ধর্ম ধারন করার বিষয়, ব্যবহার করার বিষয় নয়

সরকার ও ক্ষমতাসীন দলে অনেক ভুল-ভ্রান্তি, ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, থাকাটাই স্বাভাবিক। ভুল হয় না শয়তানের, মানবিক গুনসম্পন্ন প্রত্যেক মানুষের দোষ ত্রুটি থাকে। তাই বলে তিলকে তাল বানাতে যাব কেন, আমি যদি আদর্শের অনুসারী হই তালকে তিল করাই হবে আমার মুল কাজ। আমরাতো সবাই জানি, নেত্রী নীজেরও সম্মক ধারনায় আছে, দলের মধ্যে আদর্শ বিচ্যুত সুযোগ সন্ধানী রয়েছে, সরকারের প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রেই আছে তাদের অনুসারী। কতটুকু সত্য জানি না, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা সাহেব নাকি তাদেরই আদর্শের ধারক বাহক। তারপরেও তাদের দিয়েই সরকার তার মৌলিক রীতিনীতি বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে, যেখানে শতভাগ হওয়ার আশা পোষন করা হচ্ছে, সেখানে ধীরতার কারনে হয়তো কিছু কম বা বেশী হয়ে যাচ্ছে, তবে হচ্ছে বাদতো যাচ্ছে না কিছুই।

শেখ হাসিনার সরকার ও দলের মৌলিক নীতির উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন এ পর্যন্ত হয়নি নির্ধিদ্বায় বলা যায়। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিবেচনায় হয়তোবা আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনায়, ধর্মনিরপেক্ষতা বহাল করেও ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করতে সরকার বাধ্য হয়েছে। যা ব্যক্তিগতভাবে আমি মেনে নিতে পারছি না। অন্য কারো এগিয়ে এসে উচ্চ আদালতে আবার স্বৈরাচার এরশাদের সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা উচিত। অন্যভাবে, চিন্তা করলে এমনিতেই বর্তমানে শতকরা নব্বই ভাগের উপরে ইসলাম ধর্মের অনুসারির দেশে ধর্ম নিয়ে নাড়াচাড়া করাও কঠিন একটা ব্যাপার বটে। তাছাড়া অপপ্রচার-তো আছেই ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা। অথচ খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও ধর্মকে রাষ্ট্র ধর্ম করে বিতর্কিত করা থেকে বিরত ছিলেন। তখনকার সময়ে তাঁরা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন, ধর্ম ধারন করার বিষয়, ব্যবহার করার বিষয় নয়। দু:খজনক হলেও একথা সত্য যে, বর্তমানের শিক্ষিত জ্ঞানপাপীরাই ধর্মকে যত্রতত্র ব্যাবহার করে শান্তি ও সাম্যের ধর্ম ইসলামকে জঙ্গিপনার উৎস ধর্ম হিসেবে চিত্রায়িত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছ। বিশ্বব্যাপী সকল ধর্মেই কিছু লোকের মধ্যে উগ্রতা রয়েছে, বদনাম যা হচ্ছে তা শান্তির ধর্ম ইসলামের।

সাম্প্রতিককালে, দেশে বেশ কয়েকজন ব্লগার, প্রকাশক ও পুলিশ নির্মমভাবে আহত-নিহত হয়েছেন। তাদের চাপাতির আঘাতে ও গুলি করে নৃশংসভাবে দিন-দুপুরে হত্যা ও আহত করা হয়েছে। সামান্যতম বিবেকবান মানুষও এই হত্যাকান্ড মেনে নিতে পারে না। সার্বিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই। ১৯৭২-১৯৭৫ এর অভিজ্ঞতা থেকেই জানি, কোন মহলের পরিকল্পিত গুপ্তহত্যা প্রতিরোধ করা খুব সহজ নয়।

