শহীদ বুদ্ধিজীবী এয়াকুব আলির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা

এদেশের ইতিহাসে জঘণ্যতম কালো অধ্যায় একাত্তরে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা। আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকালে এ হত্যার নির্মম পরিণাম বোঝা যায়!! সেসব আপনারা প্রতিদিনই অনুভব করছেন, তাই এ প্রসঙ্গ বাড়াবো না আজ।

আমরা অনেক শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নাম জানি, অনেকের নাম জানি না। শহীদ এয়াকুব আলি, অনেকেই এই দেশপ্রেমিক শহীদ বুদ্ধিজীবীর নাম তেমন একটা শোনেননি। গুণী এ মানুষ দেশের মানুষকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্কুল-কলেজ। আজকে তোপখানা রোডে যে সেগুন বাগিচা হাই স্কুলটি আমরা দেখি, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঐ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছেন। তার স্ত্রী বেগম বদরুন্নেসা হোসেন, পুরনো পল্টন গার্লস কলেজের সেক্রেটারি ছিলেন তখন। এই মানুষটিও ছিলেন অসাধারণ। তিনি কলেজে চাকরির ফাঁকে ঐ স্কুলের শিক্ষকদের বেতনের টাকা যোগাড় করার জন্য সেলাইয়ের কাজ করতেন।

এয়াকুব আলীর আরেকটি পরিচয় হলো তিনি ছিলেন তৎকালীন রমনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। পাকিস্তান সরকার মুক্তিযুদ্ধের সময় তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন ঐ ইউনিয়নে শান্তি কমিটি গঠন করার জন্য। মানুষের মতো দেখতে হলেই কি সত্যিকার মানুষ হওয়া যায়? এয়াকুব আলি ছিলেন সত্যিকার মানুষ। তাই তিনি এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছিলেন। এই দেশপ্রেমের মূল্য তাকে দিতে হয়েছিল জীবন দিয়ে।

১৫ ডিসে্মবর সকাল সাড়ে আটটার দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দুটো জীপ আর একটা ইপিআরটিসির বাস এসে থামে এয়াকুব সাহেবের বাড়ির সামনে। ঐ বাসে চোখ, হাত-পা বাঁধা অনেক মানুষ ছিল। বাড়ির ভৃত্যটি চিৎকার করে সেদিন বলেছিলো- “আম্মাগো! আব্বারে যাইতে দিয়েন না। হগ্গল বেটার চোখ বান্ধা। ব্যাটারা মারতে নিয়া যাইতেছে।” ততোক্ষণে দেরি হয়ে গেছে, আল বদর আর পাকিস্তানি হানাদারগুলো এয়াকুব আলিকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে। তাঁর লাশ পাওয়া গিয়েছিল রায়ের বাজারের অদূরে কাটাসুরের বধ্যভূমিতে। তাঁর চোখ তুলে ফেলা হয়েছিল, যে চোখ ছিল জ্ঞানপিপাসু। যে চোখে তিনি আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। স্বপ্ন দেখতেন এদেশ হবে খুনী, ধর্ষক, নিপীড়ক, লুটেরা, দুর্নীতি ও দারিদ্রমুক্ত একটি জনপদ।

আজকের বাংলাদেশ দেখলে তিনি খুব কষ্ট পেতেন নিঃসন্দেহে। তাঁদের রক্তে পাওয়া স্বাধীনতা প্রতিদিন লাথি মারা হচ্ছে এদেশে!! এর নাম কি স্বাধীনতা? কোথায় সেই আলোকিত মানুষেরা? কোথায় সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 + = 75