মুসা নবী কি, ঈশা(যীশু) নবীর আপন মামা ? কিন্তু তা কি করে সম্ভব ? তাদের মধ্যে তো ১০০০ বছরের ব্যবধান

সবাই জানেন মুসা নবী মিশরে জন্মগ্রহন করেন , তারপর আল্লাহর আদেশে তার ইসরাইলি বংশধরদেরকে ফেরাউনের কবল থেকে উদ্ধার করে জেরুজালেমে নিয়ে আসেন। সেটা আনুমানিক খৃ:পূ: ১০০০ এর ঘটনা অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৩০০০ বছর আগে। আর ঈশা নবী অর্থাৎ যীশু জন্মগ্রহন করেনে ৩ /৪ খৃষ্টাব্দে অর্থাৎ আজ থেকে ২০০০ বছর আগে। কিন্তু তারপরেও কোরান বলছে এই মুসা নবী হলো যীশুর আপন মামা। সেটা কিভাবে সম্ভব ? নাকি খালি কোরান বলছে বলেই সেটা সম্ভব ?

দেখা যাক , কোরান কি বলে —-
সূরা মরিয়ম- ১৯:২৭-২৮: অতঃপর তিনি সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হলেন। তারা বললঃ হে মারইয়াম, তুমি একটি অঘটন ঘটিয়ে বসেছ।হে হারূণ-ভগিনী, তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিলেন না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিনী।

উক্ত আয়াতে দেখা যাচ্ছে মরিয়ম তার সন্তান ঈশা নবীকে শিশু অবস্থায় তার সম্প্রদায়ের কাছে নিয়ে গেলে , লোকজন তাকে সম্বোধন করছে – ‘হারুন ভগিনি’ বা ‘হারুনের বোন’ বলে। প্রশ্ন হলো – এই হারুন কে ? এই হারুন হলো মুসা নবীর ভাই। আর তাদের মরিয়ম নামে একটা বোনও ছিল। তৌরাত কিতাবেই সেটা উল্লেখ আছে –

যাত্রাপুস্তক, অধ্যায়-১৫, বাক্য-২০: তারপর হারুনের বোন মরিয়ম, মহিলা ভাববাদিনী, হাতে একটা খঞ্জনী তুলে নিল। মরিয়ম ও তার সঙ্গিনী নারীরা নাচতে ও গাইতে শুরু করল।

মুসা ও হারুনের পিতার নাম ছিল এমরান যা তৌরাতে উল্লেখ আছে , যেমন –

যাত্রাপুস্তক- ৬:২০: আম্রাম ১৩৭ বছর বেঁচে ছিল। আম্রম তার আপন পিসি জোকেবদকে বিয়ে করেছিল।আম্রম ও জোকেবদের দুই সন্তান হলো যথাক্রমে- হারোন ও মোশি।

আবার কোরানেও কিন্তু বলছে এই মরিয়মের পিতার নাম ছিল এমরান , যেমন –

সূরা আত-তাহরীম-৬৬:১২: আর দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন এমরান-তনয়া মরিয়মের, যে তার সতীত্ব বজায় রেখেছিল। অতঃপর আমি তার মধ্যে আমার পক্ষ থেকে জীবন ফুঁকে দিয়েছিলাম এবং সে তার পালনকর্তার বানী ও কিতাবকে সত্যে পরিণত করেছিল। সে ছিল বিনয় প্রকাশকারীনীদের একজন।

নিচের আয়াত থেকেও জানা যাচ্ছে , এমরানের কন্যার নাম মরিয়ম।

সুরা এমরান- ৩: ৩৫- ৩৭: এমরানের স্ত্রী যখন বললো-হে আমার পালনকর্তা! আমার গর্ভে যা রয়েছে আমি তাকে তোমার নামে উৎসর্গ করলাম সবার কাছ থেকে মুক্ত রেখে। আমার পক্ষ থেকে তুমি তাকে কবুল করে নাও, নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞাত।
অতঃপর যখন তাকে প্রসব করলো বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি একে কন্যা প্রসব করেছি। বস্তুতঃ কি সে প্রসব করেছে আল্লাহ তা ভালই জানেন। সেই কন্যার মত কোন পুত্রই যে নেই। আর আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম। আর আমি তাকে ও তার সন্তানদেরকে তোমার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি। অভিশপ্ত শয়তানের কবল থেকে।
অতঃপর তাঁর পালনকর্তা তাঁকে উত্তম ভাবে গ্রহণ করে নিলেন এবং তাঁকে প্রবৃদ্ধি দান করলেন-অত্যন্ত সুন্দর প্রবৃদ্ধি। আর তাঁকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে সমর্পন করলেন। যখনই যাকারিয়া মেহরাবের মধ্যে তার কছে আসতেন তখনই কিছু খাবার দেখতে পেতেন। জিজ্ঞেস করতেন “মারইয়াম! কোথা থেকে এসব তোমার কাছে এলো?” তিনি বলতেন, “এসব আল্লাহর নিকট থেকে আসে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহিসাব রিযিক দান করেন।”

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , এমরানের ছিল দুই পুত্র – মুসা ও হারুন , এক কন্যা মরিয়ম। তৌরাত ও কোরান উভয়েই সেটা স্বীকার করছে। সেই মরিয়মের গর্ভেই জন্ম গ্রহন করে ঈশা তথা যীশু। অর্থাৎ মুসা নবী হলো যীশুর আপন মামা। কিন্তু তা কি করে সম্ভব ? মুসা নবী তো ঈশা নবীরও প্রায় ১০০০ বছর আগে দুনিয়াতে জন্মগ্রহন করে।

তবে ইঞ্জিল কিতাবে যীশুর মাতা মরিয়মের পিতা মাতা কে ছিল , সেটা উল্লেখ নাই। সুতরাং তৌরাত কিতাবে বর্নিত ইমরানের কন্যা এবং মুসা-হারুনের বোন মরিয়মের সাথে ইঞ্জিল কিতাবের মরিয়মের কোনই সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু কোরান বলছে , সেই মুসা হারুনের বোন মরিয়মই ঈশা বা যীশুর মা। কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 41 = 44