মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিঃ মতাদর্শের মানচিত্র, ও রক্তধারার রাজনীতি

Leon Trotsky — ‘The end may justify the means as long as there is something that justifies the end.’

মধ্যপ্রাচ্যকে বধ্যভূমিতে পরিণত করার ক্ষেত্রে ইঙ্গ-ফরাশি উপনিবেশবাদী ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের যে প্রত্যক্ষ ভূমিকা আছে একমাত্র কানা ছাড়া আর সবারই তা চোখে পড়ার কথা। সেই সুদীর্ঘ ইতিহাসের বিস্তারিত বর্ণনায় আমি যাবো না, সংক্ষেপে এটুকু বলি, ইঙ্গ-ফরাশি উপনিবেশবাদীরা ‘স্বাধীনতা’ প্রদানের নামে সাইকস-পিকো চুক্তি করে বার্থডে কেক কাটার মতো যেভাবে জাতি-রাষ্ট্র তৈরি করেছিলো সেটাই বিষবৃক্ষের বীজ বপন করে দিয়েছিলো। আয়রনিটা হচ্ছে, আজকে আইসিসের মতো জঙ্গি সংগঠন, সেই সীমারেখাগুলো মুছে মধ্যপ্রাচ্যকে প্রাক-উপনিবেশিক সময়কার রাষ্ট্রহীন চেহারা দিতে চাচ্ছে। ফলে, অনেকের কাছে তাদেরকে উপনিবেশবাদবিরোধী মনে হতে পারে, রজ্জুতে সর্প ভ্রম হওয়ার মতো। মূলত নয়া-রক্ষণশীল তাত্ত্বিক স্যামুয়েল হান্টিংটন সাহেবের বিষাক্ত “ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশনস থিওরি”, যা পুঁজির স্বার্থে সাম্প্রদায়িকতা ছাড়া আর কিছুই নয়, এরকম একটা ধারণা তৈরি করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি-নাসারা-মুসলমান ইত্যাকার “সভ্যতার” মধ্যে একটা ধর্মযুদ্ধ চলছে। বাট ইট ইজ নট সিম্পল অ্যাজ দ্যাট। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল পরিস্থিতি বুঝতে হলে আপনাকে সেখানকার রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মতাদর্শগত ও আন্তঃসম্প্রদায়গত বিভাজনের দিকে নজর দিতে হবে।

