সুকান্ত ভট্টাচার্য: এক অসমাপ্ত গানের বেদনা

সুকান্ত এক বিস্ময়। সুকান্ত তারুণ্যের প্রতিবাদী চেতনা। সুকান্ত বিপ্লব ও বেদনার কবি। সুকান্ত আমাদের অন্তস্থল স্পর্শ করে জাগিয়ে তোলা মানবতা। সুকান্ত সময়ের আগেই ঝরে যাওয়া এক অসমাপ্ত গানের বেদনা।

বাংলা কবিতায় সুকান্ত ভট্টাচার্যের মত এত অল্প বয়সে এত সমৃদ্ধ কবিতা কেউ উপহার দিতে পারেনি। আসলে, সুকান্ত যেন ছিলেন বয়সের তুলনায় পরিণত মননের অধিকারী এক কবি। যে সময়ে মানুষ কবিতা লেখা শুরু করে, ঠিক সেই সময়ের মধ্যেই তিনি এতসব চমৎকার ও হৃদয়স্পর্শী সব কবিতা উপহার দিয়েছেন যে, তার ২১ বছরের ছোট্ট জীবনকালও তার চিরস্মরণীয় হয়ে থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে সুকান্ত মহাপ্রস্থানে চলে গেলেও এই দুনিয়ায় কবি সুকান্তের যাত্রা থেমে থাকেনি। তার কবিতাগুলো আজও তারুণ্যকে ও মানবতাকে আলোকিত করে চলেছে। আর সুকান্ত, সুকান্তের জীবন, তার চিন্তা-চেতনা ও সৃষ্টির দিকে আলোকপাত করলে তার সম্পর্কে কোন বিশেষণই বিন্দুমাত্র অতিরঞ্জিত বলে মনে হয়না।

জন্মের কিছুকাল আগেই যেন কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনকুষ্ঠি লিখে রেখে গিয়েছিলেন শক্তিমান কথাসাহিত্যিক মনীন্দ্রলাল বসু। তৎকালীন জনপ্রিয় এই কথাকার মনীন্দ্রলাল বসুর বিখ্যাত ‘সুকান্ত’ গল্পের নামানুসারেই কবির জেঠতুতো বোন রাণীদি তাঁর নাম রেখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। কিন্তু নাটকীয়ভাবে হলেও সত্য যে, রাণীদির প্রিয় সেই ‘সুকান্ত’ গল্পের নায়কের মতোই কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যও যৌবনের প্রারম্ভেই যক্ষ্মারোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন এই নির্মম গল্পসত্যটা যদি আগেই আঁচ করতে পারতেন তাহলে রাণীদি হয়তো তাঁর নাম সুকান্ত রাখার বদলে দীর্ঘজীবী কোনো ব্যক্তির নামই বরাদ্দ করে রাখতেন। আজও সমগ্র বাংলা-সাহিত্যে ক্ষণজন্মা কবিদের নাম উচ্চারণ করা হলে সর্বাগ্রে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের নামটাই উচ্চারিত হয়। তিনি বিদেশী সাহিত্যের অকালপ্রয়াত কবি জন কীটস্, পার্শি বিশি শেলী এবং বাংলা সাহিত্যের ক্ষুদ্রায়ু কবি আবুল হাসান ও রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র চেয়েও অনেক কম সময় পৃথিবীর আলোছায়ায় হেঁটে বেড়িয়েছেন। কিন্তু আজও যেন আধুনিক বাংলা-কবিতার অস্থিমজ্জা জুড়ে লেপ্টে আছে সুকান্ত নামের এক কিশোর কবির শিল্পযজ্ঞের সুধা-সৌরভ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনে আশীর্বাদতুল্য নারীরূপে এসেছিলেন তাঁর জেঠাতো বোন রাণীদি (কারো কারো মতে রানুদি)। রাণীদির স্নেহের ছায়াতলে থেকেই শিশু-সুকান্ত বড় হতে থাকে। ছোট্ট সুকান্তকে পাশে বসিয়ে, কখনো বা কোলে তুলে নিয়ে রাণীদি তাকে শোনাতেন মজার মজার পৌরাণিক গল্প, বলতেন বড় বড় কবি-লেখকদের জীবনকথা আর সবসময় উৎসাহিত করতেন পড়াশোনা এবং লেখালেখির ক্ষেত্রে। প্রিয় সেই রাণীদি বিনা নোটিসে হঠাৎই একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। সুকান্তের মাথার উপর থেকে আচমকাই সরে গেলো বিশাল একটি ছায়া। সেটাই ছিলো বালক সুকান্তের জীবনে মারাত্মক একটা ধকল। দিদির মৃত্যুশোক সামলাতে না সামলাতেই চির মমতাময়ী মা’ও এক ফাঁকে চির বিদায় জানিয়ে তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন পরপারে।

