মন্তব্য নিষ্প্রয়োজনঃ আমরা তো স্বাধীন দেশের নাগরিক

আজ রাত ২টার পর মোহাম্মদপুর, তাজমহল রোড, ৮/সি এলাকায় চলন্ত বাসের ভিতর থেকে একটা মেয়ের ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনা গেছে… *dash1*
.
সর্বশেষ, বেড়িবাঁধ হয়ে রায়ের বাজার হয়ে ধানমন্ডি-২৭ এর অক্সফোর্ড স্কুলের পাশ দিয়ে গিয়েছে সেই বাসটি। ভোর তখন ৪ টা, তখনো বাসটি থেকে একটি মেয়ের ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনা গেছে।
.
ওই এলাকার ATM বুথের একজন সিকিউরিটি গার্ডও বিষয়টি দেখেছিলেন। তার ভাষ্যমতে ওই বাসটির কালার ছিলো “সাদা এবং নীল”। ঢাকায় একমাত্র “মিডওয়ে” বাসের রংয়ের সাথে যার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
.
দীর্ঘ ৪-৫ ঘন্টা ধরে একটি স্বাধীন দেশের রাজধানীর বুকে চলন্ত বাসে একটি মেয়েকে নিয়ে নগ্ন নৃত্য হলো, খুব সম্ভবত ধর্ষণ/নির্যাতন হলো, তারপর হাওয়ায় মিশে গেলো সব!!
.
বাসটি যেই রোডে গেছে সেই রোডে জানামতে ২ টি পুলিশ চেকপোস্ট রয়েছে। তাহলে পুলিশ কি করলো!!!
.
এখনো মিডিয়া চুপ, প্রশাসন চুপ…..যেন কেউই কিছু জানেনা! কেউই কিছু দেখেনি!!
.
হয়তো আরো কিছুক্ষন পর টিভির স্ক্রলে ভাসবে- ‘অমুক জায়গায় অজ্ঞাতনামা এক তরুনীর রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেছে’
.
তারপর, প্রশাসন বলবে তনুর মত তাকেও ভাল্লুকে আক্রমণ করছিলো…ব্যাস…. এরপর সব নীরব…..
.
এবার একটু ভিন্ন দিকে যাওয়া যাক…
.
গতকাল, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের একা বাসায় এসাইনম্যান্ট বুঝিয়ে দেওয়ার নামে এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে প্রথমে শ্লীলতাহানি তারপর ধর্ষনের চেষ্টা করেছে।
.
মেয়েটি ছেঁড়া জামা-কাপড় নিয়ে কোন ভাবে ওই শিক্ষক নামের অমানুষের হাত থেকে পালিয়ে বেঁচেছে…..২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও ব্যাবস্থা নেয়নি কেউই…উল্টা অধ্যক্ষের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করে একজন ধর্ষককে প্রটোকল দেওয়া হয়েছে…..
.
চট্টগ্রামের একটি নামকরা স্কুলের একজন সু পরিচিত শিক্ষকের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে ইনবক্সে। তিনি নাকি মেয়েদের যৌন হয়রানী করে আসছেন বছরের পর বছর ধরে। উপযুক্ত বিচার না পাবার কারনে আর সম্মানের ভয়ে কোন মেয়েই মুখ খুলেনা।
.
ব্যাপারটি ইনবক্সে যেই মেয়েটি অকপটে বললো, সে এখন ১০ম শ্রেনীতে পড়ে। আর ওই শিক্ষকের খাবারের বস্তু হয়ে আছে সেই ৮ম শ্রেনী থেকে। কিছু বললেই রেজাল্ট খারাপ আর ছবি ফাঁসের হুমকি……যেন তার আকুতি শুনার কেউ নেই…..