১. সাহেব বিবি গোলাম

মধ্যপ্রাচ্যের একটা রাজনৈতিক শক্তি হচ্ছে সুন্নী রাজতন্ত্র। এরা ব্যতিক্রমবিহীনভাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ভাড়া খাটে, ইজরায়েলের প্রতি সাধারণভাবে মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতিবাচক ধারণার ফলে মুখে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে রেটোরিকের চর্চা করলেও, তলে তলে এরা ইজরায়েলের স্বার্থ বাস্তবায়ন করে। এই ব্লকের লিডিং স্টেট হচ্ছে সৌদি আরব। এদের মূল ইনকামের সোর্স হচ্ছে তেল বেচা, আর সৌদি আরবের ক্ষেত্রে হজ-কেন্দ্রিক ব্যবসাও। তেলের বিনিময়ে এরা প্রচুর অস্ত্র কিনে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছ থেকে, সেই অস্ত্র নিজ ও প্রতিবেশী দেশের ভিন্নমতাবলম্বীদের দাবিয়ে রাখতে ব্যবহৃত হয়, বাহরাইনে শিয়া বিদ্রোহ দমন করার জন্য সৌদি আরবের সৈন্য পাঠানো আর ইয়েমেনে শিয়া বিদ্রোহ ঠেকাতে বোমা হামলা সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। এরা শরমিকদেরকে স্রেফ পশু হিসেবে ট্রিট করে, নেপাল বা বাংলাদেশের শ্রমিকদেরকে, ঘেঁটোর মতো এলাকায় থাকতে বাধ্য করে। শুধুমাত্র জুমার দিনে শ্রমিকদেরকে বাজারসদাই করার সুযোগ দেয় এরা, অথচ, অইদিন এইসব দেশের সব মার্কেট বন্ধ থাকে। কি নির্মম রসিকতা! কিন্তু এরা সুন্নী, মুসলমানদের অধিকাংশই সুন্নী, তাই এদের প্রতি মুসলমানদের একটি অংশের অদ্ভূত আকর্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। তবে অটোমান খেলাফতের নস্টালজিয়ায় আচ্ছন্ন সুন্নী মুসলমানদের যেই অংশটি তারা আবার এদেরকে দুই চোখে দেখতে পারে না। এই আকর্ষণ টেকানোয় অসামান্য ভূমিকা রাখে জামায়াতে ইসলামি, এবং রাবেতার মতো জামাতি প্রতিষ্ঠানগুলো। সারা পৃথিবীতে মাদ্রাসাগুলোতে এরা মতাদর্শিকভাবে অনুপ্রবেশ চালাচ্ছে। আমাদের এখানে আলিয়া মাদ্রাসাগুলো এঁদের মতাদর্শিক ঘাঁটি। ক্বওমি মাদ্রাসাগুলো অটোমান আর মুঘল এম্পায়ারের “পূন্য স্মৃতির” প্রতি কাতর হওয়ায় এঁদের প্রতি বিতৃষ্ণা পোষণ করতো, কিন্তু ইদানিং, ক্বওমিতেও এরা মতাদর্শিকভাবে অনুপ্রবেশ করছে। মহামূল্যবান তেল বেচে পাওয়া পেট্রোডলার দিয়ে জঙ্গিবাদে মদদ দেয়া এদের মেলা পুরাতন অভ্যাস। ফিলিস্তিন ইস্যুতে এদের ভূমিকা নির্লজ্জকেও লজ্জায় ফেলবে। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গণবিরোধী রাজনৈতিক শক্তি হচ্ছে এরা।

২. আমরা সেই সে জাতি

এদের বিপরীতে আরো একটা রাজনৈতিক শক্তি আছে। সেইটা আরব জাতীয়তাবাদ। মতাদর্শিকভাবে এইটা আমাদের এইখানকার বাঙালি জাতীয়তাবাদের মতো। ইরাক ও সিরিয়ার বাথ পার্টি এর প্রতিনিধি। তুর্কি আর ইরানিরা জাতিগতভাবে অনারব, কিন্তু, অটোমান আর সাফাভিদ এম্পায়ারের পতনের পর সেখানেও একটা জাতীয়তাবাদ দ্যাখা দেয়। তুর্কি জাতীয়তাবাদের রিপ্রেজেন্টেটিভ আতাতুর্ক, ইরানি জাতীয়তাবাদের মোসাদেগ। এদের সবার মধ্যে মিলের জায়গাটা হচ্ছে সেকুলারিজম। এবং, দুর্ভাগ্যবশত, স্বৈরাচার (ইরানের মোসাদেগের কেইসটা আলাদা)। সারা দুনিয়াতেই জাতীয়তাবাদীদের একটা সমস্যা হচ্ছে, এরা জাতি বলতে বোঝেন, নিজেদেরকে আর নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও/বা সম্প্রদায়ের লোকজনকে। দীর্ঘদিন এরা ক্ষমতায় থেকেছেন, কিছু উন্নয়নও করেছেন, সেই উন্নয়নের সুফল পেয়েছে ওপরতলার মানুষেরা। নিচের দিকে অসহায়তার আক্রোশ জমেছে, যার সাথে যুক্ত হয়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য-দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি, এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ণ। ২০০৩য় ইরাকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা আক্রমণ চালিয়ে আমাদের সময়ের নিকৃষ্টতম গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ করেছে, এই কারণে অনেকেই সাদ্দামের সাথে সিমপ্যাথিসাইজ করেন, অথচ ভুলে যান সাদ্দাম মার্কিন মদদে আশির দশকে ইরানে আক্রমণ চালিয়েছিলো এবং কুর্দিদেরকে নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করে খুন করেছিলো। তখন খোমিনী খলনায়ক ছিলো আর সাদ্দাম নায়ক। এই অংশটার সাথে আমি সিমপ্যাথিসাইজ করি না। তবে এদের দোহাই দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, যেটাকে সো-কল্ড হিউম্যানিটারিয়ান ইন্টারভেনশনের কাভারে লিবিয়ায় গাদ্দাফির বিরুদ্ধে ন্যাটো আর সিরিয়ায় আসাদের বিরুদ্ধে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি চালাচ্ছে, সেটাকেও সমর্থন করি না। তুরস্ক আর মিশরে এই জাতীয়তাবাদ সমরবাদের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, মিশরের সেনাবাহিনী সবচে বেশি অর্থ পায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছ থেকে, ইজরায়েলের প্রতি এদের প্রেমটা কাকতালীয় নয়। নয়া পুঁজিবাদী রাশিয়া আর চীন নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে এদের সাথে সুসম্পর্ক রাখে, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই, সেটা আসলে লিপ সার্ভিস ছাড়া আর কিছুই না।

