দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একজন বেকার’র সাক্ষাৎকার

আব্দুর রহমান, বয়স ৩৩, বর্তমানে বেকার। থাকেন রাজধানীর শেওড়াপাড়ায়। এসেছেন চট্টগ্রামের মীরসরাই থেকে। সাম্প্রতিক দিনকাল কেমন যাচ্ছে জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘দিনকাল খারাপই যাইতাছে। আয় রোজগার কিছু নাই এখন। গার্মেন্টে কাজ করতাম। এখন নতুন কাজ খুঁজতেছি। কোনোভাবেই চলতেছে না। আর আয় রোজগার ঠিকমতো করতে গেলে শরীর থাকে না। দিন রাইত কাজ করলে কিছু আয় রোজগার হয়, কিন্তু শরীরের দিকে কে তাকাইব। এইজন্য চাইলেও ভালো রোজগার করা গরিবদের সম্ভব না। যেই কাজই করি, মজুরি কম, ভালো না। আবার কাজ পাওয়াও কঠিন। শ্রম দিয়া খামু কইলেই কাজ পাওয়া যাবে না। কাজের খুব অভাব। রিকশা চালাইতে গেলেও হাজারটা পরিচয় দেয়া লাগে।’

দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে এই শ্রমজীবী বলেন, ‘দেশের অবস্থা তো খারাপ, এইডা দেখাই যাইতেছে সব জায়গায়। টিভির সামনে বইলেই একটার পর একটা খুনের খবর। খুনের খবর আর সেইটা নিয়া কে কি কইতেছে, এই তো খবর। এইডা কি কোনো ভালো অবস্থা হইতে পারে?’

সমাজে সাম্প্রতিক অপরাধপ্রবণতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘পাবলিকের উপরে সরকারের কোনো ভরসা নাই। সরকারের অবস্থা ধরেন নড়বড়ে হইয়া গেছে। সারা দুনিয়ার অবস্থাই তো এই রকম। আইন নাই, বিচার নাই। টাকাওয়ালাদের তো কোনো দোষই নাই। এই কারণে অবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হইতেছে।’

সাম্প্রতিক ইউপি নির্বাচনে ভোট দিতে গেছেন কিনা, ভোটের খবর কী পাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ‘হ, ইলেকশনের সময় তো বাড়িতে গেছিলাম। আগে ধরেন ভোট হইলে এলাকায় মিছিল মিটিং হইত, পাবলিকরে চা বিড়ি খাওয়ানো হইত, কিছু টেকা টুকাও পাইট মাইনষে। এবার সেই রকম কিছু দেখি নাই। যারা ভোটে দাঁড়াইছে, তারা পোস্টারও বেশি লাগায় নাই। মানুষের বাড়ি বাড়িও যায় নাই। তারা শুধু ভোটে দাঁড়াইছে, আর জিতছে। আওয়ামী লীগের লোকেরা নিজেরা নিজেরাই তো। বিএনপির যারা দাঁড়াইছে, তারা তো এলাকায়ই আসতে পারে নাই। আমার এলাকার বিএনপির এক সাবেক মেম্বাররে দেখছি ছাত্রলীগের ছোড ছোড পুলাপান তারে মারতাছে। সে মেম্বার হইয়া প্রচার চালাইতে পারতেছে না, তার পক্ষে কে ভোট দেবে, প্রচার চালাবে? বুঝেন অবস্থা!’

পুলিশ বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ তো মারমুখী হইয়া গেছে। থানারে তো সরকার বলে দেয় এতজন ধরা লাগবে, এইটা দিয়া তারা বাণিজ্য করে। ঘুষ তো খায়ই, পাবলিকের পকেটে এইটা সেইটা ঢুকায়া দেয়। পুলিশ ক্রাইম করলে দোষ নাই, তারা যা খুশি করতে পারে। তাদেরকে থামানোর কেউ নাই। থানার মনে হয় না কাউরে কোনো কিছুর জবাব দেয়া লাগে। সব বিচ্ছিন্ন হইয়া গেছে। যে যার মতো যেইখানে পারতেছে লুট চালাইতাছে।’

দেশের এই অবস্থা পরিবর্তন করতে কী করণীয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এইডা তো আমরা গার্মেন্টসে দেখছি, সবাই একত্র হইলে কিছু করা যায়, আর নইলে মাইর খাওয়া লাগে। দেশের অবস্থা পাল্টাইতে গেলেও সবাইর এক হওয়া লাগব।’

সরকারের ভালো-খারাপ মূল্যায়ন করতে বলা হলে তিনি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম যেরকম মাঝে মাঝে অনেক বেশি হয়, সেই রকম নাই, লাগামছাড়া না। ফ্লাইওভার হইতাছে, কত কিছু বানাইতেছে। এইজন্য যাদের টাকা পয়সা আছে, তারা দেখতাছে সব ভালো আছে। কিন্তু দেশে গরিব মানুষের কোনো অধিকার নাই। তারা বেতন পায় না, কারখানা বন্ধ করে দেয়, পুলিশ আসে না। গরিবের হক মারা হয় সবখানে, কিন্তু তার পাশে দাঁড়ানোর মতোন কেউ নাই।’

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 3 =