এভাবেই একের পর এক প্রিয়জনের লাশ কাঁধে নিয়ে সুকান্তের অন্তর্মুখী মন এবং নিঃসঙ্গ কবিতার খাতাটি ধীরে ধীরে শাণিত হতে থাকে। তাই বন্ধুদের সাথে মিশে হল্লা করা, দল বেঁধে ফুটবলের পিঠে লাথি মারা কিংবা প্রিয়জনদের সাথে আনন্দ আড্ডায় মেতে ওঠা, এ জাতীয় কোনো স্মৃতিই তাঁর জীবনে আসেনি। নানান সময়ে রেডিও তরঙ্গের অনুষ্ঠানমালা শুনে, অথবা বাড়ি বাড়ি ঘুরে দাতব্য পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে কিংবা কোচিং ক্লাস খুলে বিনামূল্যে পাঠদানের ব্যবস্থা করে একাকিত্ব দূর করার চেষ্টা করলেও কবিতার আরাধনাতেই তাঁর কেটেছে জীবন, শুধুমাত্র কবিতাই তাঁকে দিয়েছে দুঃখ-কষ্ট আর নিঃসঙ্গতার হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার দাওয়াই-টনিক।

হয়তোবা সে কারণেই ২১ বছরের অনধিক (২০ বছর ৯ মাস ১০ দিন) আয়ুষ্কালে তার রচনাভাণ্ডারের বৈপ্লবিক কাব্যঝঙ্কার হাজার বছরের বাংলা কবিতার বেদীতে বিরাট এক ভূকম্পের অবতারণা ঘটিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এক একটি কবিতা সমাজের নিবিড়তম দর্পণ, মানবতার অমূল্য সংগীত এবং দ্রোহের অগ্নিলাভায় রূপান্তরিত হয়ে বার বার জাগ্রত করে রেখেছে বাঙালি জাতির চেতনাকে। তাঁর কাব্যে যুদ্ধ-নিপীড়ন, দুর্ভিক্ষ, রক্তপাত, অনৈক্য এবং স্বাধীনতা প্রত্যাশী গণমানুষের কথাই বার বার উঠে এসেছে যা চল্লিশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার ছায়াপাতও বলা চলে, যেমনটি আমরা দেখতে পাই তার ‘অনুভব’ কবিতাটিতেঃ

‘অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি
জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি।
অবাক পৃথিবী! আমরা যে পরাধীন
অবাক, কী দ্রুত জমে ক্রোধ দিন দিন;
অবাক পৃথিবী! অবাক করলে আরো
দেখি এই দেশে অন্ন নেইকো কারো।
অবাক পৃথিবী! অবাক যে বারবার।
দেখি এই দেশে মৃত্যুরই কারবার।
হিসেবের খাতা যখনি নিয়েছি হাতে
দেখেছি লিখিত’রক্ত খরচ’ তাতে।”
[অনুভব, ছাড়পত্র]

সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন ইংরেজ শাসিত পরাধীন রাষ্ট্র-যন্ত্রের তথা অবিভক্ত ভারতবর্ষের একজন দুর্বার কবিতাসৈনিক। বৃটিশ ভারতের পরাধীন জাতিগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক দৈন্যদশা, মানবিক বিপর্যয়, ভুলুণ্ঠিত অধিকার, মানবতার অবক্ষয়, দুর্বৃত্তপনা এবং দুর্বলের উপর সবলের দমনরীতি ইত্যাদি মূর্তছায়ারূপে তাঁর এক একটি কবিতায় ঝলক দিয়ে উঠেছে।

