নবী মুহাম্মদ নিজেই আল্লাহর আদেশ মানতেন না

মোহাম্মদ নিজেই কোরানের বিধান মানতেন না । বাক্যটি শোনার পর অনেকেই চমকে উঠবেন। কেউ কেউ খেপে উঠতেও পারেন। কিন্তু সত্য সত্যই মুহাম্মদ কোরানের বিধান মানতেন না। যাইহোক , এবার কোরান থেকেই সেটা দেখা যাক-

সুরা নিসা- ৪:৩: আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।

এই আয়াতে বলা হচ্ছে , একজন মুসলমান সর্বোচ্চ একসাথে চারটা স্ত্রী রাখতে পারবে। এবার দেখা যাক , এই সুরা নিসার প্রেক্ষাপট। এই সুরাটি নাজিল হয় হিজরি ৩ সালের শেষ দিক থেকে হিজরি ৪ সালের মধ্যে( সূত্র: http://www.englishtafsir.com/quran/4/index.html)। অন্য কথায় ৬২৫ খৃষ্টাব্দের কোন এক সময়। সুতরাং এর আগে কেউ যদি চারটার বেশী বিয়ে করে থাকে মুহাম্মদ নিজেই নির্দেশ দিয়েছিলেন চারটি রেখে বাকি গুলো তালাক দিতে।

কিন্তু কোরানের উক্ত বিধান অমান্য করে মুহাম্মদ যখন একের পর এক বিয়ে করছিলেন , আর তার চারটার বেশী স্ত্রী ছিল তখন ইহুদি খৃষ্টান তো বটেই অনেক মুসলমানও নানারকম সমালোচনা করছিল, যে এ কেমন নবী যে নিজেই নিজের আল্লাহর বিধান মানে না? তখন মুহাম্মদ নিজের ডজনের বেশী স্ত্রীর বৈধতা বজায় রাখতে , কোরানের নিচের বানী আমদানী করেন –

সুরা আহযাব-৩৩: ৫০:———- কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

অর্থাৎ আল্লাহই মুহাম্মদকে বলছে- হে মুহাম্মদ , তুমি যত খুশী বিয়ে কর , কোনই সমস্যা নাই। ভাল কথা। এবার এই আয়াতের প্রেক্ষাপট জানা যাক। এই সুরা আহযাবের আয়াত নাজিল হয় খন্দকের যুদ্ধের পর পরই আর সেটা হিজরি ৫ সাল বা ৬২৭ সালে( সূত্র : https://en.wikipedia.org/wiki/Al-Ahzab)। কিন্তু এই যত ইচ্ছা খুশী বিয়ে করার বিধান জারি করার কিছু কাল পরেই আল্লাহ মুহাম্মদকে আর বিয়ে করতে নিষেধ করে দেয় এই একই সুরা আহযাবে। যেমন –

সুরা আহযাব- ৩৩: ৫২: এরপর আপনার জন্যে কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহণ করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপলাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসীর ব্যাপার ভিন্ন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন।

অর্থাৎ আল্লাহ হিজরি ৫ বা ইংরেজি ৬২৭ সালেই মুহাম্মদকে আর কোন বিয়ে করতে নিষেধ করে দেয়। এখন কোরান যদি আল্লাহরই বানী হয়, তাহলে মুহাম্মদ কোনভাবেই আল্লাহর বিধান লংঘনের সাহস করবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদ আল্লাহর বানী বা বিধান লংঘন করে পরে আরও বিয়ে করেছিলেন। সেটা দেখা যাক নিচে।

