সহিহ মুমিনেরাই কি প্রমান করল না যে ইসলাম একটা অসত্য ধর্ম ?

কোরান ও হাদিসের বক্তব্য , বেহেস্তে যাওয়ার সর্টকাট রাস্তা হলো শহীদ হওয়া। যে কেউ শহিদ হবে , সে বিনা বিচারে সোজা বেহেস্তে গিয়ে আকন্ঠ মদ পান করে ৭২ কুমারি নারীর সাথে বিরামহীন যৌন সম্ভোগ উপভোগ করবে। জামাতের নিজামি সহ আরও কিছু নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে, জামাতিরা সবাই বলছে তারা শহিদ হয়েছে। সুতরাং নেতাদের এত সর্টকাট রাস্তায় বেহেস্তে যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্যে সরকারের নামে দোয়া দরুদ পড়া উচিত তাদের। কিন্তু সেটা না করে তারা উল্টো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে জনগনকে ভোগান্তিতে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

সারা জীবন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া , রমজানে রোজা রাখা , নিয়মিত কোরবানী দেয়া সহ হজ্জ করলেও যে একজন বেহেস্তে যেতে পারবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। এমন কি নবী মুহাম্মদ যে নাকি ইসলাম চালু করে গেল তারও কোন গ্যারান্টি নেই যে সে বেহেস্তে যাবে। কোরান বলেছে-

আহকাফ- ৪৬: ৯: বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

অর্থাৎ মুহাম্মদ নিজেই জানে না , আল্লাহ তার সাথে কেয়ামতের মাঠে কিরূপ ব্যবহার করবে অর্থাৎ সে নিজেই বেহেস্তে যেতে পারবে কি না তার নিশ্চয়তা নেই। ঠিক একই কথা হাদিসে আছে , যেমন –
——————————————————————————————————
সহিহ বুখারী :: খন্ড ৫ :: অধ্যায় ৫৮ :: হাদিস ২৬৬
মূসা ইব্ন ইসমা‘ঈল (র) … খারিজা ইব্ন যায়েদ ইব্ন সাবিত (রা) বলেন, উম্মুল ‘আলা’ (রা) নামক জনৈক আনসারী মহিলা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাতে বায়‘আত করেন। তিনি বর্ণনা করেন, যখন মুহাজিরদের অবস্থানের ব্যাপারে আনসারদের মধ্যে লটারী অনুষ্ঠিত হল তখন উসমান ইব্ন মায‘উনের বসবাস আমাদের ভাগে পড়ল। উম্মুল ‘আলা’(রা) বলেন, এরপর তিনি আমাদের এখানে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমি তার সেবা শুশ্রূষা করলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ওফাত হয়ে গেল। আমারা কাফনের কাফড় পরিয়ে দিলাম। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এখানে তশরীফ আনলেন। ঐ সময় আমি ‘উসমান(রা)-কে লক্ষ্য করে বলছিলাম। হে আবূ সায়িব! তোমার উপর আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হোক। তোমার ব্যাপারে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্নিশ্চয়ই তোমাকে সম্মানিত করেছেন। তখন নবী করীম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কেমন করে জানলে যে, আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর কুরবান হোক। ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি তো জানিনা। (তবে তাকে যদি সম্মানিত করা না হয়) তবে কাকে আল্লাহ্ সম্মানিত করবেন? নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম! ‘উসমানের মৃত্যু হয়ে গেছে। আল্লাহর কসম! আমি তার সম্বন্ধে কল্যাণের আশা পোষণ করছি। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল হওয়া সত্তেও জানিনা আল্লাহ্ আমার সাথে কি ব্যাবহার করবেন। উম্মুল ‘আলা’(রা) বলেন, আল্লাহর কসম, আমি এ কথা শুনার পর আর কাউকে (দৃঢ়তার সহিত) পূত-পবিত্র বলব না। উম্মুল ‘আলা’(রা) বলেন, নবী করীম(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এ কথা আমাকে চিন্তিত করল। এরপর আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম যে, ‘উসমান ইব্ন মায‘উন (রা) এর জন্য একটি নহর প্রবাহিত রয়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) –এর নিকট গিয়ে আমার স্বপ্নটি ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, এ হচ্ছে তার (নেক) আমল।
————————————————————————————————–
এমন কি মুহাম্মদ কাউকে রক্ষাও করতে পারবে না , সেটা বলা আছে হাদিসে , যেমন —–

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫১ :: হাদিস ১৬
তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দাঁড়ালেন এবং বললেন, ‘হে কুরায়শ সম্প্রদায়! কিংবা অনুরূপ শব্দ বললেন, তোমরা (আল্লাহর আযাব থেকে) আত্মরক্ষা কর। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে বানূ আবাদ মানাফ! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে আববাস ইব্ন আব্দুল মুত্তালিব! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে সাফিয়্যা! রাসূলুল্লাহর ফুফু, আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহরাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। আসবাগ (র) ইব্ন ওয়অহব (র)……..আবূ হুরায়রা (রা) থেকে হাদীস বর্ণনায় আবুল ইয়ামান (র)-এর অনুসরণ করেছেন।
——————————————————————————————–

এই যখন অবস্থা , তখন জামাতের নেতারা এক এক করে ফাসির কাষ্ঠে ঝুলে শহিদ হয়ে সোজা বেহেস্তে চলে যাচ্ছে কোন রকম বিচার আচার ছাড়াই। এমন কি এমনও হতে পারে যে , হয়ত মুহাম্মদ নিজেই বেহেস্তে যেতে পারবে না বা তার যাওয়ার আগেই আমাদের জামাত নেতারা বেহেস্তে ঢুকে পড়ছে, একেবারে শর্ট কাট রাস্তায়। আর তাদের বেহেস্তে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছে আওয়ামী লিগ সরকার। তাহলে জামাতের উচিত , আওয়ামী লিগ সরকারকে ধন্যবাদ তো বটেই , দেশের সকল মসজিদে গিয়ে তাদের নামে দোয়া দরুদ পড়া। কিন্তু তা না করে ,তারা দেশ হরতাল ডেকে জন দুর্ভোগ বাড়ানোর অপচেষ্টায় ব্যস্ত। এর অর্থ কি ?

