“পীর হবিবুর রহমান স্মরণে” স্মারকগ্রন্থের কিছুকথা


দেশ, মাটি ও মানুষ; তিনটি শব্দের সহজ স্বাভাবিক অর্থ যা বোঝায়- তা হবিবুর রহমান হৃদয়ঙ্গম করেছিলেন। সে কারণে দেশের মানুষ মাটিকে অফুরন্ত্ম ভাবে ভালো বেসেছিলেন। সেই স্মৃতি আজও পৃথিবীতে সমুজ্জ্বল। রাজনৈতিক ভাবে চলমান অবস্থায় যথাযথ প্রয়োগ করার উপযুক্ত রাজনীতিবিদদের মধ্যে অন্যতম একজন হবিবুর রহমান। তাঁরা সর্বদাই বলতেন, “তোমার নেতা… আমার নেতা… জনতা, জনতা।” সিলেট অঞ্চলের হবিবুর রহমান এর পারিবারিক উপাধি যুক্ত করলে পীর হবিবুর রহমান। তিনি কালের স্বর্ণোজ্জ্বল এক দীপ্যমান নক্ষত্র, ইতিহাসের নেপথ্যচারী, বর্ষীয়ান, ত্যাগী, বটবৃক্ষসম, অপাপবিদ্ব লোকনায়ক। দায়বদ্ধ সংগ্রামী হৃদয়বান সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির নৈতিকতা সম্পন্ন শুভ্রতার ব্যতিক্রমী প্রতিমূর্তি। এ পৃথিবীতে তিনি চিরঞ্জীব।
ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিত্ববান, পরিবার থেকে পারিবারিক মর্যাদা রক্ষক, সমাজের সংস্কারক, রাষ্ট্রযন্ত্রে মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যয়ী, কলুষ-কালিমামুক্ত, রাজনৈতিক অঙ্গীকারাবদ্ধ, সুষম বণ্টন ব্যবস্থা চালুকরণ, শুষণহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা-তথা আর্থসামাজিক মুক্তি। মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও বিত্তহীন সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের মৌলিক গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে কিছু সংখ্যক অপরাজনীতি ও অপশাসনকারীদের প্রতিহত করে সুস্থ রাজনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রকৃত গণতন্ত্র যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতঃ বাস্তবধর্মী দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেকে তিনি তৈরি করতে পেরেছিলেন। সিলেট শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দক্ষিণে বাগেরখলা গ্রামে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পীর পরিবারের মরহুম মোঃ ইয়াহ্‌ইয়ার ঔরসে ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই অক্টোবর তাঁর জন্ম হয়। তিনি আজীবন আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক চেতনায় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক মূর্ত প্রতীক ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৭৭বৎসর বয়সে ১৬ই ফেব্রুয়ারী, ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটায় পৃথিবী থেকে চিরবিদায় গ্রহন করেন।
এ বিদায় বিদায় নয়! চির অম্ল্লান, চিরস্মরণীয় সমাজ বিবর্তনের ঐতিহাসিক পথ প্রদর্শকদের একজন। তাঁর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে গ্রামের বাড়ি বাগেরখলায় এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় সিলেট অঞ্চলের একই অনুসারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এ অবস্থায় বক্তারা তাঁকে উল্লেখ করে বলেন -“তাঁর আত্মার প্রকৃত শান্তি হবে সেদিন, যেদিন তাঁর লালিত স্বপ্ন বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে।
কবির ভাষায় –
“আমাদের মুক্তি”
মনু, সুরমা, কুশিয়ারা,
পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ধারা
আখাউড়া, কুলাউড়া, রাঙ্গুনিয়া
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
সকলের মুখে একই উক্তি
সম্মিলিত শক্তিই দিতে পারে আমাদের মুক্তি।

