বাংলাদেশে সিম নিবন্ধনে এত চুলকানির কারন কি?

বাংলাদেশিরা পরিবর্তনে আগ্রহী নয় কেন খুব জানতে ইচ্ছা করে।

মোবাইল ফোনের সিম রি-রেজিস্ট্রেশন করতে সরকার থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

কিছু টাইপের মানুষের প্রতিক্রিয়াঃ
-আমার আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে যদি সরকার আমার জমি নিয়া যায়?
-করমুনা, আমি ঘাউরা, ঘাড় তেরা, দেখি না করলে সরকার কি করে?
-নিরাপত্তার নামে আমাদেরকে বন্দী করে ফেলা হচ্ছে।
– থার্ড পার্টি যদি আমার আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে আকাম কুকাম করে, সেই দায় কি সরকার নিবে?
-আমি তো ৮-১০ টা সিম ইউস করি, সব গুলার রেজিস্ট্রেশন করতে পারুম না।
-অনেকেই করছে, আমি করমু না। আমি ইউনিক।
-সিম বন্ধ করে দিক, তারপরে যাব।
-উন্নত দেশগুলিতে এই সিস্টেম নাই, আমাদের কেন করতে হবে?

বাঙ্গালির যা অভ্যাস আর কি, অনুরোধ করলে করবে না। যদি বলা হত রি-রেজিস্ট্রেশন করলে কিছু টাকা বোনাস দেওয়া হবে অথবা না করলে মামলা হবে, ঠিকই সুড়সুড় করে লাইনে দাঁড়াত।

দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখার জন্য সবাইকেই সিম রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনেকেই অনেক অপরাধ সংগঠিত করে থাকে। যেটাকে প্রতিরোধ করার জন্য সরকার একটি উদ্যোগ নিয়েছে, যেটা প্রশংসার দাবী রাখে।

মানলাম আমাদের সিস্টেম হয়ত এতটা জোরদার নয়, হয়ত কিছু ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে। যদি মন্ত্রী তারানা হালিম লাইনে দাঁড়িয়ে আঙ্গুলের ছাপ দিতে পারেন, আপনার কোন অজুহাত এখানে খাটে না। আপনি এমন কোন হনু হন নাই যে আপনি না করলে সরকারের কিছু আসবে যাবে। সিম বন্ধ হয়ে গেলে ঠিকই লাইনে গিয়ে দাঁড়াবেন।

আমরা নতুন কোন উদ্যোগকেই ঠিক ভাবে নিতে পারিনা। কয়দিন আগে সরকার থেকে ঘোষনা করা হল, কেউ ওভারব্রিজ ছাড়া রাস্তা পার হতে পারবেনা। পুলিশ মোতায়েন করা হল যাতে কেউ ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার না হয়।

তারপরে মিডিয়ার সামনে পাবলিকের যে কি কান্না কাটি, কেউ বলে আমার বাতের ব্যাথা, আমি সিঁড়ি চড়তে পারিনা। কেউ বলে আমার ক্লাসের দেরি হয়ে যায়। কেউ বলে আমার অনেক ঘুরে আসতে হয়।

তারপরে যেই লাউ সেই কদু। রাস্তার মাঝখানে ব্যারিকেড দেওয়া হলেও রড বাঁকা করে হলেও দৌড়ে রাস্তা পার হবেই হবে।

বাঙালি হল এমন জাতি, লাথির ঢেঁকি চড়ে ওঠেনা টাইপের। মাইরের উপর রাখবেন দেখবেন সব ঠিকঠাক।

মনে পড়ে গেল খালেদা জিয়ার কথা, যখন বাংলাদেশে ফ্রি ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হল, খালেদা জিয়া বললেন, তাতে করে নাকি আমাদের তথ্য চুরি হয়ে যাবে। তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহন করলেন না। ইন্ডিয়া সেই সুবিধা নিয়ে টেলি-কমুনিকেশনে ১ নাম্বার হয়ে গেল। আর আমরা পড়ে রইলাম পিছনে। ঠিকই পরে কয়েক হাজার কোটি টাকা দিয়ে সেই সুবিধা নিতে হয়েছিল।

যে জাতি নিজেরাই নিজেদের উন্নতি চায়না, সে জাতির উন্নতি হতে অনেক দেরি পাঞ্জেরি…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =