ধর্ম নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি নিষিদ্ধ করা অতি জরুরী

পাকিস্তানীরা ইসলাম ধর্মের নামে বাংলাদেশের মানুষ হত্যা করেছিল, ১৯৭১ সালে ধর্মের নামে বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করেছিল। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর এদেশীয় দালালরা মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে ধর্মের নামে অত্যাচার, নিপীড়ন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরসহ সকল প্রকার অপকর্ম চালিয়েছিল। কিন্তু অবশেষে সসস্র যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু শাসনামলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়। জিয়াউর রহমান শাসন ক্ষমতা দখল করেন এবং সামরিক শাসন জারী করেন। তিনি বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতি করার বৈধতা দেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ধর্ম ভিত্তিক দলগুলো এদেশের মাটির অনেক গভীরে তাদের শিকড় বিস্তার করে। এখন তারা বাংলাদেশের অনেক বড় শক্তি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করা এবং এই বিচার বিতর্কিত করার জন্য তারা দেশে বিদেশে যে পরিমান টাকা খরচ করছে, বিএনপি শাসনামলে সারা দেশে ৫০০’র অধিক স্থানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা তাদের শক্তি- সামর্থ্য ও অস্তিত্বের জানান দিয়েছে। তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, একটি দলের কাধে চড়ে এই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলি তাদের রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানী সামরিক জান্তা এবং রাজনৈতিক দলগুলি এই ধর্মভিত্তিক দলগুলিকে রাজনীতিতে ব্যবহার করতে গিয়ে আজ তারা চরম খেসারত গুনছে। কিছুদিন আগে পাকিস্তানের একটি স্কুলে যে অমানবিক ঘটনা ঘটল, তা পাকিস্তানতো বটেই সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের কাছে অত্যন্ত শোকের গভীর বেদনার। আজ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ পাকিস্তানের তালেবানদের সাথে সকল প্রকার আলোচনা বাতিল করেছেন।

বর্তমানে, এই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো পাকিস্তানের সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গিয়েছে। এমনকি সরকারের সরকার এবং সেনা বাহিনীর মধ্যেও তারা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক অতীতের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা থেকে সে আলামত পাওয়া যায়। ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের এবতাবাদের যে বাড়ীতে পাওয়া যায় সেটি ছিল পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে, সেনা বাহিনীর কারো সহায়তা ছাড়া ওই বাড়ীতে লাদেনের বছরের পর বছর বসবাস করা ছিল অসম্ভব।

বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক বহুদল উপদল বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে তাদের জাল বিস্তার করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনায় তার প্রমান পাওয়া যায়। কিছুদিন পূর্বে একজন বিচারক ধরা পরেছেন, যিনি সরাসরি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরির এর সাথে সম্পৃক্ত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা, সরকারের নির্বাহী বিভাগ সহ প্রতিটি সেক্টরে এই ধর্ম ভিত্তিক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব দেখা যায়। বাংলাদেশের সাধারন মানুষ বিষয়টি এখন বুঝতে পারছেন। তাদেরকে যদি এখনি থামানো না হয়, তবে পাকিস্তানের মত বাংলাদেশেরও অনেক মাসুল গুনতে হবে।

পরিশেষে, হেলাফেলা নয়, উদাসিনতা নয়, ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, সরকার আর বিরোধী দলের উপর দোষ দেওয়া আর কাদা ছোড়া ছুড়ি নয়, দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধর্ম নিরেপেক্ষ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ধর্মভিত্তিক দলগুলিকে প্রতিহত করতে হবে, তাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। নতুবা অদুর ভবিষ্যতে আমাদের উদাসীনতার জন্য আমাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২১ thoughts on “ধর্ম নিয়ে ঘৃণ্য রাজনীতি নিষিদ্ধ করা অতি জরুরী

  1. হেলাফেলা নয়, উদাসিনতা নয়,
    হেলাফেলা নয়, উদাসিনতা নয়, ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, সরকার আর বিরোধী দলের উপর দোষ দেওয়া আর কাদা ছোড়া ছুড়ি নয়, দেশের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এখনই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধর্ম নিরেপেক্ষ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এই ধর্মভিত্তিক দলগুলিকে প্রতিহত করতে হবে, তাদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। নতুবা অদুর ভবিষ্যতে আমাদের উদাসীনতার জন্য আমাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