(কবি এখানে নীরব)
.
গত সপ্তাহেই, রাজধানীর আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রশীদ নিজের বাসায় ডেকে নিয়ে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। তার এই কর্ম চলে আসছে বছরের পর বছর থেকেই…..
.
শুধু কি তাই!!??
.
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুল হাসান আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব মীরের একাকী কক্ষের কাহিনী কার না জানা!!???
.
জগন্নাথের ইতিহাস বিভাগের আরেক শিক্ষক লুতফুল এলাহী তো রিতিমত একের পর এক ইতিহাসই গড়ে চলেছেন…..!!
.
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজীব নন্দীর সেঞ্চুরি কাহিনী বললে আপনারা বলবেন আমার মুখ খারাপ…..তাই বললাম না……
.
এবার আসুন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে….
(যৌন হয়রানী বর্ষ ২০০৯-২০১৬)
.
২০০৯-১৬ পর্যন্ত ঢাবির ২৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর সুনাম পাওয়া গেছে…যারা বাসায় ডেকে বা ক্যাম্পাসে ব্ল্যাকমেইল করেই বছরের পর বছর ছাত্রীদের হয়রানি করেছে/করছে….
.
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর গিয়াস উদ্দিন মোল্লা, ট্যুারিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. আবু মুসা আরিফ বিল্লাহ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এমরান হোসেন, উর্দু বিভাগের প্রফেসর ড. ইস্রাফিল, মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহমুদ হাসান, তথ্য পরিসংখ্যান বিভাগের প্রফেসর ড. জাফর আহমেদ খান, উর্দু বিভাগের লেকচারার গোলাম মাওলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের লেকচারার মাহমুদুর রহমান, ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মো. সালাহউদ্দিন চৌধুরী, আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. এটিএম ফখরুদ্দীন, থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।
.
সর্বশেষ, গত মার্চে নিজের ভার্সিটিতেই নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে দরজা আটকিয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এক ছাত্রীকে জঘন্যভাবে যৌন হয়রানী করে ঢাবির গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম।
.
শিক্ষক নাকি পিতার সমতুল্য!!
.
অথচ এভাবেই প্রতিদিন প্রতিক্ষনে নিজের শিক্ষাপ্রাঙ্গনে শিক্ষক দ্বারা লাঞ্চিত হচ্ছে শত শত মেয়ে। এদের কেউই মুখ খুলেনা।
.
কেউ ভালো রেজাল্টের জন্য, কেউ টিসি পাবার ভয়ে, আবার কেউ কেউ জিম্ম কিছু ছবি বা ভিডিও অথবা অশ্লীল মেসেজের কাছে….আবার মান সম্মানের ভয়েও কোন কোন মেয়ে চুপ…..
.
আবার কেউ কেউ প্রকাশের আস্থাশীল মাধ্যমে না পেয়ে শিক্ষক দ্বারা লাঞ্চিত হয়ে সব হারিয়ে চুপি চুপি ঘরের কোনেই মুখ লুকিয়ে কাঁদে নীরবে….
.
আপনাদের মনে আছে কিনা জানিনা…
দুই বছর আগে…উত্তরা হাই স্কুলের শিক্ষক সাইফুল্লাহ জোয়ারদারের বছরের পর বছর ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী অশ্লীল কর্মকাণ্ড ফাঁস করেছিলাম।
.
সে বার…তার ছাত্রীর সাথে করা অশ্লীল ফোনালাপ ইউটিউবে ৪ লক্ষ মানুষ দেখেছিলো….তোলপাড় হয়েছিলো….তাকে স্কুল থেকেও বের করে দেওয়া হয়েছিলো…
.
যেসব মেয়ে এসবের শিকার হয়েও ভয়ে চুপ করে আছেন তাদের বলছি- “আমার ইনবক্স খোলা আছে আপনাদের জন্য, কোন রকম ভয় না পেয়ে ইনবক্স করুন। আপনার পরিচয় গোপন রাখা হবে।”
.
সবাই লিখাটি নিজেদের ওয়ালে শেয়ার করুন, একজন ভেক্টিমও যদি এতে সাহস পায় তাতেই এই লিখার স্বার্থকতা।
.
কিছুদিন আগে তাশরির ইয়াদ নামের এক অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যাপারে লিখেছিলাম। যে বিবাহিত হয়েও টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ঘুরে ঘুরে মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করে হোটেলে খাট কাঁপায়।
.
তথ্য আছে….এখনো থামেনি তার এসব কর্মকাণ্ড….চলছে….চলবে…..
.
যদি পরিমল আর পান্না মাস্টারদের ছাত্রী ধর্ষনের জন্য ফাঁসি দেওয়া হতো তাহলে প্রতিদিন এভাবে নতুন নতুন পরিমলের জন্ম হতো না….জন্ম হতো না সেঞ্চুরি মানিকদেরও….
.
শিক্ষক নামের এসব অমানুষই যখন বিদ্যাপীঠে আছে….তখন পরবর্তী প্রজন্ম এদের থেকে কি শিখবে ভেবেছেন!!??
.
ইভটিজিং – যৌন হয়রানী – ধর্ষন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “মন্তব্য নিষ্প্রয়োজনঃ আমরা তো স্বাধীন দেশের নাগরিক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

54 − 52 =