রাষ্ট্র ব্যবস্থা যেখানে সাম্রাজ্যবাদীর হাতে নতজানু ও নিয়ন্ত্রিত। দ্রব্যমূল্য থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবকিছু নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে গেছে। কারো কথা কেউ শুনছে না। রাষ্ট্র ব্যবস্থার উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দুই ধারার পরিবর্তে সুস্থ রাজনীতি চর্চার জন্য আদর্শিক চরিত্রবান অহিংস মতবাদে বিশ্বাসী সাদামনের অধিকারী প্রয়াত পীর হবিবুর রহমানের সহযোদ্ধা, সহযাত্রী ও তাদের অনুসারীরা দেশ, মাটি ও মানুষের কথা চিন্তা করে শর্তহীনভাবে একত্রিত হয়ে শান্তিপূর্ণ সহবস্থানের মধ্যদিয়ে ডানেরা একটু বামে, আর বামেরা একটু ডানে সড়ে এসে মধ্য পথে মিশ্র অর্থনৈতিক, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এবং এ শক্তিকে মূলধারায় নিয়ে যেতে হবে। দেশে রাজনৈতিক সৃষ্ট ভয়াবহ সংকট থেকে দেশ, মাটি ও মানুষকে মুক্ত করতে হবে। এ কাজটি গোষ্ঠীতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো করবে না, করতে পারে না। কারণ তারা তাদের অস্থিত্বের লড়াই চালিয়ে যাবে। সামগ্রিক লড়াই তাদের নয়। এই ক্ষেত্রে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, বিত্তহীন সর্বহারা শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। আদর্শের যেমন ক্ষয় নেই, আদর্শ ধারণকারীরও মৃত্যু নেই, এমনি এক মানুষ পীর হবিবুর রহমান স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও আদর্শ তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে অনন্তকাল। তাঁকে অনুসরণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। নইলে রত্নগর্ভা এ উজ্জ্বল রত্নকে সত্যিকার অর্থে মূল্যায়ন করা হবে না। তাঁর লালিত স্বপ্ন ও আদর্শের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। সে সময় অপেক্ষমাণ বিবর্তন অনিবার্য।
“পীর হবিবুর রহমান স্মারক গ্রন্থ”
প্রকাশক : পীর হবিবুর রহমান স্মৃতি সংসদ সিলেট ও পীর হবিবুর রহমান স্মৃতি সংসদ যুক্তরাজ্য।
সহযোগীতায় : ঈশান প্রকাশনী, সিলেট।
বইটি সম্পাদনা করেছেন : বিশিষ্ট লেখক, রফিকুর রহমান লজু।
প্রকাশকাল : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন ১৪১৫ বঙ্গাব্দ। প্রচ্ছদ করেছেন, গৌতম ঘোষ। অক্ষর বিন্যাস ও গ্রাফিঙ্ েফয়েজ কম্পিউটার, সিলেট। পরিবেশক উৎস প্রকাশন, ১২৭ আজিজ সুপার মার্কেট (৩য় তলা), শাহবাগ, ঢাকা। গড়ফবৎহ ইড়ড়শ ঝযড়ঢ়, ৭৪ নৎরপশ খধহব, খড়হফড়হ ঊ১ ৫খঔ. বইপত্র, উত্তর জিন্দাবাজার, সিলেট। বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ (তিনশত) টাকা। সম্পদনা পরিষদে রয়েছেন, যথাক্রমে – অধ্যাপক মোঃ আবুল বসর, অধ্যাপক মোঃ আব্দুল আজিজ ও মোঃ তবারক হোসেন এডভোকেট।
এ ধরণের সৃষ্টিশীল সৃজনশীলতা রক্ষাকারী সকল উদ্যোগতা, লেখক, প্রকাশক ও শুভানুধায়ীদের শ্রদ্ধাভরে আমার পক্ষ থেকে সাধুবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি আমি নিজেও একজন সাম্যবাদ সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাসী। তখন আজকের প্রজন্ম ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে স্মারক গ্রন্থটি সম্পর্কে সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব আলোচনা করা একান্ত আবশ্যক বিবেচনায় শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত মানুষের আর্থ সামাজিক মুক্তির সংগ্রামে যাদের জীবন উৎসর্গীকৃত তাদের জন্য কিছু কথার অবতারণা করছি মাত্র।
