কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ৪, ৫ ও ৬

 

কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ৪: ফেরেশতার ডানা, জিবরাইলের ডানা

সবজান্তা মহান আল্লাহ পাকের কাছ থেকে বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে নবি-রসুলগণের নিকট চুপিচুপি পৌছে দেন জিবরাইল। আল্লাহর বার্তা বলে কথা, সেগুলো খুব দ্রুত পৌছে দিতে হবে। তাই জিবরাইলের দরকার ডানা। যত বেশি ডানা তত দ্রুত পৌঁছাবে। কিন্তু পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে একশ’ কিলো মিটার উপরে মানে কার্মান লাইনের উপরে বিমান চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখান থেকেই আমরা মহাশূন্যের শুরু বলে ধরে নেই। পৃথিবী থেকে বাইরে বায়ুশূন্য স্থানে যেতে প্রয়োজন হয় রকেট। বিমান চালানোর সময় তা বায়ুর উপর নির্ভরশীল থাকে। অপরদিকে পাখিদের কথা ভাবুন, তারা বায়ুর উপর ভর দিয়ে ভেসে থাকে, চলাফেরা করে। বায়ুশূন্য স্থানে পাখি উড়া অসম্ভব, বিমান চালানো অসম্ভব। এগুলো দেড় হাজার বছর আগে মুহাম্মদ জানার কথা নয়। তিনি নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন পৃথিবী থেকে উর্ধ্বে আল্লাহ পাকের সিংহাসন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ বায়ু আছে, তাই অনেক গুলো ডানা নিয়ে জিবরাইল দ্রুত সংবাদ বহন করতে পারবেন।

যাই হোক, সর্বজ্ঞানের উৎস ও বিজ্ঞানময় কিতাব আল-কোরানে ফেরেশতাদের ডানা সম্পর্কে কী আছে আগে দেখি

‘‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তাবাহক-তারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম।’’ (ফাতির, আয়াত ৩৫)

আয়াতে বিনোদনের অভাব নাই। প্রথমেই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। এ কথা আল্লাপাক বাববার নিজে স্মরণ করেন আবার আমাদেরকেও স্মরণ করিয়ে দেন যাতে তার সাথে অন্য কাউকে শরিক করে না দেই। আমরা যদি অন্য কাউকে তার সাথে শরিক করে ফেলি তবে তার অপরিসীম মান-সম্মানের আর কী অবশিষ্ট থাকলো? আলহামদুলিল্লাহি ফাত্বিরিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। হামদ মানে প্রশংসা, ফাত্বির মানে স্রষ্টা, সামাওউয়াত মানে আকাশ আর আরদ মানে পৃথিবী। এ আয়াত বেশ সরল, সহজেই বুঝা যায়।

আল্লাহ পাক বলেছেন, তিনি ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তাবাহক-তারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম। ‘ইন্নাল্লাহা আ’লা কুল্লি সাইইন ক্বাদির’ বা ‘নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম’ কথাটি থেকে আর এর আগের কথা ‘তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন’ থেকে এটাই বুঝা যায় যে আল্লাপাক ইচ্ছা করলে আরো ডানা সংযোজন করে দিতে পারেন যাতে তার পেয়াদা ফেরেশতারা আরো দ্রুত তার আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারেন। হাহ হাহ হা। নিশ্চয়ই তিনি মহাজ্ঞানী।

আবার আল্লাহ পাক পরাক্রমশালী হওয়া স্বত্ত্বেও কেন তার ফেরেশতাদের প্রয়োজন হয় সেটা নিয়ে আরজ আলী মাতুব্বর প্রশ্ন তুলেছিলেন। মুহাম্মদ আল্লাহকে কল্পনা করেছেন মহারাজা হিসাবে, তার তো আরশ বা সিংহাসন লাগবে, পেয়াদা লাগবেই। ডিজিটাল আইডিয়া মুহাম্মদের থাকার কথা না। সেসময় বেশ শক্তিশালী বিভিন্ন রাজার অস্তিত্ব ছিল বিশ্বব্যাপী। এগুলো দেখে তিনি নিজের কল্পনায় সাজিয়ে নিয়েছেন পৌত্তলিকদের ঈশ্বর আল্লাহকে।

জিবরাইল মুহাম্মদের কাছে বার্তা নিয়ে আসতেন। এটা আল্লাহ ও মুহাম্মদ দুই জনের কাছেই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাই কল্পনার গরুকে গাছে তুলে দিতে হবে। আমরা বুখারি শরীফের হাদিস দেখি

‘‘মুহাম্মদ জিবরাইলকে দেখেছেন ৬০০ ডানাবিশিষ্ট অবস্থায়’’ সহীহ বুখারি, ৪:৫৪:৪৫৫, লিংক

পেয়ে গেলেন তাহলে ৬০০ ডানার জিবরাইল। এগুলো দিয়ে তিনি আরশ থেকে পৃথিবী অবধি দাপিয়ে বেড়াতেন নিশ্চয়ই। সুভানাল্যাহ!

