কুরআন কি বলে- সূর্য পৃথিবীর চার দিকে ঘুরে নাকি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে?

আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার সময়কালকে দুই-আড়াইশো বছরের বেশি সময় পর্যন্ত ধরা যাবে না। এই আধুনিকতার মূলে হচ্ছে যখন থেকে বিজ্ঞান যন্ত্র আবিষ্কার করে তার মাধ্যমে গ্রহ-নক্ষত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে। গ্যালিলিও দূরবীন আবিষ্কার করে গ্রহ-নক্ষত্রগুলোকে প্রথম তাদের আকৃতি ও বিন্যাস অনুযায়ী চাক্ষুস করতে সক্ষম হন। এর আগ পর্যন্ত পৃথিবীতে চার হাজার বছর পর্যন্ত পৃথিবী ও আমাদের সৌর জগত মায় মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল অনুমান ও দার্শনিক ভাবালুতার সংমিশ্রন। এরিস্টল একদিকে যেমন চাঁদের গায়ে পৃথিবীর ছায়া দেখে নিশ্চিত হন পৃথিবীর আকার গোলাকৃতি, তেমনি বিশ্বজগত নিয়ে তিনি তার ভাববাদ সংমিশ্রন করে একে ব্যাখ্যা করেন। ওরিস্টল ও টলেমিদের সময় উনারা মত দিয়েছিলেন, পৃথিবী স্থীর। এই পৃথিবীই হচ্ছে মহাবিশ্বের কেন্দ্র। একে কেন্দ্র করেই সূর্য চক্রাকারে ঘুরছে অবিরাম। কুপার্নিকাস ও গ্যালিলিও চার হাজার বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠিত “বৈজ্ঞানিক থিউরীকে” বাতিল করে দিয়ে বললেন, পৃথিবী ভন ভন করে ঘুরে চলেছে সূর্যের চারপাশে। এই সৌরজগতের অধিপতি আসলে সূর্য, পৃথিবী তাকে অনুসরণ করে মাত্র। বিজ্ঞানের বেলায় এরকম আকাশ ভেঙ্গে পড়া আবিষ্কার আনন্দের ঘটনাই বৈকি। বিজ্ঞান কোন ধারণা বা সন্দেহের উপর প্রতিষ্ঠত না, বিজ্ঞানকে প্রমাণ করতে হয়। কাজেই যা প্রমাণিত তার জন্য অপ্রমাণিতকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে ততদিনে এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে এরিস্টল ও টলেমির যে চিন্তা সেটা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত ধর্মগুলো তাদের বিশ্ব সম্পর্কে ব্যাখ্যা গ্রহণ করে বসে আছে। যুগে যুগে তাই দেখা গেছে বিজ্ঞান এই বিশ্ব ও জীবের সূচনা সম্পর্কে কিছু বলতে গেলেই ধর্ম আহত-নিহিত হয়ে গেছে। যেমন খ্রিস্টান ও ইহুদী ধর্ম সেসময় আহত হয়ে গ্যালিলিও উপর চড়াও হয়েছিল। ব্রুনোকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তাওরাত দাবী করছে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে এবং এই পৃথিবী স্থীর। আসলে তাওরাতকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, প্রতিদিন আকাশে পূর্ব থেকে সূর্যকে উঠতে ও পশ্চিমে ঢলে পড়তে দেখে মানুষের এমনটাই মনে হবে যে, সূর্য পৃথিবীর চারপাশে রোজ একবার করে ছুটে চলেছে। আর একটা ঘূর্ণমান পৃথিবীর মধ্যে থেকে কিছুতে তাকে মনে হবে না এটি ভন ভন করে ঘুরছে, স্বাভাবিকভাবেই মানুষ ভেবেছে পৃথিবী যদি ঘুরত তাহলে আমরাও মাথা ঘুরে পড়ে যেতাম! আমাদের বাসতবাড়ি আর মাটির উপর খাড়া করে রাখা যেত না…। মজা হচ্ছে ইহুদী-খ্রিস্টানদের কিতাবে কোন ভূল পাওয়া গেলে মুসলমানরা উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়ে। অথচ তাওরাতকে কুরআন তার সিকুয়েল বলে দাবী করে। তাওরাতে যদি কোন ভুল থেকে থাকে বিশ্বজগত নিয়ে তাহলে সেই ভুলের দায় তো কুরআনের লেখক আল্লাহকেই নিতে হবে- তাই না? এবার আসুন দেখি খোদ কুরআনেই এই বিষয়ে কি বলা আছে। এতকাল ধরে ইসলামী পন্ডিতরা এই বিশ্বজগত সম্পর্কে কুরআনকে কিভাবে ব্যাখ্যা করেছেন সেটাই দেখি।

কে কাকে কেন্দ্র করে ঘুরে সূর্য না পৃথিবী এই প্রশ্নে ইসলামী স্কলার, মাশায়াখ, আল্লামারা পরিষ্কার করে বলেছেন, কুরআন মতে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে। এই ঘুরার কারণেই পৃথিবীতে দিবা-রাত্রী ঘটে থাকে। উনারা জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের হাতে যে দলিলগুলো রয়েছে তার মাধ্যমে পৃথিবীর সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরার কোন প্রমাণ নেই…(ফতোওয়া আরকানুল ইসলাম-আল্লামা উসাইমীন রাহ)।

এবার আমরা বিশিষ্ট আলেম ও স্কলারা যে দলিল দেখিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন পৃথিবী স্থীর ও সূর্য তার চারপাশে ঘুরে তা উপস্থাপন করব। এ ক্ষেত্রে পন্ডিতবর্গরা সুরা বাকারার ২৫৮ নম্বর আয়াতকে দেখিয়ে সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে বলে বুঝতে সক্ষম হন। সুরা বাকারায় বলা আছে- فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنْ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنْ الْمَغْرِبِ “আল্লাহ তাআ’লা সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন। তুমি পারলে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর।” (সূরা বাকারাঃ ২৫৮)। আলেম ও পন্ডিতরা বলেন, সূর্য পূর্ব দিক থেকে উঠার মাধ্যমে প্রকাশ্য দলিল পাওয়া যায় সূর্য পৃথিবীর চারপাশে পরিভ্রমণ করছে। শুরুতে বলে রাখি, এ ধরণের ব্যাখ্যা ইসলামে ১৪০০ বছর পর্যন্ত চলে আসছে অত্যন্ত সদরে ও উচ্চস্বরে। আধুনিক জ্যোতির্বিদ্যার সূচনার আগে কুরআনে বর্ণিত বিশ্বজগত সম্পর্কে তখনকার বৈজ্ঞানিক থিউরীর সঙ্গে মিল পেয়ে এটাকে মুসলমানরা আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে দেখেছে। ইসলাম যে বিজ্ঞানময় তাই নিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিল। কিন্তু কুপারনিকাস ও গ্যালিলিও যুগের পরে ধর্মগুলো শত্রু হয়ে উঠে বিজ্ঞানের। ইসলাম এসবকে তার উপর বিজ্ঞানের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে। মুসলিম পন্ডিতরা বিজ্ঞানকে প্রত্যাখ্যান করে তাকে কুফরি বলে দাবী করে। তাই অর্ধ শতাব্দীকাল পর্যন্ত (আজকের যুগেও লক্ষ্য করা যায়) মুসলিমরা বিজ্ঞানকে শত্রু জ্ঞান করে তার বিরুদ্ধচারণ করে থাকে। কিন্তু সূর্য কেন্দ্রিক সৌর জগত ও এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে আজকের বিজ্ঞানের জ্ঞান এতটাই প্রমাণিত যে তাকে অস্বীকার করা মানে নিজের হাতের তালুকেই অস্বীকার করা। সূর্যের আলোতে নিজের ছায়াকেই নিজের নয় বলে অস্বীকার করার মত বোকামী। জাকির নায়েক ও হারুন ইয়াহিয়াদের মত ননইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত লোকরা এটি বুঝতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানকে শত্রু নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানকে কুরআনের মধ্যে আবিষ্কারই হবে আজকের যুগের জন্য হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। জাকির ও হারুন ইয়াহিয়ারা এই শিক্ষাটা নিয়েছিলেন খ্রিস্টান চার্চ থেকে। চার্চ এখন বিবর্তনবাদকেও বাইবেল সম্মত হবে দাবী করে! যাই হোক, আসুন কুরআনে পৃথিবী কেন্দ্রিক যে গ্রহ-নক্ষত্র ব্যাখ্যা তার আরো কিছু প্রমাণ হাজির করি।

