আক্রান্ত বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা , প্রগতিশীলতা – কি করতে হবে (ক্রিটিকাল এনালাইসিস ও স্ট্রাটেজি)

বাংলাদেশে নরমেধ যজ্ঞের মহোৎসব চলছে । মূলত ২০১৩ থেকে শুরু হয়ে একের পর এক ভিন্নমতাবলম্বী মানুষদের চাপাতি দিয়ে থামিয়ে দেয়া হচ্ছে । পাকিস্তানীরা একাত্তরে যেভাবে আমাদের প্রগতিশীল মানুষদের খুন করেছিল , এখন স্বাধীন বাংলাদেশেও তার চেয়েও জঘন্যভাবে খুন করা হচ্ছে ।

পুলিশ প্রধান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাংলাদেশ বিরোধী সংগঠনের আর্থিক মেরুদণ্ড ইসলামী ব্যাঙ্কের টাকায় কেনা গাড়ি নিয়ে বলে তারা খুনিদের ধরতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ! সেকুলারিজমের মুখোশ পরা সরকার মৌলবাদীদের পক্ষে কথা বলছে গদি রক্ষার জন্য ।

স্বাধীন বাংলাদেশে বসে দেশ বিরোধীদের কথামত চলতে চাওয়া সরকার পরোক্ষ লাইসেন্স দিয়ে যাচ্ছে এই চাপাতির । কিন্তু আমরা ? আমাদের কি মদিনা সনদে দেশ চালাতে চাওয়া সরকারের বা ইউরোপ – আমেরিকার উপর নির্ভর করে থাকা উচিত ? কেন অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছেনা ? কোন অতিমানব এসে কি বাংলাদেশের মানুষদের কোপানো বন্ধ করবে ?

এখানে প্রথমে সমস্যা বিশ্লেষণ কিভাবে করতে হয় তার একটা ছোট সাধারণ পদ্ধতি দেয়া হয়েছে । এরপর বাংলাদেশের মুক্তমনাদের প্রধান যে সমস্যাগুলো আছে তা আলোচনা করা হয়েছে । তারপর সমস্যাগুলো সমাধান করার জন্য কি কি করা উচিত তা ।

লেখাটা এক নিঃশ্বাসে পড়ার জন্য নয় । আমি আশা করব, আপনি ক্রিটিকাল এনালাইসিস করে পড়বেন । ব্রেইন স্টর্মিং করবেন , আপনার নিজের আইডিয়া শেয়ার করবেন । আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান কিছু ক্ষেত্রে সময় সাপেক্ষ । কেও একা এগুলো সমাধান করতে পারবেনা । সবাই মিলে পুরো শক্তি দিয়ে চেষ্টা করলে অবশ্যই সমাধান সম্ভব ।

সমস্যা বিশ্লেষণঃ

যে কোন সমস্যা সমাধানের প্রধান ও প্রথম উপায় হল সমস্যাটা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারা , পুরোপুরি বুঝতে পারা । প্রায় সব বড় আবিষ্কার ও মানব সভ্যতার অগ্রগতি হয়েছে সমস্যা সমাধান করার মাধ্যমেই । সমস্যা আমাদেরকে শেখার খুব বড় সুযোগ করে দেয় , এগুলো সমাধান করার মাধ্যমেই আমরা দক্ষ হয়ে উঠি । বাস্তব জীবনের সব সমস্যাই একবারে সমাধান করে ফেলা যায়না , অনেক ক্ষেত্রেই আটকে যেতে হয় , যখন মনে হয় সামনে যাওয়া অসম্ভব । আমরা আটকে আছি, এটা বুঝতে পারাই সামনে যাওয়ার প্রথম উপায় । যৌক্তিকভাবে প্রভাবিত না হয়ে – মাথা ঠান্ডা রেখে সমস্যাটাকে শেখার উপায় হিসেবে দেখা সমস্যাটা সমাধানে সাহায্য করে ।

কান্নাকাটি , মান অভিমান , দোষাদোষি করে কখনো কোন সমস্যা সমাধান করা যায়না । সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া কোন সমাধান নয় ।

সমাধান করা অসম্ভব মনে হলে সমস্যাকে অন্য দৃষ্টি থেকে দেখা ; বড় পরিসরে চিন্তা করতে পারা ; সহজভাবে চিন্তা করা অর্থাৎ কি কি বিষয় পরিবর্তিত হলে সমস্যাটা সমাধান করা যেত, সেভাবে চিন্তা করা সমস্যাগুলো সমাধানে খুব কাজে আসে ।

বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার আন্দোলণের সবগুলো সমস্যা আমার একার পক্ষে বের করা প্রায় অসম্ভব ।

প্রধান সমস্যাগুলো মোটামুটি এরকমঃ
১। কেন যুক্তি, বিজ্ঞান, রিসোর্স, প্রমানের পাহাড় থাকার পরেও মৌলবাদীদের কাছে হেরে যাচ্ছি ?
২। বাংলাদেশের সবচেয়ে বুদ্ধিমান লোকরা কিভাবে মৌলবাদীদের এত সহজ টার্গেটে পরিণত হচ্ছে ?
৩.১। কেন আমরা একই ভুল বারবার করছি ?
৩.২। কেন এতবার আক্রান্ত হওয়ার পরেও আমরা এক হতে পারছিনা ?
৪.১। আমাদের শক্তি কোথায় আর দুর্বলতা কোথায় ?
৪.২। মৌলবাদীদের শক্তি কোন কোন জায়গায় আর দূর্বলতা কোনগুলো ?
৫। কেন আমরা সাধারণ মানুষের কাছে যেতে পারছিনা ? দেশের সবচেয়ে বেশি মানবতাবাদী লোকদের ব্যাপারে সাধারণের নেতিবাচক ধারণা তৈরি হল কিভাবে ? কিভাবে তা পরিবর্তন করা যায় ?
৬। আমাদের স্ট্রাটেজির ভুলগুলো কোথায় ?
৭। বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার যুক্তিবাদী-মানবতাবাদী লোকদের লক্ষ্য কি ও কিভাবে তা বাস্তবসম্মতভাবে (realistically) অর্জন সম্ভব ?