নিশ্চয় আল্লাহ পাক তোমাদের জন্য কোরানকে করেছেন বিনোদনময়। আর প্রেরণ করেছেন এক মহানবী যিনি হাদিসকে করেছেন আবেদনময়। সকল প্রশংসা তারই।

কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ৫: নূহ নবি ৯৫০ বছর বেচেছিলেন

হ্যা, ভুল শোনেন নাই। এই হচ্ছে মহাবিজ্ঞানময় কোরানের বাণী। একদম সরল, নূহ নবি ৯৫০ বছর জমিনে ছিলেন। সুরা নম্বর ২৯, আন-কাবুত, আয়াত নম্বর ১৪

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ فَلَبِثَ فِيهِمْ أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا فَأَخَذَهُمُ الطُّوفَانُ وَهُمْ ظَالِمُونَ

আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম। তিনি তাদের মধ্যে পঞ্চাশ কম এক হাজার বছর অবস্থান করেছিলেন। অতঃপর তাদেরকে মহাপ্লাবণ গ্রাস করেছিল। তারা ছিল পাপী।

We (once) sent Noah to his people, and he tarried among them a thousand years less fifty: but the Deluge overwhelmed them while they (persisted in) sin.

তফসিরে বলা হচ্ছে, বস্তুত নূহ নবি আরো বেশি দিন বেচেছিলেন। এই আয়াতে শুধু তাঁর ধর্ম প্রচারের সময় কাল সম্পর্কে বলা হচ্ছে। আরবি জানেন না তাই প্রকৃত বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, এটা ঠিক নয়। আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি। এখানেও দেখতে পারেন। আয়াতটি একদম সরল। বলা হচ্ছে, নূহ তাঁর ক্বওম বা জাতির লোকদের নিকট ‘আলফা সানাতিন ইল্লা খামসিনা’ মানে পঞ্চাশ কম হাজার বছর অবস্থান করেছিলেন। বাংলা ‘সন’ শব্দের সাথে আপনারা পরিচিত। এই শব্দটি আরবি থেকে এসেছে, এই আয়াতে ‘সন’ শব্দটি আছে। ‘আলফা সানাতিন’ মানে হাজার সন বা বছর, ‘আলফা’ মানে হাজার। আর ‘ইল্লা খামসিন’ মানে ‘পঞ্চাশ কম বা ব্যতীত’। একদম সহজ সরল ভাষায় আল্লাপাক বিনোদন দিচ্ছেন। আর আল্লাপাকের দেয়া বিনোদনের মধ্যে কোনো বক্রতা নেই। সুভানাল্লাহ!

মুহাম্মদ এই বিনোধধর্মী আয়াতখানি বাইবেল থেকে পেয়েছেন। হয়ত কোনো খ্রিস্টান সেটা বলেছে, পুরোটা বুঝেন নি, কিন্তু বানিয়ে দিয়েছেন একখানা মহান আয়াত। আর বাইবেল মানেই সে আর বড় মাপের বিনোদন, সেটা নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করব।

আসুন ত্যানা প্যাঁচাই

তো আসুন ইমান আর বিজ্ঞানময় কিতাবের মান সম্মান রক্ষার জন্য একটু ত্যানা প্যাঁচাই, তাতে যদি ওটা রক্ষা হয়।

প্রথমেই ধরে নেই, আল্লাপাক এটা দ্বারা অন্য কিছু বুঝিয়েছেন। এক্ষেত্রে সমস্যা যেটা দেখা যায় সেটা হচ্ছে, এ আয়াত সবজান্তা আল্লাপাক কিন্তু নুহ নবি আর ঐ সময়কার কারো উপর নাজিল করছেন না, এটি আমাদের জন্য দয়াময় নবির উপর নাজিল করা হচ্ছে। অর্থাৎ আমাদেরকে মেসেজ দেয়া হচ্ছে। যখন আমাদেরকে কোনো তথ্য সরবরাহ করা হবে তখন অবশ্যই আমাদের ভাষায় কথা বলতে হবে। আর আল্লাপাক তো সবজান্তা, তিনি জানেন তাঁর কোন কথার দ্বারা আমরা কী বুঝব। সেক্ষেত্রে আল্লাপাক এমনভাবে কথা বলতে পারেন না যাতে আমরা ভুল বুঝি কেননা তাঁর উদ্দেশ্য আমাদের সঠিক জ্ঞান দেয়া।

