আর নয় ধর্ম ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়

১৯৪৭ থেকে ১৯৭০ সালের দিকে যদি ফিরে তাকাই তখন এই ভূখণ্ডটি একসময় পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ থেকে কাঁচামাল, যেমন সূতা, তূলা পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে ওখানে স্থাপিত বস্ত্রকলে কাপড় উৎপাদন করে সেসব বস্ত্র বাংলাদেশে এনে বিক্রি করা হতো। ফলে সস্তা কাঁচামাল কিনে উচ্চমূল্যে বাঙালীদের পশ্চিম পাকিস্তানী কাপড় কিনতে হতো।

পাকিস্তানীরা শুরুতেই ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে সিন্ধু নদের ওপর ব্যারাজ দিয়ে মরুময় পাঞ্জাবকে শস্য ভান্ডার করে তুলেছিল। অথচ বাংলাদেশে গঙ্গার পানি চুক্তি, গঙ্গা ব্যারাজ চুক্তি বাঙালীদের হিন্দু ও ভারত তোষণের নাম দিয়ে এ চুক্তি করতে অব্যাহত ভাবে বাধা দিয়ে গেছে।

ইসলাম রক্ষার দোহাই দিয়ে, পাকিস্তানী শাসকরা বারবার বাঙালীদের বিরুদ্ধে বিহারীদের হিন্দুদের বিরুদ্ধে মুসলমাদের একমুখী হত্যাকান্ডে উস্কানি দিয়ে গেছে।দেখা গেছে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে গেলেই পাকিস্তানী জেনারেলরা বারবার সরকারকে পদচ্যুত করে ক্ষমতা গ্রহণ করে মার্শাল’ল জারি করেছে।

ধর্মীয় আচার-আচরনে চূড়ান্ত অইসলামী পাকিস্তানী সেনা ও আমলারা সব সময় ইসলাম কে ক্ষমতায় থাকা, ক্ষমতা দখল করার জন্য ১৯৪৭ থেকেই ব্যবহার করেছে, যার বিরুদ্ধে বাঁধা দিয়েছিল সীমান্ত প্রদেশের প্রকৃত উদার, ধর্মনিরপেক্ষ ধার্মিক নেতা খান আবদুল গাফফার খান, তাঁর পুত্র ওয়ালী খান, সিন্ধু বালুচিন্তান প্রদেশের রাজনীতি করা।

১৯৭০ সালে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল, মনসুর আলী, কামরুজ্জামান,জহুর আহম্মদ চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ একঝাক নক্ষত্র সম দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্র মূখী ও ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালী রাজনীতিকের জন্ম ও উত্থান হয়েছিল।সে সময় ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল অসাধারণ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা সিরাজুল আলম খান, তোফায়েল আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন। যাদের দ্বারা ৬ দফা প্রচারের কারণে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠনের অধিকার লাভ করে।

কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানী সেনা ও আমলারা বাঙালীর হাতে পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা দিতে অসম্মতি ছিল। বারবার সংলাপে বসেও তারাই সংলাপে এমন শর্ত জুড়ে দিতো যে, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালীর পক্ষে সেসব শর্ত মানা সম্ভব হল না। সংলাপের আড়ালে পাকিস্তানী প্লেন বোঝাই করে সৈন্য এনে বাংলাদেশের সেনানিবাস গুলো ভর্তি করে ফেলছিল।

অবশেষে, ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতে পশ্চিম পাকিস্তানী সেনারা অতর্কিত হামলা শুরু করে বাঙালী দের ওপর বিশেষত বাঙালী সেনা সদস্য, ইপিআর, পুলিশ সদস্যের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক–ছাত্রদের উপর নির্বিচারে ভারি অস্ত্রের গুলিবর্ষণ করে ওই এক রাতেই হাজার হাজার বাঙালী সেনা,পুলিশ, ইপিআর ছাত্র কৃষক শ্রমিক বাঙালী দেশপ্রেমিক রাজনীতিকরা প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে। ১৯৭১ বাঙালী স্বাধীনতা লড়াই শুরু করে। দেশের ভেতরে যেহেতু চারদিকে পাকিস্তানী সৈন্যরা উপস্থিত ছিল, হত্যাকান্ড চালাচ্ছিল। সে কারণে বাঙালী তরুণদের যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, আশ্রয় অস্ত্র-গোলাবারুদের জন্য ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়েছিল।

সে সময়, ১৯৭১ সালে ইসলামের দোহাই দিয়ে মুজাহিদ, নিজামী, সাকা চৌধুরী, কাদের মোল্লা, সাঈদীরা মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালী হিন্দু মুসলমানের ওপর যে নির্মম, অমানবিক, অকল্পনীয় নির্যাতন চালিয়ে শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিক শিল্পী আইনজীবী বুদ্ধিজীবী হত্যা, ধর্ষণ করেছিল, তা এক কথায় গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও বর্বরতার নির্মম কুলষিত ইতিহাস, যা বর্বর পাকিস্তানী রা বাঙালী দের ওপর করেছিল।ওই নিষ্টুরতার বর্বরতা এখনো বাঙালীরা বয়ে বেড়াচ্ছে নির্মমভাবে তথাকথিত উত্তরসূরি পাকি প্রেতাত্মা দালালদের হাতে।

আর নয় ধর্ম ব্যবসায়ীদের আশ্রয় প্রশ্রয়। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ হত্যা করছে, তারা কি অন্য গ্রহের কেউ, যে মানুষ হত্যা করে ইসলাম কায়েম করবার লাইসেন্স পেয়ে গেছে। নির্লজ্জ বেহায়া হলেই নিজের বগলের গন্ধ নিজে পায় না, অথচ পরেরটা বেমালুম পেয়ে যায়। এসব ধর্ম ব্যবসায়ী পাপীদের ঝাড়ু পেটা করে পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিতে হবে।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আর নয় ধর্ম ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়

  1. আর নয় ধর্ম ব্যবসায়ীদের আশ্রয়
    আর নয় ধর্ম ব্যবসায়ীদের আশ্রয় প্রশ্রয়। যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ হত্যা করছে, তারা কি অন্য গ্রহের কেউ, যে মানুষ হত্যা করে ইসলাম কায়েম করবার লাইসেন্স পেয়ে গেছে। নির্লজ্জ বেহায়া হলেই নিজের বগলের গন্ধ নিজে পায় না, অথচ পরেরটা বেমালুম পেয়ে যায়। এসব ধর্ম ব্যবসায়ী পাপীদের ঝাড়ু পেটা করে পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

67 − 65 =