রাজস্ব আয়ের বিশাল সম্ভাবনা

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশাল পরিত্যক্ত জমি থেকে রাজস্ব আয়ের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। রেল ভূমি বরাদ্দে নীতিমালা রয়েছে। নীতিমালার আলোকে ভূমি বরাদ্দের জন্য আবেদনকারীরা বছরের পর বছর অপেক্ষমাণ রয়েছে। মুষ্টিমেয় বৈধ আবেদনকারীদের ভূমি বরাদ্দ না দিয়ে বছরের পর বছর ফাইলবন্দী করে রাখা হয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখলদাররা কোন ধরনের আবেদন না করেই মাসোয়ারা আদায় করছে। বছরের প্রায় শতকোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল ভূমিতে প্রণয়নকৃত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় থাকা আবেদনকারী ও ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়কারীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য স্টেশনভিত্তিক ও বিভাগওয়ারী ভূসম্পত্তি বিভাগকে তিন মাসের সময়সীমা বেধে দেয়া হলেও উপেক্ষিত হয়েছে। কোন ধরনের তালিকা প্রণয়ন না করায় ভূমি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, জনবল সঙ্কটের কারণে ভূসম্পত্তি বিভাগগুলো তালিকা প্রণয়ন করতে পারেনি। পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দফতর থেকে বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তার দফতরে এ ধরনের তালিকা প্রণয়নের জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়। বিভিন্ন স্টেশন সংলগ্ন বিভাগীয় শহরে অনুমোদিত মাস্টারপ্ল্যানভুক্ত ভূমিতে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে অনেকেই। আবার নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারী ও ক্ষতিপূরণদাতা ব্যবসায়ীরা অনেক বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করলেও বৈধতার জন্য লাইসেন্স দাবি করলেও তা দেয়া হয়নি। বরং ক্ষতিপূরণ আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে পরামর্শ দেয়া হয়েছে মাস্টারপ্লান অনুমোদন করে টেন্ডার আহ্বান করা হলে প্রায় শতকোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব। রেল ভূমিতে থাকা ও মাস্টারপ্ল্যানের আওতাভুক্ত জায়গায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। সকল স্টেশন এলাকায় বৈধ ও অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রণয়ন করে মাস্টারপ্ল্যান চিহ্নিতকরণ এবং অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানভুক্ত জায়গায় যারা অবৈধভাবে ব্যবসা করছে তাদের তালিকা প্রণয়নেরও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব বাধা দূর করতে পারলে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

79 − = 73