আবারো চেষ্টা করি মান সম্মান বাচানোর। ধরি, সে যুগে মানুষ হাজার বছর বাচতো। এতে বিষয়টা হাস্যকর হয়ে উঠে। হিন্দুরা যেভাবে বলে সত্য যুগে মানুষ আকাশে-বাতাসে ঘুরে বেড়াত কারণ সেটা ছিল সত্য যুগ, হনুমান এক লাফে সাগর পাড়ি দিতে পেরেছিল, ব্যাপারটা সেরকম হয়ে যায়।

আধুনিক যুগের আগে মানুষের গড় আয়ু ছিল খুব কম। ডায়রিয়া-কলেরা ইত্যাদিসহ নানান সক্রামক রোগে অসংখ্য মানুষ মারা যেত। দুই থেকে তিন দশক আগেও গ্রাম থেকে গ্রাম উজাড় হয়ে যেত কলেরায়। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যেত অনেক মা। নবজাতকের মৃত্যুহারও ছিল অত্যন্ত বেশি। রোগ-শোক ছাড়াও যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই থাকত, হিংস্র পশু ছিল সর্বত্র। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ছিল খুবই অপ্রতুল। প্রস্থর যুগে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৩৩ বছর। সব সময়ই দেখা যায় এর আশেপাশেই ছিল মানুষের গড় আয়ু। ১৭শ শতকে ইংলিসদের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৩৫ বছর। আধুনিক যুগে এসে টিকা, উন্নত চিকিৎসা, সার্জারি, ওষধ-পত্রের কল্যাণে মানুষের গড় আয়ু ষাটের অধিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আর মানুষের রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তেই থাকে বয়সের সাথে। ক্যান্সার, হার্টের রোগ সহ অনেক রোগের প্রকোপ হয় বয়স বাড়লে।

তাই কয়েক হাজার বছর আগে একজন মানুষ ৯৫০ বছর বেচেছিলেন, এটি আজগুবী নয় বরং গাঁজাখুরি। এই ধরণের গাঁজাখুরি বাণীর মান-সম্মান রক্ষা করতে হলে চাপাতি ছাড়া আর কিসের উপর ভরসা করা যায়?

আর নুহের সময় সারা পৃথিবী পানিতে ডুবে গিয়েছিল বলে যে মিথ প্রচলিত আছে সেটা সম্পূর্ণ অসম্ভব।

হাদিস থেকে চুটকি

এবার হাদিস থেকে একটি চুটকি শোনাই। নুহের জীবনকাল সম্পর্কে জানলেন। এবার বলুন আমাদের আদি পিতা হজরত আদুমের উচ্চতা কতটুকু ছিল?

আল্লাহ আদমকে ৯০ ফুট উচ্চতা-সম্পন্ন করে সৃষ্টি করেছিলেন- সহীহ বুখারি, ৪.৫৫.৫৪৩

৬০ কিউবিট বা ৯০ ফুট মানে কততলা উঁচু ভাবেন এবার!

তাঁর দেহ যদি এত উচু হয়ে তবে ইয়ে মানে দুই পায়ের মাঝে যে ঠ্যাঙ এর উচ্চতা কতটুকু ছিল? আর আদুমের গার্লফ্রেন্ড বিবি হাউয়ার জননাঙ্গের গভীরতাই বা কতটুকু ছিল? যাই হোক, আদুমের উচ্চতা, ভালভাবে কল্পনা করেন, তালগাছের চেয়েও বেশি ছিল। সুভানাল্লাহ!

আরেকটি চুটকি শোনাই। এটি সহীহ আবু দাউদ থেকে। এ হাদিস পড়ে হাসতে হাসতে অবস্থা খারাপ। একদম শেষের দিকটা বলি-

সপ্তম আকাশের উপর একটা সাগর আছে, এই সাগরের পৃষ্ঠতল থেকে নিচের তল এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। এর উপরে আছে একটা বিশাল ছাগল যার খুর থেকে পাছার দূরত্ব এক আকাশ থেকে আরেক আকাশের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। – সুনানে আবু দাউদ, বই নম্বর ৪০, হাদিস নম্বর ৪৭০৫

দেখছেন আল্লাপাক কত্ত মহান, তিনি ছাগলকে সাত আকাশের উপরে তুলে ফেলেন। সুভানাল্লাহ!

