ইসলাম হলো একটা সম্পূর্ন জীবন বিধান

দুনিয়ার সকল মোমিন মুসলমানেই বিশ্বাস করে ইসলাম হলো একটা সম্পূর্ন জীবন বিধান। তার মানে একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার ব্যাক্তিগত , সামাজিক , সাংস্কৃতিক , রাজনৈতিক ইত্যাদি সহ সকল কর্মকান্ডই ইসলাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ইসলাম শুধুই মাত্র ব্যাক্তিগত বিশ্বাস নয়, বরং ইসলাম , ব্যাক্তি মানুষ , সমাজ , রাষ্ট্র ইত্যাদি কিভাবে চলবে তার সকল বিধি বিধান জারী রেখেছে শরিয়া আইনের মাধ্যমে। সুতরাং যারা রাজনীতি থেকে ইসলামকে দুরে সরিয়ে রাখতে চায়, তারা হয় ইসলাম জানে না , অথবা মিথ্যা কথা বলে অর্থাৎ তারা আসলে মুনাফিক।

যদিও ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ – ইমান , নামাজ , রোজা , হজ্জ ও যাকাত – সবার জন্যেই পালন আবশ্যক, কিন্তু এগুলি শুধু পালন করলেই একজন খাটি মুসলমান হয় না। খাটি মুসলমান হতে গেলে , তার ব্যাক্তিগত , সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রেই ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই সেটা বাস্তবে করে দেখিয়ে গেছেন। তিনি মক্কায় থাকা কালে , তাবলিগি ইসলাম অর্থাৎ দাওয়াতী ইসলাম চালু করেছিলেন , কিন্তু মক্কার লোকজন সেই ইসলাম গ্রহন করে নি। তারপর তিনি মদিনায় গিয়ে নানা কায়দায় সেখানে ক্ষমতা দখল করলেন , আর প্রতিষ্ঠা করলেন ইসলামী রাজ্য বা খিলাফতের ভিত্তি। তখন তার ইসলাম প্রচারে দাওয়াতের কোন স্থান আর ছিল না , ছিল তরবারী ও যুদ্ধ। হাতে তরবারী নিয়ে মুহাম্মদ যখন ইসলাম প্রচার শুরু করেন , তখন তার সাফল্য আকাশ চুম্বী। অর্থাৎ ইসলামকে যখন মুহাম্মদ রাজনীতির হাতিয়ার করলেন , তখনই তার সাফল্য আসল, দাওয়াতী ইসলামে তার কোনই সাফল্য ছিল না।

মদিনাতে ইসলামী রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর পরই ব্যক্তিগত , সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন মানুষের কেমন হবে , এ সম্পর্কে কোরানের বানীতে একের পর এক বিধি বিধান জারী করতে থাকেন মুহাম্মদ। এ ছাড়া বহু হাদিসেও সেটা বলে গেছেন। এই সব বিধি বিধানকে সংকলিত করেই রচিত হয়েছে শরিয়া বিধান। অর্থাৎ মুহাম্মদ নিজে মদিনাতে একটা ইসলামী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে সেখানে সফলভাবে শরিয়া ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলেন, মুহাম্মদের মৃত্যুর পর , সেই ইসলামী রাজ্যকে বলা হয় খিলাফত , যার বিধি বিধান ছিল সবই শরিয়া ভিত্তিক।

এই শরিয়া বিধানের মূল বিষয়গুলো হলো – ব্যাক্তি কেমন ভাবে জীবন যাপন করবে , সমাজ কিভাবে গঠিত হবে , রাজ্য বা খিলাফত কিভাবে গঠিত হবে , কোন বিধি বিধানের দ্বারা সেই খিলাফত পরিচালিত হবে – সব কিছুই। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে , ইসলামী সেই খিলাফতে গনতন্ত্রের কোন সুযোগ নেই , নেই কোন ধর্ম নিরপেক্ষতার সুযোগ। কারন শরিয়া বিধানের উৎস হলো কোরান ও হাদিস , অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ ও তার নবী হলো শরিয়া বিধানের প্রনেতা। তাদের চাইতে বড় আইন প্রনেতা কি আর দুনিয়াতে আছে ? সুতরাং ইসলামী সমাজে বাক স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের কোনই সুযোগ নেই। আর ইসলামের বা নবীর সমালোচনা করা , সেটা তো মৃত্যু দন্ডযোগ্য অপরাধ।