সূরা আনআ’ম এর ৭৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَذَا رَبِّي هَذَا أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَاقَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ -অতঃপর যখন সূর্যকে চকচকে অব্সথায় উঠতে দেখলেন তখন বললেনঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যেসব বিষয়ে শরীক কর আমি ওসব থেকে মুক্ত…”(সূরা আনআ’মঃ ৭৮)। আলেমরা ও পন্ডিতরা এর ব্যাখ্যা করে বলেন, এর মাধ্যেমে প্রমাণ হয় পৃথিবী ঘুরছে না। পৃথিবী স্থীর। যদি পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরত তাহলে কুরআনে বলা হতো, সূর্য থেকে পৃথিবী ডুবে গেলো। বার বার বলা হচ্ছে সূর্য ডুবে, সূর্য উঠে। তাই প্রমাণ হাজির সূর্য ঘুরছে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে!

সূর্যের পৃথিবীর চারপাশে ঘুরার আরো একটি প্রমাণ রয়েছে সুরা কাহাফে। এখানে বলা হয়েছে- وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَتَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ “তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস- যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বাম দিকে চলে যায়।” (সূরা কাহাফঃ ১৭)। আলেম ও পন্ডিতরা এ বিষয়ে বলেছেন, পাশ কেটে ডান থেকে বামে চলে যাওয়ার কথা থেকে প্রমাণ হয় নড়াচড়া সূর্য থেকেই হয়ে থাকে। পৃথিবী যদি নড়াচড়া করত তাহলে অবশ্যই বলত গুহা পাশ কেটে যায় সূর্য থেকে। একবারও বলা হয়নি পৃথিবী উদয় ও অস্ত যাচ্ছে, সূর্যকে বলা হয়েছে। কাজেই প্রমাণিত সূর্য ঘুরছে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে!

“স্থীর পৃথিবীর” চারপাশে সূর্যের ঘুরার আরো একটি মোক্ষম প্রমাণ হাজির করা হয় সুরা যুমার থেকে। এখানে বলা হয়েছে- خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّار – “তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন। প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।” (সূরা যুমারঃ ৫)। ইসলামী পন্ডিত বলেন, এখানে চন্দ্র ও সূর্য যে চলমান আছে তার পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। একবারও পৃথিবীকে দিবা-রাত্রী উপর ঘুরানোর কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছে দিন-রাত্রীর কাজে সূর্য নিয়োজিত আছে। যদি সূর্য স্থীর থাকত তাহলে পৃথিবীতে সব সময় দিনের আলো ফুটে থাকত। যেহেতু স্থীর পৃথিবীর ধারণা আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত (পৃথিবী ঘুরার প্রশ্নই আসে না কারণ তাহলে আমরা মাথা ঘুরে পড়ে যেতাম!!) তাই এক্ষেত্রে সূর্য না ঘুরলে রাত-দিন কিভাবে হবে?

সব শেষে হাদিস থেকে সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরার প্রমাণ হাজির করে লেখাটা শেষ করছি। এই হাদিস পরিস্কার করে বলছে সূর্য “উদিত হয় ও অস্ত যায়”! এই বিশ্বজগতে কোন নক্ষত্র কিভাবে উদয় ও অস্ত যায় তা আজকের যুগের মানুষকে বুঝানো খুব কঠিন। কারণ তারা সৌর জগতের ছবি জ্ঞান হবার পর থেকে দেখে আসছে। কিন্তু হাজার বছর আগের মানুষজন রোজ সূর্যকে সন্ধ্যায় পশ্চিমের ঝোপঝারে বা পাহাড়ের পিছনে “ডুবতে” দেখে আর প্রত্যহ সকালে পূর্বে উদিত হতে দেখে নিচের হাদিসটির মত সরল চিন্তা করা ছাড়া তাদের কোন উপায় ছিল না।…

