উত্তরের সন্ধানেঃ (প্রশ্নঃ “ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করেছেন?”) – পর্ব – ১!!

ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করেছেন? এই প্রশ্নের চেয়ে বেশি অন্য কোনো প্রশ্ন পৃথিবীর মানুষ কখনো করেনি, করে শেষ করতে পারবে না।

নানা ধর্ম এ সম্পর্কে নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ্যের আলোকে যা বলে তা আমার কাছে তেমন যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। এ প্রশ্নের উত্তরে ধর্মগুলো বিশ্বাসের প্রতিই জোর দেয়। কিন্তু শিক্ষিত, অশিক্ষিত কিংবা জ্ঞানী অথবা আপাত মুর্খ, মানুষ নির্বিশেষে এই প্রশ্ন কখনো না কখনো জাগবেই কিংবা মনে মনে হলেও ভাববে যদি সে ঈশ্বরে বিশ্বাসীও হয়। আমার অথবা অন্য অনেকেই মতই তারা চিন্তা করতে থাকবেন যে সকল সৃষ্টির অস্তিত্ব আছে এবং ঈশ্বর সব সৃষ্টি করেছেন। আবার ধর্মমতে ঈশ্বরও বর্তমান। কিন্তু এই ঈশ্বর কিভাবে এলেন? তার সৃষ্টি কিভাবে হলো?

ঈশ্বরের সংজ্ঞামতে সকল সৃষ্টি তার মাধ্যমেই। তিনি অনাদি এবং অনন্ত। আবার অন্যভাবে বলি। সকল কিছু ঈশ্বরের সৃষ্টি। তার আগে কেউ ছিল না। তিনি যখন সৃষ্টি করলেন তখনই সব অস্তিত্ব পেলো। আর অস্তিত্ব না পেলে হয়তো আমি এই ব্লগ পোস্টও লিখতাম না, কিংবা প্রশ্নও করতাম না। তবে যখন করেই ফেলেছেন আর প্রশ্নরা জেগে উঠছে, তাই আবার প্রশ্ন করছি, ‘ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করলেন?’ এটা প্রশ্নের পর প্রশ্নের এক অনন্ত লুপ।

আবার প্যাচাই। নিজের অস্তিত্ব দিয়েই কল্পনা করে নেই। আমি আছি, আপনাকেও আমি দেখছি। আমার আশেপাশে আছে অনেককিছু। বিশ্বব্রক্ষান্ডও অলীক কিছু নয় এটাও প্রমানিত। এইসবকিছুই যেহেতু আছে, এগুলো থাকবার পেছনে কিছু একটা কারন নিশ্চয়ই আছে। কিংবা আমরা যেহেতু সময়ের উপলব্ধি করতে জানি, তারমানে এগুলো কোন না কোন সময় থেকে আছে। সময়কে বাদ দিয়ে আমরা ভাবতে পারবো না, কারন এখন পর্যন্ত আমাদের জ্ঞান সময়ের হিসাবের বাইরে যেতে পারেনি। আমরা জানি শক্তির কোন ক্ষয় নেই, একরুপ থেকে অন্যরুপে পরিবর্তিত হয়। তারমানে সৃষ্টিজগতের যা কিছু আছে, একই রকম থাকবে অনন্তকাল। কেবল রুপ পরিবর্তন হতে থাকবে কেবল। নক্ষত্ররাও একদিন মরে যাবে, ছায়াপথেরা আরো দূরে দূরে সরে যাবে। এইসবই রুপের পরিবর্তন, বিনাশ নয় বিজ্ঞান অনুসারে। আবার এই সবকিছু ঠিক কোন সময় থেকে আছে। আবার কোন সময় পর্যন্ত থাকবে? এগুলো যে আছে, কেন আছে? কি সেই কারন?