৩. মাই নেইম ইজ রেড

আরেকটা রাজনৈতিক শক্তি, এখন দুর্বল, হচ্ছে কমিউনিস্টরা। ইরাক, সিরিয়া, ইরান এসব দেশে বিশাল ও ব্যাপক সামাজিক ভিত্তি-সম্পন্ন কমিউনিস্ট পার্টি ছিলো। এমনকি ইজরায়েলেও কিন্তু একটা কমিউনিস্ট পার্টি আছে, এডওয়ার্ড সাঈদ যৌবনে যেই পার্টির মেম্বার ছিলেন, এখন অবশ্য এদের অধিকাংশ নেতাই রাজনৈতিক কারণে জেল খাটছে (ইজরায়েলে যা হওয়ার কথা!)। ক্যানো এই পার্টিগুলো কিছু করতে পারলো না? আরব জাতীয়তাবাদীদেরকে এরা “ন্যাশনাল বুর্জোয়া” হিসেবে দেখে তাদের সাথে “গণতান্ত্রিক ঐক্য” করেছে, এদের সংগঠন শুষে জাতীয়তাবাদীদের পার্টি পুষ্টি লাভ করেছে, তারপর এক সময় এদের ওপর ভয়াবহ অত্যাচার করে জাতীয়তাবাদীরা এদেরকে প্রায়-নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে। ইরানে সিআইএ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মোসাদেগ সরকারের পতন ঘটিয়েছিলো, সেখানে রেজা শাহ পাহলবির স্বৈরাচারী শাসন সরাসরি মদদ পেয়েছে মার্কিনীদের, তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ইরানের মস্কোপন্থী তুদেহরা মোল্লাদেরকে “কৌশলগত সমর্থন” দিয়েছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি “বিপ্লবের” পরমুহূর্তেই মোল্লারা ঋণ শোধ করেছে কমিউনিস্টদেরকে কচুকাটা করে, লেসন শুড বি টেকেন, ভুলভাল লোকজনের সাথে কৌশল মারাতে হয় না। “বিপ্লবের” পূর্বাপরে মাওবাদী সার-বেরাদারান সশস্ত্র সংগ্রাম করে মোল্লাতন্ত্রকে উৎখাত করার একটা এটেম্পট নিয়েছিলো, কিন্তু, টিকতে পারে নাই। ১৯৭৯র জায়গায় ১৯৭১, মোল্লাতন্ত্রের জায়গায় আওয়ামী লীগ, তুদেহের জায়গায় সিপিবি, আর সার-বেরাদারানের জায়গায় সর্বহারা পার্টি বসিয়ে নিয়ে পড়লে বুদ্ধিমান পাঠকপাঠিকাদের গা শিরশির করে ওঠার একটা সম্ভাবনা আছে। কমিউনিস্টদের ব্যর্থতার একটা কারণ এই লেজুড়বৃত্তির মনোভাব, আরব দেশগুলো জাতীয়তাবাদীদের, আর ইরানে মোল্লাতন্ত্রের। আরেকটা কারণ নিজেদের ও জনগণের ওপর অনাস্থা। আর সাম্রাজ্যবাদীদের নানা ধরণের ষড়যন্ত্র তো ছিলোই। আজকে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে জঙ্গিবাদ ব্যাপক জনপ্রিয়, এককালে এসব দেশেই কমিউনিস্ট আন্দোলন ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলো, জর্মন ইহুদি মার্কসবাদী তাত্ত্বিক ওয়াল্টার বেনজামিন খামাখাই “ফ্যাসিজম ইজ দা কনসিকোয়েন্স অফ আ ফেইল্ড রেভল্যুশন” কথাটা বলেন নাই।