আপনার পক্ষে যতদূর সম্ভব এই সমস্যাগুলোর কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান কি কি হতে পারে তা বিশ্লেষণ করুন । আপনি যতটা বিশ্লেষণ করে এই সমস্যাগুলো চিন্তা করবেন , বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার আন্দোলণে আপনার ততটা অবদান থাকবে । বিশ্লেষণ ক্ষমতা শুধু এখানেই নয়, আপনার প্রতিদিনের জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই কাজে লাগবে ।

আমি আশা করব , সর্বোচ্চ চেষ্টা করে প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ ও সম্ভব হলে প্রতিটির একাধিক সমাধান বের করার পরেই শুধুমাত্র বাকি অংশে যাবেন । (১)

———————————————————————————

বিশ্লেষণঃ

বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার লোকদের যে সমস্যাগুলো প্রধান তা হলঃ
১। একতাবদ্ধ না থাকা ।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মুক্তচিন্তার মানুষই বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত ছড়ানো আছেন । অনেকে ইন্টারনেট তত বেশি ব্যবহার করেন না, বা ব্যবহার করলেও যুক্তিবাদী কমিউনিটির সাথে এত বেশি যুক্ত নন । অনলাইনে ছাড়া বাস্তবে যে দুয়েকটা সংগঠন আছে , সেগুলো ততটা সক্রিয় নয় । বিচ্ছিন্ন থাকায় নিজেদের ঠিকভাবে বোঝা যায়না ; এক না থাকায় আমরা নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো ঠিকভাবে জানতে পারিনা । কেও সমস্যায় পড়লে তাকে সাহায্য করাও অনেক কঠিন হয়ে যায় ।

বাংলাদেশে মুক্ত চিন্তার আন্দোলণটা একেবারেই বিকেন্দ্রিক । কোন সাধারণ কেন্দ্র থেকে বা নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হয়না । এর যেমণ সুবিধা আছে , তেমনি অসুবিধাও আছে । সুবিধে হল – কোন একক ব্যক্তির ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব পুরো কমিউনিটির উপর পরেনা । অসুবিধা হল, কোন এক জনের ভুল সিদ্ধান্ত যখন অনেকেই অনুসরণ করে , তখন প্রতিক্রিয়াটা সামলানো অনেক কঠিন হয় ; দলের জন্য অনেক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতেও অনেক বেশি সময় দরকার হয় ।

হাঁ, একটা কথা আছে যে মুক্তচিন্তার মানুষদের এক করা অনেক কঠিন । তাঁদের নিজেদের মধ্যেই অনেক বেশি মত পার্থক্য । মুক্তচিন্তার, যুক্তির বা বিজ্ঞানের সৌন্দর্যটা এখানেই । সবাই যদি একভাবেই চিন্তা করে তবে নতুন চিন্তা আসবে কোথা থেকে ?

তবে এমন সময়ে আমরা যদি নিজেদের ছোট সমস্যা , তাত্ত্বিক দন্দ , ব্যক্তিগত মান-অভিমান বা হিংসা , উন্নাসিকতা – হিনমন্যতা এসব নিয়েই আটকে থাকি , বড় দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করতে না পেরে মূল সমস্যাগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকি , একা ফেসবুকে বিপ্লব করে দেশোদ্ধার করে ফেলার দিবাস্বপ্ন দেখি, নিজের মাথার উপর রামদা-চাপাতি আসার আগে চুপ করে থাকি , তবে মৌলবাদীরা – জামায়াত, আনসার বাংলা, আল কায়েদা , আইএস , হুজি , হেফাজত – যারা সবাই এক হয়ে বাংলাদেশকে পাকিস্তান – আফগানিস্তানের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে – তাদের পরিকল্পিত, সংগঠিত আক্রমণ আমরা কিভাবে সামলাবো ?

আন্দোলনটা বিকেন্দ্রিক হওয়ায় আমাদের কৌশলী হওয়া দরকার । নিজেরাই নিজেদেরকে ও সমমনা অন্যদেরকে সবসময় পরীক্ষার (constant check) মধ্যে রাখতে হবে যে, কোন ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছি বা নিচ্ছে কি না বা ছাগুদের সাথে তর্ক করতে করতে নিজেরাই ছাগু হয়ে যাচ্ছি কিনা । তবে এর অর্থ ছোট ব্যাপার নিয়ে দন্দে আটকে থেকে সামগ্রিক আন্দোলণের ব্যাপারে ভুলে যাওয়া নয় ।

বাংলাদেশের এমন সময়ে যারা মৈনাক পর্বতে বসে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছে তারা সুবিধাবাদী ভন্ড নয়তো নির্বোধ । দুই ধরণের লোকই যে কোন আন্দোলণের জন্য ক্ষতিকর ।

২। আভিজাত্যিক উন্নাসিকতা ।

এটা বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার মানুষদের একটা বড় সমস্যা ।
এর মূল কারণ নাস্তিকতার নেতিবাচক চিন্তায় আটকে থাকা । যুক্তি ও বিজ্ঞানকে জীবনের সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে না পারা এবং সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবও বড় কারণ । হাঁ – যেখানে বেশিরভাগ মানুষই গোঁড়া ধার্মিক হয়ে বেড়ে ওঠে, বিজ্ঞানের নামে অপবিজ্ঞান যেখানে ছেলেবেলা থেকে মুখস্ত করানো হয় , যেখানে এখনো লোকে বিশ্বাস করে যে চাঁদে (বায়ুশূন্য পরিবেশ) আযান শুনে নীল আর্মস্ট্রং মুসলিম হয়ে গেছেন – সেই সমাজের সিস্টেমের মধ্যে বেড়ে উঠেও প্রথা না মানা মানুষ আশপাশের সাধারণ মানুষদের নীচু শ্রেণির মনে করতে পারে । এটা কখনোই আসা উচিত নয় । মানুষের জন্যই সবকিছু , সাধারণ মানুষই যদি না থাকে তবে লেখালেখির কোন অর্থই থাকেনা ।

যে জ্ঞান আপনাকে মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন করে , তা কোন জ্ঞানই নয় । মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে আপনি অনেক কিছু শেখার সুযোগ হারাবেন । আপনি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে ভুল করবেন । আপনি ভুলে যাবেন যে , আপনি নিজেও হয়ত এক সময় ধার্মিক ছিলেন । মৈনাক পর্বতে বসে কখনো সমাজ পরিবর্তন করা যায়না ।

আরজ আলী , আহমদ শরীফ, প্রবীর ঘোষ বা রিচার্ড ডকিন্সের কাছ থেকে কি আমরা কিছু কিছু শিখতে পারিনা ? তাঁদের পদ্ধতিগুলো বড় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এবং তাঁদের জীবনধারা বিশ্লেষণ করলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন । কেও মুক্তচিন্তার জন্য তাঁদের আশপাশের মানুষের ঘৃণার কারণ হননি ।

আরজ আলীকে তিনি কে এবং কি জানার পরেও সর্ষীণার পীরেরাও ডেকে নিয়ে যেত জমি মাপজোকের কাজে । তাঁর আশপাশের মানুষদের থেকে চিন্তায় অনেক এগিয়ে থেকেও তিনি সাধারণের সাথে মিশে যেতে পারতেন । পাকিস্তান আমলেও তাঁকে কেও কিছু করতে পারেনি ।

রিচার্ড ডকিন্স বিবর্তনবাদী জীববিজ্ঞানী হিসেবে তাঁর অবস্থান শক্ত করে নেয়ার পড়ে GOD DELUSION লিখেছেন ।