জননেতা পীর হবিবুর রহমানের স্মারক গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন হায়াৎ মামুদ, “প্রসঙ্গকথন” লিখেছেন মোঃ আবুল বসর, যুক্তরাজ্য শুভেচ্ছা লিখেছেন মাহমুদ এ রউফ, এবং “কথামূখ” লিখেছেন রফিকুর রহমান লজু।

ভিন্নতর শিরোনামে প্রবন্ধ লিখেছেন যারা : “চিরঞ্জিব পীর হবিবুর রহমান” অজয় রায়, “একজন প্রকৃৃত জননেতা” অনন্ত দেব, “পীর হাবিব” আইয়ুব আলী, “স্মৃতির কিছু কথা” আজিজুল ইসলাম খান, “একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ” আনসার খান, “জননেতা পীর হবিবুর রহমান স্মরণে” আ ফ ম কামাল, ” আমার দেখা পীর হবিবুর রহমান” আব্দুজ জহির সুফিয়ান, “পীর সাহেবকে যেমন দেখেছি” আব্দুল মালিক, “পীর হবিবুর রহমান স্মরণে” আবুল মাল আব্দুল মুহিত, “পীরভাই সম্পর্কে কিছু কথা” আমিনা আহমদ, “পীর সাহেবকে জীবিত রাখতে হবে” আহমেদুর রহমান আজমী, “স্মৃতিতে পীর হবিবুর রহমান” ইকবাল আহমদ চৌধুরী, “স্মৃতিচারণ” এ কে আব্দুল মোমেন, “আমার দেখা পীর চাচা” এম এ মান্নান, “স্মৃতি অম্লান” এম মুহিবুর রহমান, “জননেতা পীর হবিবুর রহমান স্মরণে” ড. কামাল হোসেন, “অপাপবিদ্ধ পীর হবিব এবং প্রসংঙ্গিক কিছুকথা” কে জি মোস্তফা, “মহৎ কাজের মহা কর্মী পীর হবিব” গোলাম মোঃ ইদু, “স্মৃতিতে অম্লাণ পীরভাই” চৌধুরী আব্দুল হাই এডভোকেট, “মাটি ও মানুষের নেতা পীর হবিবুর রহমান” তবারক হোসেন এডভোকেট, “জননেতার কিছুস্মৃতি কিছুকথা” তাজুল মোহাম্মদ, “বটবৃক্ষের মহাপ্রয়াণ” তানিম হোসেইন শাওন, “পূর্ণাঙ্গ জননেতার পরিচিতির জন্যে” কবি দিলওয়ার, “কালের স্বর্ণ- উজ্জ্বল এক দীপ্যমাণ নক্ষত্র” দেওয়ান ফরিদ গাজী, “ইতিহাসের এক নেপথ্যচারী লোকনায়ক” পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য, “গণমানুষের নেতা” ফখরুল ইসলাম চৌধুরী ফারুক, ” “পীর হবিবুর রহমান স্মরণে” কমরেড বরুণ রায়, “স্মৃতি তর্পন” ব্রজেন্দ্রকুমার দাস, “পীর হবিবুর রহমানকে যেমন দেখেছি” মনিরউদ্দিন আহমদ, “পীর হবিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন” মফিজ আলী, “জননেতা পীর হাবিবকে যেমন দেখেছি” মাহমুদ এ রউফ, “একজন দায়বদ্ধ জননেতার প্রতিকৃতি” মোঃ আব্দুল আজিজ, “আমার জীবনে পীরভাইয়ের প্রভাব” মোঃ মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী, “নির্মূহ জননেতা পীর হবিবুর রহমান” মোঃ শহীদুল্লাহ শিকদার, “এক মহান নেতার কথা” মোস্তাক কোরেশী, “স্মৃতি থেকে জননেতা পীর হবিবুর রহমান” মোহাম্মদ আরশ আলী, “তিন প্রবীণ নেতা স্মরণে” মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, “সুস্থ রাজনীতির ধারক পীর হবিবুর রহমান” মোহাম্মদ ফারুক আহমদ, “পরম শ্রদ্ধেয় জননেতা পীর হবিবুর রহমান” মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, “একজন সৎ রাজনীতিকের কথা” রুহুল কুদ্দুস বাবুল, “সংগ্রামী জননেতা পীর হবিবুর রহমান” লাল মোহন রায়, “পীর হবিব আমার জীবন গুরুর গান” শেখ আক্তারুল ইসলাম, “পীর সাহের রাজনীতিতে নৈতিকতা ও শুভ্রতার প্রতিমূর্তি” শেখর দত্ত, “পীর হবিবুর রহমান মাটির মানুষ সশ্রদ্ধ সালাম” সামসুদ্দোহা, “একজন বড় মানুষ” সালেহ চৌধুরী, “কাছে থেকে দেখা শ্রদ্ধেয় পীর সাহেব ও কিছু ঘটনা” সুধীর বিশ্বাস, “একজন হৃদয়বান রাজনীতিবিদ, সুবলচন্দ্র পাল, ” পীর হবিবুর রহমানকে খুব মনে পড়ে” সৈয়দ আনাস পাশা, “একটি ব্যতিক্রমী শোকসভার প্রস্তাব” সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, “পীর হবিবুর রহমানকে নিয়ে কিছু কথা” হামিদ মোহাম্মদ, “আমাদের নেতা : পীর হবিব” হাসানাত মুরতাজা স্বপন, “পীর হবিবুর রহমান স্মরণে” হেনা দাস।