১৯৭১ সালে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধারা বুঝে নিয়েছিল, সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে পরাস্ত করা যাবে না। তাই তাদের কাবু করতে হলে একমাত্র পথ গেরিলা যুদ্ধ। এ ব্যাপারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উদাহরণ রয়েছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বর্তমানের অশুভ শক্তির গুপ্ত আক্রমণ বা গুপ্ত হত্যা মহান মুক্তিযুদ্ধের অনুসরনে গেরিলাযুদ্ধের আদর্শের বিকৃত রুপ ছাড়া আর কিছুই নয়। গেরিলাযুদ্ধ ছিল একটি দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় অধিকাংশ মানুষের রনকৌশল। এখন দেশের অশুভ সাম্প্রদায়িক জঙ্গি শক্তি সেই যুদ্ধ কৌশলকেই গণবিরোধী কাজে ব্যবহার করে, মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করার চেষ্টা করছে অবিরত।

জনগণকে যদি গুপ্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলা যায়, তাহলেই ঐ শক্তি হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর দেশে দেশে উগ্র-জঙ্গি সাম্প্রদায়িক শক্তির যে ভয়াবহ উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে অবিলম্বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া জরুরী প্রয়োজন। জনগনকে সচেতন করে তুলে, তাদের জাগিয়ে তুলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায় তাহলে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সম্ভবও হবে না জঙ্গি তৎপরতা ও তার প্রসার বন্ধ করা।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “ধর্ম ধারন করার বিষয়, ব্যবহার করার বিষয় নয়

  1. জনগণকে যদি গুপ্ত অশুভ শক্তির
    জনগণকে যদি গুপ্ত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলা যায়, তাহলেই ঐ শক্তি হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে। মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর দেশে দেশে উগ্র-জঙ্গি সাম্প্রদায়িক শক্তির যে ভয়াবহ উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে অবিলম্বে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেয়া জরুরী প্রয়োজন। জনগনকে সচেতন করে তুলে, তাদের জাগিয়ে তুলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায় তাহলে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে সম্ভবও হবে না জঙ্গি তৎপরতা ও তার প্রসার বন্ধ করা।

  2. আচ্ছা আপনার নিজের লেখায় সবসময়
    আচ্ছা আপনার নিজের লেখায় সবসময় আপনি নিজেই কমেন্ট করেন দেখি। কারন কি? আর কেউ কমেন্ট করেনা বলে সেই জন্য কি? আত্মতৃপ্তি?

    … কি বলেন?

    1. আমার লেখার চুম্বক অংশ বা
      আমার লেখার চুম্বক অংশ বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ হাইলাইট করি। ধন্যবাদ আপনাকে। @ ভণ্ড নবী

  3. ১৯৭২-১৯৭৫ এর গুপ্তহত্যার কথা
    ১৯৭২-১৯৭৫ এর গুপ্তহত্যার কথা বাবার মুখে শুনেছি। অনেক গঠনমূলক একটি লেখা।

  4. আপনার নেত্রী নিজেই জঙ্গী
    আপনার নেত্রী নিজেই জঙ্গী মানসিকতার। একজন রাষ্ট্র প্রধানের কোন ধর্ম থাকতে পারেনা। আপনার নেত্রীর উস্কিয়ে দেওয়ার কারণে গত ১লা বৈশাখের পর থেকে কতগুলো জীবন ঝরে গেল? তারপরও আপনার কেন মনে হচ্ছে নেত্রীর বিবেবচক মন আছে? ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য শেখ হাসিনা জেনে শুনেই ধর্মের নোংরা ব্যবহার করছে রাজনীতিতে। বাংলাদেশের অন্য যে কোন সময়ের যে কোন শাসকের চেয়ে শেখ হাসিনা নোংরা আচরণ করছে বর্তমানে। আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে সে ও তার দল।

    1. আপনার সঙ্গে আমি অনেকাংশে একমত
      আপনার সঙ্গে আমি অনেকাংশে একমত। সে এবং তার সরকার সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। তার সাম্প্রতিক সময়ের অনেক বক্তব্যের এবং কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা আমরা নিজেরাও করছি। দায়ভার সরকার কোনভাবেই এড়াতে পারে না। ধন্যবাদ আপনাকে। @ নুর নবী দুলাল

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2