু ১৯৬৯-১৯৭০ সালে এ দল বাঙালীর স্বায়ত্বশাসন ও সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভূমিকা গ্রহন করে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকার, আলবদর, আল শামস ইত্যাদি বাহিনী গঠন করে বাঙালীর স্বাধীনতা যুদ্ধের সশস্ত্র বিরোধীতা করে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সার্বিকভাবে একাত্মতা প্রকাশ করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, লুণ্ঠন, বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া, ধর্ষণ, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ইত্যাদি ঘৃণ্য, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে তারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। সুতরাং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং স্বাধীনতা অর্জনে জামায়েত ইসলামীর বিন্দুমাত্র অবদান নেই। এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে তারা কখনও বিশ্বাস করে নি, এখনও করে না।

যা হোক, ইসলামে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি, জোর-জবরদস্তি না করা, অন্য ধর্মের অনুসারীদের উপাস্য নিয়ে কটূক্তি না করা এগুলো কোরআনের নির্দেশ। আল কোরআনেই বলা হয়েছে, যুদ্ধ অপেক্ষা শান্তি উত্তম, একজন নিরপরাধকে হত্যা করা গোটা মানবজাতিকে হত্যার শামিল। শান্তি-শৃঙ্খলাকে গুরুত্ব দিয়ে এ ধরণের অনেক বাণী রয়েছেঃ-

“আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যার পার্থিব কথাবার্তা আপনাকে মুগ্ধ করে, সে অন্তরের বিষয়ে আল্লাহ্‌কে স্বাক্ষী রাখে মূলত সে মহা বিরোধী। যখন সে প্রস্থান করে তখন সে অশান্ত স্রিয়াতি করতে চায় এবং শস্য ক্ষেত জীব-বংশ ধ্বংসের চেষ্টা করে আল্লাহ্‌ আশান্তি পছন্দ করেন না” [আল কোরআনঃ সুরা বাকারাহঃ মাদানী, আয়াত ২০৪-২০৬]

দেশে অশান্তি সৃষ্টি সম্পর্কে আল কোরআনে বলা হয়েছে:
“আর যখন তাদেরকে বলা হয় বিপর্যয় সৃষ্টি করো না দুনিয়াতে। তখন তারা বলে নিশ্চয়ই আমরাতো কেবল শান্তি স্থাপনকারী। সাবধান! এরাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী কিন্তু তারা তা বোঝে না”। [আল কোরআনঃ সুরা বাকারাহঃ মাদানী, আয়াত ১১-১২]

বহু হাদিসে বর্ণিত আছে, কোন মুসলমানের ক্ষতি করলে সে আমাদের দলভুক্ত নয়, কোন নিরপরাধ অমুসলিমের অনিষ্ট করলে নবী করীম(সাঃ) কেয়ামতের দিন সেই অমুসলিমের পক্ষ নিবেন, নির্যাতনকারী মুসলমানের বিরুদ্ধে। আল্লাহ যাদের হেদায়েত দান করতে চান না তাদের হৃদয়ে সীলমোহর এঁটে দেন।

উল্লেখ্য, পৃথিবীতে ইসলামী অনুশাসন চলে আসছে নিয়মতান্ত্রিকভাবে, কখনোই তা শাসনতান্ত্রিকভাবে নয়। এর অন্যতম কারণ ইসলামের দর্শন জাতীয়তাবাদ বিরোধী। সমগ্র মুসলমানগণ একটি উম্মাহ হিসেবে পরিগণিত হয়। তাই ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধান হিসেবে কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা এবং ক্ষেত্র-বিশেষে আলেমদের ফতোয়ার ভিত্তিতে পরিচালিত। আত্মঘাতী হামলা, নাশকতা বা উগ্রবাদের পক্ষে বিশ্বের কোন প্রতিষ্ঠিত/শীর্ষ আলেম/ফকিহ ফতোয়া দেননি।

জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:-
১. মুসলমানদের মধ্যে একটি পৃথক দল তৈরি করেছে। যেহেতু ধর্মই মুলবাণী তাই ফিতনা সৃষ্টি বললে ভুল হবে না।
২. তাদের গুরু মওদুদী মহানবী (স:) সহ অনেক নবীকে নিয়ে, ইসলাম নিয়ে মনগড়া মন্তব্য করেছে যার কয়েকটি অবমাননার পর্যায়ে পড়ে এবং ইসলাম-বিরুদ্ধ।
৩. দলভুক্তদের জন্য বিশেষ প্রতিষ্ঠান তৈরি করা হয়েছে যেখানে শুধুমাত্র ঐ মতাদর্শের লোকেরাই পুনর্বাসিত হয়। তাদের আর্থিক সকল সুযোগ-সুবিধা, দান-খয়রাতও দলকেন্দ্রিক যা ইসলামের মর্মবাণীর সাথে সংঘাতপূর্ণ।
৪. মানুষ মাত্রই ভুল করে থাকে। খলিফার ভুল হলেও সংশোধন বা ক্ষমা প্রার্থনার দৃষ্টান্ত রয়েছে কিন্তু গণহত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুটপাটের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও জামায়াত নেতাদের মর্যাদা নেতাকর্মীদের কাছে যেন নবীতুল্য!
৫. স্বাধীনতার সাত বছর পর প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করার পর থেকে জামায়াত শিবিরের হামলা ও আক্রমণের শিকার হয়েছে মুসলমানরা এবং অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে সংখ্যালঘুদের উপর।
৬. তাদের মতের বিরোধিতা করলেই যাকে তাকে কাফের-মুরতাদ-নাস্তিক খেতাব দেয়া হয়। তারা আস্তিকতা নির্ধারণ করে তাদের নেতাদের উপর বিশ্বাস স্থাপনের উপর ভিত্তি করে।
৭. উগ্রবাদ, সশস্ত্র বিপ্লব ও জঙ্গিবাদের প্রকাশ্য সমর্থনদাতা।

উপরোক্ত কোনটিই ইসলামের মূল-চেতনা বা মর্মবাণীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ছাড়াও মিথ্যা বলা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, সত্য গোপন, অপপ্রচার, কুৎসা রটনা বা গীবত হেন কাজ নেই যা তারা করে না। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে তারা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং ইসলামের কথা বললেও তাদের কার্যকলাপ সর্বহারাদের সমতুল্য।

সত্যিকার অর্থে যদি তারা ইসলামের অনুসারী হতেন তবে কখনো কোন স্বার্থের বিনিময়ে আপোষ করতেন না। তারা তখনই ধর্মের কথা বলেন যখন তা তাদের পক্ষে হয়।

আল্লাহ বলেছেন, তিনি দ্বীনকে সহজ করেছেন। তারা কঠিন করছেন কেন? আল্লাহ আমাদের আমলনামা দেখবেন, আমাদের নেতারা দোষী কি-না তা জিজ্ঞেস করা হবে না। তারা কাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন? ইসলামে বিভক্তি নিষিদ্ধ। এমন কি কোরআনে মহানবী (সাঃ) কে বলা হয়েছে – হে মুহাম্মদ বিভক্তির ক্ষেত্রে আপনার কিছু করণীয় নেই, আল্লাহ বিচার করবেন। নবী করীম মুহাম্মদ (সাঃ) এর সময়তো বিভক্তি ছিল না। এটি বলা হয়েছে আমাদের উদ্দেশ্যে এবং বিভক্ত না হওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে বলা হয়েছে। যেটি নবী করীম (সাঃ)-কে নিষেধ করা হয়েছে তা করার এখতিয়ার জামায়াত-শিবির কোথায় পেলো? তাদের জানার কথা বহু বছরের ইবাদতও বৃথা যায় এমন দৃষ্টান্ত আছে। একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, একজন পতিতা একটি কুকুরের প্রতি দয়াশীল হয়ে পানি পান করানোর বদলে সকল গুনাহ থেকে মুক্তি পেয়েছে। ইসলামের নামে অশান্তি সৃষ্টিতে ধর্ম আপনাদের পার্থিব হাতিয়ার মাত্র।

