নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যা তদন্তে ধীরগতি

?resize=370%2C192″ width=”400″ />

ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ নির্মাণের কর্মী নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যা রহস্য ২৩দিনেও উন্মোচিত হয়নি। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে তাদের বিভিন্ন সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে, তথাপি তিক্ত অতীত অভিজ্ঞতার কারণে খুনি ও পরিকল্পনাকারীরা আদৌ ধরা পড়বে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ জাগে।

তদন্তে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু অকাট্য তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কয়েকটি সংস্থা। কিন্তু মামলাটির তদন্ত কিছুটা মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অযাচিত বক্তব্য, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে আল্লামা শফীর হুমকি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. রেজাউল করিম, সমকামী অধিকার কর্মী জুনায়েদ ও তনয় খুনের কারণে।

এখন পর্যন্ত যা জানা গেলো তা এ-রকম:

* খুনের পরিকল্পনাকারীরা সিলেটের। তারা ২০১৩ সাল থেকে নাজিমের উপর নজর রাখছিল।

* নাজিম দুই মাস আগে ঢাকায় আসায় তারাও ঢাকায় এসে নাজিমের গতিবিধির উপর নজর রাখা শুরু করে।

* হামলাকারীদের মধ্যে অনন্ত বিজয় দাসের খুনিদের কেউ কেউ উপস্থিত ছিল।

* অনন্ত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুইজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হিজবুত তাহরীর নেতা শফিউর রহমান ফারাবীকেও সন্দেহভাজন উস্কানীদাতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

* হামলার জন্য খুনিরা এমন জায়গা বেছে নিয়েছিল যেখানে কোন সিসিটিভি ক্যামেরা নেই।

* এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে হামলার সময় ঘটনাস্থলে কমপক্ষে ৮জন উপস্থিত ছিল এবং পুরো পরিকল্পনায় আরো ৫জন ছিল।

* সন্দেহভাজনদের মধ্যে সিলেট শাখার শিবিরের সদস্য ছাড়াও বুয়েট ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবির কর্মীরাও আছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে শিবির, হুজি, জেএমবি, হিজবুত তাহরীর, আনসারুল্লাহ ও হেফাজত সমর্থকরা দেশে ইসলামী আইন বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ক্ষমতা দখলের জন্য একসাথে কাজ করছে।

এই মামলার তদন্ত নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার কারণ হল, এর আগে ওয়াশিকুর বাবু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই খুনি হেফাজতের হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র হলেও এবং তারা এক হুজুরের উস্কানিতে বাবুকে খুন করলেও পুলিশ সেই উস্কানীদাতার নাম চার্জশিটে উল্লেখ করেনি। এমনকি পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কের সম্পর্কে কোন পরিষ্কার ধারণা দিতে পারেনি।

তার আগে রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় উস্কানীদাতা হিসেবে জসিম উদ্দীন রাহমানীর নাম আসলেও তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করায় তার মাত্র ৫বছরের জেল হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক একেএম শফিউল ইসলাম হত্যা মামলায় সম্প্রতি রাজশাহীর পুলিশ গোপনীয়তার সাথে চার্জশিট জমা দেয়। RAB-এর সরাসরি নির্দেশে আসামী করা হয় যুবদল নেতাদের, অথচ এই পুলিশই আগে বলেছিল অধ্যাপক শফিউল হত্যায় ছাত্র শিবির সরাসরি জড়িত।

খুনের আগে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা দিতে বর্তমান সরকার ও তার প্রশাসন রাজী নয়। তাই অভিজিত রায়, নীলয় নীল প্রমুখ নিরাপত্তা চেয়েও পাননি। অভিজিত রায় দেশে আসার আগে এফবিআই-কে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারা এগিয়ে এসেছে টিএসসি এলাকায় পুলিশি প্রহরায় তিনি খুন হবার পর। অভিজিত রায়ের উপর হামলার কয়েক মাস আগে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসআই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৩৩জন ব্লগার/লেখকের তালিকা দিয়ে বলেছিল এদেরকে যেকোনো সময় খুন করা হতে পারে। অভিজিত রায়ের নাম ছিল সেই তালিকায়। মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বাহিনী যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি।

নাজিম খুন হবার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন সে কোন উস্কানিমূলক বা অবমাননাকর কিছু লিখত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু পুলিশ পরে তদন্ত করে কোন ব্লগে নাজিমের কোন লেখা পায়নি। সে শুধু ফেসবুকেই লিখত এবং জামায়াত-শিবির ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিল।