মুহাম্মদ খায়বারের ইহুদি বসতি আক্রমন করে সেখানকার ইহুদিদেরকে নিধন করেন হিজরি ৭ বা ইংরেজি ৬২৯ সালে( সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Battle_of_Khaybar)। অর্থাৎ সুরা আহযাব নাজিলেরও দুই বছর পর। আর এটা সবাই জানে যে , মুহাম্মদ খায়বারে ইহুদি সর্দার কিনানাকে নির্মমভাবে হত্যা করে , তার সুন্দরী স্ত্রী সাফিয়াকে প্রথমে গণিমতের মাল হিসাবে গ্রহন করেন ও পরে বিয়ে করেন। কিভাবে মুহাম্মদ সাফিয়াকে বিয়ে করেন , তা বর্ণিত আছে হাদিসে যেমন –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৮ :: হাদিস ৩৬৭
ইয়া’কূব ইবন ইবরাহীম (র)……আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) খায়রব যুদ্ধে বের হয়েছিলেন। সেখানে আমরা ফজরের সালাত খুব ভরে আদায় করলাম। তারপর নবী (সঃ) সওয়ার হলেন। আবূ তালহা (রা)-ও সওয়ার হলেন, আর আমি আবূ তালহার পেছনে বসা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) তাঁর সওয়ারীকে খায়বরের পথে চালিত করলেন। আমার হাঁটু নবী (সঃ) এর ঊরুতে লাগছিল। এরপর নবী (সঃ) –এর ঊরু থেকে ইযার সরে গেল। এমনকি নবী (সঃ) –এর ঊরু উজ্জলতা এখনও আমি দেখছি। তিনি যখন নগরে প্রবেশ করলেন তখন বললেনঃ আল্লাহ আকবার। খায়বর ধ্বংস হউক। আমরা যখন কোন কওমের প্রাঙ্গনে অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের ভোর হবে কতই না মন্দ! এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারন করলেন। আনাস (রা) বলেনঃ খায়বরের অধিবাসীরা নিজেদের কাজে বেরিয়েছিল। তারা বলে উঠলঃ মুহাম্মদ! ‘আবদুল ‘আযীয (র) বলেনঃ আমাদের কোন কোন সাথী “পূর্ণ বাহিনীসহ” (ওয়াল খামীস) শব্দও যোগ করেছেন। পরে যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা খায়বর জয় করলাম। তখন যুদ্ধবন্দীদের সমবেত করা হল। দিহয়া (রা) এসে বললেনঃ হে আল্লাহর নবী (সঃ)! বন্দীদের থেকে আমাকে একটি দাসী দিন। তিনি বললেনঃ যাও তুমি একটি দাসী নিয়ে যাও। তিনি সাফিয়্যা বিনত হুয়াই (রা)-কে নিলেন। তখন এক ব্যক্তি নবী (সঃ) এর কাছে এসে বললঃ ইয়া নবী (সঃ)য়াল্লাহ! বনূ কুরাইযা ও বনূ নাযীরের অন্যতম নেত্রী সাফিয়্যা বিনত হুয়াইকে আপনি দিহয়াকে দিচ্ছেন? তিনি তো একমাত্র আপনার এ যোগ্য। তিনি বললেনঃ দিহয়াকে সাফিয়্যাসহ ডেকে আন। তিনি সাফিয়্যাসহ উপস্থিত হলেন। যখন নবী (সঃ) সাফিয়্যা (রা)-কে দেখলেন তখন (দিহয়াকে) বললেনঃ তুমি বন্দীদের থেকে অন্য একটি দাসী দেখে নাও। রাবী বলেনঃ নবী (সঃ) সাফিয়্যা (রা)-কে আযাদ করে দিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত (র) আবূ হামযা (আনাস) (রা)-কে জিজ্ঞেসা করলেনঃ নবী (সঃ) তাঁকে কি মাহর দিলেন? আনাস (রা) জওয়াব দিলেন তাঁকে আযাদ করায় তাঁর মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন। এরপর পথে উম্মে সুলায়ম (রা) সাফিয়্যা (রা)-কে সাজিয়ে রাতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) –এর খিদমতে পেশ করলেন। নবী (সঃ) বাসর রাত যাপন করে ভোরে উঠলেন। তিনি ঘোষণা দিলেনঃ যার কাছে খানার কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে। এ বলে তিনি একটা চামড়ার দস্তরখান বিছালেন। কেউ খেজুর নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। ‘আবদুল ‘আযীয (র) বলেনঃ আমার মনে হয় আনাস (রা) ছাতুর কথাও উল্লেখ করেছেন। তারপর তাঁরা এসব মিশিয়ে খাবার তৈরি করলেন। এ-ই ছিল রাসূল (স) এর ওয়ালীমা।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , বন্দিনী সাফিয়াকে মুহাম্মদ দিহয়া নামের এক মুসলমানকে দিয়ে দেয়ার পরেও , তার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে পরে তিনি নিজেই সেই সাফিয়াকে গণিমতের মাল হিসাবে গ্রহন করেন ও পরে বিয়ে করেন। অথচ এই ঘটনার দুই বছর আগেই আল্লাহ তাকে নিষেধ করে দিয়েছে যে , সে যেন অত:পর আর কোন নারীকে বিয়ে না করে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে , মুহাম্মদ নিজেই আল্লাহর আদেশ মানতেন না। প্রশ্ন হলো – আল্লাহ যদি সত্যি সত্যি মুহাম্মদের কাছে বানী পাঠাত , তাহলে তিনি কি এভাবে আল্লাহর আদেশ লংঘন করতে পারতেন ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

32 − = 22