আলেম সমাজকে প্রকৃত এবং বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে

বাংলাদেশ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চেলেঞ্জ হল জঙ্গি দমন। প্রায় প্রতিদিনই জঙ্গি বা তথাকথিত আইএস সংগঠনের লোক ধরা পড়ছে।অনেকেই বাংলাদেশে আইএস এর সদস্য খুঁজে পাওয়ায় আশ্চর্য হয়। কিন্তু আমি মনে করি, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

বাংলাদেশে কিছু শ্রেণীর কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোড়ামীতে বিশ্বাসী লোক আছে। তারাই মূলত জঙ্গিবাদী ধারণাকে জিহাদি ধারনা মনে করে। তাদের বিশ্বাস আইএস এবং বোকা হারমের মত সংগঠনগুলো ইসলামি সংগঠন। এ ধরনের লোকগুলোর ভ্রান্ত ধারনা, আল কায়েদা, আইএস এবং বোকা হারমের লোকগুলো অনবরত ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুদ্ধ করে যাচ্ছে। তারা জঙ্গি নয়, বরং তারা মুজাহিদ। কি অবাক কাণ্ড!

কিন্তু ইদানীং আইএস এবং বোকা হারামের মসজিদে হামলা, রোজা না রাখার জন্য ঝুলিয়ে মারা, তিউনেশিয়ার হোটেলে হামলা করে মুসলমান মারা, নিজের গায়ে বোমা বেধে লোকালয়ে তা বিস্ফোরণ করা, এগুলো কোন ইসলাম প্রতিষ্ঠা? এগুলো কোন ধর্মের মধ্যেই পড়ে না। এগুলো হল ব্যক্তিগত ক্রোধ বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য সংগ্রাম করা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। কোনো জঙ্গিবাদকে ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে না। এটাই বাস্তব সত্য। যারা ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ করে, তারা আর যাই হোক ইসলামের অনুসারী হতে পারে না।

এখন প্রশ্ন হল, বাংলাদেশে ধর্মীয় গোড়ামী বা জঙ্গিবাদের ধারণা সৃষ্টি হল কোথা থেকে? পরিপার্শ্বিক অবস্থা এবং সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো একটু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখলেই বোঝা যায়, আসলে বাংলাদেশের বিভিন্ন নামের জঙ্গি সংগঠনগুলোর উৎপত্তির মূলে হল আমাদের মসজিদ মাদ্রাসাগুলো।

মসজিদ ও মাদ্রাসায় যে মোল্লা বা তথাকথিত আলেমকে নিয়োগ দেয়া হয় তারা ৯০% শুধু মুখস্ত বিদ্যায় পারদর্শী এবং হুজুগে বিশ্বাসী। তাদের মধ্যে আধুনিক বাস্তবসম্মত জ্ঞানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

একটু লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন যে, তারা প্রতি শুক্রবারই জুমাবাদ মুসলমানদের উপর নির্যাতন এবং জিহাদের গুরুত্ব তুলে ধরে। আর এ কারনেই শুক্রবারই হামলাগুলো বেশি হয়। এই তথাকথিত আলেমগন কখনই স্বীকার করে না যে মুসলমানদের বর্তমান অবস্থার তারা নিজেরাই দায়ী, নিজেদের অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাসই দায়ী। পশ্চিমা দেশপ্রীতি এবং অধিকতর উন্নত মুসলমান দেশ পশ্চিমা দেশের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা হল মুসলমান নির্যাতনের প্রধান কারন।

কিন্তু তথাকথিত আলেমগন কখনই এগুলো আলোচনা করে না। তাই আলেম সমাজকে প্রকৃত ও বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এবং মসজিদ মাদ্রাসাগুলোকে ধর্ম মন্ত্রনালয়ের অধীনে এনে আলেম প্রশিক্ষণ এবং মন্ত্রনালয় থেকে আলেম নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেসব মসজিদ-মাদ্রাসা এ আইনের আওতায় আসতে অস্বীকার করবে, সেগুলোকে সোজা বন্ধ করে দিতে হবে। ব্যক্তি বিশেষ বা সংগঠন কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “আলেম সমাজকে প্রকৃত এবং বাস্তব শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

38 + = 44