প্রায় ৭৭বছর বয়সী বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী পীর হবিবুর রহমানের জীবন, কর্ম, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, রাজনীতি, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, বানিজ্য ও বংশ পরিচয় সম্পর্কে দেশের বরেণ্য ৫২জন লেখকরা কবিতা, প্রবন্ধ, ভূমিকার কথা সহজ সরল ভাষায় যথার্থই বর্ণনা করেছেন। এ লেখকদের মধ্যে অনেকেই আজ বেঁচে নেই। যারা জীবিত আছেন তাঁরাও জাতির সংকটময় মুহুর্তে দিক নির্দেশনা দিতে পারলেও ঐক্যবদ্ধ ও নির্দেশনার বাস্তবায়ন সম্পর্কে নিজেরাও মনস্থির এবং নিজেদের উপর আস্থা রাখতে পারছেন না বলে প্রতিয়মাণ হয়। দেশ মাতৃকার প্রয়োজনে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনে আবারও একটি ঝাকুনি দিতে হবে। যুগে যুগে এ পরিবর্তন হয়ে এসেছে। এখনও পরিবর্তন সময়ের দাবী। দেশবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে লালিত অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে দ্বায়ভার মুক্ত হবেন।
পীর হবিবুর রহমান বটবৃক্ষসম মহৎ, মহাকর্মী, মাটি ও মানুষের প্রকৃত ত্যাগী, রাজনীতিবিদ, জননেতা। তিনি অপাপবিদ্ধ কালের স্বর্নজ্জ্বল দীপ্যমান নক্ষত্র। ইতিহাসের নেপথ্যচারী লোকনায়ক। অন্যদিকে তিনি দায়বদ্ধ নির্মোহ, মহান, সুস্থ্য রাজনীতির প্রতিকৃতি, লোকান্তরের সংগ্রামী নৈতিকতা সম্পন্ন শুভ্রতার প্রতিমূর্তি, ব্যতিক্রমী ব্যক্তি চিরঞ্জীব। পীর হবিবুর রহমান একাধারে কংগ্রেস নেতা মনোরঞ্জন ধর, মওলানা ভাসানী-মুজিবের আওয়ামী লীগ, মনি সিংহের কমিউনিস্ট পার্টি, ভাসানী ন্যাপ ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের ন্যাপ, একতা এবং গণতন্ত্রী পার্টি করেছেন। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে। দেশ প্রেমে তাঁর মধ্যে কোনরূপ খাদ ছিল না। এ কথাটি নির্দ্বিধায় বলা যায়।
পীর ভাইয়ের যাপিত জীবনে জড়িয়ে থাকা নানা সুখ-দুঃখের অনুভূতি, আশা-নিরাশা, সংগতি-অসংগতি, আবহমান কালের সামগ্রীকতার সাথে কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম ছিল। এ সকল ব্যতিক্রমতার প্রতি প্রখর দৃষ্টি রেখে লেখকরা গভীর ভাবে আন্দোলিত হয়ে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প ও আলোচনায় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা শত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও যখন যার যে ভূমিকা ছিল তা যথাযথ ভাবে তাঁদের লেখনিতে তোলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। সংকীর্ণতা তাঁদের স্পর্শ করতে পারেনি। তবে অজ্ঞাত কারণে কোন প্রকার অসংগতি থাকতেই পারে। ইতিহাস সচেতন জাতিকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের গৌরব অর্জনের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে আসতে হবে। প্রাকৃতিক সুষমা মন্ডিত সৌন্দর্যে সুশুভিত, সম্পদে পরিপূর্ণ শাশ্বত ঐতিহ্যবাহী এ দেশ। বাংলাদেশ ভূখন্ডে সিলেট বিভাগে সত্তর উর্ধ্ব বয়সে মানুষটির জীবন, কর্ম পর্যালোচনা করে স্বনামধন্য লেখকরা জাতির ইতিহাসের সাথে সম্পৃকক্ত করেছেন। পীর হবিবুর রহমান স্মরণে স্মারক গ্রন্থটি প্রকাশ করা সত্যিই মহতি উদ্যোগ। এ উদ্যোগতারা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষায় চারিত্রিক বৈশিষ্টের মধুর সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিয়ে ভবিষত্যের গৌরবময় সোনালী সূর্যদয়ের সূচনা করেছেন।
