“আমার স্বদেশে আমিই পরাধীন“

পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। কথাটা সঠিক নয়। আসলে, মানুষ এগিয়ে যাচ্ছে তাদের আপন মেধা বলে। তাই পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপ, আমেরিকা তর তর করে উন্নত থেকে উন্নততর হয়ে যাচ্ছে। কারন্তারা ১শ ভাগ মেধা শক্তিকে কাজে লাগাতে সমর্থ। আর আমরা সেখানে দক্ষিন এশিয়ার একটি দেশে মেধাবী জনশক্তি নিয়ে পিছিয়ে পড়ে আছি। আজো আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে।উন্নয়নশীল বলতেও আমরা সবে শুরুর দিকের উন্নয়নশীল দেশ। আজ একবিংশ শতাব্দীতে এমন পিছিয়ে পড়া জাতি যখন নিজেদের উঠিয়ে আনার চেষ্টায়। ঠিক তখনই ১৪শ বছরের পুরোনো এক মতাদর্শ পেছন থেকে খামচে ধরে আমাদের ৫৭0 বছরের পুরনো কৃতদাস সাম্রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে। আর তারই সাফাই গাইছে আমাদের বর্তমান শাসন সম্রাটেরা। মুখে তবু তাদের প্রতিনিয়ত বুলি, দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে। কথাটা সত্য বটে, তবে দেশের জন্য নয়। দেশের হর্তা কর্তাদের জন্য। জনগনের জন্য নয়, সরকারী আমলাদের জন্য। গণতন্ত্রের নামে নীরব এক নায়েকতন্ত্র চলছে দেশে। যার টিকে থাকার প্রধান হাতিয়ার ধর্ম এবং মিথ্যা দেশপ্রেম। ধর্মের পরেই মানুষের মনে দেশপ্রেম এর জায়গাটি বিরাজমান। রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রথমে বিসমিল্লাহ্‌ আর শেষে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ কিংবা জয় বাংলা। যেন মাঝের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিগুলো স্যান্ডউইচ ফিলিং এর মত চাপা পড়ে যায় সাদা ও সরল বিশ্বাসের ধর্ম আর প্রচণ্ড ভালোবাসার দেশপ্রেমে। আর আমি তুমি আমরা উপর থেকে দেখি উন্নয়ন নামের ভালোবাসায় তৈরি দেশ নামের স্যান্ডউইচ খানি।বলি জয় বাংলা কিংবা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। দল, লীগ, পার্টি, হেফাজত যার আদর্শেরই অনুশারী আমি বা আপনি, তাদের সফলতায় উল্লাসিত হই। বিফলতায় অসহিষ্ণু হয়ে উঠি। সফলতাকে সহযোগীতা করতে নয় তার পেছনে বাঁশ দেবার জন্য। বাঁশটা যে নিজেদের পেছনেই আগে যায় তা বোঝার ক্ষমতা খুব কম রাজনৈতিক কর্মীদের আছে। আসলে কারোর নেই বললেই চলে।
বলছিলাম মিথ্যাচারের ফিলিং এ ভরা রজনীতি নামের একনায়েক্তন্ত্রের স্যান্ডউইচের কথা। উপরে দেখা সুন্দর স্যান্ডউইচটা আমরা সাধারন জনগণ দিব্যি গিলে যাচ্ছি। কিন্তু সবাই তা করি না। যারা এর ভেতরটা দেখে শুনে গিলতে চান তারা ঠিকি পর্যবেক্ষন করেন। কি খাচ্ছি , কি হচ্ছে কি দিচ্ছি আর কি পাচ্ছি। সেই শ্রেনী কলম ধরে, লেখে প্রতীবাদ করে। তাদের নাম প্রগতিশীল লেখক, কবি সাহিত্যিক। কাগজে লেখার দিন শেষ, তাই তারা আজ ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন ব্লগে প্রতিবাদ করেন। নিজেদের ব্যাক্তিগত ব্লগ লিখে থাকেন। আর তারাই প্রকৃত মেধার দাবিদার আর দেশ প্রেমিকের বিশেষণ তাদেরই প্রপ্য। কিন্তু তারা কতটা নিরাপদ? এই দেশে?

শেষে বলতেই হয়।
“আমার স্বদেশে আমিই পরাধীন“

চলবে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

82 − 74 =