৪. জয়নবের ডাকে সারা দাও

ইরানের মোল্লাতন্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের একটা ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক শক্তি। এদের উত্থানের কারণ অনেকগুলোঃ ইরানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের বিনাশ, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদপুষ্ট স্বৈরাচারের প্রতি জনগণের ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভ, কমিউনিস্টদের মতাদর্শিক মতিভ্রম ইত্যাদি। আরেকটা কারণ হচ্ছে হিস্টোরিকালি সেই উমাইয়া খেলাফতের সময় থেকেই সুন্নী আরবদের শিয়া ইরানিদের প্রতি আন্তঃসাম্প্রদায়িক বিতৃষ্ণা, এবং, শুহাদানে কারবালার কারণে হুসাইন ইবনে আলীকে বিপ্লবী হিসেবে দ্যাখার প্রবণতা। আয়াতোল্লাহ রুহুল্লাহ খোমিনী ধূর্ত ছিলেন, রেজা শাহ পাহলবির স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে তিনি শুরুতে প্রায় কমিউনিস্টদের ভাষায় সমালোচনা করতে থাকেন, এবং মেহনতি মানুষের একটা বড়ো অংশকে আকৃষ্ট করতে ও কমিউনিস্টদের কনফিউজড করতে সক্ষম হন। বিপ্লবের পরেই অবশ্য আসল চেহারায় আবির্ভূত হন। ইরান ফরেন পলিসির ক্ষেত্রে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিপরীতে একটা অবসথান নেয় ঠিকই, কিন্তু, এর অর্থনীতি কিন্তু পুরোপুরি পুঁজিবাদী। আজকে রেভল্যুশনারি গার্ড কিন্তু কোনো প্রলেতারিয়ান আর্মি না, এটা, রক্ষীবাহিনীর মতোই একটা এলিট ফোর্স যা অত্যন্ত ধনী। সুন্নী রাজতন্ত্রের সাথে ইরানের মোল্লাতন্ত্রের দ্বন্দ্ব আছে। এর বহিঃপ্রকাশ সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনে দেখলাম আমরা। লেবাননে ইজরায়েলি আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে হেজবোল্লার জন্ম হয়, এর পেছনে আছে ইরানের ব্যাপক ব্যাকিং। সুন্নী আইসিসের সাথে শিয়া হেজবোল্লার লড়াই সর্বজনবিদিত। সিরিয়ার আসাদ আলাওয়ি শিয়া হওয়ার কারণে তার রেজিম ইরানের শিয়া মোল্লাতন্ত্রের সমর্থন পায়। ইরাকে সাদ্দামের ‘রেজিম চেইঞ্জ’ করার পর মার্কিনীরা নূরী আল মালিকির পাপেট সরকার বসায়। মালিকির ডান হাত হচ্ছে মুকতাদা আল সদর, যার জাইশে মেহেদি, ইরাকের সুন্নী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে অত্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়েছে। আজকে ইরাকের এইসব গ্রামের সূন্নী তরুণদের একটা অংশ আইসিসে যোগ দিচ্ছে যে, তার পেছনে পরকালে হুরপরী পাওয়ার লোভ কতোটা কাজ করে আমি এই ব্যাপারে শিওর না, তবে ইহকালে এই শিয়া মিলিশিয়াদের হাতে অত্যাচারিত হওয়ার কারণে প্রতিহিংসার স্পৃহা যে ভালোই কাজ করে এই ব্যাপারে আমি মোর দ্যান শিওর। এবং এই মালিকী মুকতাদাদেরকে ইরান সমর্থন করে।