এর অর্থ কি এটাই যে – তারা আসলে জানে যে যারা ফাঁসির কাষ্টে গিয়ে শহিদ হচ্ছে , তারা আদৌ বেহেস্তে যাবে না ? অথবা বেহেস্ত বলেই আদৌ কিছু নেই বলেই তারা নিশ্চিত ? অর্থাৎ সোজা কথায় ইসলামের এইসব বেহেস্ত দোজখ সবই ভগিজগি ও ইসলামই আসলে একটা ভগিজগি অসত্য ধর্ম ?

সেটাই তো হওয়ার কথা , কারন আমরা জানি জামাতের নেতা কর্মিরা সবাই কোরান হাদিস নিয়মিত চর্চা করে , তারাই ভাল কোরান হাদিস জানে , আর তাই জানে প্রকৃত ইসলাম কি জিনিস। তাহলে কেন আমরা তাদের এই ধরনের স্ববিরোধী আচরন থেকে নিশ্চিত হবো না যে , ইসলাম আসলে অসত্য ধর্ম ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “সহিহ মুমিনেরাই কি প্রমান করল না যে ইসলাম একটা অসত্য ধর্ম ?

  1. না ইসলাম একটা অসত্য ধর্ম নয় ,
    না ইসলাম একটা অসত্য ধর্ম নয় , আসলে যারা হরতাল ডেকে জনগণকে কষ্ট দিচ্ছে তাদের ঈমান দণ্ড ততোটা শক্ত নয় , যেমন ছিল না হযরত লাদেনের , তিনি লক্ষ লক্ষ মমিন বান্দা ও বান্দি দেরকে শাহীদের মর্যাদা দেয়ার জন্য বিধর্মী দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন কিন্তু নিজের ঈমান দণ্ড শক্ত ছিল না বলে লুকিয়ে ছিলেন পাকিস্তান সেনানিবাসে ।
    যাদের ঈমান দণ্ড শক্ত তারা ঠিকই শহীদ হওয়ার জন্য লড়াই করে ও শহীদ হয়ে নিম্নের মর্যাদা ভোগ করে ।
    কেননা যেখানে দয়াল নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই এরশাদ করেছেন যে ,

    ‘যে মুসলমান আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে লড়াই করবে, কেবলমাত্র সেই-ই আল্লাহর পথে লড়াই করল’শহীদ বলা হয়। তাকে শহীদ এজন্য বলা হয় যে, সে জান্নাতে উপস্থিত হয়ে যায়। শহীদের মর্যাদায় আল্লাহ বলেন – وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ يُقْتَلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتٌ ۚ بَلْ أَحْيَاءٌ وَلَٰكِنْ لَا تَشْعُرُونَ [٢:١٥٤ অর্থাৎ আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়,তাদের মৃত বলো না বরং তারা জীবিত,কিন্তু তোমরা তা বুঝ না। (সুরা বাক্বারা : ১৫৩) শহীদের মর্যাদা এত বেশি যা রাসুলের হাদিসে প্রমাণ পাওয়া যায়-

    হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করার পর আর দুনিয়ায় ফিরে যেতে চাইবে না। যদি সে দুনিয়ার তামাম জিনিস পেয়ে যায়, তবুও না। অবশ্য শহীদের কথা আলাদা। সে চাইবে যে, তাকে দুনিয়ায় ফিরিয়ে আনা হোক এবং দশবার তাকে আল্লাহর পথে হত্যা করা হোক। এই কারণে যে, সে তার ইজ্জত ও সম্ভ্রম দেখতে পাবে। অন্য রেওয়ায়েতে এসেছে- সে এটা চাইবে এ কারণে যে, এভাবে সে শাহাদাতের ফজিলত দেখতে পাবে। (বুখারি ও মুসলিম)
    শহীদের বৈশিষ্ট্য
    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলার দরবারে শহীদের জন্য রয়েছে ৬টি বৈশিষ্ট্য-

    ক. প্রথম রক্ত বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং শহীদ ব্যক্তি জান্নাতে তার স্থান দেখে নেয়;
    খ. কবরের আজাব থেকে তাকে দূরে রাখা হয়;
    গ. বড় ভীতি অর্থাৎ, কিয়ামাতের কঠিন অবস্থা থেকে নিরাপদ থাকবে।
    ঘ. তাঁকে ঈমানের একজোড়া অলংকার পরানো হবে।
    ঙ. হুরদের সঙ্গে বিবাহ দেয়া হবে।
    চ. নিকট আত্মীয়দের থেকে ৭০ জন ব্যক্তিকে সুপারিশ করতে পারবে।
    সুতরাং ইচ্ছা হোক অনিচ্ছায় হোক, প্রত্যেক মানুষকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুসলিমাকে শহিদী মৃত্যু দান করুন। আমিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

35 + = 42