দেড় দশকে ২১ মুক্তমনা খুন ; বিচার নেই একটিরও । এটাই কি আপোষনামা ?

গত দেড় দশকে বাঙলাদেশে ধর্মীয় অজুহাত তুলে প্রায় ২১ জন ব্লগার-সাংবাদিক-লেখক-প্রকাশক-শিক্ষককে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে । এই দেড় দশকের মধ্যে গত তিন বছরেই খুন করা হয়েছে ১০ জন ব্লগার-সাংবাদিক-লেখক-শিক্ষককে । গত তিন বছর ধরে বাঙলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতাধীন আওয়ামী লীগ । যারা নিজেদের ধর্মীয় চেতনা থেকে দূরের অর্থাত্‍ অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে থাকে । এখন মূল কথা হচ্ছে , যে দলটি অসাম্প্রদায়িকতাকে চেতনা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ক্ষমতাসীন তাদের শাসনামলে কি করে ধর্মীয় চেতনায় উত্‍সাহী জঙ্গী গোষ্ঠী ব্লগার-সাংবাদিক-লেখক-শিক্ষক খুন করে যাচ্ছে (!) ?

গত দেড় দশকে বাঙলাদেশে ধর্মীয় ঝান্ডাধারী জঙ্গীগোষ্ঠী ২১ জন ব্লগার-সাংবাদিক-লেখক-প্রকাশক-শিক্ষককে খুন করেছে । যার একটির কোন বিচার আজ অবধি আমরা দেখি নি । খুন হবার পর কয়েক মাস খুব গরম গরম তদন্ত চললেও পরবর্তীতে নেতিয়ে গিয়েছে তদন্ত কাজ । কোন কোন খুনের তদন্ত সমাপ্ত হলেও কোন অজানা কারণে মুখ থুবড়ে পরেছে বিচার কার্য । কিন্তু কেন তদন্ত কার্যে এতটা গাফেলতি (!) ? কেন তদন্ত সমাপ্ত হলেও মুখ থুবড়ে পরছে বিচার কার্য (!) ?

আমরা ২০১৩ এর ৫ই মে এর কথা হয়তো ভুলে যাই নি । হেফাজত ইসলামের উত্থান ও হেফাজত ইসলামের আয়োজিত সমাবেশ থেকে তালিকা করে মুক্তমনা ব্লগার-সাংবাদিক-লেখক-প্রকাশক-শিক্ষদের প্রতি হুশিয়রী এবং পরবর্তীতে ঐ তালিকায় থাকা ব্লগার সাংবাদিক লেখক প্রকাশক শিক্ষক খুন হওয়া কি কোন কাকতালীয় ঘটনা (!) ? অবশ্যই না । কিন্তু সকল বিষয় পরিস্কার জলের মত হওয়া স্বত্ত্বেও জঙ্গীগোষ্ঠীর হাতে ব্লগার-সাংবাদিক-লেখক-প্রকাশক শিক্ষক খুন হওয়ার পরের এসমস্ত খুনকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা আখ্যা দিয়ে ক্ষমতাসীনরা আসলে কি বোঝাতে চাইছে (!) ? আমরা দেখেছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাছে মুক্তমনা ব্লগার-সাংবাদিক-লেখক-প্রকাশক-শিক্ষক সহ ৮৪ জনের একটি লিস্টে । যে লিস্টের অনেকেই খুন হয়েছে জঙ্গীগোষ্ঠীর হাতে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাছে জঙ্গীগোষ্ঠীদের তৈরি করা ঐ লিস্ট থাকা আর ঐ লিস্ট অনুসারে খুন করার পরেও এই সমস্ত খুন কি করে বিচ্ছিন্ন ঘটনার পর্যায়ে পরে (!) ?

সম্প্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান ও রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়ে মুক্তমনা ব্লগার-সাংবাদিক-লেখক-প্রকাশক-শিক্ষক হত্যাকে বৈধতার সার্টিফিকেট দিচ্ছে । দেশে জঙ্গী তত্‍পরতাকে জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রীর এই বৈধতার সার্টিফিকেট কি যথেষ্ট নয় (!) ? আওয়ামী লীগ যে ধর্মীয় চেতনার কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে যেভাবে নাঁকানি-চুবানি খাওয়াচ্ছে তাতে করে বলাই বাহুল্য দেশ নয় , জনগণ নয় , দেশের স্বাধীনতা নয় ; বরং ক্ষমতা , ধর্মানুভূতি ও স্বজনপ্রীতি-ই বড় । যার দরুন আজ বাঙলাদেশ দ্রুত গামী ট্রেনের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে পাকিস্থানের দিকে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “দেড় দশকে ২১ মুক্তমনা খুন ; বিচার নেই একটিরও । এটাই কি আপোষনামা ?

  1. মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বড় না
    মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বড় না ধর্মীয় চেতনা ? সরকার তো নাস্তিক নয় । তাই মুক্তমনাদের যে শাস্তি পবিত্র কেতাব অনুযায়ী নির্ধারিত আছে তা তাঁরা পাচ্ছে । সরকার কেন মুক্তমনাদের পক্ষ নিয়ে ইসলামী সৈনিকদের বিচার করে গুনা করবে ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 3