একজন সহিহ মুসলিমকে ফাঁসি দিয়ে সরকার প্রমান করল ইসলাম একটা ভূয়া ধর্ম

গত রাতে জামাত ইসলামের নেতা নিজামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। অনেকেই নিজামিকে কুলাংগার বলে অভিহিত করলেও আবার অনেকে তার মত একজন সহিহ মুসলিমের ফাঁসিতে আহাজারি করছে। সুতরাং কাদের অনুভূতি সহিহ ইসলাম সম্মত ? সেটা এবার দেখা যাক।

জামাত ইসলাম একটা ইসলামী দল , যার লক্ষ্য গোদা দুনিয়াতে ইসলামী হুকুমত কায়েম করা। অনেকে জামাত ইসলামকে মওদুদিবাদ বলে আখ্যা দেয় আর বলে ইসলামের সাথে এর কোনই সম্পর্ক নেই। কিন্তু মওদুদি কি কোরান হাদিস বহি:র্ভুত কোন আদর্শ বা বিধান আবিস্কার করেছিল ? মওদুদি কে ছিলেন আর তার আদর্শ কি ছিল সেটা জানতে যেতে হবে এই সাইটে :

মাওলানা আবুল আলা মওদুদি

সেখানে বলা হয়েছে

সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ – ২২ সেপ্টেম্বের ১৯৭৯), যিনি মাওলানা মওদুদী, বা শাইখ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক।[১] তিনি তার নিজ দেশ পাকিস্তানের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নামক একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলেরও প্রতিষ্ঠাতা।[২] তিনি ছিলেন ২০ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম স্কলারদের মধ্যে একজন।[৩] তিনি ইতিহাসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ব্যক্তি যাহার গায়েবানা জানাজার নামাজ পবিত্র কাবাতে পড়া হয়।

মাওলানা মওদুদীর প্রভাব ছিল ব্যাপক। ইতিহাসবেত্তা ফিলিপ জেনকিন্সের মতে, মিসরের হাসান আল বান্না এবং সাইয়েদ কুতুব তার বই পড়ে অনুপ্রাণিত হন। সাইয়িদ কুতব তার কাছ থেকে আদর্শ গ্রহণ করেন এবং এটি আরো সম্প্রসারিত করেন। তিনি একটি অগ্রগামী ইসলামী বিপ্লবী দল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী জুরিস্ট আবদুল্লাহ আযযামও তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। দক্ষিণ-এশীয় জনগন (বিরাট সংখ্যক ব্রিটেন প্রবাসী সহ) মাওলানা মওদুদীর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। এমনকি শিয়া অধ্যুষিত ইরানেও মওদুদীর বড় ধরণের প্রভাব আছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ্ খোমেনী ১৯৬৩ সালে মাওলানা মওদুদীর সাথে সাক্ষাত করেন, পরবর্তীতে ইমাম খোমেনী মওদুদীর বইগুলো ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেন। এখনো পর্যন্ত প্রায়শঃই ইরানের ইসলামী সরকার মাওলানা মওদুদীর কর্মপন্থা অনুসরন করে থাকে। (“To the present day, Iran’s revolutionary rhetoric often draws on his themes.”)[৬] ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পর তিনি (মওদুদী) দ্বিতীয় চিন্তাবিদ যিনি আধুনিক বিশ্বে ইসলামী রাজনৈতিক চিন্তাধারা-কে প্রভাবিত করেছেন।

আজকে সারা দুনিয়ায় যে ইসলামের বিরাট উল্লম্ফন ও প্রভাব দেখা যাচ্ছে , তার জন্যে দুইটা সংগঠন মুলত: দায়ী- মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড ও জামাত এ ইসলাম। আবার এই দুইটা সংগঠনই মুলত: একই আদর্শ অনুসরন করে। মুসলিম ব্রাদারহুড মূলত: আরব ও পশ্চিমা দেশে ক্রিয়াশীল , জামাত ইসলাম এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রিয়াশীল।

অথচ ইসলাম কিছুমাত্র না জেনে , কিছু লোক কোন রকম কারন ছাড়াই জামাত ইসলামকে মওদুদিবাদ বলে আখ্যা দিয়ে বলে এর সাথে নাকি ইসলামের কোনই সম্পর্ক নাই। তো তাদের কাছে প্রশ্ন – তাই যদি হয়, ব্রাদারহুড বা ইরানের আয়াতুল্লাহ খোমেনি , কি কারনে মওদুদির কাছ থেকে ইসলামী আদর্শ গ্রহন করল ? আর কি কারনেই বা মওদুদির নামাজে জানাজা মক্কার কাবা ঘরে অনুষ্ঠিত হলো ?

