দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একজন গৃহকর্মী’র সাক্ষাৎকার

সুলতানা খাতুন, বয়স ৩১, পেশায় গৃহকর্মী। বাস করেন রাজধানীর গোলাপবাগ মনোয়ারা হাসপাতালের পাশে। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি থানার মধ্য কঞ্চিপাড়ায়।
সাম্প্রতিক দিনকাল কেমন যাচ্ছে, আয়-রোজগারের অবস্থা কী জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দিনকাল ভালোই যাচ্ছে। রোজগার ভালোই হয়। কিন্তু খরচা বেশি। সকাল সাতটা থেইকে রাইত দশটা পর্যন্ত কাজ করি। দশ হাজার টেকার মতো আয় হয় মাসে। আর জামাইরে নিয়া সমস্যায় আছি। সে রিকশা চালায়।’

দেশের অবস্থা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, ‘দেশের অবস্থা ভালো না। গরমে অসহ্য কইরে ফেলিছে। আর সব ভালোই চলিছে। বাইরের অত খোঁজ খবর জানিনে বাপু!’

সমাজে সাম্প্রতিক অপরাধপ্রবণতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এই গৃহকর্মী বলেন, ‘খুন, ধর্ষণ বাড়িছে, এইডা ঠিক আছে। কিন্তু কেমনে কী হচ্ছে, তা কী কইরে বলব। জানি না এইগুলান। অবস্থা খারাপ এইডা তো শুনতেছি। ভালোর কোনো লক্ষণ নাই, খারাপই দেখতেছি। আগের মতো কিছু নাই। অনেক পরিবর্তন হইছে। এখন সবকিছুর মূলে টেকা। যার মানি আছে তার সব আছে, যার মানি নাই তার পাশে কেউ নাই।’

সাম্প্রতিক ইউপি নির্বাচনে ভোট দিতে গেছেন কিনা, ভোটের খবর কী পাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ‘কামের ধান্দায় থাকিরে বাপু! দিন-রাইত কাম করি, মানুষের বাসায় বাসায় থাকি। কী হয় না হয় খবর রাখতে পারি না। ভোটের খবর পাই না, জানিও না।’

পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘যার টেকা আছে, তার সমস্যা নাই। একটা কিছু করার গেলেই ঘুষ। ঘুষ ছাড়া কোনো কথাই নাই।’
দেশের এই অবস্থা পরিবর্তন করতে কী করণীয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি তো এইডা জানি না।’

সরকারের ভালো-খারাপ মূল্যায়ন করতে বলা হলে তিনি বলেন, ‘জানি না এত কিছু। আমরা গরিব মানুষ, গরিবই আছি। আমাগের জন্যে ভালো কিছু হয় নাই। সব কিছুর খরচা বেশি। সস্তা কোন জিনিসটা আছে? কোনো জিনিস সস্তা নাই। চাইলের কেজি চল্লিশ টেকার নিচে নাই। আলুর কেজি বিশ টেকা। উপকার হইছে ঠিকই, আগে যা ছিল অবস্থা, এখন তার চাইতে দ্বিগুণ খারাপ হইছে।’

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 24 = 27