তিনি মহান যিনি তোমাদের জন্য এত বিনোদনের ব্যবস্থা রেখেছেন কোরান-হাদিসে, অত:পর তোমরা প্রভুর আর কোন অবদান অস্বীকার করবে? ফাবি আইয়্যি আলা ই রাব্বি কুমা তুকাজ্জিবান?

যাই হোক, একদিন মানুষ এসব গোবর্জনায় আর বিশ্বাস করবে না। সেদিন এসব বিনোদন থেকে বঞ্চিত হব।

 

————————————

 

কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ৬: ফেরেশতারা আদমকে সেজদা করল

এই কাহিনীর গুরুত্বই আলাদা। মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব, এমনকি তারা যে ফেরেশতাদের চেয়েও উন্নত এই কাহিনী তার প্রমাণ।

সুরা বাকারার ২৯ নম্বর আয়াত থেকে শুরু করি

আয়াত ২৯:
তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত।

মন্তব্য: জমিনে সব কিছু সৃষ্টি করার পর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। অথচ আমরা জানি বিগব্যাং এর প্রায় এক হাজার কোটি বছর পর পৃথিবীর উদ্ভব হয়েছে । পৃথিবীর বয়স ৪৫০ কোটি বছর যেখানে মহাবিশ্বের বয়স ১৪০০ কোটি বছর। এরপর বলা হয়েছে সাত আসমানের কথা, সেই প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস।

আয়াত ৩০:
আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।

মন্তব্য: অর্থাৎ আল্লাহ পাক ফেরেশতাদের সাথে পরামর্শ করছেন। এখানে খেয়াল করে দেখেন, এটা বড্ড মনুষ্যোচিত ব্যবহার। তা নাহলে আল্লাহ কেন তার রোবট সদৃশ ফেরেশতাদের এটা বলবেন আর ফেরেশতারা আবার দাঙ্গা-হাঙ্গামা আর রক্তপাতের ব্যাপারে আল্লাহকে সতর্ক করার দৃষ্টতা দেখাবে। এরপর আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না। তা-ই যদি হয় তবে ফেরেশতাদের সাথে এই মানুষের মত করে পরামর্শ করার কী দরকার ছিল? এখানে খেয়াল করেন, শুধু আল্লাহর উপরে নয় এমনকি ফেরেশতাদের উপরও মনুষ্য স্বভাব আরোপ করা হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা, ফেরেশতাদের এই ভবিষ্যতবাণী কি পরে সঠিক হয় নি? আদম-হাওয়া আল্লাহর আদেশ অমান্য করলেন, পৃথিবীর অতি অল্প কিছু মানুষ ছাড়া সকলেই নাফরমানিতে লিপ্ত। তাহলে ফেরেশতারা কি আল্লাহর তুলনায় অধিক জ্ঞানী ছিল?

আয়াত ৩১ ও ৩২
আর আল্লাহ তাআলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর (ফেরেশতাদের) বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।
তারা(ফেরেশতারা) বলল, তুমি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদিগকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা।

মন্তব্য: এরপর আল্লাহ পাক যা করলেন সেটা কৌতুককর। আদমকে শিখিয়ে দিলেন সকল বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক। কী অদ্ভূত! আদমকে সমগ্র বস্তুর নাম শেখানো হয়েছে অথচ ফেরেশতাদের এগুলোর নাম না শিখিয়েই জিজ্ঞেস করা হচ্ছে এদের নাম। আল্লার লীলাখেলার নমুনাটা দেখেন। যেন তিনি পুরাই ঘিলুহীন, ফেরেশতাদের কিছুই না শিখিয়ে তাদের পরীক্ষা নিয়ে নিচ্ছেন।

বিনোদন এখানেই শেষ নেই। পরের আয়াত দেখেন

আয়াত ৩৩ ও ৩৪:
তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর!
এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।

মন্তব্য: তারপর আল্লাপাক আদমকে বললেন ফেরেশতাদের এসব দ্রব্যের নাম বলে দিতে। তারপর ফেরেশতাদের বললেন, আদমকে সিজদা দিতে। ইবলিশ ছাড়া সকলেই সিজদা দিল। এসবের মানে কী? আল্লাহ আদমকে বস্তুগুলোর নাম শেখালেন কিন্তু ফেরেশতাদের শেখালেন না। তাতে কিভাবে প্রমাণ হল যে আদম শ্রেষ্ট? যদি আদম নিজের চেষ্টায় শিখে ফেলত তাহলে নাহয় একটা কথা ছিল। আর আল্লাহর আদেশ সরাসরি আমান্য করার মত ক্ষমতা তুচ্ছ ইবলিশের হয়ে গেল আর সে কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত হল। উদ্ভট ব্যাপার-স্যাপার!

