তবে‬ কি প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন?

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ চলবে নবীর দেখানো পথে’। নবীর দেখানো পথ মানেই তো সহি ইসলামের পথে দেশ চলবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এমন বক্তব্যটা কি জেনে-বুঝে দিয়েছেন নাকি বলতে হয় তাই বলেছেন? নাকি এটা ধর্মান্ধ গাধাগুলোর নাকের ডগাতে মুলো ঝুলাইলেন?

যদি তিনি বলার জন্য বলা অথবা ধর্মান্ধদের ভোটগুলো তার ব্যাঙ্কে জমা করার জন্য বলে থাকেন, তাহলে নিঃসন্দেহে তিনি একজন ভণ্ড আর প্রতারক। আর যদি তিনি সত্যি সত্যি বলে থাকেন, এবং নবীর দেখানো পথে যদি দেশ পরিচালনা করেন, তাহলে প্রথমেই যে তার নেতৃত্ব ছাড়তে হবে, এটা কি তিনি জানেন? কেন না, ইসলামে নারী নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে হারাম।

‘পুরুষ নারীর উপর কর্তৃত্ব-শীল। এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে ‘ [নিসাঃ৩৪] এ আয়াতের দ্বারা এটি প্রমাণ করে যে, পুরুষেরা সর্বদা নারীর উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। তাই তারা কোন অবস্থাতে নারী-পুরুষ সকলের উপর নেতৃত্ব দিতে পারবে না।

এই আয়াতের প্রকৃত ব্যাখ্যা হচ্ছে, ১। নারীরা শাসক হতে পারে না। ২। নারীরা নবী বা রাসূল হতে পারে না। ৩। নারীগণ ইমামতি করতে পারবে না। ৪। নারীদের উপর জিহাদ ফরয নয়। ৫। নারীদের ব্যাপারে কিসাসের রায় দেওয়া জায়েয নয়। ৬। নারীদের জন্য জিহাদ ফরয নয়। ৭। তালাক বা বিবাহ বিচ্ছেদ শুধুমাত্র নারীদের উপর নির্ভর করে না। [তাফসীরে ইবনে কাসীর,রুহুল মাআনী,বায়যাবী]

এছাড়াও বিভিন্ন হাদিসে বলা হয়েছে নারী নেতৃত্ব হারাম। যেমন বুখারী শরীফের কিতাবুল ফিকানে বলা হয়েছে যে, ‘যে জাতির নেতৃত্ব কোন নারী দিবে সে জাতি কখনও কল্যাণ বয়ে আনবে না।’ অন্যত্র বলা আছে, ‘যখন নারীরা নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করবে তখন মাটির উপরের চেয়ে নীচের অংশ ভাল হবে।’ [তিরমযীঃকিতাবুল ফিকান] তিরমিযী শরীফে আরেকটি হাদিস রয়েছে, ‘পুরুষেরা তখন ধ্বংস হয়ে যাবে, যখন তারা নারী নেতৃত্ব মেনে নিবে।’ [তিরমিযি]

শুধু তাই নয়, কুরআন-হাদিস ছাড়াও ইজমাতে ইবনে হাযম মারাফিতুল ইজমা(পৃঃ১২৬) গ্রন্থে বলেছেন, ‘তারা একথায় একমত হয়েছে নারী নেতৃত্ব বৈধ নয়।’ ইমাম তাইমিয়া বলেছেন, ‘নারী নেতৃত্ব বৈধ নয়।’ [নাকালু মারাফিয়া ইজমা] অতঃপর আল্লামা মাওয়ার্দী যাকে ইসলামী রাজনীতির প্রবক্তা বলা হয়ে থাকে, সেই তিনি বলেছেন, ‘নারী নেতৃত্ব বৈধ নয়। এ ব্যাপারে আলেমগণ একমত হয়েছেন।’ [আহকামুস সুলতানিয়া]

এছাড়াও আল্লামা আবুল ইয়ালা হাম্বলী তার এ আহকামুস সুলতানিয়া গ্রন্থে বলছেন, ‘নারী নেতৃত্ব বৈধ নয়।’ ইমাম গাযযালী (রঃ) ‘খলীফা হওয়ার জন্য পুরুষ শর্ত উল্লেখ করেছেন।’ আল্লামা শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রঃ) তার হুজ্জাতুল বালিগা তে বলেছেন, ‘নারী নেতৃত্ব বৈধ নয়। নেতৃত্ব হওয়ার জন্য তাকে অবশ্যই পুরুষ হতে হবে।’ মোল্লা আলী কারী (রঃ) ফাতহুল বারীতে লিখেছেন যে, ‘নারী নেতৃত্ব জায়েয নয়।’ আল্লামা মওদূদী ইসলামী শাসনতন্ত্রের ৮১ নম্বর পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘রাজনীতি এবং দেশশাসনে নারীদের কর্মসীমার বহির্ভূত।’

কেউ যদি এসকল হাদিস ও এই আলেমদের বক্তব্য সরাসরি এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করে তাহলে তা স্পষ্ট হয় যে ‘নারী নেতৃত্ব ইসলামে হারাম’। তাহলে কি দাঁড়াল? ইসলামে নারী নেতৃত্বের কোন সুযোগ নেই। তাই প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী! আপনি কি আপনার নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন? যদি না-ই দাঁড়ান, তবে নবীর দেখানো পথে কিভাবে দেশ চালাবেন?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 3 =