  2. চমৎকার লিখেছেন। সহমত পোষণ
    চমৎকার লিখেছেন। সহমত পোষণ করছি। বর্তমানে, এই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো পাকিস্তানের সরকারের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গিয়েছে। এমনকি সরকারের সরকার এবং সেনা বাহিনীর মধ্যেও তারা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক অতীতের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা থেকে সে আলামত পাওয়া যায়। ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের এবতাবাদের যে বাড়ীতে পাওয়া যায় সেটি ছিল পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে, সেনা বাহিনীর কারো সহায়তা ছাড়া ওই বাড়ীতে লাদেনের বছরের পর বছর বসবাস করা ছিল অসম্ভব।

  3. আপনি যে নিজের অজান্তেই
    আপনি যে নিজের অজান্তেই সৈরাচারী আচরণ করছে সেটি কি বুঝতে পারছেন। যে কোন জীবন দর্শন নিয়ে যে কেউ রাজনিতী করতে পারবে, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের পুর্বশর্ত। স্যেকুলারিসম, কমিউনিজম , গনতন্ত্রের নামে রাজনিতী চলতে পারবে, কিন্তু ধর্মের নামে নয়! বাহ! কি নিদারুন সৈরাচার মূলক আচরন!!।

    1. পৃথিবীর যে সমাজই ধর্ম থেকে
      পৃথিবীর যে সমাজই ধর্ম থেকে রাজনীতিকে আলাদা করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের নামও সভ্য সমাজের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ধর্ম ধারন করার বিষয়, ব্যবহার করার বিষয় নয়। আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখুন, যারাই ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছে, পরিনিতিতে তারাই মাশুল গুনছে। ধন্যবাদ আপনাকে। @ পার্থিব

  4. ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে
    ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে হয়তো নিষিদ্ধ করতে পারবেন , কিন্তু ৯০% জনগণকে কীভাবে সামলাবেন , যেদিন তাঁরা সবাই জেনে যাবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর মতাদর্শই আসল ইসলামী মতাদর্শ ।

    1. রাষ্ট্র চাইলে অবশ্যই সম্ভব।
      রাষ্ট্র চাইলে অবশ্যই সম্ভব। যার যার ধর্ম তার তার মত পালন করবে। এটা মুহাম্মদ (স.) এর কথা। ইসলামের ইতিহাসসমৃদ্ধ তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কিছু দেশে ৯৬% এর উপরে বসবাস করা স্বত্বেও তারা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। তারাও কিন্তু ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকেও সভ্য ও সুশিক্ষিত করে তুলতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে। @ মিতা