কিছু কথা না বললেই নয় । হুমায়ূন আজাদের স্ট্রাটেজি খুব বেশি সমস্যাপূর্ণ । তিনি খুব বড় লেখক , অনেক বড় ভাষাবিজ্ঞানী , পৃথিবীর প্রথম সারির মুক্তচিন্তার মানুষ । কিন্তু তাঁকে চোখ বন্ধ করে অনুসরণ করাটা বাংলাদেশের মুক্তমনাদের খুব বড় একটা ভুল , এটা না বুঝলে লাশের সারি বাড়বে, বাড়তেই থাকবে । রাতারাতি সমাজকে পাল্টে ফেলা যায়না । আঘাত করলে যে রিভার্স এফেক্টটা আসে তা সামলানোর উপায় রাখতেই হয় । আক্রমণ করার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয় । যারা করেনা তারা খুব সহজেই পরাজিত হয় । বেঁচে থাকলে এটা নিয়ে পরে হয়ত আরো বিস্তারিত লেখব ।

৩। কোন সাধারণ প্লাটফর্ম না থাকা ।

বাংলাদেশের মুক্তমনারা এখন খুব বেশি ফেসবুক নির্ভর । আন্দোলনের জন্য ফেসবুক খুব বাজে মাধ্যম । ফেসবুক নির্ভর হওয়ার বড় কারণ হল খুব সহজে যোগাযোগ করা যায়, মত প্রকাশ করা যায় । তবে এর জন্য অনেক বড় দাম দিতে হয় ।

আপনি জানুন বা না জানুন, ফেসবুক পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যম । বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন মুক্তমনা ব্লগার প্রাণ হারিয়েছেন ফেসবুকে নিজেদের নাম, ছবি, ঠিকানা এসব ব্যক্তিগত তথ্য দেয়ায় । ফেসবুক বিপ্লব কি পরিমাণ ক্ষতি করে বুঝতে আরব দেশগুলোর দিকে তাকান । ফেসবুক – টুইটার ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে আরব বসন্ত নামে আন্দোলণ শুরু হয়েছিল । পরোক্ষভাবে এর নিয়ন্ত্রন ছিল ফেসবুক কতৃপক্ষের হাতে । তারা যখন চেয়েছে আন্দোলন ভেঙ্গে দিয়েছে ।

আমাদের নিজেদের কথাই বলি । বাঙালীদের সবচেয়ে বড় এথিস্ট কমিউনিটি ছিল ফেসবুকে ‘দি কমিউনিটি অফ এথিস্ট’ নামে একটা গ্রুপে । এটা বোধহয় সাইক্লিস্ট গ্রুপের পরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফেসবুক গ্রুপ ছিল । বাংলাদেশের ও ভারতীয় নিধার্মিক, যুক্তিবাদী , মানবতাবাদী লোকদের তুমুল তর্ক-বিতর্ক থেকে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা-সমালোচনা সবই হত যে কোন ব্লগ সাইট থেকে অনেক বেশি । এখানে এমন অনেক লেখা ছিল যা কোন ব্লগের সেরা লেখাগুলোর চাইতে কম নয় । বাংলাদেশের অনেক শক্তিশালী ব্লগার বেরিয়েছেন যাঁদের শুরুটা এই গ্রুপে তর্ক বিতর্ক থেকেই । বর্তমান অনলাইন মুক্তমনাদের খুব বড় অংশই নিজেদের ও সহমতের মানুষদের চিনেছিলেন এই গ্রুপ থেকেই ।

স্বাভাবিক ভাবেই এর উপর আক্রমণ শুরু হয় । গ্রুপ মডারেটরদের মধ্যেও সমস্যা ছিল । মুক্তমনা নামধারী কিছু লোক পর্ণ পোস্ট করা শুরু করে । ফেসবুক কতৃপক্ষ গ্রুপ ডিলিট করে দেয় । এতদিনের এত কাজ সব মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যায় । গ্রুপটা বোধহয় আবারো বানানো হয়েছিল, তবে আগের মত আর হয়নি । ফেসবুক আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কেমন তা আমাদের এখান থেকে শিখে নেয়া খুব বেশি দরকার ।

ফেসবুক ব্যবহার না করতে বলছিনা , তবে কৌশলী হয়ে ব্যবহার করুন । ওরা যে কোন সময় যে কোন কারণে আপনার একাউন্ট ডিলেট করে দিতে পারে । ফেসবুকের উদ্দেশ্য ব্যবসা করা । আর বাংলাদেশ সরকার এখন ফেসবুক মনিটরিং করছে তা তো জানেনই । সামাজিকতা করা আইডি থেকে, যেখানে আপনার পরিচয় – তথ্য দেয়া আছে সেখানে শুধু ব্যক্তিগতভাবে ও ভালোভাবে চিনেন এমন লোকদেরই রাখুন । ওই আইডিতে কারো কোন সমালোচনা বা ধর্মোদ্ধার করতে যাবেন না । এর জন্য দরকার হলে আলাদা পরিচয় ব্যবহার করুন । আপনাকে ইউনিকলি আইডেন্টিফাই করা যায় এমন কোন তথ্য – যেমণঃ আইপি এড্রেস , আসল নাম , ছবি , ঠিকানা , ফোন নাম্বার এসব দেবেন না । প্রচারের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করুন । আর ফেসবুকের সব গুরুত্বপূর্ণ লেখারই ব্যাকআপ রাখুন কোন ব্লগে বা পিডিএফ আকারে আলাদা হার্ড ডিস্কে ।

৪। অবস্থার গুরুত্ব বুঝতে না পারা ।
অবস্থা না বুঝে ব্রিজ থেকে নীচে লাফ দেয়াটা সাহসিকতার পরিচয় নয় । হঠাৎ কিছু করতে ইচ্ছে করছে বলে তা করা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয় । বরং যে কোন ঘটনা যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করা ও যা করা দরকার তা সব শক্তি দিয়ে করা (যা করার ইচ্ছে হচ্ছে তা নয়) হল ব্যবহারিক বুদ্ধিমত্তা ।

বাংলাদেশ একটা বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে । অনেকদিন ধরে যে ভাইরাসটাকে বাড়তে দেয়া হয়েছে তার সাথে যুক্তির, বিজ্ঞানের সংঘর্ষটা অনিবার্য ছিল । এজন্য আমাদের প্রস্তুতি নেয়া উচিত ছিল অনেক আগেই । তবে এখনো বাংলাদেশ পাকিস্তান হয়ে যায়নি , আস্তে আস্তে সেদিকে এগুচ্ছে । আমাদের সিদ্ধান্তগুলো এখন বাংলাদেশকে রক্ষায় অনেক বড় প্রভাব রাখবে ।


৫। ক্রিটিকাল প্লানিং ও শৃঙ্খলার অভাব ।

কেন , কার জন্য , কি প্রভাব আসতে পারে , এতে কি লাভ হবে , কি কি ঝুঁকি আছে – এসব পূর্বাপর বিবেচনা না করে কাজ করলে সমস্যা বাড়তেই থাকবে ।