বিশ শতকের সর্বপ্রধান অসাম্প্রদায়িক কবি এবং বিদ্রোহী কবিতার জনক কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্য দুজনই হয়ে উঠলেন ইংরেজবিরোধী শক্তির দুই প্রান্তের দুজন দুঃসাহসী কলমী-সেনাপতি। নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার আগুনকে আরো উস্কে দিতে শুরু করেছিলো কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার ঝড়। তাঁর সরল কথার শক্তি তলোয়ারের চেয়েও তীক্ষ, সাপের জিহ্বার চেয়েও ভয়ঙ্কর। স্বাধীনতাকামী জাতিকে তাঁর কবিতা স্বপ্ন দেখানোর নিরন্তর উৎসাহ জুগিয়েছে বারবার। অপশক্তির নির্মমতায় বার বার জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার হওয়া এ জাতিকে তিনি আবিষ্কার করেছেন অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা এবং নীতির পদস্খলন না ঘটানো আর বুকটান করে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা দুঃসাহসী বীরের প্রতীকরূপে, যা আমরা দেশতে পাই তার ‘দুর্মর’ কবিতায়ঃ

”সাবাস, বাংলা দেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয় :
জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।”
[দুর্মর, পূর্বাভাস]

ভারতবর্ষের সংগ্রামক্লান্ত এবং শান্তিপ্রিয় মানুষ যখন দেশী-বিদেশী চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রমুখর অপশক্তির সাথে লড়তে গিয়ে কিছুটা ভেঙ্গে পড়ার যোগাড় হয়েছিলো তখন তাদের হতাশাগ্রস্ত মনকে চাঙ্গা করে তুলেছিলো সুকান্তের কবিতা। কেউ যেন হতাশায় ভেঙ্গে না পড়ে শত দুঃখ-দুর্দশা এবং কষ্ট হজম করে, সেজন্যে নিরুদ্বেগ আর সুতীক্ষ চিত্তে নিজেদের ঐক্যবদ্ধতার শক্ত প্রাচীরের কথা জানান দিয়ে অসুর শক্তিকে বার বার হুঁশিয়ারি করে দিয়েছেন তিনি। স্বাধীনতাকামী মানুষকে দিয়েছেন নতুন উদ্যমে জেগে ওঠার দুরন্ত সাহস।

”বন্ধু, তোমরা ছাড়ো উদ্বেগ, সুতীক্ষ করো চিত্ত
বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত।”
[উদ্যোগ, পূর্বাভাস]

সুকান্ত ভট্টাচার্য নিজেকে কোলাহলপ্রেমী একজন জনতার কবি হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর জেঠতুতো দাদা রাখাল ভট্টাচার্যের স্ত্রীকে লেখা একটি পত্রের মধ্যে সে কথার সত্যতা পাওয়া যায়। পত্রের একাংশে তিনি লিখেছেন ‘আমি কবি বলে নির্জনতাপ্রিয় হবো, আমি কি সে ধরনের কবি? আমি যে জনতার কবি হতে চাই। জনতা বাদ দিলে আমার চলবে কী করে?…সুতরাং সঙ্কোচের বিহ্বলতা নিজের অপমান।’ তাই তিনি সারাজীবন লিখে গেছেন সাধারণ মানুষের কথা। নেমেছেন জনতার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। ফলে তাঁর সহজ ভাষার সাঙ্কেতিক স্রোত, ক্ষোভমাখা পঙ্ক্তির বহুব্রীহি ব্যঞ্জনা এবং ক্ষুদ্রবস্তুর শ্লেষমাখা উপমাস্নিগ্ধ কবিতাগুচ্ছ হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের ভাস্কর, মানবতার ছাড়পত্র। সামান্য ‘দেয়শলাই কাঠি’র প্রতীকে তিনি নীরবে নিভৃতে অবহেলায় পড়ে থাকা ক্ষুদ্রজাতিগোষ্ঠীর যে ভয়ঙ্কর হুঙ্কারের চিত্রোচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন তা’ নিঃসন্দেহে তুলনারহিত। বিন্দুজলে যে সিন্ধুর প্লাবন সৃষ্টি হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি কাব্যিক ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন বহুবারঃ

”আমি একটা ছোট্ট দেশলাইয়ের কাঠি
এত নগণ্য, হয়তো চোখেও পড়ি না;
তবু জেনো
মুখে আমার উসখুস করছে বারুদ
বুকে আমার জ্বলে উঠবার দুরন্ত উচ্ছ্বাস;
আমি একটা দেশলাইয়ের কাঠি।

মনে আছে, সেদিন হুলুস্থুল বেঁধেছিল?
ঘরের কোণে জ্বলে উঠেছিল আগুন
আমাকে অবজ্ঞাভরে না-নিভিয়ে ছুঁড়ে ফেলায়!
কত ঘরকে দিয়েছি পুড়িয়ে,
কত প্রাসাদকে করেছি ধূলিসাৎ
আমি একাই ছোট্ট একটা দেশলাই কাঠি।”
[দেশলাই কাঠি, ছাড়পত্র]