৫. টার্টলস ক্যান ফ্লাই

আরেকটা রাজনৈতিক শক্তি আছে, সেটা হচ্ছে, কুর্দিদের। অটোমান খেলাফতের সময় তুর্কি-কুর্দি যৌথ শাসনের অধীনে ছিলো আরবরা, সেই সময় থেকেই কুর্দিদের প্রতি আরবদের একটা বিতৃষ্ণা আছে, বিতৃষ্ণাটা শোষকের প্রতি শোষিত মানুষের। সাইকস-পিকো চুক্তি শুধু নতুন মানচিত্রই বানায় নাই, শোষক আর শোষিতের অবস্থানেও পরিবর্তন এনেছে। উপনিবেশবাদী পরিস্থিতিতে জন্ম নেয়া জাতীয়তাবাদের একটা শত্রু লাগে, তুর্কি আর আরব দুই জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রেই শত্রু বানানো হয় কুর্দিদেরকে, তুরস্কের ক্ষেত্রে অবশ্য আর্মেনিয়ানরাও ছিলো। জেনোসাইড শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন হ্যান্স মর্জেনথু, যিনি তুরস্কে ইউএস এম্বাসেডার ছিলেন, আর্মেনিয়ানদের কচুকাটা করার মাধ্যমে বিশ শতকের তুরস্ক তার যাত্রা শুরু করে। কুর্দিদের অসহায় অবস্থাটাকে ‘৪৭এর পরে বাংলাদেশে থেকে যাওয়া হিন্দু আর ‘৭১এর পরে আটকে পড়া উর্দুভাষী বিহারীদের সাথে কমপেয়ার করে দেখলে বুঝতে সুবিধা হবে। কুর্দিরা প্রায় একশ বছর ধরে স্বাধীন কুর্দিস্তান কায়েম করতে চাইছে, এঁদের মধ্যে একটি অংশ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদে গণতান্ত্রিক কুর্দিস্তান কায়েম করতে চায়, আর অপর অংশটি মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী হিসেবে শুরু করলেও পরে নৈরাজ্যবাদী হয়ে নৈরাষ্ট্রিক স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক কুর্দিস্তান কায়েম করতে চায়। এই দ্বিতীয় গ্রুপটিই কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বলে পরিচিত, ৯/১১-কালে, এরা ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের টেরোরিস্ট তালিকায় ছিলো। আজকে এরা লড়াই করছে আইসিসের সাথে, তুরস্কের এরদোগানের কাজ, আইসিস খতমের কথা বলে এদের ওপর বোমাবর্ষণ করা। সাদ্দামের ইরাক এদের কয়েক লক্ষকে রিফিউজি করেছিলো, নার্ভ গ্যাস দিয়ে এদের হত্যা করেছিলো। ইরান এদের প্রতি কিছুটা সিম্প্যাথেটিক, শিয়াদের সাথে কুর্দীদের ধর্মতত্ত্বগত নৈকট্যের কারণেই সম্ভবত, কিন্তু ইরানের সিম্প্যাথি মূলত মৌখিক। আইসিস পণ করেছে এদের নিশ্চিহ্ন করে ছাড়বে। এদের সন্তান আয়লান তুরস্কের সমুদ্রকূলে মুখ থুবড়ে পড়ে থেকে নিলুফার সেমিরের আলোকচিত্র হয়।