কিছু লোক আছে যারা নিধার্মিক হওয়ার কারণে পৃথিবীর সবকিছু জানে বলে মনে করে । তাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ও যুক্তিবোধের অভাব আছে । নিজেরা তো বিপদে পরেই – অন্যদেরও এতে ফেলবে । এজন্য দরকার নিজেরা সতর্ক থাকা ও তাদের ভুলগুলো দেখিয়ে দেয়া – পরিবর্তিত হতে না চাইলে অন্য সমচিন্তার মানুষদের সতর্ক করে দেয়া ।

কোন ঘটনার প্রভাবে কি হচ্ছে তা (causal relationship) ঠিকঠাক বুঝতে পারা এবং কিভাবে তা পরিবর্তন করতে হবে তার পরিকল্পনা করে এগুতে পারা খুব দরকার ।

৬। রাজনৈতিক আদর্শ না থাকা ।
যুক্তির, মুক্তচিন্তার আন্দোলন একটা সামাজিক আন্দোলন । রাজনৈতিক দর্শন ছাড়া কোন সামাজিক আন্দোলন টিকে থাকা খুব কঠিন । এখন প্রশ্ন উঠতে পারে কোন রাজনৈতিক আদর্শটা সবচেয়ে বেশি যৌক্তিক । আমি এরকম কোন দল এখনো দেখিনি ।

মুক্তচিন্তার আন্দোলণের মূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সার্বিকভাবে সব মানুষের এবং সমাজের সবচেয়ে বেশি কল্যাণ হওয়া এবং এজন্য পরিবর্তিত হতে পারা ।

৭।

——————————————————————————-

# কিভাবে সমাধান করা যায়ঃ

সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রথমেই ঠিক করতে হবে আমরা কি চাই ।

এমন না যে বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার সমস্যাগুলো পৃথিবীর অন্য কোথাও হয়নি , বরং উল্টোটা । ইউরোপের উইচ হান্টিং , আলেকজান্দ্রিয়ায় পৃথিবীর সবচেয় বড় লাইব্রেরী পুরিয়ে দেয়া , ব্রুনোদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা বা গ্যালিলিওকে চার্চের দ্বারা স্বীকারে বাধ্য করানো যে পৃথিবী ঘুরছেনা খুব বড় উদাহরণ । এই বছর পঞ্চাশ আগেও জার্মান নাৎসিরা অনেক লাইব্রেরী পুড়িয়ে দিয়েছিল । পাশের দেশ ভারতের যুক্তিবাদী আন্দোলণের প্রবীর ঘোষকে অনেকেই চিনেন । তাঁকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয় ।
ইউরোপীয়রা বিজ্ঞান নির্ভর সমাজ একদিনে তৈরি করতে পারেনি । ওরা সমস্যাগুলো সমাধান করেই সামনে গেছে । বেশ কিছুদিন আগে একটা ডকুমেন্টারি দেখেছিলাম, মালদ্বীপের মুক্তচিন্তার মানুষদের অবস্থাও বাংলাদেশের মত । সব মুসলিম প্রধান দেশেই ভিন্নমতের অবস্থা প্রায় একই । কিন্তু এর মধ্যেও বিপ্লব হচ্ছে । সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞান,যুক্তি , প্রমাণ যতটা যাচ্ছে – তত বেশি মানুষ ধর্মের অন্তঃসারহীনতা বুঝতে পারছে । আফগানিস্তানের তালেবান বা সিরিয়ার আইসিসের মত কঠোরভাবে ইসলাম বাংলাদেশের কয়জন ধার্মিক মানবে ? যারা একেবারে মাদ্রাসায় পড়েনি, কিছুটা হলেও বিজ্ঞান শিক্ষা পেয়েছে তারা খুব কমই আল-কায়দের ‘সহিহ ইসলাম’ মেনে চলে ।

আরজ আলীরা পাকিস্তান আমলে যদি করতে পারেন তবে আমরা পারব না কেন ?

কি করা দরকারঃ

১। আত্মরক্ষা ।

যেটা বেশি দরকার সেটাই সবার আগে । প্রথমেই উচিত নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ।

যারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে শত্রুকে আক্রমণ করতে যায় , তারা খুব সহজেই পরাজিত হয় ।

আপনি মুক্তমনা ? ভাবছেন ফেসবুকে বিপ্লব করে বাংলাদেশকে রাতারাতি ফ্রান্স বানিয়ে ফেলবেন ? আপনার মত আরো একশ জন এই বছরে মারা গেলেও বাংলাদেশের অবস্থা পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম । সেক্ষেত্রে কৌশলী হওয়াটা কি বেশি প্রয়োজনীয় নয় ?
মনে রাখবেন, কোপ খাওয়ার সময় আপনাকে কেও বাঁচাতে আসবেনা । সুশীলমনারা আপনি খুন হওয়ার পর দুয়েকটা পোস্ট দিয়েই মুরগীর রান চিবুতে যাবে । আপনি স্রেফ একটা পরিসংখ্যান হবেন । আপনার লাশের ছবি নিয়ে মৌলবাদীরা উল্লাস করবে আর সুবিধাবাদী নাস্তিকেরা ভিক্ষার ব্যবসা করবে ।

কিভাবে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন তার মৌলিক বিষয়গুলো আমার আগের পোস্টে দেয়া আছে । এটা আপনাকে সাহায্য করবে ।
নিজের কমনসেন্স আর বুদ্ধিমত্তা পুরোপুরি ব্যবহার করুন । আপনাকে আপনিই সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারবেন ।


২। কল্পনা ও বাস্তবের ঐক্য ।

অনেক মুক্তচিন্তার মানুষও দেখি যেন একটা ফ্যান্টাসির মধ্যে আছেন । যা এই মুহূর্তে সম্ভব নয় , তাই করার দিবা স্বপ্ন দেখছেন । শুধু স্বপ্ন দেখে লাভ হবে যদি কাজ না করা হয় ?