أَتَدْرِي أَيْنَ تَذْهَبُ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ فَإِنَّهَا تَذْهَبُ حَتَّى تَسْجُدَ تَحْتَ الْعَرْشِ فَتَسْتَأْذِنَ فَيُؤْذَنُ لَهَا وَيُوشِكُ أَنْ تَسْجُدَ فَلَا يُقْبَلَ مِنْهَا وَتَسْتَأْذِنَ فَلَا يُؤْذَنَ لَهَا يُقَالُ لَهَا ارْجِعِي مِنْ حَيْثُ جِئْتِ فَتَطْلُعُ مِنْ مَغْرِبِهَا
“হে আবু যর! তুমি কি জান সূর্য যখন অস- যায় তখন কোথায় যায়? আবু যার বললেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সূর্য অস- যাওয়ার সময় আরশের নীচে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং পুনরায় উদিত হওয়ার অনুমতি চায়। অতঃপর তাকে অনুমতি দেয়া হয়। সে দিন বেশী দূরে নয়, যে দিন অনুমতি চাবে কিন’ তাকে অনুমতি দেয়া হবে না। তাকে বলা হবে যেখান থেকে এসেছ, সেখানে ফেরত যাও। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিক থেকেই উদিত হবে।” (সহি বুখারি, বই-৫৪, হাদিস-৪২১)।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২১ thoughts on “কুরআন কি বলে- সূর্য পৃথিবীর চার দিকে ঘুরে নাকি পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে?

  1. কোরানের বানীর অর্থ যুগের সাথে
    কোরানের বানীর অর্থ যুগের সাথে পাল্টে যায়। সুতরাং বিজ্ঞানীরা আজকে একটা কথা বললে কোরানের অর্থ সেইভাবে পাল্টে যাবে। আবার কিছুদিন পরে অন্য আর একটা কথা বললে সেই মত আবারও কোরানের অর্থ পাল্টে যাবে। ইহাই কোরানের মাজেজা।

  2. দেখুন, আপনি কোন আয়াতেরই সঠিক
    দেখুন, আপনি কোন আয়াতেরই সঠিক তাফসীর করেন নি। কেন করেন নি, ধরে নিচ্ছি, এই আয়াতগুলোর ব্যপারে আপনার পর্যাক্ত জ্ঞান নেই।
    তবে ঘাটাঘাটি তো প্রচুর করেছেন, কিন্তু সুরা ইয়াসীনের এই আয়াতগুলো কেন বাদ দিয়েছেন?

    ৩৬.৩৮ আর সূর্য ভ্রমণ করে তার নির্দিষ্ট পথে, এটা মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ (আল্লাহ)-র নির্ধারণ।
    وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ36.39
    আরবি উচ্চারণ
    ৩৬.৩৯। অল্ ক্বমার ক্বর্দ্দানা-হু মানা-যিলা হাত্তা- ‘আ-দা কাল্ ‘র্উজুনিল্ ক্বদীম্।
    বাংলা অনুবাদ
    ৩৬.৩৯ আর চাঁদের জন্য আমি নির্ধারণ করেছি মানযিলসমূহ, অবশেষে সেটি খেজুরের শুষ্ক পুরাতন শাখার মত হয়ে যায়।
    لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ36.40
    আরবি উচ্চারণ
    ৩৬.৪০। লাশ্ শাম্সু ইয়াম্বাগী লাহা য় আন্ তুদ্রিকাল্ ক্বমার অলাল্লাইলু সা-বিকুন্ নাহার্-; অ কুল্লুন্ ফী ফালাকিইঁ ইয়াস্বাহূন্।
    বাংলা অনুবাদ
    ৩৬.৪০ সূর্যের জন্য সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া, আর রাতের জন্য সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা, আর প্রত্যেকেই কক্ষ পথে ভেসে বেড়ায়।

    1. এসব আয়াত দ্বারা কোরানে সূর্য
      এসব আয়াত দ্বারা কোরানে সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে এটা বুঝানো হয়েছে।