এমতাবস্থায় কোন দেশে যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি মুসলমান হয়, তাহলে সেই দেশ অবশ্যই শরিয়া বিধানের আওতায় চলবে। যদি সেটা না হয়ে, সেই দেশ কথিত পশ্চিমা ধাচের গনতন্ত্রের দ্বারা চালিত হতে চায় এবং বাক স্বাধীনতা , গনতন্ত্র , ধর্ম নিরপেক্ষতা ইত্যাদি চালু করতে চায়, এক পর্যায়ে মুসলিম সমাজে সেটা ব্যর্থ হতে বাধ্য। কারন প্রতিটা মুমিনের মনের মাঝারে স্বপ্ন থাকে সে শরিয়া ভিত্তিক সমাজে বাস করবে ও মৃত্যুর পর সোজা বেহেস্তে চলে যাবে। কেন গনতন্ত্র ব্যর্থ, তার কারনও বোধগম্য। কারনটা হলো- গনতন্ত্র থাকলে সেখানে বাক স্বাধীনতা থাকবে , সমালোচনা থাকবে , তা সে যে বিধানই হোক না কেন , অর্থাৎ খোদ ইসলাম ও শরিয়া বিধানেরও সমালোচনা করার অধিকার মানুষের থাকবে। অন্য মানুষেও স্বাড়ম্বরে ধর্ম পালনের সুযোগ থাকবে। যে মেযন ইচ্ছা খুশি সাংস্কৃতি আচার অনুষ্ঠান করতে পারবে। আর এর প্রতিটাই হলো – ইসলামের শরিয়া বিধানের বিপরীত বা অন্য কথায় হারাম। ঠিক এই কারনেই দুনিয়াতে কোন মুসলমান দেশেই প্রকৃত উদার পশ্চিমা গনতন্ত্র নেই , সেটা থাকাও অসম্ভব। তার এক জলজ্যান্ত উদাহরন তুরস্ক।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর , তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক খিলাফত প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে , তুরস্ককে আধুনিক ইউরোপীয় দেশে পরিনত করতে পশ্চিমা গনতন্ত্র চালু করলেন। অত:পর প্রায় ৮০ বছর পর , নানা চড়াই উৎরাই পার হয়ে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে , তুরস্ক এই এক বিংশ শতাব্দিতে আবার সেই ইসলামী বিধি বিধানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তারা আর পশ্চিমা গনতন্ত্র চায় না। বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগান তুরস্কে আবার সেই হারানো খিলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর আর তাকে সমর্থন দিচ্ছে দেশের আপামর জনগন। কারন এইসব জনগন সবাই মুসলমান , আর তাদের কাছে গনতন্ত্রের চাইতে ইসলামের গুরুত্ব সর্বোচ্চ। বর্তমানে এরদোগান সরকার তুরস্কে ব্যপকভাবে সাংবাদিক সহ সকল বিরোধীদেরকে ব্যপক ধর-পাকড় করে জেলে ভরছে। দুই একজন মন্ত্রী তো এর মধ্যেই বলে ফেলেছে – তুরস্কের ধর্ম নিরপেক্ষ গনতান্ত্রিক সংবিধান পরিবর্তন করে সেটাকে শরিয়া ভিত্তিক করতে হবে।

দুনিয়াতে অনেক মুসলিম দেশেই গনতন্ত্র চালুর চেষ্টা করা হয়েছে , কিন্তু এক পর্যায়ে প্রতিটা দেশেই তা ব্যর্থ হয়েছে। আর এর কারন মানুষ নয়, বরং এর কারন হলো ইসলাম। মুসলমানরা যদি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ইসলামই হলো একমাত্র সত্য আদর্শ, তাহলে তারা কিভাবে সেই আদর্শের বিপরীতে গিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষ উদার গনতন্ত্র গ্রহন করতে পারে ? যার এক জলজ্যান্ত উদাহরন এই বাংলাদেশ। গত ২৫ বছর ধরে এদেশে গনতন্ত্রের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে , আর বর্তমানে এসে ঠেকেছে যারাই উদারমনা , সংস্কৃতি মনা – তাদেরকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হচ্ছে , তাদেরকে মুনাফিক বা মুর্তাদ আখ্যা দিয়ে। হেফাজত সহ সকল ইসলামী দলগুলোর হুংকারে সরকার সব সময় তটস্থ থাকে। তাদের মন রক্ষার জন্যে, কথিত গনতান্ত্রিক সরকার প্রায় সকল রকম বাক স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না , এখন প্রকৃত সহিহ ইমানদারদের কিছু লোক সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বদেরকে হত্যা করা শুরু করেছে। হয়ত অচিরেই তাদেরকে হত্যা করে , আওয়ামী লিগ সহ অন্যান্য কথিত গনতন্ত্রমনা সকল দলের নেতাদেরকে হত্যা শুরু করবে। এবং এর পর একদিন দেখা যাবে , দেশের সবাই সেই সহিহ ইসলামী দলগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে দেশে খাটি ইসলামী শাসন তথা শরিয়া সমাজ চালু করবে। সে দিন হয়ত আর বেশী দুরে নেই।

কারন ইসলাম যে একটা সম্পূর্ন জীবন বিধান !

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ইসলাম হলো একটা সম্পূর্ন জীবন বিধান

  1. যে মুসলমানরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস
    যে মুসলমানরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না ইসলামই হলো একমাত্র সত্য আদর্শ , সে আর সহি মুসলমান থাকে না , হয়ে যায় মডারেট মুসলিম । যারা হিজাবও চায় বিকিনিও চায় ।

  2. আসলে শাক দিয়ে কি মাছ ঢাকা যায়
    আসলে শাক দিয়ে কি মাছ ঢাকা যায়? কেউ সংস্কৃতমনা বা মুক্তচিন্তার চর্চা করলে তাতে কেউ বাধা দিতে আসেনি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মুক্তচিন্তার নামে ইসলাম ধর্ম, আল্লাহ ও রাসূলকে নিয়ে নোংরা কথা-বার্তা আর ইসলাম বিদ্যেষ প্রচার ছাড়া আর দ্বিতীয় কোন কাজ নেই। কাজেই এধরনের মুক্তচিন্তার প্রতি মানুষের আর কোন সহানুভূতি অবশিষ্ঠ নেই। বরং এর বিনাশটাই এখন কাম্য।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 2 =