কল্পনা দরকার, কিন্তু তার সাথে বাস্তবতার পরীক্ষাও (reality check) করে দেখতে হবে । অর্থাৎ আমার কল্পনার সাথে বাস্তবের কতটুকু সম্পর্ক ও পার্থক্য তা বের করা এবং কল্পনাটা সত্যি করার জন্য বাস্তবে যা যা করতে হয় তা করা ।

এর খুব ভালো একটা উদাহরণ হল মিনা কার্টুন । দাদীর গল্প শুনে মিনা স্বপ্নে দেখে যে, কুপির দৈত্য তার ইচ্ছাগুলো পূরণ করে দিচ্ছে । ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারে জাদুর কুপি বাস্তবে নেই ; তখন তার বন্ধুদের সাথে সমস্যাগুলো সমাধান করতে নেমে পড়ে । স্বপ্নের কুপির দৈত্যের কাজের মত এতটা সহজে হয়না ; অনেকবারই তাকে বড় সমস্যায় আটকে যেতে হয়, পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হয় , কিন্তু ঠিকই সে সব ইচ্ছা পূর্ণ করে ।

এর মধ্যে একটা বড় সত্য আছে । উদ্দেশ্যের সাথে বাস্তবতা পরীক্ষা করে কাজ করাটা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের খুব সাহায্য করে । কোন সমস্যা সমাধানে আমাদের নিজেদের যা সামর্থ্য আছে তার একদম শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা উচিত ।

বাংলাদেশের ভিন্নচিন্তার মানুষের খুনের মহোৎসব আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করেন ? ব্যাটম্যান, সুপারম্যান বা জাদুর কুপির দৈত্য টিভিতে আর কল্পনাতেই থাকে ।

কারো দোহাই না দিয়ে – সরকার , পুলিশ , সুশীল , মডারেট, ইউরোপ , আমেরিকা , ইসরাইল কেন কিছু করছেনা তা নিয়ে গবেষণা না করে , কারো মুখের দিকে তাকিয়ে করুণা ভিক্ষা না করে আমরা যা যা করতে পারি তা সবাই সব শক্তি দিয়ে করা অনেক বেশি কাজে আসবে আমাদের নিজেদের টিকিয়ে রাখতে, বাংলাদেশের ইতিহাস – সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে, বাংলাদেশে বিজ্ঞাননির্ভর সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা তৈরি করতে । কারো কাছে সাহায্য চাওয়ার মধ্যে গৌরবের কিছু নেই । হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক মুক্তচিন্তার আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকাও খুব দরকার , বাইরে থাকা এক্টিভিস্টরা তা করছেন ।

আমেরিকা ইউরোপের দেশগুলোকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ণে ঋণ দেয়ার জন্য যতটা ব্যস্ত দেখা যায় তার সিকিভাগও কি দেখেছেন বাংলাদেশের সায়েন্টিফিক রিসার্চ বা লাইব্রেরী বানানোর জন্য দিতে ?

পালিয়ে যাওয়াটা সাময়িক সমাধান হতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিবর্তনটা এদেশেই করতে হবে ।

৩। ইসপিরিট ডি কর্প্স ।

সমাজের প্রচলিত কাঠামোর বিরুদ্ধে কথা বলা , চিন্তার দাসত্ব ভেঙ্গে মানুষকে জাগানো এক ধরণের যুদ্ধই । নিজেদের কাঠামো , সংগঠন না থাকলে তা কখনোই সম্ভব না ।

সংঠিত, পরিকল্পিত আক্রমণের সামনে যুক্তি, প্রমাণ, আবেগ যে কত ঠুনকো তা শাহবাগ আন্দোলণ থেকেই আমাদের শিখে নেয়া দরকার ছিল । ডিভাইড এন্ড কনকার রুল ইংরেজরা ৪৭ এ ব্যবহার করেছে ও সাম্প্রদায়িক বিভেদের কারণে সফল হয়েছে । ৫২ তে ৭১ এ পারে নাই , কারণ তখন বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ এক ছিল । শাহবাগেও একই পদ্ধতিতে আক্রমণ করা হয়, নেতৃত্বে সমস্যা থাকায় এবার তারা সফল হয় । এখান থেকে মুক্তচিন্তার লোকদেরই সবচেয়ে বেশি শিখে নেয়া ও নিজেদের ভুলগুলো ঠিক করে নেয়া দরকার ছিল , কারণ আন্দোলণের শুরুটা আমরাই করেছিলাম । তখন সচেতন না থাকায় এর প্রতিক্রিয়া এখন আমাদেরই বেশি সামলাতে হচ্ছে ।

আমি অনেককে চিনি যারা আন্দোলণে নামতে প্রস্তুত , কিন্তু নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্মের অভাবে হতাশ হয়ে যায় । অনলাইনে ফেসবুক বা ছোট ব্লগ সাইট দিয়ে তা সম্ভব নয় । এজন্য পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট দরকার । ফেসবুক আন্দোলণের ফল কি হয় তা আগেই বলেছি । একই ভুল যাতে বারবার করা না হয় সেদিকে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।

এজন্য দরকার শক্তিশালী ও কার্যকর প্লাটফর্ম বানানো ; যেখানে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মুক্তচিন্তার লোককে নিরাপদভাবে এক করতে পারা যায় ; নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ও সবাইকে তার জানা অংশটা সহজে শেয়ারের সুযোগ করে দেয়া যায় । তবে মনে রাখতে হবে , এটাকে সাধারণ মানুষের কাছে না আনলে খুব বেশি দূর যাওয়া যাবেনা ।

যোগাযোগ ও ব্লগের সাথে আরো কিছু বিষয় দরকার , যেগুলো না থাকলেই নয় । গুরুত্বপূর্ণ সোর্স ও রেফারেন্স গুলো থাকা দরকার । যেমণঃ বাংলা ও অন্য ভাষায় প্রকাশিত – অনূদিত সব বিখ্যাত বিজ্ঞান , যুক্তি, মুক্তচিন্তা, মানবতার বই , রিসার্চ পেপার , ম্যাগাজিন , সাহিত্য , ভিডিও ইত্যাদি সরাসরি ডাউনলোডেবল অবস্থায় রাখা । একইসাথে পৃথিবীর অন্য সব মুক্তচিন্তার ও মানবতাবাদী ওয়েবসাইটের ডাইরেক্ট লিঙ্ক থাকা । সেই সাথে বর্তমান বাঙ্গালী মুক্তচিন্তার মানুষদের গুরুত্বপূর্ণ লেখা বা কাজগুলোর ব্যাকআপ থাকা ও দরকার ।

দেশের ধার্মিক বা নিধার্মিক যে কেও চাইলেই যেন মুহূর্তেই যে কোন রেফারেন্স ও উৎস খুঁজে নিতে পারে । অনেক কথার চাইতেও একটা নির্ভরযোগ্য উৎস বেশি কাজে আসে । মকিং এর চাইতে বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে উৎস সহ ভ্রান্তিগুলো দেখিয়ে দিতে পারা অনেক বেশি কার্যকর গোঁড়ামি দূর করতে ।

৪। নিজেদের বুঝতে পারা ।

আমরা তখনই জিততে পারব যখন জানব যে আমাদের শক্তি কোথায় আর দূর্বলতা কোথায় । একই সাথে শত্রুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার মূলনীতি ও বুঝতে হবে ।

বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার লোকদের নিজেদের মধ্যেই বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা আরো অনেক বাড়ানো দরকার ।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমি নিজে এমন অনেক নিধার্মিককে দেখেছি যারা মনে করে যে পৃথিবীর আর কিছু তাদের অজানা নেই । এটা আসলে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকার ও যুক্তিবোধকে জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে না পারার ফল । আমি যখনই মনে করব আমি ঈশ্বর মানিনা বলে সব কিছু জেনে ফেলেছি – আর কিছু জানার নেই , তবে খুব ভুল করা হবে ।