      1. এখানে কোথায় বলা হয়েছে যে
        এখানে কোথায় বলা হয়েছে যে সুর্য পৃথিবীকে ঘিরে আবর্তন করে? আর হ্যা, উদিত হওয়া মানে আবর্তন করা না, উদিত মানে দৃশ্যমান হওয়া। আর অস্ত মানে অদৃশ্যমান হওয়া। আগে ভালো করে অর্থবুঝে, তাফসীর জেনে এরপর বিতর্কে আসুন। বিন্দু-বিসর্গ না জেনে বিজ্ঞানী হবার চেষ্টা করবেন না, শেষে গাধা হয়ে যাবেন।

    2. উদয় খান ,
      উদয় খান ,

      আপনি কি মুহাম্মদের চাইতে কোরান বেশী বুঝেন ? আপনার কথায় তো সেটাই মনে হয় । যাইহোক , ৩৬:৩৮ আয়াতের ব্যখ্যা মুহাম্মদের কাছ থেকেই শুনুন:

      সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫৪ :: হাদিস ৪২১
      মুহাম্মদ ইব্ন ইউসুফ (র)……………আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় আবূ যার (রা)-কে বললেন, তুমি কি জান, সূর্য কোথায় যায়? আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, তা যেতে যেতে আরশের নীচে গিয়ে সিজদায় পড়ে যায়। এরপর সে পুনঃ উদিত হওয়ার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি দেওয়া হয়। আর অচিরেই এমন সময় আসবে যে, সিজদা করবে তা কবূল করা হবে না এবং সে অনুমতি চাইবে কিন্তু অনুমতি দেওয়া হবে না। তাকে বলা হবে যে পথে এসেছ, সে পথে ফিরে যাও। তখন সে পশ্চিম দিক হতে উদিত হবে–এটাই মর্ম হল আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ আর সূর্য গমন করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটাই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। (৩৬:৩৮)

      এবার আসুন কমন সেন্সে। সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই মূর্খ, পাগল , উন্মাদ সহ সবাই দেখত ভোরে সূর্য পূব দিকে উঠে সন্ধ্যার আগে পশ্চিমে অস্ত যায়। সূর্য এটা নির্দিষ্ট যায়গায় উদিত হয়ে, একটা নির্দিষ্ট পথ ধরে সন্ধ্যার আগে পশ্চিমে অস্ত যায়। আর সেই কথাটাকেই ৩৬:৩৮ আয়াতে বলা হয়েছে। যা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই পাগল উন্মাদ সহ সবাই বলত। মুহাম্মদও হাদিসে ঠিক সেরকম ব্যখ্যা করেছেন। এখন আপনি আসছেন ভিন্ন অর্থ নিয়ে। আল্লায় কি সম্প্রতি আপনার কাছে কোরানের নতুন অর্থ পাঠাচ্ছে ?

      1. আর সূর্য গমন করে তার
        আর সূর্য গমন করে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, এটাই পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ। (৩৬:৩৮) এটাও প্রমাণিত যে, সুর্য তার কক্ষপথে ২০ কোটি বছরে একবার আবর্তন করে।
        এবার আসুন কমন সেন্সে; একমাত্র পাগল, তারছেড়া গর্দভ ব্যতিত অন্যকেউ কোন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে আজাইরা বিতর্ক করেনা।

        1. উদয় খান ,
          উদয় খান ,

          আমার মন্তব্যে যে হাদিসটা দিলাম , সেটা কি আপনার চোখে পড়ল না ? নাকি ইদানিং মুহাম্মদের চাইতে বেশী ইসলাম বোঝা শুরু করলেন?