এ ছাড়াও পীর হবিবুর রহমানের একটি সাক্ষাৎকার, জনৈক সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান গ্রহণ করে ছিলেন। এটি দৈনিক প্রথম আলো (আলোকিত সিলেট পাতায়) ২রা ডিসেম্বর ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। তার হুবহু লেখাটি বইটিতে সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি পীর ভাইয়ের জীবদ্দশায় লেখা রচনাবলি গুলো সিলেটের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ছাপাকৃত প্রবন্ধ, “কুঁড়িয়ে পাওয়া মানিক রতন”, “এইতো আমার সোনার দেশ”, “শান্তির স্বপক্ষে”, “চলতি পথে”, “উইদার বাংলাদেশের মানুষ”, “ঘুমের মানুষ বুঝি জাগে”, “সিলেটে আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম কথা”, ” যে পথ বেয়ে এলো অমর একুশ”, “ইধর হাম-উধর তুম”, “হনুজ দিল্লীদুর-আস্ত”, “এক অজানা সৈনিক” সহ ৮টি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি যার মধ্যে ৪টি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক/বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরে লিখা। অপর ৪টি আইয়ুব আলী, লজ ও পঙ্কজ বাবু বরাবরে লিখেছেন এবং ৩২টি ছবি সংযোজন করে মোট ৩৩৩ পৃষ্টার বিশাল আকারের স্মারক গ্রন্থটি সামগ্রিক অর্থে তোলে ধরা সত্যিই দুরহ ব্যাপার। তবু সম্পাদক সহ লেখকরা সকল স্থরের সাধারান ও বোদ্ধা পাঠকদের সংরক্ষনে রেখে শুভানুধ্যায়ীদের কাছে তুলে ধরতে কৃপণতা করেননি। এ জন্য আমি আপনাদের সকলকেই কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করছি।
চলমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে অজানা কোন বিষয়বস্তু থাকতে পারে না। সেহেতু কারণে আমরা যদি কেউ কৃপণতার আশ্রয় নেই কিংবা নিজেকে বড় করে দেখানোর ভূমিকা নেই, তবে সেখানে দুরদৃষ্টি সর্ম্পণতা ক্ষুন্ন হয়। এ রকম মনোবৃত্তি নিয়ে কোন লেখা সুনিপূণ ভাবে সুবিন্ন্যাস্থ শুদ্ধ সুচারু রুপে সম্পাদনা করা যায় না। আগামীতে এ ধরণের কর্মকান্ডহীন সুন্দর নিখুঁত সম্পাদনা হাতে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
সুপ্রিয় পাঠক, আমি বোদ্ধা আলোচক বা সমালোচক এর কোন অবস্থান নিয়ে লিখছি না। সামাজিক দায়িত্ব বোধ থেকে দায় এড়াতে না পেরে বিবেকের তাড়নায় প্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখার সাথে সম্পৃক্ত করছি মাত্র। বোধগম্যতার দিক থেকে বলতে হয়, লেখকেরা সকলেই বেঁচে থাকেন, মানুষের জন্য, সমাজের জন্য, যে কাজ সেই কর্মযজ্ঞে। এটি সৃষ্টিশীল মূল্যবান স্মারক গ্রন্থ। গ্রন্থটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, রাজনীতি, ধর্ম, কর্ম, ও শিক্ষা সংস্কৃতির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় পাঠ্য সংযোজন বলে সাম্যক ভাবে প্রতিয়মাণ হয়। এ গ্রন্থটির প্রকৃত মূল্যায়ন সহ বিচারের ভার দেশবাসীর উপর রইলো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on ““পীর হবিবুর রহমান স্মরণে” স্মারকগ্রন্থের কিছুকথা

  1. লেখকদের তালিকা দেখে মনে হচ্ছে
    লেখকদের তালিকা দেখে মনে হচ্ছে ভাল একটা প্রকশনা এটি। তবে পীর হাবিবুর রহমানকে আমার মাঝে মাঝে বেশ রহস্যজনক মনে হয়েছে।

  2. “আমাদের মুক্তি”
    মনু, সুরমা,

    “আমাদের মুক্তি”
    মনু, সুরমা, কুশিয়ারা,
    পদ্মা, মেঘনা, যমুনার ধারা
    আখাউড়া, কুলাউড়া, রাঙ্গুনিয়া
    টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
    সকলের মুখে একই উক্তি
    সম্মিলিত শক্তিই দিতে পারে আমাদের মুক্তি।

    বাংলার বুক থেকে এই লেখকেরা হারিয়ে যায়।আফসোস।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 8 = 2