বিজ্ঞানের কোর বইগুলো এনালাইসিস করে পড়া খুব দরকার । এগুলো আপনার চিন্তার ও জ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে, আপনাকে ট্রেকে ধরে রাখবে । কোর বই বলতে যেগুলো বর্তমান বিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করেছে সেই বইগুলো , যেমণ প্রিন্সিপিয়া , অরিজিন অফ স্পিসিস , টু নিউ সাইন্সেস , হারমোনিস অফ ওয়ার্ল্ড , ডাবল হেলিক্স – এই ধরণের বই বুঝিয়েছি । পপ সায়েন্সের বইগুলো নয় ।

আমরা তখনই শক্ত প্রতিরোধ তৈরি করতে পারব , যখন শত্রুর চাইতে বুদ্ধিমত্তায় কয়েক গুণ এগিয়ে থাকব ।

আমাদের সেরা অস্ত্রটার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা উচিত, যেটাকে খুব ভয় পায় ধার্মিক জঙ্গিরা ।
ঘুমিয়ে বা টিভি দেখে মস্তিষ্কের উন্নতি করা যায়না । মস্তিষ্ক ব্যবহারের মাধ্যমেই তা আরো সক্রিয় হয়ে ওঠে । গাণিতক সমস্যা , লজিক্যাল পাজল সমাধানের মাধ্যমে কিন্তু চিন্তা করার ক্ষমতার , যুক্তিবোধের যথেষ্ট উন্নতি করা যায় । (২)

৫। গোঁড়াপন্থিদের মূল কোথায় ।

তারা সবাই পরিবেশের প্রভাবেই সৃষ্টি হয়েছে । প্রশ্ন না করতে শেখানো , ছোটবেলা থেকে একটা চিন্তাই মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া , এরকম আরো অনেক কারণ আছে যার ফল হিসেবে লোকে মৌলবাদী হিসেবে বেড়ে উঠে ।

তবে মানুষ কুযুক্তির চেয়ে যুক্তিকেই বেশি প্রাধান্য দেয় , যদি সে সত্যসন্ধানী হয় । গোঁড়ামি সমর্থনের কারণ তার কাছে অন্য সম্ভাবনা গুলোর কথা তেমন জানা নেই বা ভালোভাবে বুঝতে পারেনি ।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখেছি – প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের সাথে যারা যত বেশি ভালোভাবে যুক্ত – তারা তত ভালোভাবে এর ভন্ডামীগুলো মিথ্যাচারগুলো বুঝতে পারে । খিস্তি না করে ঠান্ডা মাথায় তাদেরকেও সেই কারণগুলোর সামনে নিয়ে ফেলুন যেগুলো আপনাকে বিশ্লেষণাত্মক চিন্তা করতে শিখিয়েছিল, প্রশ্ন করতে শিখেয়েছিল ।

জঙ্গিরা অবশ্যই পরিকল্পনা করে কোপাচ্ছে । এলিট লোকরা – মূলত যারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নয় , যাদেরকে তাদের কাজের মাধ্যমে টার্গেট করা সম্ভব হয়েছে বা যাদেরকে খুন করলে তারা লাইমলাইটে আসতে পারবে তারাই শুরুর দিকের টার্গেট । তাদের উদ্দেশ্য একের পর এক মুক্ত চিন্তার – ভিন্ন চিন্তার লোকদের খুন করে আমাদের মনোবল নষ্ট করে দেয়া , আমাদের ভয় ধরানো , চুপ করিয়ে দেয়া , আমাদের সংগঠিত হতে না দেয়া । স্পষ্টতই তাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশে পুরোপুরি শরিয়া আইন চালু করা । হেফাজতের দাবীগুলো মনে না থাকলে ইন্টারনেটে খুঁজে মিলিয়ে দেখুন – আনসার বাংলা ও জামাতের উদ্দেশ্যের সাথে কতটা মিলে যায় ।

তীক্ষ্ণবুদ্ধিতার মাধ্যমেই শত্রুর পরবর্তী পদক্ষেপ অনুমান করতে পারবেন । তারা যেভাবে চিন্তা করছে সেভাবে চিন্তা করুন । আপনি যদি গোঁড়া ধার্মিকদের , মৌলবাদী জঙ্গিদের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাগুলো দেখতে পারেন, তাদের উদ্দেশ্য অনুমান করতে পারেন , তবে কিভাবে কাজ করতে হবে তা বোঝা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে ।

৬। পরিকল্পনা ।
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের একটা কথা আছে – If you fail to plan, you are planning to fail .
কোন পরিকল্পনা ছাড়া যা ইচ্ছা করছে তা করা অনেক সহজ, কিন্তু এতে পরে সমস্যায় পড়তে হয় ও সফল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকেইনা ।

এই মুহূর্তেই হয়ত একশ বছর পরের চিন্তা করে এগুনো কঠিন হবে , তবে দশ বছর পরে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই তা অবশ্যই পরিকল্পনা করে যায় ও সফল হওয়া যায় । কিভাবে অগ্রসর হতে হবে তার পরিকল্পনা ও একাধিক ব্যাক আপ পরকল্পনা রাখা খুব দরকার ।
আপনার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেষ্টা করুন বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা বিশ্লেষণের , সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে ।

আমাদের কাজই ঠিক করে দেবে বাংলাদেশে লালন – হাসন , আরজ আলী , রুমি , সূর্য সেন – প্রীতিলতা , রফিকদের ইতিহাস থাকবে নাকি তেঁতুল শফি, মওদুদী বা রাজাকার সাইদীর ।

অন্য মুক্তচিন্তার মানুষদের ও সব ধরণের অহংবোধ, দ্বন্দ্ব ছেড়ে একসাথে কাজ করতে বলুন , একা একটা আঙ্গুল যত সহজে ভাঙা যায়, একটা মুঠো তত সহজে যায়না ।

বাংলাদেশের মুক্তমনাদের মধ্যেই অনেক সেরা প্রোগ্রামার, প্রব্লেম সলভার, ওয়েব ডেভেলাপার আছেন । তাঁদের সবাইকে এজন্য কাজ করতে উৎসাহিত করুন । আপনাদের সবাইকে এখন খুব দরকার । কোন ছোট সাহায্য ও অনেক বড় প্রভাব রাখবে মুক্তচিন্তার আলোটা জ্বালিয়ে রাখতে ।

৭। কৌশল ।

ব্লগে বা ফেসবুকে ঈশ্বরকে দুটো গালি দিলেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষদের ছোটবেলা থেকে তৈরি হওয়া মূল্যবোধে , তাদের জীবনাচরণে পরিবর্তন আনা যাবে বলে মনে করেন ?