      1. “তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও
        “তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কিছু দেশে ৯৬% এর উপরে বসবাস করা স্বত্বেও তারা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত”
        তাঁর মানে এই নয় যে ঐ সকল রাষ্ট্র সহি ইসলামী রাষ্ট্র-
        নবী (সঃ) কি নির্দেশ দিয়েছেন তা দেখতে হবে —
        মুশরিকদেরকে ইসলামের দাওয়াত প্রদান।
        ২৬০৪. মুহাম্মদ ইবন সুলায়মান আল্ আনবারী ……… বুরায়দা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) কোন ক্ষুদ্র সেনাদল অথবা বিরাট সাজোয়া বাহিনীর উপর কাউকে আমীর (সেনাপতি) নিযুক্ত করে পাঠাতেন, তখন আমীরকে লক্ষ্য করে উপদেশ দিতেন, যেন সে নিজে আল্লাহ্ কে ভয় করে চলে আর তাঁর সঙ্গী মুসলিক সৈন্যদের প্রতি নেক নজর রাখে। রাসূল করীম (সাঃ) আরও বলতেনঃ যখন তুমি তোমার মুশরিক শত্রুদের সাক্ষাত পাও তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণ করার জন্য আহবান জানাবে। আর যে কোন একটি গ্রহণ করলে তুমি তাতে সায় দিবে এবং তাদের উপর আত্রমণ চালানো হতে বিরত থাকবে। ১. তাদেরকে ইসলামের আহবান জানাবে। যদি এতে সাড়া দেয়, তুমি মেনে নিবে আর তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হতে বিরত থাকবে। তারপর তাদেরকে নিজ দেশে ছেড়ে মুহাজিরদের দেশে অর্থাৎ মদীনায় হিজরত করার আহবান জানাবে আর তাদেরকে অবহিত করে দিবে যে, হিজরত করার পর মুহাজিরগণ যে সকল সুবিধা ভোগ করেন, তারাও সে সকল সুবিধা ভোগ করবে। আর জিহাদের যে সকল দায়-দায়িত্ব মুহাজিরদের ওপর বর্তায়, তাদের ওপরও তা সমভাবে বর্তাবে। তারা যদি এ প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানায় আর নিজ দেশেই অবস্থান করতে চায় তবে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, তাদেরকে আল্লাহ আদেশ-নিষেধ ও বিধি- বিধান মেনে চলতে হবে যেরূপে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অংশ লাভ করে না, এরাও তেমনি এর কোন ভাগ পাবে না, যে পর্যন্ত মুজাহিদগণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে। ২. যদি তারা ইসলাম গ্রহণ না করে তবে তাদের নিরাপত্তার জন্য জিয্ইয়া প্রদানের প্রস্তাব দিবে। এতে রাযী হলে তুমি মেনে নিবে এবং তাদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে না। ৩. যদি তারা জিযইয়া দিতে অস্বীকার করে তবে তাদের ওপর আক্রমন চালাবে।আক্রমনকালে যখন কোন শত্রুর দূর্গ অবরোধ করবে আর তারা তাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে দুর্গ হতে অবতরণের ইচ্ছা প্রকাশ করবে, তখন তুমি আল্লাহ্ অথবা রাসূলের নির্দেশের আশায় তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিবে না বরং তোমার নিজ সিদ্ধান্ত তাদেরকে মেনে নিতে বাধ্য করবে এবং নিজেই সুবিধামত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কারণ, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ কী হবে তা জানা নেই, সুতরাং সে অনিশ্চিয়তার ঝুঁকি গ্রহণ করতে নেই। তাদের ব্যাপারে পরে তোমার ইচ্ছানুযায়ী ফয়সালা গ্রহণ করবে। অত্র হাদীসের রাবী সুফিইয়ান বলেন, তাঁর শায়খ আলকামা বলেছেন, তিনি এ হাদীসটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে মুহাদ্দিস মুকাতিল ইবন হিব্বানকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি অপর সনদে নু‘মান ইবন মুকাররিন কর্তৃক নবী করীম (সাঃ) হতে সুলায়মান ইবন বুরায়দা (রাঃ) এর উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
        Sulaiman bin Buraidah reported on the authority of his father. When the Apostle of Allaah(ﷺ) appointed a Commander over an Army or a detachment, he instructed him to fear Allaah himself and consider the welfare of the Muslims who were with him. He then said “When you meet the polytheists who are your enemy, summon them tone of three things and accept whichever of them they are willing to agree to, and refrain from them. Summon them to Islam and if they agree, accept it from them and refrain from them. Then summon them to leave their territory and transfer to the abode of the Emigrants and tell them that if they do so, they will have the same rights and responsibilities as the Emigrants, but if they refuse and choose their own abode, tell them that they will be like the desert Arabs who are Muslims subject to Allaah’s jurisdiction which applies to the believers, but will have no spoil or booty unless they strive with the Muslims. If they refuse demand jizyah (poll tax) from them, if they agree accept it from them and refrain from them. But if they refuse, seek Alaah’s help and fight with them. When you invade the fortress and they (its people) offer to capitulate and have the matter referred to Allaah’s jurisdiction, do not grant this, for you do not know whether or not you will hit on Allaah’s jurisdiction regarding them. But let them capitulate and have the matter refereed to your jurisdiction and make a decision about them later on as you wish.

