কোপাকুপির ঝালমুড়ি পপকর্ণ

(এটা স্রেফ ফ্ল্যাশব্যাক। অনন্ত বিজয় দাশ, কিংবা অনন্ত ইবনে রবীন্দ্র দাশ যেদিন নিহত হলেন, ভোর ভোর কতগুলো ফ্রেশ বাক্য ভিড় করেছিলো স্লেটে। মুড়িমুড়কির মতো লাশ পড়ে আজকাল রাস্তায়, খইয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে দুঃখেরা। সেগুলোই বিছিয়ে দিলাম নিচে)
১. গতকল্য অনন্তদা ব্যাংকে যাইতেসিলেন। পনেরো মিনিটে তিনি আড়াইশো গজ হাঁটিয়াছেন। ফ্রম সোয়া আটটা টু সাড়ে আটটা। এলাকা ওইসময় রিকশামুক্ত ছিলো। মাপজোকসহ খবরে প্রকাশ।

২. চারটি শার্ট প্যান্ট বোরখা যুবক দিনের আলোয় সিলেট শহরে চাপাতি হাতে ঘোরাঘুরি করিতেছিলো। তখনও কেউ ঘুম থেকে উঠে নাই। সাড়ে আটটার আগে ঘুম থেকে না ওঠার জন্য সারা শহরে নির্দেশ জারি করা হয়েছিলো। অর্ডারমাফিক সাড়ে আটটায় চক্ষু মেলিয়া অত:পর শহরবাসী বায়োস্কোপ দেখিতে লাগিলো।

৩. নিদ্রোত্থিত নয়নগুলি রাস্তার কাছাকাছিই ছিলো। অর্থাৎ, অণুবীক্ষণ কিংবা বায়নোকুলার দিয়ে খুনটা দেখতে হয়নি। দূর্ভাগ্যক্রমে রাস্তাটি তখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছিলো। মরুভূমি দিয়ে অনন্তদা দৌড়াচ্ছিলেন। কারও বাড়ি বা গুদামে ফস করে ঢুকে পড়ার কোনও সুযোগই ঘটেনি।

৪. রাস্তার লোকে কাল চিল্লাচিল্লিও করেনি। ওয়াশিকুরকে খুনের সময় দুই জঙ্গিকে তাড়া করা হয়েছিলো, কালকে সবাই যে যার জায়গায় অটল হয়ে বসে ছিলো। অথবা ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলো। কারও পা সরেনি। এতে শহরে পর্যাপ্ত মাঠ ময়দান না থাকার কুফল প্রমাণিত হয়। খেলাধুলার অভাবে সিলেটবাসী দৌড়াদৌড়ি ভুলে গ্যাছে। ঢাকার দীপিকার মোড়ের বাসিন্দারা অবশ্য দৌড়াদৌড়ি মনে রেখেছে। আপাতত সিলেটবাসীর ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ প্রয়োজন।

৫. তবে হলুদ হিমু নিধনের পর কালো র‍্যাবকে ডেকে আনতে এরা কসুর করেনি। কালো কাক র‍্যাব এসে কা কা করেছে, আর এলাকাবাসী খুন প্রত্যক্ষ করবার খুঁটিনাটিসহ মিঠা মিঠা তথ্য আর মিঠা মিঠা আলামতের মিঠা রুটির টুকরো ছড়িয়েছে।

৬. মুখঢাকা যুবকেরা কোথায় চম্পট দিয়েছে, তার কোনও হদিস মেলেনি। ফ্রম সোয়া আটটা টু সাড়ে আটটার পর তাদেরকে দ্যাখবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিলো।

৭. তথাপি লোকজন এত কিছু দেখে ফেলেছে যে তাদের দেয়া কালো কাপড়ের বিবরণ সম্বল করে র‍্যাব তল্লাশি শুরু করেছে। এমনকি খুনীদের গতিবিধিও তারা বলতে সক্ষম হয়েছে। শহরের প্রতিটি কাপড়ের দোকানে কালো কাপড়ের স্যাম্পল সংগ্রহ চলছে। এতে শাহজালাল মাজারের আশেপাশে কালো রুমাল বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।

৮. অনন্তদা যাচ্ছিলেন ব্যাংকে। সাথে টাকাকড়ি কত ছিলো, তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। ওই টাকাকড়ি চিতায় জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ভস্মগুলো আঠা দিয়ে জোড়া দেবার প্রয়াস চলছে।

৯. অনন্তদাকে ব্রেক দিয়ে দিয়ে কোপানো হয়েছে। পহেলা কোপটা পড়ে সুবিদবাজারের মেইন রোডে। কোন দিক থেকে কোন এঙ্গেলে কোপানো হয়েছে, সেটা দ্যাখবার জন্য তৃতীয় ব্যক্তি ওইখানে উপস্থিত ছিলো। পরের সিরিজ কোপগুলি পড়ে দিঘীরপাড়ে। চারটি যুবক তার আগ অবধি অনন্তদার নাগাল পায়নি। সিরিজ কোপসমূহ কিভাবে অনন্তদাকে ধরাশায়ী করেছে, সেটা দ্যাখবার জন্যও কেউ কেউ সেখানে ডিউটি দিচ্ছিলো। একটা দৃশ্যও মিস যায়নি।

অবলম্বনঃ epaper.prothom-alo.com/home/singleArticle/2015_05_13_1_7_b
১৩ মে ২০১৫, সকাল ১০:১৮

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

60 + = 68