প্রেক্ষাপট ভিত্তিক কোরানের ব্যখ্যা: মুমিনের হিংস্র পশুতে পরিনত হওয়া

ইহুদি নাসারা বা কাফেররা প্রায়ই জিহাদের আয়াত হাজির করে মুমিনদেরকে বুঝাতে চায় ইসলাম হলো একটা বর্বরতার ধর্ম। তখন মুমিনদের একটাই বক্তব্য – সংশ্লিষ্ট আয়াতের প্রেক্ষাপট দেখতে হবে , তাহলেই আসল অর্থ জানা যাবে আর ইসলাম হয়ে যাবে মহা শান্তির ধর্ম। তো বিষয়টাকে আরও একটু খতিয়ে দেখা যাক।

উদাহরন –
সুরা তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

অথবা ,

সুরা তওবা -৯:২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

কোন নাস্তিক যদি উক্ত আয়াত দেখিয়ে বলে , যে এই আয়াত হলো ইসলাম যে একটা বর্বর ধর্ম তার প্রমান। মুমিন সাথে সাথে বলবে এই আয়াতের প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। একই সাথে সে প্রেক্ষাপট বর্ননাও শুরু করবে , তা সেটা সত্য হোক বা না হোক। যেমন বলতে শুরু করবে – মুশরিকরা বা ইহুদি-খৃষ্টানরা মুসলমানদেরকে আক্রমন করতে যাচ্ছিল , তাই উক্ত আয়াত নাজিল করে আল্লাহ আত্মরক্ষার কথা বলছে। তখন নাস্তিক যদি ইবনে কাসির বা আল তাবারী যে কারও তাফসির থেকে প্রেক্ষাপট দেখিয়ে বলে , না মুশরিকরা বা খৃষ্টানরা মুসলমানদেরকে আক্রমন করতে যাচ্ছিল না , বরং মুহাম্মদই তাদেরকে আগ বাড়িয়ে আক্রমন করে হত্যা করে বলছে, তাহলে তারা বলা শুরু করবে যে উক্ত তাফসির সঠিক না। অর্থাৎ মুমিন যে ব্যখ্যা দেবে , সেটা সত্য হোক বা না হোক , সেটাকেই গ্রহন করতে হবে। তার অর্থ প্রেক্ষাপটের কথা বলে মুমিন নিজেই আবার প্রতিষ্ঠিত মুসলিম স্কলারদের ব্যখ্যা গ্রহন করবে না।

এর পরেও যদি তর্ক করে যাওয়া হয়, তাহলে মুমিন ক্ষেপে উঠবে , আর যদি তার সুযোগ থাকে তাহলে প্রশ্নকারীকে শারিরীকভাবে আক্রমন করে বসবে। অর্থাৎ ইসলাম নিয়ে তারা যা বলবে চোখ কান বুজে সেটাই গ্রহন করতে হবে , যদি সেটা না করা হয়, তারা সাথে সাথেই পাশবিক খুনিতে পরিনত হয়ে যাবে।

প্রশ্ন হলো – যে ধর্ম মানুষকে হিংস্র পশুর মত খুনীতে পরিনত করে , সেই ধর্ম কিভাবে সত্য হয় ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “প্রেক্ষাপট ভিত্তিক কোরানের ব্যখ্যা: মুমিনের হিংস্র পশুতে পরিনত হওয়া

  1. আজকাল অবশ্য নতুন বিষয় চালু
    আজকাল অবশ্য নতুন বিষয় চালু হয়েছে। যে হাদিস পছন্দ না সে হাদিসকে জাল বা ভেজাল বলা। আবার অনেক মডারেট মুমিন পুরো হাদিসকেই বাদ দিয়ে শুধু কোরান নিয়েই পরে থাকতে চায়। এতেও কাজ না হলে শুরু হয় ত্যানা প্যাঁচানো।

  2. প্রসূনজিৎ ভাই দারুন একটা কথা
    প্রসূনজিৎ ভাই দারুন একটা কথা মনে করেছেন। যেটা বললেন “যে হাদিস পছন্দ না সে হাদিসকে জাল বা ভেজাল বলা” … এইটা কিন্তু এখন মুমীনরা বুঝে গেছে, ইদানীং তাই অনেককে আর সরাসরি ওই পথ মাড়াইতে দেখি না (মানে, সহী মুসলিম রেফারেন্স দিলে বলত ইহা জাল, বুখারী হইল আসল। বুখারী দিলে কইত ইহা জাল, আল তাবারী আসল …ইত্যাদি ইত্যাদি)। তাই এখন আর সরাসরি বলে না যে এইটা জাল। তাহলে উপায় কি? নতুন যুক্তি (a.k.a. fallacy logic) তো লাগবেই, তাই না? এবং এমনভাবে সেই নতুন যুক্তি (!) আনতে হবে যাতে আপনার আমার মত কাফের কোনও ফাঁক ধরতে না পারে। উপায় হইল ‘Generalization’। তো কি সেই নতুন যুক্তি শুনবেন?

    নতুন যুক্তি হলঃ “যে সকল হাদিস কুরআন এর সহিত সাংঘর্ষিক, তাহাই জাল হাদিস” …

    লও ঠ্যালা। এখন কি কইবেন, কন তো দেখি। ভাঙ্গেন তো দেখি এই নব্য যুক্তি !!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 7 =