মওদুদির বিরুদ্ধে একটা প্রধান অভিযোগ , সে নাকি বলেছিল , নবী মুহাম্মদও একজন মানুষ ছিল আর সে ও পাপী ছিল, সেও দোষ ত্রুটির উর্দ্ধে ছিল না। তাছাড়া তার সাহাবারাও পাপী ছিল।

মওদুদি কি মিথ্যা বলেছিল নাকি ? যারা জীবনে কোন দিন কোরান হাদিস খুলে দেখেনি সেই সব মূর্খরাই মওদুদিকে মিথ্যাবাদী বলতে পারে। কারন মওদুদি যা বলেছিল তা ছিল সহিহ কোরান হাদিস সম্মত। সেটা দেখা যাক –

সুরা আলমুমিন- ৪০: ৫৫: অতএব, আপনি সবর করুন নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আপনি আপনার গোনাহের জন্যে ক্ষমা প্রর্থনা করুন এবং সকাল-সন্ধ্যায় আপনার পালনকর্তার প্রশংসাসহ পবিত্রতা বর্ণনা করুন।

সুরা আল ফাতহ- ৪৮: ২: যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যত ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।

সুরা মুহাম্মদ- ৪৭: ১৯: জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। ক্ষমাপ্রার্থনা করুন, আপনার ক্রটির জন্যে এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্যে। আল্লাহ, তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত।

সুতরাং যেখানে খোদ কোরানই বলছে মুহাম্মদ পাপী ছিল , আর তারও বহু ত্রুটি বিচ্যুতি ছিল , সেখানে মওদুদি সেটাই যদি বলে থাকে , তাহলে সেটা কোরান হাদিস বিরোধী হয় কি করে ? মুহাম্মদ পাপী ছিল বলেই সে নিজেও জানত না যে আসলে সে নিজেই বেহেস্তে যেতে পারবে কি না। সেটা বলা আছে কোরানে –

সুরা আল আহকাফ- ৪৬: ৮: তারা কি বলে যে, রসূল একে রচনা করেছে? বলুন, যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করার অধিকারী নও। তোমরা এ সম্পর্কে যা আলোচনা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। আমার ও তোমাদের মধ্যে তিনি সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। তিনি ক্ষমাশীল, দয়াময়।

সুরা আল আহকাফ- ৪৬: ৯: বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

একই কথা বলা আছে হাদিসে –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৮ :: হাদিস ২৬৬
মূসা ইব্ন ইসমা‘ঈল (র) … খারিজা ইব্ন যায়েদ ইব্ন সাবিত (রা) বলেন, উম্মুল ‘আলা’ (রা) নামক জনৈক আনসারী মহিলা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে বায়‘আত করেন। তিনি বর্ণনা করেন, যখন মুহাজিরদের অবস্থানের ব্যাপারে আনসারদের মধ্যে লটারী অনুষ্ঠিত হল তখন উসমান ইব্ন মায‘উনের বসবাস আমাদের ভাগে পড়ল। উম্মুল ‘আলা’(রা) বলেন, এরপর তিনি আমাদের এখানে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমি তার সেবা শুশ্রূষা করলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ওফাত হয়ে গেল। আমারা কাফনের কাফড় পরিয়ে দিলাম। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এখানে তশরীফ আনলেন। ঐ সময় আমি ‘উসমান(রা)-কে লক্ষ্য করে বলছিলাম। হে আবূ সায়িব! তোমার উপর আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হোক। তোমার ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্নিশ্চয়ই তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তখন নবী করীম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কেমন করে জানলে যে, আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি তো জানিনা। (তবে তাকে যদি সম্মানিত করা না হয়) তবে কাকে আল্লাহ্সম্মানিত করবেন? নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম! ‘উসমানের মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! আমি তার সম্বন্ধে কল্যাণের আশা পোষণ করছি। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল হওয়া সত্তেও জানিনা আল্লাহ্ আমার সাথে কি ব্যাবহার করবেন। উম্মুল ‘আলা’(রা) বলেন, আল্লাহর কসম, আমি এ কথা শুনার পর আর কাউকে (দৃঢ়তার সহিত) পূত-পবিত্র বলব না। উম্মুল ‘আলা’(রা) বলেন, নবী করীম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এ কথা আমাকে চিন্তিত করল। এরপর আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, ‘উসমান ইব্ন মায‘উন (রা) এর জন্য একটি নহর প্রবাহিত রয়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট গিয়ে আমার স্বপ্নটি ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, এ হচ্ছে তার (নেক) আমল।