পৃথিবী একটা কৃত্রিম ডাস্টবিন। তার ছায়াতলে অসংখ্য মনুষ্য জঞ্জালে ভরপুর। এখানে নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণতম একজন ব্যক্তির নিরাপত্তার কথাও চিন্তা করা দুষ্কর। মানবরূপী পশুদের কাছে পৃথিবীর শিশুরা এখন আর নিরাপত্তা পাচ্ছে না। বিভিন্ন জঙ্গীবাদী এবং তালেবানী আর ইসরাইলের মতো বর্বর রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালেই সেই চিত্রগুলো এখনো আমাদের চোখের সামনে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। অথচ প্রত্যেক শিশুই জন্মচিৎকারে নিজের নিরাপত্তা এবং স্বীয় অধিকার আদায়ের দাবি জানিয়েই কেঁদে উঠে আঁতুড়ঘরে। সেই সত্যটি সুকান্ত ভট্টাচার্য অনেক আগেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাই পৃথিবীকে তিনি নবজাতকের বাসযোগ্য করে যাওয়ার জন্যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও এই জীর্ণ পৃথিবীর ধ্বংস্তূপে দাঁড়িয়ে থেকে আগামীর অনাগত শিশুর জন্যে বাসযোগ্য একটা বিশুদ্ধ আবাসন নির্মাণ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি জানতেন রক্তের পিছনে ডাকবে সুখের বান। তাই নিজের রক্তফোঁটায় আসন্ন শিশুকে আশীর্বাদ করার প্রত্যাশার কথা কবি পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে গাঁথা রেখেছেনঃ

‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;

জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে

চলে যেতে হবে আমাদের।

চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,

এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি

নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

[ছাড়পত্র, ছাড়পত্র]

সুকান্তের অনেক কবিতাই বৈশ্বিক চেতনাঋদ্ধ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটসিদ্ধ। তবে সমাজতান্ত্রিক চেতনায় বেড়ে ওঠা এই কবির প্রতিটি কবিতার পরতে পরতে যেন ক্ষুধার্ত ও শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে আছে। কবিতার অন্তঃপ্রাণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে কাব্যিকতা যেন বিলাসিতা। সাধারণ গদ্যময় জীবন ব্যবস্থাই তথা দুবেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার লড়াইটাই বেশি গুরুত্ববহ। তাই ধবলস্নিগ্ধ পূর্ণিমার চাঁদকে তিনি ক্ষুধার্ত মানুষের রুটির অবয়বে নির্মাণ করে সবাইকে বিস্মিত করে দিয়েছেন।

‘প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময় :
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

[হে মহাজীবন, ছাড়পত্র]

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য দীর্ঘজীবন পাননি, কিন্তু পেয়েছেন কাব্য-সাফল্যময় এক প্রসারিত জীবন। কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় যে বিদ্রোহী চেতনা জ্বালিয়ে রাখতেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য যেন সেই বিষয়টাকেই দিয়েছিলেন আধুনিকতর মাত্রা। কেননা, নজরুলের কবিতায় কিছুটা ভাবগাম্ভীর্য্য থাকতো; অপরদিকে সুকান্তের কবিতা ছিল আগাগোড়াই আধুনিক – ’৮০ বা ’৯০-এর দশকে শামসুর রহমান, রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বা নির্মলেন্দু গুণ যে ধারায় কবিতা লিখতেন, সুকান্তের কবিতা তার থেকে ভিন্ন কিছু ছিলোনা। বিপ্লবী কবিতার দিক থেকে তিনি যেন ছিলেন একজন নজরুল; আর বেদনার কবিতার দিক থেকে তিনি যেন ছিলেন জীনবানন্দ দাশেরই এক প্রতিমূর্তি। তাইতো, আজকের দিনের তরুণদের মধ্যে যাদের কবিতায় বিদ্রোহ প্রকট, যাদের কবিতায় বেদনা প্রচ্ছন্ন, তাদের অনেকেই যেন সুকান্তকেই তাদের আইডল বা গুরু মানেন। তাদের কাছে সুকান্ত পরম আরাধ্য, চিরস্মরণীয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

33 − 29 =