এর পরে কী হল? আল্লাপাক আদম আর হাওয়াকে জান্নাতে রাখলেন। আবার আদেশ দিলেন এক গাছের ফল না খেতে। আল্লাপাক ঐ গাছটাকে জান্নাত থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হলেও সেটা কিন্তু তিনি করলেন না। এবং শয়তানকে আদমের নাগাল পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন। আর শয়তানও তার অপকর্ম করে গেল। কী অদ্ভূত! কী উদ্ভট! আল্লাপাকের কাজকর্ম, পরিকল্পনার কোনো আগামাথাই নাই! আবার আদমের জন্য আগে থেকেই পৃথিবীকে তৈরী করে রেখেছেন। তাহলে এদেরকে জান্নাতে রেখে এত আজব লীলাখেলা দেখানোর মানে কী?

আফসোসের বিষয়, মুমিনেরা বারবার কোরান পাঠ করলেও ইমান বিভ্রাটের দরুন এসব বিনোদন মোটেও উপভোগ করতে পারেন না।

এ থেকে আমরা কী বুঝলাম? হয় আল্লাহ পাক সম্পূর্ণ কাণ্ডজ্ঞানহীন এক খেয়ালি মানুষ-রাজা অথবা তিনি কোনো উন্মাদের কল্পনার ফসল।

এই সিরিজের অন্যান্য লেখাগুলোর লিংক

কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ১, ২ ও ৩

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ৪, ৫ ও ৬

  1. (আরেকটি পোস্ট এলোমেলো হয়ে
    (আরেকটি পোস্ট এলোমেলো হয়ে গেছে ব্লগ আপডেটের সময়। সেটাও এখানে যোগ করে দিচ্ছি)

    ডাউনলোড করুন ব-দ্বীপ প্রকাশনীর বইগুলো

    বইমেলায় ব-দ্বীপ প্রকাশনীর স্টল বন্ধ ও লেখক-প্রকাশক শামসুজ্জোহা মানিক এর গ্রেফতারের প্রতিবাদে এই প্রকাশনীর কিছু বই সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হল। নিম্নোক্ত লিংক থেকে ফ্রি ডাউনলোড করতে পারেন

    ইসলামে নারী ও যৌনতা – আবুল কাশেম
    https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOWTBRY1hCNjN0VTA/view
    https://www.dropbox.com/s/iu3wq0fq3g0qr5s/ISLAME%20NAREE%20%2B%20JOUNOTA.pdf?dl=0

    ইসলামে কাম ও কামকেলী – আবুল কাশেম
    https://docs.google.com/file/d/0B1lqaonhgir4WHU3blVYT3pibGc/edit

    https://www.dropbox.com/s/id55k5uh6dmis8q/Islam-e%20Kam%20o%20Kamkeli.pdf?dl=0

    ইসলাম বিতর্ক
    http://www.mediafire.com/download/811b270xc0ge818/Islam+Bitorko_Nobojug+Blog.pdf

    http://nobojug.org/node/1336

    জিহাদ – এম এ খান
    http://www.mediafire.com/download/wrtlmw843n3kth5/Jihad_Bangla.pdf

    http://www.islam-watch.org/books/Jihad_Bangla.pdf

    ইসলাম ও আধুনিক সভ্যতা – শামসুজ্জোহা মানিক
    http://www.mediafire.com/download/6tn1j6iiaipru19/ISLAM+AND+MODERN+CIVILIZATION.pdf

    ইসলামের ভূমিকা ও সমাজ উন্নয়নের সমস্যা-শামসুজ্জোহা মানিক
    http://www.mediafire.com/download/1ybd0djod645ach/ISLAMER+VUMIKA.pdf

    ইসলামে নারীর অবস্থা
    http://www.mediafire.com/file/p2do8843opdcb2k/Islame+Narir+Obostha.pdf

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 5 = 14