শুধু নিধার্মিকতাতেই যদি কেও আটকে থাকে তবে ফরহাদ মজহার বা শফিক রেহমানের মত নাস্তিক হয়েও জামাতের গুরু হয়ে উঠবে । নাস্তিকতার সাথে যুক্তিনির্ভর – বিজ্ঞাননির্ভর চিন্তা কাঠামো – জীবন কাঠামো থাকা দরকার ।

শুধুমাত্র ঈশ্বরকে না মানলেই বা প্রাতিষ্টনীক ধর্মকে অস্বীকার করলেই কোন সমাজ সুন্দর হয়ে উঠবেনা । এজন্য তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তার- জীবনাচরণের ভিত ও তৈরি করে দিতে হবে । (৩)
নাস্তিকতাবাদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কোন মানুষের জীবন যাপন পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারেনা ; যদি এর সাথে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি , যুক্তিবোধ , মানবতাবোধ – অর্থাৎ দৃষ্টিভঙ্গির ও জীবনপদ্ধতির পরিপূর্ণতা না থাকে ।
আগুনের ধর্ম যেমণ জ্বলন , পানির ধর্ম যেমণ প্রবাহমানতা ; তেমনি মানুষের ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত মানবতা বা মনুষ্যত্ব , শুধু নাস্তিকতা নয় ।

এক্ষেত্রে কেও বলতে পারে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাস রেখেও যৌক্তিক আচরণ সম্পন্ন হওয়া যায় কিনা । ব্যাপারটা হল পৃথিবীতে ঐতিহাসিকভাবেই মানুষের মধ্যে বিভেদের ও বিবাদের খুব বড় উৎসই হল প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো । প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে পুরোপুরি বিশ্বাস রেখে কেও বিজ্ঞানমনস্ক হতে পারেনা কারণ এর জন্য প্রথমেই অপ্রমাণিত কিছুতে বিশ্বাস বাদ দিতে হয় । সুতরাং কেও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাস রেখে বিজ্ঞানমনস্ক বা পরিপূর্ণ মানুষ হতে চাইলে সে নিজের সাথেই মিথ্যে বলছে ।

সামগ্রিক যৌক্তিক চিন্তা কিভাবে আসবে ? এর জন্য নিজের প্রতিদিনের জীবনের সবকিছুকে যৌক্তিকভাবে বিচার করা , নিজের সমাজকেও যুক্তি ও বিজ্ঞাননির্ভর সুন্দর করে তোলা, নিজে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠা এবং আশপাশের মানুষদেরও সঙ্গীত, নৃত্য, কলা, প্রেমে অর্থাৎ সব মানবিক গুণ বিকাশের মাধ্যমে ‘পরিপূর্ণ মানুষ’ করে তোলা এসবই দরকার ।

সমাজের সাধারণ মানুষদের মধ্যে পরিবর্তন চাইলে আগে নিজের মধ্যেই পরিবর্তন আনুন । যুক্তিবোধ, বিজ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তায় নিজের অবস্থান দৃঢ় করুন । এরপর নিজের পরিবারের লোকদের মধ্যে যুক্তিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি করুন । তারপর পরিচিত লোকদের মাঝে । এভাবে ধীরে ধীরে – পরিকল্পিতভাবে । এতে আপনি বুঝতে পারবেন কোন পদ্ধতি কাজ করে আর কোনগুলো করেনা । মূল উদ্দেশ্য মনে রেখে তা ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন ও একটা সময়সীমা ঠিক করুন । নিয়মিত অগ্রগতি মনিটর করুন । অনেকদিন এক জায়গায় আটকে থাকলে আবার বিশ্লেষণ করে কর্মপদ্ধতি পরিবর্তন করুন ।
আপনার অবস্থান যদি যৌক্তিকভাবে দৃঢ় হয়, বেশি বিজ্ঞাননির্ভর ও মানবকল্যাণমুখী হয়, তবে আপনার ব্যক্তিগত মূল্যবোধ,দৃষ্টিভঙ্গি, জীবনপদ্ধতি অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে ।
হাঁ, কাজটা অনলাইনে নবীপুন্দনের চাইতে কঠিন ও সময়সাপেক্ষ, তবে ফলদায়ক এবং এজন্য আপনার ঘাড় হারানোর ঝুঁকিও অনেক কম থাকবে । এক দিনে বা এক ধাক্কায় পরিবর্তন আনতে চাইলে এর নেতিবাচক প্রভাবই বেশি পড়বে, কাজের কাজ খুব কমই হয় ।

অথরিটিকে প্রশ্ন করার সৎ সাহস ; আটকে না থেকে সত্যকে জানার, পৃথিবী – মহাবিশ্বকে বোঝার তীব্র ইচ্ছা ; কোন সংকীর্ণ জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে না ভেবে সারা পৃথিবীর সব মানুষের উন্নতির চিন্তা, প্রখর যুক্তিবোধ , ব্যবহারিক বুদ্ধিমত্তা – এগুলো ধার্মিকদের মধ্যে খুব বেশি থাকেনা । ঠাকুরমার ঝুলির চিন্তার দাসত্তে আটকে থাকা লোকেরা খুব বেশি এভাবে চিন্তা করতে পারেনা ।

শুধু কথায় নয় – কাজের মধ্যেও আপনার বুদ্ধিমত্তা, যৌক্তিক চিন্তা করার ক্ষমতা প্রকাশ করুন , যাতে আপনাকে তাদের অনুসরণ করতে হয় ।
যদি খুন হতেই হয়, তবে চেষ্টা করুন যেন আপনার আদর্শ – যার কারণে খুন হতে হল তা যেন আরো শক্তিশালী হয় । এমনভাবে কাজ করুন যাতে ১০০ বছর পরেও আপনার কাজের জন্য বা লেখার জন্য আপনাকে মনে রাখতে হয় । আপনার প্রতিটা লেখা , প্রতিটা কাজ যেন অন্য মুক্তচিন্তার বা আপনার পরে যারা আসবে তাদের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে । বিজ্ঞান এভাবেই এগোয় ।

৮।
————————————————————————————–

রিভিউঃ
আমরা যদি আমাদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে চাই , বাংলাদেশকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান বা সিরিয়া হতে না দিতে চাই , আমরা যদি না চাই যে এখানে আমার বোনদের স্কুলে যাওয়ার জন্য মাথায় গুলি করা হোক বা বাইরে চাকরি করার অপরাধে আমাদের মায়েদের পাথর মেরে হত্যা করা হোক বা গান গাওয়ার জন্য আমাদের ভাইদের কুপিয়ে যাওয়া হোক , যদি না চাই রাশিয়া আমেরিকার ড্রোন আই এস ধবংস করার জন্য আমাদের শহরগুলো ধবংস করে দিক ; তবে বিজ্ঞান, যুক্তি, মানবতা, মুক্তচিন্তার আন্দোলনটা আমাদের রক্ষা করতেই হবে । মৌলবাদীদের সাথে আমাদের এই যুদ্ধটা ‘পৃথিবী বলদের শিং এর উপর দাঁড়িয়ে আছে’র সাথে মঙ্গলের পরিবেশে মানুষের বসবাস নিয়ে গবেষণার; ল্যাবরেটরিতে কৃত্তিম প্রাণ আবিষ্কারের । যুদ্ধটা মস্তিষ্ক আর কিবোর্ডের সাথে মস্তিষ্কহীন চাপাতির । যুদ্ধটা ওয়াজে গালাগালির সাথে সেতারে রাগ মালকোষের । যুদ্ধটা আমার সোনার বাংলার সাথে পাক সার জমিন সাদ বাদের ও ।

