অন্ধভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা না বলে মৃত্যুর পরের শাস্তির কথা ভাবুন

আর যখন তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন কি হবে? প্রথমত তারা দ্বিতীয়বার সুযোগ চাইবে, “তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা! দূর্ভাগ্যে আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল এবং আমরা ছিলাম এক বিভ্রান্ত সম্প্রদায়। হে আমাদের পালনকর্তা! এই অগ্নি থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন! অতঃপর আমরা যদি পুনরায় কুফুরী করি, তবে তো আমরা অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী হবো। আল্লাহ বলবেনঃ তোমরা হীন ও ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাক এবং আমার সাথে কোন কথা বলো না”। (সূরা মু’মিনূনঃ ১০৬-১০৮) আল্লাহ সুবিচারক, তাই তিনি অপরাধীদের দ্বিতীয়বার সুযোগ দিয়ে প্রথমবার যারা সততার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের প্রতি তিনি অবিচার করবেন না।

অতঃপর তারা এই নিকৃষ্ট আবাসস্থল থেকে বেরোবার অন্য উপায় খুঁজবে কিন্তু, “যখনই তারা জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে, তখনই তাদেরকে তথায় ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তাদের বলা হবেঃ তোমরা জাহান্নামের যে আযাবকে মিথ্যা বলতে, তার স্বাদ আস্বাদন কর”। (সূরা সাজদাঃ ২০)

তখন জাহান্নামীদের পারস্পরিক কলহ শুরু হয়ে যাবে, “অতঃপর দূর্বলরা অহঙ্কারীদেরকে বলবেঃ আমরা তো তোমাদের অনুসারী ছিলাম। তোমরা এখন জাহান্নামের আগুনের কিছু অংশ আমাদের থেকে নিবৃত করবে কি? অহঙ্কারীরা বলবেঃ আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বিচার ফয়সালা করে ফেলেছেন।

যারা জাহান্নামে আছে, “তারা জাহান্নামের রক্ষীদেরকে বলবেঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে বলঃ তিনি যেন আমাদের থেকে একদিনের আযাব লাঘব করে দেন। রক্ষীরা বলবেঃ তোমাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তোমাদের রাসূল আসেননি? জাহান্নামীরা বলবে হ্যাঁ! রক্ষীরা বলবেঃ তবে তোমরাই দোয়া কর। বস্তুতঃ কাফিরদের দোয়া নিষ্ফলই হয়।” (সূরা মু’মিনঃ ৪৭-৫০)।

আমি ভাবি অহঙ্কারীদের তো অন্তত এটুকু সান্তনা থাকবে যে, তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করছে, কিন্তু (ভ- পীর-ফকিরের) বোকা অনুসরণকারীরা নিজেদের কি বলে সান্ত¡না দেবে?

শেষ পর্যন্ত জাহান্নামীরা স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, তাদের এই পরিণতির জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। যখন তাদের জিজ্ঞেস করা হবেঃ “কিসে তোমাদেরকে সাকারে (জাহান্নামে) নিক্ষেপ করলো? তারা বলবেঃ আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। অভাবগ্রস্তকে আহার্য দিতাম না। এবং আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনায় নিমগ্ন থাকতাম। এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম। আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত।” (সূরা মুদ্দাসসিরঃ ৪২-৪৭)।

কি মর্মান্তিক এই আত্মোপলব্ধি যে, তারা নিজেরাই তাদের এই দুর্ভাগ্যের স্রষ্টা! এর ওপর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মত: “আর তখন জান্নাতীরা দোযখীদেরকে (উপহাস করে ডেকে) বলবেঃ আমাদের প্রতিপালক যে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দিয়েছিলেন, তা আমরা বাস্তবভাবে পেয়েছি? কিন্তু তোমরাও কি তোমাদের প্রতিপালকের ওয়াদা সত্য পেয়েছ? তারা বলবেঃ হ্যাঁ! অতঃপর একজন ঘোষক উভয়ের মাঝখানে ঘোষণা করবেঃ আল্লাহর অভিসম্পাত জালেমদের উপর।” (সূরা আরাফঃ ৪৪)

অথচ একদিন ক্ষমতার বলে এই জাহান্নামীরা জান্নাতীদের নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছে, তাদেরকে অত্যাচার নির্যাতন করেছে, তাদের সম্পদ জোরপূর্বক দখল করেছে, তাদের প্রাণ পর্যন্ত হরণ করেছে! শাস্তির ভয়াবহতায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষপর্যন্ত তারা মৃত্যু কামনা করবে, “এবং যখন তাদেরকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় জাহান্নামের কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন সেখানে তারা মৃত্যুকে ডাকবে। (তখন বলা হবে,) আজ তোমরা এক মৃত্যুকে ডেকো না, অনেক মৃত্যুকে ডাক।” (সূরা ফুরকানঃ ১৩-১৪) কারণ আমাদের মৃত্যু একবারই হবে, তারপর মৃত্যুর মৃত্যু ঘটবে, সুতরাং যতই মৃত্যুকে কামনা করা হোক, জীবনের অবসান আর কষ্টের পরিসমাপ্তি টেনে আনতে পারবেনা।

-রে.বিনতে আনিস

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

64 − 55 =