এরকম ফলাফল পাবার পরেও প্রধানমন্ত্রী ধর্ম নিয়ে লেখালেখি করাকে নোংরা মন মানসিকতা বললেন এবং সাফ জানালেন এসব কারণে কেউ খুন হলে সরকার কোন দায় নেবে না। একই সময়ে তিনি এক কথায় দাবী করেন যে, শান্তির ধর্ম ইসলাম কখনো খুন সমর্থন করেনা।

নাজিম খুন হবার দুই দিন পর বাংলাদেশে ইসলামের হেফাজতকারী শফী এক প্রকাশ্য জনসভায় নাস্তিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এর আগে শফী বলেছিল নাস্তিকদের কতল করা ওয়াজিব হয়ে গেছে।

গত ২০১৩ সালের পর শিবিরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী জামায়াতের সংগ ত্যাগ করে জঙ্গিদের খাতায় নাম লিখিয়েছে। তাছাড়া হেফাজতের মাদ্রাসার ছাত্ররা দলে দলে জঙ্গি কার্যক্রমে যোগ দিচ্ছে। সবারই উদ্দেশ্য একই – ক্ষমতা দখল ও ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করা। জঙ্গিবাদ পর্যবেক্ষণকারীরা বলছেন এখন সব জঙ্গিদের নেতৃত্ব দিচ্ছে হিজবুত তাহরীরের সদস্যরা এবং অর্থায়ন করছে দেশে-বিদেশে থাকা জামায়াতের নেতারা।

বিপদ নিশ্চিত জেনেও যারা ধর্ম ব্যাবসায়ি ও ধর্মান্ধদের গড়ে তোলা সাম্রাজ্যে আঘাত হানতে পারে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যায় সেই অল্প কিছু সংখ্যক মানুষকে সম্মান দেখাতে কার্পণ্য করতে পারে শুধু সেইসব মানুষদের সমর্থক ও সহমর্মীরা।

ইসলাম রক্ষার নাম করে ধর্ম ব্যবসায়ীদের অপকর্মের প্রতিবাদ করা এদেশে অপরাধ; জামায়াত-হেফাজতের মত জঙ্গি ট্রেনিং-দাতাদের কটাক্ষ করা অপরাধ; যুক্তির আলোকে ইসলাম, আল্লাহ ও মোহাম্মদকে বিচার করা অপরাধ; বর্তমান সময়ের আলোকে কোরআনকে বিশ্লেষণ করা অপরাধ; কোরআনের আয়াত ও মোহাম্মদের জীবনে ঘটে যাওয়া অজস্র অসঙ্গতি, অসংলগ্ন আচরণের সমালোচনা করা অপরাধ; ধর্ম বিষয়ে যুক্তিবাদী ও উদারপন্থী হওয়া অপরাধ… আর এসব অপরাধের কারণে বাংলাদেশে আপনার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। উগ্রপন্থী খুনি মুসলিম সেনা, এবং তথাকথিত আস্তিক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সজীব ওয়াজেদ জয়, পুলিশ ও RAB প্রধানের বক্তব্য থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে এদেশে জামায়াত-শিবির ও হেফাজতের নির্দেশনা মোতাবেক ধর্ম চর্চা না করলে খবর আছে।

সাথে আরো কয়েকটা কাজ করতে হবে: দেশের সংবিধান ও আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিন; শরীয়াহ আইন চালু করুন; জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত বদলান; জাতীয় কবি হিসেবে নাস্তিক কাজী নজরুল ইসলামের পদবি কেড়ে নিন; সুন্নি ব্যতীত বাকী সব কাফেরদের নাগরিকত্ব বাতিল করে দিন; মসজিদ ছাড়া সব ধর্মীয় উপাসনালয় ভেঙ্গে-গুড়িয়ে দিন; দেশে-বিদেশে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মুমিনদের অস্ত্রসহ ধর্ষণের প্রশিক্ষণ দিন; এবং সর্বোপরি আল্লামা শফির মত একজন বিজ্ঞ-মুমিন বান্দাকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বসিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাস্তান, ইসলাম, আল্লাহ, মোহাম্মদ ও কোরআনের মর্যাদা নিশ্চিত করুন।

(প্রথম প্রকাশ Norrfika.se তে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যা তদন্তে ধীরগতি

  1. নাজিম খুন হবার পর
    নাজিম খুন হবার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন সে কোন উস্কানিমূলক বা অবমাননাকর কিছু লিখত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।
    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঠিক কথাই বলেছেন । ইসলামী মতে আল্লাহ্‌ বা নবী (সঃ) এর বিরুদ্ধে কোন উস্কানিমূলক বা অবমাননাকর কিছু লেখা হলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

    মডারেট মুমিনরা ভূল তথ্য মানে (ইসলাম কোন হত্যা সমর্থন করে না ) দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে নাজিমদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 − = 63