        Sufyan (bin ‘Uyainah) said thah ‘Alqamah said “I mentioned this tradition to Muqatil bin Habban, He said “Muslim narrated it to me.” Abu Dawud said “He is Ibn Haidam narrated from Al Nu’man in Muqqarin from the Prophet (ﷺ) like the tradition of Sulaiman bin Buraidah.
        সমস্যা? রিপোর্ট করুন!
        باب فِي دُعَاءِ الْمُشْرِكِينَ
        حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَعَثَ أَمِيرًا عَلَى سَرِيَّةٍ أَوْ جَيْشٍ أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ فِي خَاصَّةِ نَفْسِهِ وَبِمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا وَقَالَ ‏ “‏ إِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلاَثِ خِصَالٍ أَوْ خِلاَلٍ فَأَيَّتُهَا أَجَابُوكَ إِلَيْهَا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمُ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ وَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ أَنَّ لَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَأَنَّ عَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ فَإِنْ أَبَوْا وَاخْتَارُوا دَارَهُمْ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يُجْرَى عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَلاَ يَكُونُ لَهُمْ فِي الْفَىْءِ وَالْغَنِيمَةِ نَصِيبٌ إِلاَّ أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَادْعُهُمْ إِلَى إِعْطَاءِ الْجِزْيَةِ فَإِنْ أَجَابُوا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ تَعَالَى وَقَاتِلْهُمْ وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ تَعَالَى فَلاَ تُنْزِلْهُمْ فَإِنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ مَا يَحْكُمُ اللَّهُ فِيهِمْ وَلَكِنْ أَنْزِلُوهُمْ عَلَى حُكْمِكُمْ ثُمَّ اقْضُوا فِيهِمْ بَعْدُ مَا شِئْتُمْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ عَلْقَمَةُ فَذَكَرْتُ هَذَا الْحَدِيثَ لِمُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ فَقَالَ حَدَّثَنِي مُسْلِمٌ – قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ ابْنُ هَيْصَمٍ – عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ
        সুনানে আবু দাউদ-হাদিস নং-২৬০৪

        1. অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য মিতা। আমি
          অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য মিতা। আমি ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলছি। রাষ্ট্র হচ্ছে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ভূখণ্ড তার আবার ধর্ম কি। রাষ্ট্র সব ধর্মের মানুষদের ধারণ করবে। তাদের জানমাল এবং ধর্মকর্মেরও নিরাপত্তা বিধান করবে। যারা কোন ধর্মে বিশ্বাসী নয়, তাদেরও রাষ্ট্রের ধারণ করতে হবে। সার্বিক নিরাপত্তার বিধান করতে হবে। ধর্ম-কর্ম পালন ব্যক্তি বিশেষের ব্যক্তিগত বিষয়, রাষ্ট্রীয় কোন বিষয় নয়। আশা করি, বুঝতে পেরেছেন। @ মিতা

          1. আপনার কাছে অপ্রাসঙ্গিক
            আপনার কাছে অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য মনে হতে পারে ,তবে আপনি যে রাষ্ট্রের কথা বলছেন তা কোন সহি মুসলিম রাষ্ট্রের আদর্শ নয় । হ্যাঁ অনেক মুসলিম রাষ্ট্রে ধর্মনিরপেক্ষতা আছে তার মানে এই নয় এটাই সহি ইসলামী রাষ্ট্র । আর হ্যাঁ ইসলামী রাষ্ট্রেও অমুসলিমদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আল্লাহ্‌ বিধান আছে আর তা হল

            তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। সূরা আত তাওবা- ৯: ২৯

            শরীয়তে ধর্মনিরপেক্ষতা নেই
            ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে কিছু নেই। ইসলামের মূল ভিত্তি হল আল্লাহর কালাম কুরআন মজীদ। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
            وان احكم بينهم بما انزل الله
            আর তাদের মাঝে আপনি ফয়সালা করুন ঐ আইন দ্বারা, যা আপনার প্রতি আল্লাহ তাআলা নাযিল করেছেন।-সূরা মায়েদা : ৪৯
            অন্যত্র আছে-
            ومن لم يحكم بما انزل الله فاولئك هم الظالمون، … فاولئك هم الكافرون،… فاولئك هم الفاسقون
            যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না তারা জালিম … তারা কাফির … তারা ফাসিক।-সূরা মায়েদা : ৪৪, ৪৫ ও ৪৭।
            এ তিনটি আয়াতে সুস্পষ্টভাবে আল্লাহর বিধান ভিন্ন ফয়সালাকারীকে জালিম, কাফির ও মুনাফিক বলা হয়েছে। এ আয়াতগুলো পড়ুন এবং কারাফীর কথার গলদ ব্যাখ্যাকারী সেক্যুলার মুহাক্কিকদের (!) বক্তব্য শুনুন, জবাব আপনিই দিতে পারবেন।
            সেক্যুলারিজমের বক্তব্য হচ্ছে, আইন-আদালত, বিচারকার্য এসব চলবে রাষ্ট্রীয় নীতি ও জনগণের চাহিদা অনুযায়ী। রাষ্ট্র যেভাবে আইন করে সেভাবে চলবে। ধর্মের সেখানে প্রবেশাধিকার নেই। ঐ কোনো কোনো সেক্যুলারপন্থী তথাকথিত আলেমের বক্তব্য হল, খলীফারা যে আইনে আদালত ও রাষ্ট্র চালিয়েছেন তা তাদের নিজস্ব বিষয়। এটি ইসলামের কিছু নয়। আপনি উপরোক্ত আয়াত এবং এ সংক্রান্ত আরো যত আয়াত আছে সেগুলো দেখুন। এগুলোতে কি বলা হয়েছে, ঐ সকল হুকুম-আহকাম খলীফাদের পর্যন্ত সীমিত? পরবর্তীদের জন্য তা পালনীয় নয়? দেখুন, সেক্যুলারিজম এমন কোনো বিষয় নয় যে, তার অসারতা সম্পর্কে জবাব দিতে হলে মাটি খুড়ে বের করে দলিল দিতে হবে। বরং শরীয়তের বিষয়গুলো হল
            ليلها كنهارها
            অর্থাৎ সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, স্পষ্ট ও প্রকাশ্য।
            এখানে অস্পষ্টতা বা অন্ধকারের স্থান নেই। ইবাদত-বন্দেগী থেকে শুরু করে আইন-আদালত, রাষ্ট্রনীতি সব কিছুই কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা সুপ্রমাণিত।

          2. রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কি!
            রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কি! রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকতে পারে না, উচিত নয়। একটি রাষ্ট্রে সকল ধরনের মানুষ বসবাস করবে, এটাই স্বাভাবিক। যার ইচ্ছা ধর্মকর্ম পালন করবে, যার ইচ্ছা না হয় সে করবে না। এটা তার ব্যক্তি স্বাধীনতা, যা রাষ্ট্রের নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম পালন করতে কাউকে জোর জবরদস্তি করা যাবে না। সভ্য, আধুনিক সমাজ তাই বলে। ধন্যবাদ আপনাকে। @ মিতা

          3. আপনার চাওয়াটা সুন্দর । কিন্তু
            আপনার চাওয়াটা সুন্দর । কিন্তু ধর্মের বিধি বিধান তো আমি আপনি পরিবর্তন করতে পারব না । আর আপনি নিশ্চয়ই জানেন ইসলাম শুধুই ধর্ম নয় , সম্পূর্ণ জীবন বিধান । তাই ইসলামে যার ইচ্ছা ধর্মকর্ম পালন করবে, যার ইচ্ছা না হয় সে করবে না , এটা আমি আপনি চাইলেও সম্ভব নয়।

            ধন্যবাদ আপনাকও ।

          4. আপনার ধর্মের বিধিবিধান জোর
            আপনার ধর্মের বিধিবিধান জোর করে সব ধর্ম এবং বিশ্বাসের মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে পারেন না। @ মিতা

  5. আপনাকে কি মুনাফিক বলব, নাকি
    আপনাকে কি মুনাফিক বলব, নাকি ধান্ধাবাজ বলব ?