৬. মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই

আরেকটা রাজনৈতিক শক্তি আছে, মধ্যপ্রাচ্যে, মুসলিম ব্রাদারহুড। মিশরের তরুণ স্কুল শিক্ষক হাসান আল-বান্না সোসাইটি অফ মুসলিম ব্রাদারস নামে একটা সংগঠন খোলেন ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী সময়ে। শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিলো এরা, এদের কাজ ছিলো ক্রিশ্চান মিশনারিদের মতো, স্কুল করা বা হসপিটাল বানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ইজরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বান্না ব্রাদার্সদেরকে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য জিহাদ করার ডাক দেন, এবং, প্রথমবারের মতো এরা সশস্ত্র সংগ্রামের দিকে যায়। মিশরের আরব জাতীয়তাবাদী শাসক গামাল আবদেল নাসের ‘স্টেট উইদিন আ স্টেট’ হওয়ার অপরাধে এদেরকে নিষিদ্ধ করেন, পরে অবশ্য, সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। নিষিদ্ধকালীন সময়ে নাসেরের নির্যাতন শিবিরে মুসলিম ব্রাদারহুডের কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়, বিশেষত, নারী কর্মীদের ওপর। মুসলিম ব্রাদারহুডকে নাসেরকে নয়া-ফেরাউন হিসেবে চিহ্নিত করে। নির্যাতন শিবিরের অত্যাচারের সংবাদ সারা দুনিয়ায় পোঁছালে কিছুটা মানবিক, এবং অনেকটাই সম্প্রদায়গত, কারণে মুসলিম ব্রাদারহুড ব্যাপক সহানুভূতি পায় সুন্নী মুসলমানদের মধ্যে। ব্রাদারহুডের তাত্ত্বিক নেতা সাঈদ কুতুব আরব জাতীয়তাবাদের বিপরীতে ইসলামি জাতীয়তাবাদের তত্ত্ব তৈরি করেন, পুঁজিবাদ সমাজতন্ত্র নির্বিশেষে সমস্ত আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ম্যাটেরিয়ালিস্ট হওয়ার অভিযোগে খারিজ করে দেন, আধুনিকতাকে চিহ্নিত করেন নয়া আইয়ামে জাহেলিয়াহ হিসেবে। মুসলিম ব্রাদারহুড মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও সোভিয়েত লাল সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার ডাক দেয়। এরা শুরুতে গণতন্ত্র ও নির্বাচনকে কুফর হিসেবে বাতেল মনে করলেও পরে এসে এগুলোকে “কৌশলগত কারণে” মেনে নেয়। নারী শিক্ষার ব্যাপারে এরা শুরুর দিকে রক্ষণশীল হলেও, এবং নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিয়ে নামক প্রথাগত পেশার বাইরে শিক্ষকতা ও নার্সিংএর মতো “মেয়েলী” পেশাকেই অনুমোদন করলেও, পরের দিকে এসে হিজাব করে সব ধরণের পেশাতেই মেয়েরা যেতে পারবে এমন অবস্থানে আসে। এদের রাজনীতির সবল দিক হচ্ছে ব্যাপক সামাজিক ভিত্তি, কমিউনিস্টদের সামাজিক ভিত্তি হওয়ার কথা ছিলো যেসব শ্রেণী, ব্রাদারহুড সেসব শ্রেণীকে দখল করে বসে আছে। এদের রাজনীতির দুর্বল দিক হচ্ছে ব্যাপক আপোসকামিতা, মিশরে মুরসির আমলে যেটা দ্যাখা গেছে। এদের রাজনীতির আরেকটা মারাত্মক দুর্বল দিক মতাদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেবার প্রবণতা, যা এঁদের সাথে এঁদের প্রতিপক্ষ সেকুলারদের ফারাক দিনকে দিন ঘুচিয়ে দিচ্ছে, এবং এদের র‍্যাশনালকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সিরিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মদদে যেই ফ্রি সিরিয়ান আর্মি গড়ে উঠেছে এদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ সিরিয়ান মুসলিম ব্রাদারহুডের। এদের একটা স্প্লিট হামাস, আশির দশক থেকে, যারা ইজরায়েলি জায়নবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে ফিলিস্তিনে। আমরা স্মরণ করতে পারি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরুতে সেকুলার ছিলো, কনস্টান্টাইন জুরিখ আর জর্জ হাবাশের মতো ফিলিস্তিনি ক্রিশ্চানরা নেতৃত্বে ছিলেন, প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের। পরবর্তীতে ফাতাহ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর জাতিসংঘের তাঁবেদারে পরিণত হলে যেই শূন্যতা তৈরি হয়, সেটা পূরণ করে হামাস, যেহেতু “প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না।” তুরস্কের এরদোগানদের একেপি মুসলিম ব্রাদারহুডেরই একটা স্প্লিট। তবে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অন্তত মৌখিক বিরোধিতা আছে, ওটাও নেই একেপির, তুরস্কে একেপি ঠিক সেই ভূমিকা পালন করে মিশরে সেনাবাহিনী পালন করে যেই ভূমিকা। সব মিলিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুড একটা গোলমেলে পার্টি, এদেরকে র‍্যাডিকাল বলাটা থিওরিটিক্যালি মিসলিডিং সম্ভবত। সবচেয়ে বড়ো কথা, ফিলিস্তিনের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হামাস ছাড়া, এঁদের অন্য সব অংশই আজকে বৈশ্বিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থাকে মন্দের ভালো হিসেবে মেনে নিয়েছে।

