বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানী নিধন কর্মসূচি

১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবি এবং জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিবর্গকে হত্যা করা হয়েছিল, বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে যাতে মূর্খ ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করতে পারে। দেশের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা তারা একাই ভোগ করতে পারে। সেই স্বাধীনতা বিরোধী চক্রটি আবারও দেশজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের চোখ, কান ও বিবেক উন্মোচিত করলেই তা স্পষ্ট দেখতে পাব।

চক্রটি অনবরত জ্ঞানী গুণী এবং জাতির বিবেকের মত ব্যক্তিত্বের অধিকারী লোকজনকে কথায় কথায় ধর্মের তকমা লাগিয়ে তাকে নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করছে। উদ্দেশ্য ঠিক ১৯৭১ সালের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মত। ১৯৭১ সালে এই ধর্ম ব্যবসায়ী রাজাকাররা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ জাতির বিবেকগুলোকে হত্যা করে মেধাশূন্য করেছিল, যাতে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার রাস্তায় বাধা না থাকে এবং বাঙালিরা কখনও মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে।

শিক্ষিত ও বিবেকবান মানুষগুলো না থাকলে তারা অশিক্ষিত লোকগুলো ক্ষমতার স্বাদ নিতে পারবে এবং লুটের রাজ্য গঠন করতে পারবে। দুইদিন আগেই তার একটা বড় প্রমান দেখলাম। আব্দুল গাফ্ফার যিনি স্বাধীনতার চেতনায় বলিয়ান তাকে নাস্তিকতার তকমা লাগিয়ে রাজাকার ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা ফায়দা লুঠের চেষ্টা করছে। যার লেখা গান… ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি’.. প্রতিটি দেশ প্রেমিক বাঙ্গালীর হৃদয়ে দেশ ও ভাষা প্রেমের চেতনা সঞ্চার করে। এ রকম দেশ প্রেমিক ব্যক্তির বক্তব্যকে বিকৃত করে সাধারন জনগনের মাঝে তাকে নাস্তিক সাজিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে।

শুধু তাই নয়, ব্যরিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের মত তথাকথিত নবীন, ভন্ড, ধর্ম ব্যবসায়ীরা তাকে জুতা মারার ফতোয়া জারি করেছিল। যে কিছুদিন আগেও পবিত্র কাবা শরীফ নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলিয়ান লতিফ সিদ্দিকীকেও তারা নাস্তিকের খাতায় নাম লিখিয়েছে। গোলাম আযম নিজে বলেছিলেন… কুরআনের বাকারা সূরায় ভুল আছে যা সংশোধন করা প্রয়োজন। এটা কি নাস্তিকতা বা ইসলাম বিরেধীতার মধ্যে পড়ে না? তখনতো তথাকথিত ক্ষমতালোভী ধর্ম ব্যবসায়ীরা কোন প্রতিবাদ করেনি। কারন সে তাদেরই দোষর।

এতে প্রমানিত হয়, আস্তিক-নাস্তিকতা বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হল তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল। আমাদের সবারই মনে রাখা দরকার, ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকলেই সে আস্তিক এবং না থাকলে হয় নাস্তিক। নাস্তিকতা এবং আস্তিকতা একান্তই মনস্তাত্বিক এবং ব্যক্তিগত বিষয়। কে আস্তিক বা কে নাস্তিক তা বলতে পারে একমাত্র উপরে যিনি আছেন তিনি। তাই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাউকে নাস্তিক ট্যাগ না দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যারা মিথ্যাকে সত্য বলে জানে, মানে এবং প্রচার করে তারাই আসল নাস্তিক। এ ধরনের ভণ্ড, ধর্ম ব্যবসায়ীরা খুব বিপদজনক হয়। এ ধরনের ভণ্ডদের মিথ্যা প্রচারের জন্যই একসময় ধর্ম হবে অধর্ম এবং অধর্ম হবে তথাকথিত ধর্ম। শুধু স্বার্থ ও নিজেদের ধর্মীয় গোড়ামীর জন্যই এক সময় প্রকৃত ধর্ম বিলুপ্ত হবে।

তাই আসুন, আমরা স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্তের ফাঁদে পা না দিয়ে.. অযথা আস্তিক নাস্তিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হানাহানি না করে, দেশকে মেধাশূন্য না করে, আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞানী নিধন কর্মসূচি

  1. গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট। ভাল
    গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট। ভাল লিখেছেন। জঙ্গিবাদের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন।

    1. সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদীরা কোন
      সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদীরা কোন ধর্মে বিশ্বাসী হতে পারে না। যদি সত্যিকার অর্থেই কোন ধর্মে তারা বিশ্বাস করতো তাহলে তারা কখনও দাঙ্গা হাঙ্গামা হানাহানি করতে পারতো না। @ বিন আসাদ

  2. সেই পাকি রক্তের বাহকেরা আজও
    সেই পাকি রক্তের বাহকেরা আজও সরব। তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

    1. চমৎকার বলেছেন। জনগণকে সচেতন
      চমৎকার বলেছেন। জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং সরকারের সাথে তাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে। @ জুথি তালুকদার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 58 = 64