এই যদি হয় খোদ নবী মুহাম্মদের অবস্থা তাহলে তার সাহাবীরা যে ঘোর পাপী ছিল , তাতে কি আর কোন সন্দেহ আছে ? আর সেটাই মওদুদি তার কিতাবে বলে গেছে। তাহলে মওদূদির আদর্শ ইসলাম পরিপন্থি হয় কিভাবে ? আসলে মওদুদি ছিল মুহাম্মদের পর সব চাইতে খাটি সহিহ মুসলমান যে নাকি ইসলামের সঠিক ব্যখ্যা দিয়ে গেছে। অথচ কিছু মূর্খ বলছে , মওদুদি ছিল ইসলাম বিরোধী। আর তার প্রচারিত ইসলামকে বলছে মওদুদিবাদ। কি তাজ্জব কান্ড ! মতিউর রহমান নিজামি ছিল এই মওদুদির খাটি আদর্শ শিষ্য বা অন্য কথায় খাটি সহিহ মুসলিম। এমনই একজন খাটি মুসলমানকে বর্তমান সরকার ১৯৭১ সালের কৃতকর্মের জন্যে ফাঁসি দিল, এবার দেখা যাক , ১৯৭১ সালে নিজামি ইসলাম বিরোধী কোন কাজ করেছে কি না।

১৯৪৭ সালে ইসলামের ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠিত হয়। ইসলামের ভিত্তিতে মুসলমানরা একত্রিত হওয়ার পর যদি কিছু মুসলমান ভিন্ন আদর্শের কারনে পৃথক হয়ে যায় , তাহলে তাদেরকে মুনাফিক বলা হয়। মুনাফিকের শাস্তি হলো মৃতূদন্ড। ১৯৭১ সালে এসে কিছু লোক বাঙ্গালী জাতিয়তাবাদ, গনতন্ত্র , ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের আদর্শের নামে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করল। অথচ এর একটা আদর্শের সাথেও ইসলামের কোনই সম্পর্ক নেই। তাহলে ইসলাম বিরোধী আদর্শ নিয়ে বিভক্ত হয়ে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা ও তাদের সমর্থকরা মূলত: মুনাফিক হয়ে গেল। তারপর তারা গিয়ে বন্ধুত্ব করল পৌত্তলিক ভারতের সাথে। যা ছিল ইসলামের দৃষ্টিতে কঠিন অপরাধ। কোরানে বার বার করে পৌত্তলিক ও কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় খাটি মুসলমান নিজামীর কি করার ছিল ? অবশ্যই একজন খাটি ইমানদার মুসলমান হিসাবে পাকিস্তানের পক্ষে গিয়ে ইসলামকে রক্ষার জন্য জান প্রান লড়াই করা উচিত ছিল। ইসলামের জন্যে লড়াই করতে গিয়ে সকল রকম লুট তরাজ , নারী ধর্ষন, গনহত্যা সবই হালাল। স্বয়ং মুহাম্মদ ও তার সাহাবিরাই সেসব করে গেছে। নিজামি সেটাই করেছে মাত্র। তাহলে সে ইসলাম বিরোধী কাজ করল কি ভাবে ?

অথচ ইসলামের জন্যে লড়াই বা জিহাদের জন্যে লড়াই করার কারনে , সরকার আজকে প্রকৃত মুমিন ও জিহাদি নিজামিকে ফাঁসি দিল। এতে কি প্রমানিত হলো ? এতে কি এটাই প্রমানিত হলো না যে , ইসলাম আসলেই একটা ভূয়া ধর্ম ? কারন সরকারের কাছে মনে হয়েছে – ইসলামের নামে হলেও লুট তরাজ , নারী ধর্ষন , গনহত্যা ইত্যাদি সব কিছুই মারাত্মক অপরাধ। তথা ইসলামের বিধি বিধান আসলে কতকগুলি মারাত্মক অপরাধের সমষ্টি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “একজন সহিহ মুসলিমকে ফাঁসি দিয়ে সরকার প্রমান করল ইসলাম একটা ভূয়া ধর্ম

  1. না জামাত ও সহি মুসলিম নয়
    না জামাত ও সহি মুসলিম নয় কেননা ইসলামে নারী নেতৃত্ব হারাম । জামাতরা নারী নেতৃত্ব মেনে নিয়ে রাজনীতি করছে , তবে এটা যদি তাদের ইসলামী প্রতারণা হয় তা হলে ঠিক আছে । কেননা ইসলামে প্রতারণা করার বিধান আছে ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 3 =