আমার বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির মেইন এক্টর এরাই। ৯/১১র আগেও এদের মধ্যে অবশ্যই দ্বন্দ্ব ছিলো। কিন্তু ৯/১১ এদের সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে। ২০০১এ লাদেনকে খুঁজতে আফগানিস্তান আক্রমণের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গিবাদ দমনের নামে তথাকথিত ওয়ার অন টেরর শুরু করে। এরপর ২০০৩এ এসে তাঁরা ইরাকে আক্রমণ চালায়। এরপর ২০১১তে ন্যাটো লিবিয়াতে ‘হিউম্যানিটারিয়ান ইন্টারভেনশন’ চালায়। একইবছর ইওরোপ-আমেরিকা আসাদ রেজিমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে সিরিয়াকে অস্থিতিশীল করে তোলে। কেনো এইসব আগ্রাসন? একটা কারণ তেল। আরেকটা কারণ ইজরায়েল। এই আগ্রাসনগুলো বেশ কিছু সমস্যা তৈরি করেছে। প্রথমত, সিরিয়া বা ইরাকের মতো রাষ্ট্রগুলোতে জাতীয়তাবাদীরা স্বৈরাচারী হওয়ায় নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থেই জঙ্গিদের জোরপূর্বক দমন করতো, ইওরোপ-আমেরিকা অই রাষ্ট্রগুলো ঢাললেও ভালোমতন সাজায় নাই, ফলে বিশাল একটা টেরিটোরির ওপর অইসব রাষ্ট্রের কোনো নিয়ন্ত্রণই নাই। এর ফলে ক্ষমতার একটা শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এই টেরিটোরি দখল করা নিয়েই আগ্রাসন পূর্ববর্তী সময়ে ঠাণ্ডা থাকা জঙ্গিরা জেগে উঠে নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করছে। আমেরিকা-ইজরায়েল হয়তো নিজের হাতে আইসিস আর জাবাত আল নুসরাকে তৈরি করে নাই, কিন্তু, তারা নিজেদের চোখের সামনে এদের উত্থানের পথ তৈরি করে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ওয়ার অন টেরর প্রজেক্টে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পার্টনার পাকিস্তান ও সৌদি আরব, দুধের শিশুরাও জানে জঙ্গি অর্থায়নে ও অস্ত্রায়নের সক্রিয় মদদদাতা হিসেবে সেই সোভিয়েত আমল থেকেই পাকিস্তানের সামরিক-আমলাতন্ত্র ও সৌদি রাজতন্ত্রের “সুনাম” রয়েছে। তৃতীয়ত, আগ্রাসনের আগের রাষ্ট্রসমূহের সীমারেখার ডিমার্কেশনের কারণে অতীতের ধর্মতাত্ত্বিক ও আন্তঃসাম্প্রদায়িক বিরোধ নতুনভাবে চাঙা হওয়ার একটা সুযোগ পেয়েছে, ফলে শিয়া সুন্নী কুর্দি এই লাইনে ভাগ হয়ে যাচ্ছে সেইসব মানুষেরা যারা দুইদিন আগেও নিজেদেরকে মূলত ইরাকি বা সিরিয়ান হিসেবেই দেখতো।

