জঙ্গিবাদ নিপাত যাক, সোনার বাংলা মুক্তি পাক

এ জাতির জন্মই ছিল যার স্বপ্ন, ধ্যান, জ্ঞান আর আজীবন সাধনা, যার নিজস্ব চাহিদা বলতে কিছুই ছিলনা, দুর্ভাগ্য আমরা তাঁকেই রক্ষা করতে পারিনি। তাঁর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের করুণ পরিনতিই বলে দেয়, ‘দিতেই এসেছি শুধু নিতে নয়।’ বৃটিশ বেনিয়া আর পাকি হায়েনাদের তাড়াতে পারলেও জঙ্গি জামায়াত-হেফাজতকে তাড়ানো কি এতটাই কঠিন যা বাঙালীর অসাধ্য, মোটেও নয়। অন্ততপক্ষে, ব্যক্তিগতভাবে আমি তা মনে করি না। আসুন, একাত্তরের সেই বজ্রকন্ঠকে পুনরায় স্মরন করি আর ঝাপিয়ে পড়ি ‘যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে।’ জঙ্গিবাদ নিপাত যাক, সোনার বাংলা মুক্তি পাক।

বাঙালীর চাহিদা চিরদিনই খুব অল্প। মোটা ভাত, মোটা কাপড়ের সংস্থান হলে এ জাতির আর তেমন কোন চাহিদা অবশিষ্ট থাকেনা। এই মোটা ভাত, কাপড়ের নিশ্চয়তা আমাদের নিজেদেরই ছিল। উর্বর ভুমিতে বীজ বুনে দিলেই হলো, খাবারের কমতি হতো না। নদী-নালা, খাল-বিলে ছিল প্রচুর মৎসসম্পদ যা আমাদের আমিষের চাহিদা মেটাতে ছিল সক্ষম। কিন্তু এত সুখ বাঙালীর কপালে সইবে কেন? আমাদের সম্পদের লোভে যুগে যুগে এই ভূখন্ডে এসেছে নানা দেশের মানুষ। আমরা তাদের আতিথেয়তায় বরণ করে নিলেও তারা তাদের স্বার্থপর চেহারা উন্মোচন করে সেই সুযোগে। সেই অতিথিরাই এক সময় এ দেশের মালিক বনে যায়, আর আমরা হয়ে যাই ‘নিজভূমে পরবাসী।’

এদেশের সম্পদের লোভে অনেক দেশই তাদের বাণিজ্য সম্ভার নিয়ে এসে ঘাটি গেড়ে বসে। ওলন্দাজ, ফরাসী ও বৃটিশ বেনিয়ারা তাদের নৌশক্তির জোরে এক সময় সারা পৃথিবী চষে বেড়িয়েছে। যেখানেই সম্পদের দেখা পেয়েছে সেখানেই বানিজ্যের উছিলায় নেমে পড়েছে। বিশেষ করে বৃটিশ বেনিয়ারা তো সম্পদের দেখা পেলে সেখানে জোকের আঠার মতো লেগে থেকেছে। তেমনি আমাদের দেশেও বৃটিশ বেনিয়ারা শুধুমাত্র বাণিজ্যের জন্য এলেও এক সময় তারা এদেশের দন্ডমূন্ডের কর্তা সেজে বসে। আমরা তাদের সবই দিয়েছি, আমাদেরকে শাসন করার অধিকার থেকে শুরু করে আমাদের জমি-জিরাত, সব।

এক সময় যাদের পরম আতিথেয়তায় বরণ করে ঘরে তুলেছিলাম সেই বৃটিশরাই একদিন আমাদের রাষ্ট্র শক্তির উপর আঘাত হানলো আর স্বাধীন দেশের, স্বাধীন শাসক সিরাজউদদ্দৌলাকে যুদ্ধে পরাজিত করে শাসন ক্ষমতা নিজেদের করে নিল। নিজেদের দেশে নিজেরাই হয়ে গেলাম দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক। বৃটিশরা তাদের নোংরা খেলা ‘Divide and rule’ এর মাধ্যমে আমাদের উপর চেপে থাকলো ১৯০ বছর। কত সংগ্রাম, কত আত্মত্যাগ আর কত মায়ের বুকের ধনের আত্মাহুতির পর স্বাধীন হলাম, আর ভাবলাম আমাদের সুদিন এলো বুঝি। কিন্তু আসলে নতুন দুর্দিন শুরু দ্বিগুণ উন্মত্ততা নিয়ে। বৃটিশদের চেয়েও ভয়ঙ্কর নির্যাতন শুরু হলো আমাদের উপর। অথচ আমাদের চাওয়া কিন্তু খুবই সীমিত। আমরা দিতেই পছন্দ করি।

পৃথিবীর সাগর-মহাসাগরগুলোর পানির মতো অকাতরে ঢেলে দিলাম ৩০ লাখ তাজা মানুষের রক্ত, নারীর সর্বোচ্চ সম্মান তার সতীত্ত্ব তাও দিলাম দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য। বিনিময়ে চাওয়া ছিল শুধু একটি স্বাধীন দেশ, একটি পতাকা আর একটি জাতীয় সংগীত। আমরা স্বাধীন হলাম বটে তবে স্বাধীনতার সাথেই একটি রাহুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হলো আমাদের পথচলা। শান্তির জীবন আমাদের জন্য নয়, এটাই যেন নিয়তি। নইলে স্বাধীন দেশে প্রগতির ধারক ও বাহক একের পর এক প্রগতিশীল, আলোকিত মানুষগুলোকে আমাদের হারাতে হবে কেন! দুর্ভাগ্যবশত, ৭১’এর পর সেই সাথে আলিঙ্গন করে নিলাম স্বাধীনতার বিপক্ষশক্তিকে।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “জঙ্গিবাদ নিপাত যাক, সোনার বাংলা মুক্তি পাক

  1. জঙ্গিবাদ এবং গুপ্তঘাতকদের
    জঙ্গিবাদ এবং গুপ্তঘাতকদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারের একার পক্ষে এসব অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + = 13