নয়া উপনিবেশবাদ

নতুন উপনিবেশবাদের অনতম প্রধান লক্ষ্য হল সাবেক উপনিবেশগুলোর উপর পুনরায় যেকোন প্রকারে অর্থনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করা। অর্থনৈতিক ঋণ ও সাহায্য প্রদানের নামে দরিদ্র দেশগুলোকে স্থায়ীভাবে পরনির্ভরশীল করে শোষণের চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করা নতুন উপনিবেশবাদের কৌশল। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর ঋণ প্রদানের শর্ত হল গ্রহিতা দেশগুলো তাদের নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে ঋণের টাকা ব্যবহার করতে পারবে না। তাদের দিক নির্দেশনা মতই দরিদ্র দেশগুলো ঋণের অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হয়।

দাতা দেশগুলোর দেয়া ঋণের শর্ত লংগিত হলে ঋণ প্রত্যাহারের ভীতি প্রদর্শন করে। ঋণের জন্য একদিকে যেমন চড়া সুদ আরোপ করা হয়, তেমনি ঋণ শোধের ব্যবস্থাকেও দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল করে দেয়। পুঁজিবাদী দেশগুলো ঋণ ও অর্থনৈতিক সাহায্যকে এ যাবৎকাল তাদের পর রাষ্ট্রনীতির অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। মূলত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ সংরক্ষনের হাতিয়ারে পরিনত হয়েছে বর্তমানে জাতিসংঘের কার্যাবলীর সাথে যুক্ত সম্মিলিত সংস্থাগুলোও। ধনী দেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা দূর করার জন্য বহুজাতিক সংস্থাগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। বহুজাতিক সংস্থাগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে নিঃস্ব থেকে নিঃস্বত্বরই করছে।

এ বহুজাতিক সংস্থাগুলো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পিছনেও মদদ জোগাচ্ছে। বহু রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রে এ সাম্রাজ্যবাদী সংস্থাগুলো নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে। বিনিয়োগকৃত দেশের ক্ষমতাশীল সরকারের প্রতি বিরূপতা পোষণকারী রাজনৈতিক দল, আমলা ও সামরিক বাহিনীর সাহায্যে গণতান্ত্রিক ও জন সমর্থিত সরকারকেও পতনের উদ্যোগও বহুক্ষেত্রে বহুজাতিক সংস্থাগুলো গ্রহন করেছে।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “নয়া উপনিবেশবাদ

    1. ধন্যবাদ আপনাকে। সময়ের সাথে
      ধন্যবাদ আপনাকে। সময়ের সাথে তারা এখন অভিনব কায়দায় পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করছে, শোষণ করছে। @ মুনতাসির আহমেদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 15 = 17