অন্যদিকে, বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার, স্বেচ্ছাচার, অবাধ্যতা, অরাজকতা, প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধ ইত্যাদি হচ্ছে এক কথায়, ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা। আর পবিত্র কুরআন শরীফ-এ এসেছে, ‘ফিতনা-ফাসাদ কতলের চেয়ে ভয়ঙ্কর।’ [সুরা বাকারা, আয়াত ১৯১]

পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহ্‌ তাআলা আরও ঘোষণা করছেন: “যে স্বেচ্ছায় কোনো মুসলমানকে হত্যা করবে তার শাস্তি হচ্ছে দোজখ এবং সেখানে সে অনন্তকাল থাকবে, তার ওপর আল্লাহ ভয়ানক রকম রুষ্ট। তাকে তিনি লানত করেন”। [সুরা নিসা, আয়াত ৯৩]

উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআনের সূরাতুল মায়েদার ৩৪ নাম্বার আয়াতে বলা আছে, “আপনি মানুষের মাঝে মুমেনদের প্রতি সবচেয়ে বেশি শত্রুতা পোষণকারী পাবেন ইহুদীদেরকে আর অতঃপর মুশরিকদেরকে। আর তাদের মাঝে মুমেনদের সাথে বন্ধুত্বের অধিক নিকটবর্তী পাবেন ঐ সমস্ত লোককে যারা বলে আমরা নাসারা। এর কারণ হল, এদের মধ্যে অনেক আলেম ও দুনিয়াবিরাগী দরবেশ রয়েছে। আর এরা দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে না।”

পবিত্র মিশকাত শরীফের হাদিস অনুসারে নবী মোহাম্মদ(সাঃ) বলেন, “তোমরা ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের সাথে কখনো সদৃশ্য রেখো না। যে তাদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”

পবিত্র কোরআনের সূরাতুল বাকারার ১২০ নাম্বার আয়াতে বলা আছে- “ইহুদী-নাছারারা কখনো তোমাদের (মুসলমানদের) প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাদের ধর্ম গ্রহণ না করবে বা অনুগত না হবে।”

সোজা কথায়, যেহেতু জামায়াত নেতারা ইহুদীদের সাথে সম্পর্ক রাখছে সেহেতু নবী করীম (সাঃ) হাদীস অনুসারেই, জামায়াত নেতারা রাসুলের উম্মত নয়। অন্যদিকে, ইহুদীরা যেহেতু মুসলমানদের দুশমন সেহেতু তাদের সাথে সম্পর্ক রেখে পবিত্র কোরআন অবমাননা করায় জা্মায়াত নেতারাও ইসলামের দুশমন।

জামায়াত নেতারা যদি আসলেই ইসলামপন্থী হতেন তাহলে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বাঁচানোর জন্য ড. কামাল হোসেনের মেয়ের জামাই ডেভিড বার্গম্যানের মত কোন ইহুদী কখনো লবিস্ট হিসেবে তাদের সাহায্য করতে আসত না বা ইহুদীকে তারা তাদের লবিস্ট হিসেবে নিয়োগ করতো না।

অবশেষে, পবিত্র হাদীস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যার হাত ও জবান হতে মানুষ নিরাপদ নয়, সে আমার উম্মত নয়। জামায়াতে ইসলামী, রাজনৈতিক হীন স্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার লোভে তারা ধর্মকে অপব্যবহার করছে। দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ইহুদীদের এজেন্ট! আর তারা এই উপমহাদেশে ধর্মের ছদ্মাআবরণে ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য কাজ করছে।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৯ thoughts on “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্বরূপ উন্মোচন

  1. বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার,
    বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার, স্বেচ্ছাচার, অবাধ্যতা, অরাজকতা, প্রতিবন্ধকতা, প্রতিরোধ ইত্যাদি হচ্ছে এক কথায়, ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করা। আর পবিত্র কুরআন শরীফ-এ এসেছে, ‘ফিতনা-ফাসাদ কতলের চেয়ে ভয়ঙ্কর।’ [সুরা বাকারা, আয়াত ১৯১]

    পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহ্‌ তাআলা আরও ঘোষণা করছেন: “যে স্বেচ্ছায় কোনো মুসলমানকে হত্যা করবে তার শাস্তি হচ্ছে দোজখ এবং সেখানে সে অনন্তকাল থাকবে, তার ওপর আল্লাহ ভয়ানক রকম রুষ্ট। তাকে তিনি লানত করেন”। [সুরা নিসা, আয়াত ৯৩]

  2. পবিত্র হাদীস শরীফে ইরশাদ
    পবিত্র হাদীস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যার হাত ও জবান হতে মানুষ নিরাপদ নয়, সে আমার উম্মত নয়। জামায়াতে ইসলামী, রাজনৈতিক হীন স্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার লোভে তারা ধর্মকে অপব্যবহার করছে। দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

    1. সুচিন্তিত মন্তব্য করায় আপনাকে
      সুচিন্তিত মন্তব্য করায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। একটু খেয়াল করলে দেখতে পাবেন যে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ছাড়াও মিথ্যা বলা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, সত্য গোপন, অপপ্রচার, কুৎসা রটনা বা গীবত হেন কাজ নেই যা তারা করে না। তাই বলার অপেক্ষা রাখে না যে তারা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং ইসলামের কথা বললেও তাদের কার্যকলাপ সর্বহারাদের সমতুল্য। সত্যিকার অর্থে যদি তারা ইসলামের অনুসারী হতেন তবে কখনো কোন স্বার্থের বিনিময়ে আপোষ করতেন না। তারা তখনই ধর্মের কথা বলেন যখন তা তাদের পক্ষে হয়। @ তামান্না হায়দার

  3. আপনার লেখাটা ভালো লাগলো।
    আপনার লেখাটা ভালো লাগলো। কিন্তু কিছু প্রশ্ন ছিল, সেটা হল…. ইসলামী আন্দোলন করা ফরজ এটা আপনি জানেন নিশ্চই…. এখন কথা হল আমার কাছে জামাতকে সঠিক মনে হয়েছিল, কিন্তু যেহেতু তারা সঠিক নয়, এই পর্যায়ে আমি কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত হবো???

    1. মন্তব্য করার জন্য আপনাকে
      মন্তব্য করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। সত্য, ন্যায় এবং দেশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে থেকে রাজনীতি করুন। ‘ইসলামী আন্দোলন ফরজ’ এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন। আন্দোলনটা কেন করতে হবে? কেউ কি আপনার ধর্মকর্ম করতে আপনাকে বাঁধা দিচ্ছে? না। তাহলে আন্দোলনের নামে আপনি সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি নষ্ট করবেন কেন? সেই অধিকার আপনার নেই। আপনি একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেই রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনকানুন মেনে চলতে আপনি আইনত বাধ্য। ধর্মের ব্যাপারে জোর জবরদস্তি করা যাবে না। আবার ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে রাষ্ট্র ও সমাজের শান্তি শৃঙ্খলাও নষ্ট করা যাবে না। এসব ব্যাপারে ইসলামে স্পষ্ট নিষেধ আছে। @ মুক্তাদির

  4. বিশ্লেষণধর্মী একটি লেখা। পড়ে
    বিশ্লেষণধর্মী একটি লেখা। পড়ে অনেক কিছু জানলাম। জামাত বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন। তারা ৭১’ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সসস্র আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পবিত্র হাদীস শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যার হাত ও জবান হতে মানুষ নিরাপদ নয়, সে আমার উম্মত নয়। জামায়াতে ইসলামী, রাজনৈতিক হীন স্বার্থে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার লোভে তারা ধর্মকে অপব্যবহার করছে। দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 59 = 67