আমাদের অনেক অর্জন আছে । আমরা অনলাইন কমিউনিটি শাহবাগ তৈরি করতে পেরেছি , বাংলাদেশ বিরোধীদের অনলাইনে শক্ত জবাব দেয়ার মত বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পেরেছি , প্রতিবাদের একটা জায়গা তৈরি করতে পেরেছি । তবে আমাদের আরো কৌশলী হওয়া দরকার ছিল ।

বাংলাদেশের শহরগুলোতে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অনেক অনেক অনেক প্রগতিশীল মুক্তচিন্তার লোক আছেন । আপনি জানবেন তাঁরা আপনার সাথে আছে , আপনি জানবেন আমি আপনার সাথে আছি , আপনি একা নন ।

নাম্বারগুলো কেন খালি রাখা হয়েছে বুঝতে পেরেছেন নিশ্চই ?
আপনার ক্রিটিকাল এনালাইসিসগুলো এবং সম্ভাব্য সমাধানগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ । যত বেশি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাগুলো বিশ্লেষণ করা যাবে , তত স্পষ্টভাবে সাধারণ কারণগুলো (general causes) বোঝা যাবে এবং সমাধান করা সহজ হবে ।

ধন্যবাদ ।

[
(১) সমস্যা সমাধানে দক্ষ হওয়ার জন্য J. Mason এর ‘ THINKING MATHEMATICALLY ’ ও G.Polya এর ‘ HOW TO SOLVE IT ’ আপনাকে সাহায্য করবে ।
(২) ইয়াকভ পেরেলমানের ‘অঙ্কের খেলা’ বইয়ের ধাঁধা গুলো খুব মজার ! Martin Gardner এর সব বই ভালো । বরিস কর্দেমস্কি এর THE MOSCOW PUZZLES বইটা তো পুরাই ফেনোমেনন ! স্যাম লয়েডের পাজল বুকগুলোও দেখতে পারেন । আমাদের ড.কায়কোবাদ ও জাফর ইকবাল স্যারের ‘নিউরণে অনুরণন’ ও ‘নিউরনে আবারো অনুরণন’ তো রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছে গণিত অলিম্পিয়াডের ।
(৩) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে ও প্রতিদিনের জীবনে কিভাবে তা প্রয়োগ করা যায় তা ভালোভাবে বোঝার জন্য Thomas S.Kuhn এর ‘THE STRUCTURE OF SCIENTIFIC REVOLUTIONS’ এবং Karl Popper এর ‘THE LOGIC OF SCIENTIFIC DISCOVERY’ খুব ভালো উৎস ।

]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “আক্রান্ত বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা , প্রগতিশীলতা – কি করতে হবে (ক্রিটিকাল এনালাইসিস ও স্ট্রাটেজি)

  1. এত কিছু করেও কি অাল্লাহর
    এত কিছু করেও কি অাল্লাহর পাকরাও থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন? মৃত্ত এসে একদিন ঠিক নিয়ে যাবে। এ পৃথিবীর জীবনের নিরাপত্তা নয় পরকালের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবুন। যদি সত্যি হয় মৌলবাদিদের কথা? তখন কি হবে? যখন মানুষ বলে উঠবে ধিক এমনই এক জীবনের জন্য হায় মানুষ না হয়ে অামি যদি অাজ মাটি হতাম।

  2. আমরা অনলাইন কমিউনিটি শাহবাগ
    আমরা অনলাইন কমিউনিটি শাহবাগ তৈরি করতে পেরেছি এটা ঠিক , আবার এটাও ঠিক অনলাইন কমিউনিটি শাহবাগকে শেষ করার জন্য তথাকথিত নিরপেক্ষ টিভি চ্যানেল (চ্যানেল আই ) এর আরও বেশী আন্তর্জাতিক মানের নিরপেক্ষ মতি ভাই ও ৩য় মাত্রা কম কাজ করে যাচ্ছেন না । তাই তাদের থেকেও সাবধান থাকতে হবে ।

  3. এইতো সেদিন মাত্র 1400 বছর

    এইতো সেদিন মাত্র 1400 বছর অাগে তিনি যখন এ কথা বলছিলেন তখন সেদিনের নাস্তিকরা এটা বিশ্বাস করত না, অার এখন যদি কেউ বলে এটা একটা অলৌকিক ঘটনা তাহলে মানুষ হয়ত হাসবে? যেমন নাস্তিকরা এখন এর পরের অংশ যেটা হাদিসে এসেছে সেটা বিশ্বাস করছে না

    1. যা ইচ্ছে বিশ্বাস করতে পারেন ।
      যা ইচ্ছে বিশ্বাস করতে পারেন ।
      বিশ্বাস করার জন্যে তো আর মস্তিষ্ক ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়না !

      1. মস্তিষ্ক ব্যবহার করে কি
        মস্তিষ্ক ব্যবহার করে কি সবকিছুর অস্তিত্ত প্রমান করা যায়? অাবার অনেক কিছু অাছে যার অনস্তিত্ত প্রমান করা যায় না মস্তিষ্ক ব্যবহার করে। সুতরাং … অালো হলেই কি মানুষ সব কিছু দেখতে পায়? অন্ধকারে কি সব হারিয়ে যায়…যায় না যেমন কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্র দিনের অালোতে দেখা যায় না কিন্তু রাতের অাধারে ঠিকই দেখতে পাওয়া যায়…..

        1. আপনার যুক্তিগুলোর এতবার
          আপনার যুক্তিগুলোর এতবার সমাধান করা হয়েছে যে …….

          আপনি যদি আসলেই নিজেকে গোঁড়া ধার্মিক নয় , বরং সত্যানুসন্ধী মনে করেন তবে প্রথমে আল কোরান নিরপেক্ষ দৃশটিতে পড়ুন । এরপর আরজ আলী মাতুব্বরের লেখা বই ‘সত্যের সন্ধান’ ও ‘সৃষ্টি রহস্য’ পড়ুন । তারপর প্রবীর ঘোষের অলৌকিক নয় লৌকিক সিরিজের বইগুলো পড়ুন ।

          ধন্যবাদ ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

89 − = 80