দেবালয়, নাইটি এবং রোগা হওয়ার সহজ উপায়

খাওয়ার মাঝে ভাত আর পরার মাঝে নাইটি এছাড়া বাঙালির কি আছে আর ভাইটি! এই মূহুর্তে দেশের সবচেয়ে বড় খবর হলো এই নাইটি। বাঙালি নাইটি পেল কিন্তু ডিসিপ্লিনটা পেল না। এই নাইটির কারনেই সবচেয়ে পতিভক্ত নারীটি দুধআলার সাথে সেক্স করে বসে, যে নারীটি চিন্তা করেছিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়া জীবনে আর কারো কাছে নিজেকে সপে দিবে না সেও নাইটি পরে নিজের নিয়ন্ত্রন ছেড়ে দেয় যে কারো হাতে। হ্যে দর্শকমন্ডলি আমি বিরসার “অভিশপ্ত নাইটি”র কথা বলছি।প্রথমে ছবিটা কোন ক্যাটাগরির তা ধরতে কষ্ট হইছিলো তবে সেক্স কমেডি বা স্যটায়ার হিসেবে তারে ডিফাইন করা যাইতে পারে। একটি বিশেষ নাইটি নিয়ে আবর্তিত হইছিলো এই ছবির গল্প। এই নাইটিই এক সময় হিপোক্রেসির বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যায় আর তার মাঝে নানাভাবে ফিলোসফি আর রাজনৈতিক তত্ব চলে আসে। এই অদ্ভুত ছবির চিত্রনাট্য লিখছিলো দেবালয়। এই লোকটার সেমি ক্রাক হিসেবে পরিচিতি আছে। তার চিন্তা ভাবনা গুলো ইউনিক এন্ড এবসার্ড।মৃণাল সেন একবার খুব একটা সুন্দর কথা বলেছিলেন—“পলিটিক্স নিয়ে সিনেমা করলেই সেটা পলিটিক্যাল সিনেমা হয় না । আমি ইস্যুটাকে কতোটা পলিটিসাইজ করতে পারছি সেটাই আসল ব্যাপার”। সে দিক থেকে চিন্তা করলে দেবালয়ের সবগুলো ছবিই পুরোপুরি পলিটিকাল। রোগা হওয়ার সহজ উপায় নামে কিছুদিন আগে দেবালয়ের নিজের নির্মিত ছবি মুক্তি পায়। সম্ভবত এটি তার প্রথম ছবি।এর আগে তার বিভিন্ন কাহিনির মত এটায়ও ব্যাক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয়কে সুক্ষভাবে প্রবল আক্রমন করা হইছে। ছবির বিভিন্ন অংশে নেতাজি সুভাস বসুকে নানাভাবে অপমান অপদস্থ করা হইছে, ধর্ষনের অভিযোগে একসময় আটক রুদ্রনিলকে ছবির শেষে নেতাজিরুপে হাজির করা হইছে।এটা আমি রাতুল বাংলাদেশে বইসা দেখতে লজ্জা লাগছে ভারতে কেও কিছু বলেছে বা প্রতিবাদ করেছে কিনা আমি জানি না। এই ছবিতে জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র বাটুল দি গ্রেটও আছে। এই ছবির মাধ্যমেই জানলাম কমলিকার সাথে বাটুলের প্রেম আছে। অবশ্য এটা নতুন না অভিশপ্ত নাইটিতেও এমন দেখছিলাম।সেখানে বৌদির নাইটির মধ্যে ঢুকে পড়েছিল অ্যানিমেশনের হাঁস।প্রথম দিকে গল্প শুরু করার স্টাইল ভালো না লাগলেও অনবদ্য স্টরি লাইনের কারনে গল্পের ভেতরে ঢুকে যেতে বাধ্য হইছি।দেবালয়ের ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে কোনো সন্দেহ করার অবকাশ নাই কারন ইতিপূর্বে তার সবগুলো চিত্রনাট্যেই সে সবোচ্চ পরিমান ক্রিয়েটিভিটির প্রমান দিয়েছে।আমি যেহেতু টুকটাক স্যেটায়ার লিখতে চেষ্টা করি তাই আমার মনে হয় একজন স্যাটায়ারিস্টের কাজ হলো বাস্তব আর অবাস্তবের মাঝের সুক্ষ রেখাটির বিলোপ সাধন করা। দেবালয় সেটি ভালোই পারেন। রোগা হওয়ার সহজ উপায় দেখলে দর্শক বাস্তব অবাস্তবের মাঝে বারবার খেই হারাতে বাধ্য। একটা থিম নিয়ে যে এত বিস্তৃত চিন্তা ভাবনা করা যায় তা এই ছবিটি না দেখলে মানুষ বুঝতে পারবে না।তার ছবি দেখে দর্শক হয়তো বির্যপাতের সুখ পাবে না কিন্তু একটা ব্যাতিক্রম আবহ তাকে গ্রাস করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।সব কিছু ভালো মন্দে বিচার করা যায় না তেমনি এটাকেও ভালো অথবা মন্দের কাতারে ফেলে ডিফাইন করা যাবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

71 − 68 =