          যে কোন পাগল ছাগলেও জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দেখে সূর্য একটা নির্দিষ্ট পথ ধরে পুব দিক থেকে পশ্চিম দিকে যায়। এটা হলো প্রতিদিনের একটা সাধারন ঘটনা। কোরানের ৩৬:৩৮ ঠিক সেটাই বলছে , মুহাম্মদও তার হাদিসে সেটারই ব্যখ্যা করছে। আর আপনি তার মধ্যে ২০ কোটি বছরের সূর্যের আবর্তন আবিস্কার করে ফেললেন ? হুম আপনি কঠিন ইসলামী বিজ্ঞানী বোঝা যাচ্ছে ।

  3. এ চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন
    এ চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন আল্লাপাকের আরেক নবি ইব্রাহিম। তিনি লোকদের বলেছিলেন, পারলে সূর্যকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত করে দেখাও(বাকারা, আয়াত ২৫৮)। আর এরকম কথাবার্তা শোনে লোকে চমকাইয়া গেল। আল্লাফাক এর বিবরণ দিচ্ছেন মহাগ্রন্থ আল কোরানে।

    আল্লাফাক যদি জানত যে পৃথিবীই সূর্যের চারদিকে ঘোরে তাহলে এ ধরনের ঘটনা কোরানে ব্যক্ত করত না। কারণ তাহলে সূর্যের উদয় ও অস্ত ব্যাপারটি যে আসলে একটা বিভ্রম তা তার জানা থাকত। যেমন আল্লা, তেমন ইব্রাহিম, তেমন মুহাম্মক।

    1. জ্বী, তিনি এখানে উদিত হবার
      জ্বী, তিনি এখানে উদিত হবার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন, আবর্তনের নয়। দেখুন, আগে শব্দের অর্থ জেনে আসুন। উদিত কি, আর আবর্তন কি।
      আর আপনার ভাষা সামলান। আপনার ভাষা দেখে তো মনে হচ্ছে আপনার জন্মের পর আপনার মুখে মধু না দিয়ে পাতলা পায়খানা দেওয়া হয়েছিলো।

  4. সুরা ইয়াসিনের ৩৬ নম্বর আয়াতে
    সুরা ইয়াসিনের ৪০ নম্বর আয়াতে চাঁদ, সূর্য, রাত আর দিনের আবর্তনের কথা বলা হয়েছে। মহাবিশ্বের সকল বস্তুর কথা না। কোরানের অন্যান্য আয়াত পড়লে ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে।

      1. পোস্টটি পড়েন। কোরান আর হাদিসে
        পোস্টটি পড়েন। কোরান আর হাদিসে তো তা-ই বলা হয়েছে। সূর্যের উদিত হওয়া আবার কি? বিজ্ঞান জানা কোনো মানুষ কি এরকম বলবে?

        1. পোস্ট পড়েই বলেছি। আর সুর্য যে
          পোস্ট পড়েই বলেছি। আর সুর্য যে উদিত (দৃশ্যমান) হয়, এটা পৃথিবীর সবাই বলে। এমনকি, কোন বিজ্ঞানীও অস্বীকার করেছে বলে কোন তত্ব আছে বলে আমার মনে হয়না। যদি কোন বিজ্ঞানী বলে থাকেন যে, পৃথিবীতে সুর্যোদয় হয়না, তো রেফারেন্স দেখান।

      2. উদয় খান ,
        উদয় খান ,

        কোরান বা হাদিস থেকে একটা উদ্ধৃতি দেন তো দেখি , যাতে বলা আছে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে , বা নিদেনপক্ষে পৃথিবী গোলাকার , এমন বলা হয়েছে । মুহাম্মদ তার পুত্রবধুকে বিয়ে করবে কি না , সেটা নিয়ে আল্লার চিন্তার শেষ নাই , পৃথিবী , সূর্য , চন্দ্র নিয়ে এত কথা কোরানে আল্লাহ বলে গেল , কিন্তু কোথাও তো একবার বলল না যে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে বা পৃথিবী গোলাকার। কারন কি ?

        1. কোরআনে যেমন এটা সরাসরী বলা
          কোরআনে যেমন এটা সরাসরী বলা হয়নি পৃথিবী গোলাকার, তেমনি কোথাও এটাও বলা হয়নি যে পৃথিবী চ্যাপ্টা। আর নবীজী (সাঃ) এর কোন পুত্রসন্তান ছিলোনা, এটাও সর্বজনবিদিত। সঠিক না জেনে আজাইরা প্যাচাল পারবেনা না।