    মুহাম্মদ যতদিন মক্কায় রাজনীতিবিহীন ইসলাম প্রচার করেছেন , ততদিন কোনই সাফল্য আসে নি। মদিনায় হিজরত করার পর যখন ইসলামকে রাজনীতির হাতিয়ার বানান , তখনই তার সাফল্য আকাশচুম্বি। ইসলাম প্রচারের প্রধান অবলম্বনই তখন ছিল তলোয়ারা আর রাজনৈতিক ক্ষমতা। মুহাম্মদ মারা যাওয়ার পর , যে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়, মুহাম্মদের সাহাবারা সেই খিলাফতের যাবতীয় আইন কানুন বিধি বিধান তৈরী করে ইসলামের ভিত্তিতে যাকে শরিয়া আইন বলা হয়। তার মানে আসল কথা হলো – ইসলাম ও রাজনীতি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এদের কাউকে অন্য থেকে পৃথক করার উপায় নেই। মুসলমানরা প্রকৃত ইসলামী জীবন যাপন করতে পারে , খিলাফতে। ধর্ম নিরপেক্ষ রাস্ট্রে নয়।

    অথচ আপনি এসে বলছেন ভিন্ন কথা ?

    1. আপনি আমার কলামে মন্তব্য করতে
      আপনি আমার কলামে মন্তব্য করতে না আসলে আমি খুশি হবো। দয়া করে, বেয়াদবি করতে আসবেন না। আপনার বয়স কম মন্তব্য দেখেই বোঝা যায়। শালীনতা বজায় রেখে, পুরো লেখা পড়ে, বুঝে গঠনমূলক, বিদ্বেষবিহীন মন্তব্য করবেন। আমি কি বলতে চাইছেন এবং আমি আমার লেখায় কি বলেছি মিলিয়ে নিবেন। ধন্যবাদ। @ কাঠমোল্লা

      1. মনের মাধুরি মিশিয়ে আলতু ফালতু
        মনের মাধুরি মিশিয়ে আলতু ফালতু প্রলাপ বকবেন , আর আমরা বসে বসে সেটা দেখব , তা তো হয় না। যে লোক সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না , তার ব্লগে না লেখাই ভাল। আর এদিক দিযে আপনি একজন মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী। কারন আপনি সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা রাখেন না।

        হিজবুত তাহরি নিয়ে লিখেছেন। দেখবেন দেশে সেই সব লোকজনই হিজবুত তাহরি তে যোগদান করেছে যারা ইসলাম সম্পর্কে ব্যপক জ্ঞান রাখে। তো ইসলাম ভাল মত জেনে বুঝে যদি কেউ হিজবুত তাহরিতে যোগ দেয়, বুঝতে হবে , এই দলই খাটি সহিহ ইসলামী দল। আপনার মত মুনাফেক ও ভন্ডরা বললেই তো হিজবুত তাহরির অনৈইসলামিক দল হয়ে যাবে না।

        1. আপনি দয়া করে আমার পোস্ট থেকে
          আপনি দয়া করে আমার পোস্ট থেকে বিদায় হন। মন্তব্যে ধন্যবাদ দিচ্ছি তার অর্থ হচ্ছে আপনার সঙ্গে আমি আর এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। বলি, ম্যানারও জানেন না দেখছি। যাও বাছা, স্কুলের কালকের হোম ওয়ার্ক করো গিয়ে। আপনার মত বেয়াদব, নির্লজ্জ বাচ্চাদের সঙ্গে বাক্য ব্যয় করে আমি আমার মুল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না। আবারও ধন্যবাদ। @ কাঠমোল্লা

          1. বললেই হবে ? আমি এখানে আছি
            বললেই হবে ? আমি এখানে আছি আপনাকে সহিহ ইসলাম শিখানোর জন্যে। আপনি ইসলামের নামে নিজের আলতু ফালতু মনগড়া কথা বলে যাবেন , আর কিছু মুনাফিকের বাহবা কুড়াবেন। সেটা তো হতে দেয়া যায় না। সাহস থাকলে আমার সাথে এখানেই বিতর্ক করতে পারেন। যদি নিজেকে সত্যিই ইমানদার মুসলমান মনে করেন। আর যদি নেড়ি কুত্তার মত ঘেউ ঘেউ করেন , বুঝতে হবে , আপনি আসলেই একটা মুসলমান নামধারী মুনাফিক।

          2. আবারও আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি A+
            আবারও আপনাকে ধন্যবাদ। আপনি A+ পেয়েছেন। এবার দয়া করে বিদায় হোন। শুভ রাত্রি। @ কাঠমোল্লা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 2 =