কোন শিরোনাম নেই

ব্রিটিশরা এসে অখণ্ড ভারতবাসীর উপর তাদের নিজস্ব ধর্মহীন সমাজব্যবস্থা চাপিয়ে দিল। এর আগে অস্ত্র রাখতে নাগরিকদের লাইসেন্স লাগতো না। ব্রিটিশরা জাতিকে নিবীর্য করতে অধিকাংশ মানুষের হাত থেকে অস্ত্র কেড়ে নিয়ে জনগোষ্ঠীকে সামরিক ও বেসামরিক দুই ভাগে ভাগ করে ফেলল। সামরিক বাহিনীর মূল র‌্যাঙ্কগুলো তাদেরই থাকলো, ভারতীয়রা সেপাই, আর্দালি ইত্যাদি হলো।
.
জনতার মধ্যে সামরিক শৃঙ্খলা বা চরিত্রের কিছুই অবশিষ্ট রাখল না। আমরা ভীতু বাঙালি খেতাব লাভ করলাম। ক্রমান্বয়ে তারা শিক্ষা দিল গণতন্ত্রের নামে একটি কামড়া কামড়ির সিস্টেম। আমরা আজও সেই সিস্টেমের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছি, পরিবর্তনের চিন্তাকেও পাপ মনে করছি।
.
এই সিস্টেমের পরিণতিতে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত দিলেই জনতার একটি বড় অংশ মানি না – মানব না, আমার দাবি মানতে হবে – নইলে গদি ছাড়তে হবে, জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো – ওমুকের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে ইত্যাদি ইত্যাদি কালচার শুরু করে দেয়। মিছিল পাল্টা মিছিল চলতে থাকে। হাজারো রাজনৈতিক দলের দাবি দাওয়ার চাপে জাতীয় জীবনে সারাবছর নৈরাজ্য আর অস্থিরতা সৃষ্টি হলো।
.
অপরদিকে সামরিক বাহিনীকে এমন ডিসিপ্লিন শিক্ষা দিল যে তারা সর্ববিষয়ে অনন্য হয়ে দাঁড়ালো। মাগার সেখানে কোনো গণতন্ত্র চলে না, সেখানে চলে কমান্ড অ্যান্ড অ্যাকশান। হুকুম অমান্য করার শাস্তি কঠোর। এর উপকারিতা সবাই বোঝে। তাই এখন হাসপাতাল পরিচালনা, বন্দর ব্যবস্থাপনা, কন্সট্রাকশন, বড় বড় স্কুল-কলেজ পরিচালনার জন্য সেই সামরিক বাহিনীর লোকদেরই ডাক পড়ে।
.
এর একটি নিদর্শন হচ্ছে, যে পাবলিক বাসটি রামপুরা বাড্ডা গুলশানের রাস্তায় অন্য বাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতে করতে ছাল-বাকল তুলে ফেলল, ট্রাফিক রুল ভঙ্গ করে, অহেতুক হর্ন বাজিয়ে কান ঝালাপালা করে দিল সেই বাসটিই ক্যান্টনমেন্ট গেট দিয়ে ঢোকার সাথে সাথে একদম সোজা।
.
সুবোধ বালকের মতো ট্রাফিকের সব রুলস মেনে সংরক্ষিত এলাকাটুকু অতিক্রম করল। রাস্তার জেব্রা ক্রসিং-এর দাগটুকু পর্যন্ত অমান্য করল না। এর কারণ কী? সোজা উত্তর ড্রাইভার হেল্পার জানে ঐখানে তাফালিং চলে না।
.
আমার কথা কথা হলো ঐ ডিসিপ্লিন শুধু ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে কেন থাকবে, কেন আমরা সর্বত্র এটা প্রতিষ্ঠা করি না? এর কারণ সিভিলিয়ান মিলিটারি বিভাজন কলোনিয়াল প্রভুরা রেখে গেছে, আমরা কী করে তার বাইরে চিন্তা করি। বেয়াদবি হয়ে যাবে না? কিন্তু হায়! এখন আমরা ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন, মগজের স্বাধীনতা কাকে বলে সেটা বুঝিও না।
.
প্রতিটি জাতিরই যে ন্যূনতম সামরিক চরিত্র লাগে যেটা আমরা ৭১ সালে তীব্রভাবে অনুভব করেছি। এখনো অনেক মুক্তিযোদ্ধাকেই দেখি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে – অস্ত্র জমা দিয়েছি ট্রেনিং জমা দেই নি।
.
আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এখন যে অবস্থায় এসেছে দেশের সকল সিভিলিয়ানের অস্ত্র না থাকলেও কিছুটা সামরিক চরিত্র যেমন ঐক্য-শৃঙ্খলা-আনুগত্য, শারীরিক সক্ষমতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার চেতনা ইত্যাদি চরিত্রের প্রশিক্ষণ দরকার। এজন্য জাতীয় উদ্যোগের বিকল্প নেই।
.
হিটলার লাখ লাখ সু-প্রশিক্ষিত সৈন্য নিয়ে দুনিয়া জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে নেমেছিলেন। কিন্তু তিনিও সুইজারল্যান্ডকে আক্রমণ করার স্পর্ধা করেন নি। সামরিক বিশ্লেষকগণ এর প্রধানতম কারণ হিসাবে বলে থাকেন, Every healthy man in Switzerland is a trained soldier and keeps a rifle at home (by law).
এখনও সুইজারল্যান্ডের প্রতিটি সুস্থ মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে রাইফেল থাকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

35 − 33 =