          1. @উদয় খান, কুরআনের এমন একটা
            @উদয় খান, কুরআনের এমন একটা আয়াত দেখাতে পারবেন না যেখানে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে পরিভ্রমণ করছে বলা আছে। আপনি প্রশ্ন করেছেন, কুরআন তো এটাও বলেনি সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে। কিন্তু পোস্টে আমি আয়াতসহকারে আলেমদের মতামত দেখিয়েছি যেখান থেকে তারা অর্থ করেছেন সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে। আর আয়াতে যেভাবে বার বার সূর্য ও চন্দ্র ঘুরার কথা বলা আছে সে জায়গায় পৃথিবীর একবারও ঘুরার কথা বলা হয়নি। বলবে কিভাবে, কুরআন মতে পৃথিবী হচ্ছে স্থীর ও সমতল! প্রমাণ চাচ্ছেন তো? বলবেন, কুরআনের কোথায় এ কথা বলা হয়েছে? দাঁড়ান দেখাই।

            //তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি। কোরান, ৩১:১১

            আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা (পাহাড়-পর্বত)রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়। কোরান, ২১:৩১//– এবার আপনি বলুন, একটা গোলাকার বস্তু মহাশূন্যে ভারসাম্য রাখার প্রশ্ন আসে কিভাবে! আমাদের অবস্থান পৃথিবীতে যেখানে, ঠিক আমাদের পায়ের নিচে আমেরিকার অবস্থান। তাহলে তো তাদের বাড়ি-ঘর পাহাড়-পর্বত সব নিয়েই গড়িযে পড়ার কথা তাই না? কারণ কুরআনেই আল্লাহ বলছেন উনি পাহাড়-পবর্ত বসিয়ে পৃথিবীকে ঠেক দিয়েছেন যাতে সেটা হেলে না যায় *mosking* আপনিই বলুন আল্লাহ যদি পৃথিবীর আকৃতি আর তার অবস্থানটা বুঝত তাহলে এরকম কথা কি তার মুখ দিয়ে বের হতো? একটা ছোট বল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে নিন ঘরের মধ্যে। মনে করুন সুতাটি হচ্ছে মহাকর্ষ শক্তি। এটুকু বাদে ঝুলন্ত সেই বলটি গায়ে লেগে থাকা বস্তুগুলো কিভাবে ভারসাম্য রক্ষা করছে? যদি কেউ পৃথিবীটা একটা সমতল ভূমি না ভাবে তবে কি এরকম আজগুবি জিনিস কল্পনা করতে পারে। এমন কি আকাশকে (আকাশ বলতে আসলে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই আমাদের দৃষ্টিভ্রম ছাড়া) সমতল ভূমির মত কিছু ভেবেছে বলেই আল্লাহ আকাশকে কাগজের মত গুটিয়ে ফেলার হুমকি দিয়ে বসে আছেন! //সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র। যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। আমার ওয়াদা নিশ্চিত, আমাকে তা পূর্ণ করতেই হবে। কোরান, ২১:১০৪// *ROFL*

  5. দেখুন, এর একটি আয়াত দ্বারাও
    দেখুন, এর একটি আয়াত দ্বারাও কিন্তু প্রমান করা যায়না যে পৃথিবী সমতল। আর গোলাকার বস্তুর ভারসাম্যের কথা বলছেন? আপনি বলে সুতা ঝুলাতে বলেছেন কেন? অবশ্যই ভারসাম্য কিংবা অভিকর্ষজ সমতা রক্ষার জন্য, তাইনা। যাই হোক, আপনি কোন আলেমের সাথে আলোচনা করেছেন, সেটা আমি জানিনা। আবার এই ব্লগেরই কাঠমোল্লা না তো?

    1. এটা তো আমার কমেন্টের বিপরীতে
      এটা তো আমার কমেন্টের বিপরীতে শক্ত কোন যুক্তি হলো না। বলের সুতাকে আপনি মহাকর্ষ না, ধরেন ওটা আল্লাহর শক্তিই, তবু গোলাকার বস্তু শূন্যে ভাসমান অবস্থায় তার ভারসাম্য রক্ষার জন্য কেন পাহাড়-পবর্তের দরকার হবে? অভিকর্ষ বা সুতার টান তো আছেই! এই উত্তর না দিয়ে অন্য আলাপে যাবার ইচ্ছা নেই। আগে এর সমাধান হোক।

