জাকির নায়েকের যুক্তি ও মানুষকে ভোদাই বানানোর কৌশল

জাকির নায়েক হলো বর্তমান যুগের আধুনিক নবী, যার লক্ষ লক্ষ অনুসারী আছে। অনেকে তো জাকির নায়েকের নামে উন্মাদ হয়ে যায়। তারা ভাবে দুনিয়াতে জাকির নায়েকই একমাত্র ব্যাক্তি যে ইসলাম সবচাইতে ভাল বোঝে। সুতরাং এই হেন ব্যাক্তির একটা যুক্তিকে কাটা ছেড়া করা যাক।

যুক্তি : গাড়ী চালানোর ম্যনুয়াল পড়ে , কেউ ড্রাইভার হয়ে যদি দুর্ঘটনা ঘটায়, তাহলে ম্যানুয়ালকে দোষ দেয়া যায় না , দোষ মানুষটার। তাই ইসলাম জেনে কেউ কেউ যদি সন্ত্রাসী বা জঙ্গি হয়ে যায়, তাহলে দোষ ইসলামের না , দোষ সেই সন্ত্রাসী বা জঙ্গি মানুষটার।

সাধারন ধর্মপ্রান মানুষ যারা ইসলামের পক্ষে যায় , এমন যে কোন যুক্তিই বিনা প্রশ্নে মেনে নিতে রাজী, তারা এই যুক্তিকে অব্যর্থ বলেই মানে ও সর্বদা এই যুক্তি অন্যদের কাছে দিয়ে থাকে। তারা এই যুক্তির কোন দুর্বলতা আছে কি না, সেটা ভাবতে রাজী না , ভাবার মত মনমানসিকতাও নেই। যাইহোক , এই যুক্তিকে ভালমত বিচার বিশ্লেষন করা যাক।

ম্যানুয়াল পড়েই মানুষ ড্রাইভারী শেখে। কিন্তু শতকরা কয়জন ড্রাইভার দৈনিক দুর্ঘটনা ঘটায় ? সেটা ১% ও হবে না। সুতরাং অত:পর কেউ যদি দুর্ঘটনা ঘটায়ই , তাহলে ম্যানুয়ালকে নয়, ড্রাইভারকেই দোষ দিতে হবে। কিন্তু ইসলামের ক্ষেত্রে কি বিষয়টা তাই ? আমরা দেখছি , মানুষ যত ইসলাম শিখছে আর জানছে , তারা তত বেশী জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটা কওমী মাদ্রাসা হলো উগ্র মৌলবাদীতার আখড়া , যারা যে কোন সময়ই জঙ্গি বা সন্ত্রাসীতে পরিনত হয়ে যেতে পারে , যা দেখা গেছে , ২০১৩ সালে গনজাগরন মঞ্চের আন্দোলনের সময়। স্বাভাবিক সময়ে তাদেরকে হয়ত ভীষন নিরীহ মানুষ মনে হতে পারে , কিন্তু তারা যে কোন মুহুর্তেই ভয়াবহ জঙ্গি সন্ত্রাসী হয়ে যেতে পারে। আই এস , তালেবান , বোকো হারাম , আল শাবাব ., আল কায়েদা , জামাত শিবির , জে এম বি ইত্যাদিরা ইসলাম ভাল মতো জেনে শুনে বুঝেই সবাই জঙ্গি সন্ত্রাসী অসভ্য বর্বর হচ্ছে। আর তাদের সংখ্যা শত শত নয়, হাজার হাজার নয়, তাদের সংখ্যা সব মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ , আর তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ধর্মপ্রান মানুষের সংখ্যা কোটি কোটি। সুতরাং পরিসংখ্যানের দিক থেকে তা মোটেও ১% না , এটা এই মাত্রার চাইতে অনেক বেশী।

সুতরাং তাহলে কি আর মানুষকে দোষ দেয়া যায় নাকি , সেই ম্যানুয়েল অর্থাৎ ইসলামকে এখানে দোষ দিতে হবে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “জাকির নায়েকের যুক্তি ও মানুষকে ভোদাই বানানোর কৌশল

  1. আই এস , তালেবান , বোকো হারাম
    আই এস , তালেবান , বোকো হারাম , আল শাবাব ., আল কায়েদা , জামাত শিবির , জে এম বি এদেরকে জঙ্গি সন্ত্রাসী বলছেন কেন ? এরা যে কাজ করছে তা সম্পূর্ণ ইসলামী বিধি বিধান মেনেই করছে । ইসলামী বিধি বিধান মানা কি জঙ্গি সন্ত্রাসীর কাজ ?

  2. জাকির মোল্লার এই উদারহন টা
    জাকির মোল্লার এই উদারহন টা দেখছি ইউটিউব এ । যুক্তি খারাপ দেয় নাই, ভালই বলছে। শুনতে বেশ লাগে, কর্ণ-কুহরে মধু বর্ষণ করে ।

    কিন্তু ফাঁকটা হইলঃ গাড়ির ম্যানুয়াল বনাম কুরআন ম্যানুয়াল যখন একই রকম উদারহন দিয়ে তুলনা করা হয়, তখন জারিজুরি টা পরিস্কার হয় ।

    দেখেন … একদম লাইক-টু-লাইক উদাহরন সহ যদি তুলনা করি,

    ১। গাড়ির ড্রাইভার ম্যানুয়াল এর নির্দেশ মানল না, ভুল করল এবং দুর্ঘটনা ঘটল।
    [উদাহরনঃ থামার সময় ব্রেক এর বদলে অ্যাক্সেলারেটরে চাপ দিল এবং নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলল।]

    ২। ইসলাম এর অনুসরণকারী কুরআন এর নির্দেশ মানল না, ভুল করল এবং মানবজাতির উপকার হইল।
    [উদাহরনঃ সমকামী, কাফের, মুরতাদ নিধন করল না । অর্থাৎ ‘কুরআন ম্যানুয়াল’ এর নির্দেশ পালন করল না।]

    উপরের উদাহরন দুটি খেয়াল করেন। একদম পেপছি চ্যালেঞ্জ এর মত like-to-like comparison. কিন্তু outcome ভিন্ন ।

    এবার আসুন যদি ২ নং উদাহরনটি পরিবর্তন করি, দেখা যাক রেজাল্ট কি আসে। ২ নং উদাহরনটি যদি অন্যথায় হয় এরকম,

    ২। ইসলাম এর অনুসরণকারী কুরআন এর নির্দেশ সঠিক ভাবে মানল, পালন করল এবং মানবজাতির ক্ষতি সাধন হল ।
    [উদাহরনঃ সমকামী, কাফের, মুরতাদ নিধন করল যথাযথ ভাবে ‘কুরআন ম্যানুয়াল’ এর নির্দেশ পালন করে]

    তাহলে কি হল ব্যাপারটাঃ সমস্যা তো মুসলিম দের না (যদি ড্রাইভার ধরি তাদেরকে)!! সমস্যা তো কুরআনেই (যদি ম্যানুয়াল ধরি এটাকে)। সবাই তো ভালো ড্রাইভার হতেই চাইবে, নয় কি? কেউ কি খারাপ ড্রাইভার হতে চায়?

    1. এই পোষ্টে মুমিনেরা কোন ফাঁক
      এই পোষ্টে মুমিনেরা কোন ফাঁক দেখে নাই বলে , মন্তব্য করে নিজেরা ভোদাই সাজতে চায় নি , সেটা খেয়াল করেছেন ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 3