যদি ঈশ্বরে বিশাস করি, তবে বলবো ঈশ্বর সেই কারন, কিন্তু ঈশ্বরে বিশ্বাস না করলে গাড্ডায় পড়ে যাবো। উত্তর সম্ভব হবে না। আবার বিশ্বাস না করলে এই সৃষ্টি জগতের সবকিছুর অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কারন, কারন ছাড়া কোন সৃষ্টি হয়না বিজ্ঞান অনুসারেই। সেই আদিতম কারনটাই কি ঈশ্বর? কি সেই কারন?

নাস্তিকদের সবচেয়ে বড় যুক্তি হচ্ছে, যদি সবকিছু অস্তিত্বের পেছনে একটা কারন থাকে তবে ঈশ্বরের অস্তিত্বের পেছনেও একটা কারন থাকতে হবে। আর তারা উপসংহার টানে এই বলে,

“যদি ঈশ্বরের অস্তিত্বের জন্য কোন কারন দরকার হয়, তবে ঈশ্বর আসলে ঈশ্বর নন। আর ঈশ্বর যদি ঈশ্বর নাই হন, তবে কোন ঈশ্বরই নেই।“

“ঈশ্বরকে কে সৃষ্টি করেছেন” এই প্রশ্নের আরেকটূ জটিল রুপে যাওয়া যাক। সবাই জানে যে, শুন্য থেকে কোনকিছুই হয় না। যদি ঈশ্বর কিছু একটা হন, তবে তার পেছনে একটা কারন থাকা আবশ্যক নয় কি? যেমন, তালি দিতে গেলে দুই হাত লাগবে। হাত না থাকলে তালিও দেয়া যাবে না।

এই প্রশ্নটাতেও একটা সুক্ষ কারচুপি আছে। কারন এখানে প্রথমেই এমন একটা ধারনা করা হয়েছে যে ঈশ্বর কোথাও থেকে এসেছেন যেটা সত্য নাকি মিথ্যা সেটাই আমরা জানি না এবং এরপর প্রশ্ন করা হয়েছে সেটা কি। এই প্রশ্নটাই আসলে যৌক্তিক নয়। প্রশ্নটা এমন যে, গরুর মাথায় কয়টা লেজ থাকে? কিন্তু গরুর মাথা এমন কিছু না যেখানে লেজ থাকতে পারে। সে কারনে এই প্রশ্নটাই ভুল। এভাবেই ঈশ্বরও এমন কিছু নন যা সৃষ্টি করা হয়েছে কিংবা যার পেছনে কোন কারন আছে। ধারনা এবং ঈশ্বরের সংজ্ঞা অনুসারে ঈশ্বরের অস্তিত্বের পেছনে কোন কারন নেই এবং কেউ তাকে সৃষ্টিও করেনি, কেবল তার অস্তিত্ব বর্তমান।

আমরা কিভাবে সেটা বলতে পারি?

আমরা জানি যে, যা নেই, তা থেকে কিছুই হতে পারে না। তাই, যদি কখনো এমন কোন সময়ের অস্তিত্ব থাকে যে তখন কোনকিছুরই অস্তিত্ব ছিলোনা, তবে কোনকিছুই অস্তিত্ব লাভ করতো না। কিন্তু অনেককিছুরই অস্তিত্ব আছে। আমি, আমরা সবাই আছি। সৃষ্টিজগত আছে। তাই, একেবারে কোনকিছুই না থাকা যেহেতু সম্ভব নয়, সেহেতু কিছু না কিছুর অস্তিত্ব সবসময়ই ছিলো। আর এই সর্বদা অস্তিত্বসম্পন্ন কিংবা বিরাজমান কিছুটাই সম্ভবত ঈশ্বর।

ঈশ্বর সম্ভবত সেই কারনবিহীন অস্তিত্ব যার কারনে সবকিছু অস্তিত্বলাভ করেছে। ঈশ্বর সম্ভবত সেই সৃষ্টি বহির্ভুত সত্ত্বা যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন এই বিশ্বব্রক্ষান্ড এবং এর সবকিছু।

(চলবে..)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

39 − 30 =