      1. আমি যেসব কমেন্ট করেছি, আমিও
        আমি যেসব কমেন্ট করেছি, আমিও তো তার প্রকৃত জবাব পাইনি। উপরন্তু, আপনি বলেছেন যে, আপনি আলেমদের কাছে গিয়েছেন, তারা বলেছে, পৃথিবীর চারপাশে সুর্য ঘোরে। এখানে আলেম বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন এবং কয়জন আলেমের কাছে গিয়েছেন? মাওলানা বলতেই সে আলেম নয়। আলেম শব্দের অর্থ আগে বিশ্লেষণ করে নিন।
        এখানে যদিও অনেক কথা বলার আছে, বাট সেদিকে যাচ্ছিনা। আপনার প্রতি প্রশ্ন, আপনি কি কোন মুফতি’র কাছে গিয়েছিলেন? এই বিষয়ে কথা বলতে?
        কারন, আপনি এখানে যে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, সেটি সরল নয়, জটিল (Complex). কাজেই আপনি যদি নির্দিষ্ট কিছু ক্বারী বা মৌলভির সাথে কথা বলে এই রকম পাক্কা ফতোয়া দিয়ে দেন, তাহলে বিষয়টি হবে এই রকম, একটা বাচ্চা ছেলেকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আম গাছ থেকে উপরে না গিয়ে নিচে পরে কেন? সে হয়তো উত্তর দিবে, উপরে খাবার কেউ নেই বলে। আর সেটাকেই আপনি ফতোয়া দিয়ে দিলেন।
        আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা (পাহাড়-পর্বত)রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়।
        আপনি এর দ্বারা কিভাবে যুক্তি দিচ্ছেন যে পৃথিবী চ্যাপ্টা এই কথা বলা হয়েছে। আপনি কিন্তু এখানে আপনার যুক্তি সপক্ষে কোন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন নি। কেন?
        তারা অর্থ করেছেন সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে। আর আয়াতে যেভাবে বার বার সূর্য ও চন্দ্র ঘুরার কথা বলা আছে সে জায়গায় পৃথিবীর একবারও ঘুরার কথা বলা হয়নি। বলবে কিভাবে, কুরআন মতে পৃথিবী হচ্ছে স্থীর ও সমতল!
        এখানে শুধুমাত্র চাঁদ, সুর্য এবং তা দ্বারা সংগঠিত রাত-দিনের (সুরা ইয়াসীনের প্রদত্ত আয়াতে) কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এখানে পৃথিবীর প্রসঙ্গ আসার প্রশ্নই আসেনা। আপনাকে কেউ আপনার বাবার নাম জিজ্ঞেস করলে আপনি নিশ্চয় বাবার নামের পাশাপাশি খালুর নামও বলে দিবেন না। আর এখানে যেহেতু পৃথিবীর প্রসঙ্গই নেই, সেখানে আপনি কিভাবে আবিষ্কার করলেন যে এই আয়াতে পৃথিবী সমতলের কথা বলা হয়েছে?

        অসংখ্য হাদীছের মাধ্যমে জানা যায় যে, উদিত হওয়া, অস্ত যাওয়া, এবং ঢলে যাওয়া এই কাজগুলো সূর্যের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো সূর্য থেকে প্রকাশিত হওয়া খুবই সুস্পষ্ট। পৃথিবী হতে নয়।” আর এটা ন্যুনতম জ্ঞানী ব্যক্তিরও বুঝতে পারার কথা, এটা ধ্রুব সত্য।

  6. উদয় খানের ঠুল খারাপ হয়েগেছে ।
    উদয় খানের ঠুল খারাপ হয়েগেছে ।
    আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা (পাহাড়-পর্বত)রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে …
    এই কথার অর্থ কি ? কেন বলল ?
    ভারী বোঝা না রাখলে পৃথিবী কোন দিকে ঝুকত ?

  7. বুঝা গেল,ইস্টিশন ব্লগের
    বুঝা গেল,ইস্টিশন ব্লগের লেখাগুলো লুথা। http://al-jannatbd.com/%E0%A6%B8%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%93-%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%93-%E0%A6%98%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 + = 59