আজকে ইওরোপে রিফিউজি ক্রাইসিসের জন্য কারা দায়ী। জবাবটা সহজ, সাম্রাজ্যবাদীরা। “রেজিম চেইঞ্জের” জন্য যদি বিষ না উঠতো তাঁদের, তাহলে, আজকের এই সিচুয়েশন সৃষ্টিই হতো না অই দেশগুলোতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে আগ্রাসন না চালালে, ন্যাটো লিবিয়ায় আগ্রাসন না চালালে, মার্কিন মদদপুষ্ট ফ্রি সিরিয়ান আর্মি সিরিয়ায় আইসিসের সাথে পাল্লা দিয়ে “গৃহযুদ্ধ” না করলে…আজকে…এইভাবে অই মানুষগুলো ইওরোপে জান বাঁচাতে যেতো না। জঙ্গিদের উত্থানের পথ এরা তৈরি করে দিয়েছে। স্বৈরাচারীদের দেশপ্রেমিক সাজার সুযোগও এরাই তৈরি করেছে। এদের পাশাপাশি সুন্নী রাজতন্ত্রগুলোর সীমাহীন ভণ্ডামি আর মতাদর্শিক দেউলিয়াত্বকেও সমানভাবে দায়ী করতে হবে, জঙ্গি মদদ দিয়ে ইরাক-সিরিয়ার জনগণকে যারা আইসিসের নৃশংসতার শিকার করেছে। আর ইরানের মোল্লাতন্ত্রও ইরাকে সুন্নীদের ওপর অত্যাচার করা মালিকী সরকার ও শিয়া মিলিশিয়াকে মদদ দেয়ার জন্য দায়ী। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে আমেরিকা পাবলিকলি ইরাককে ব্যাকিং করলেও রিগ্যান এডমিনস্ট্রেশন পরবর্তীতে একটা স্ক্যাণ্ডালের মধ্যে পড়েছিলো যখন এটা ফাঁস হয়ে গেছিলো অই এডমিনস্ট্রেশন্সের সজান্তেই আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসায়ীরা ইরানের কাছে লুকিয়ে অস্ত্র বিক্রি করেছে। ইরান নিজেকে যতোটা সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী হিসেবে শো অফ করে সে আসলে ততোটা সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী নয়। ইতিহাসে রবার্ট ক্লাইভদের পাশাপাশি মীরজাফররা তো থাকেই! মধ্যপ্রাচ্যের এইসব রাজতন্ত্র আর মোল্লাতন্ত্র হচ্ছে মীরজাফর। যারা জনগণের জীবনে অশেষ যন্ত্রণা ডেকে এনেছে।

দুর্ভাগ্যবশত, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক জটিলতার, সহজ সমাধান নেই। সমাধান খোঁজার উদ্দেশ্যে অবশ্য এটা লেখা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিক জটিলতার ক্ষেত্রে নয়া রক্ষণশীল “ক্ল্যাশ অফ সিভিলাইজেশনস” তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করার আকাঙ্ক্ষাতেই এই লেখার অবতারণা। আমরা কোনো তথাকথিত “পোস্ট-আইডোলজিকাল” সময়ে বাস করছি না, ইওরোপ-আমেরিকার “বিদ্রোহী” পোস্টমডার্নরা যেরকমটা বলে থাকেন, আইডোলজি স্টিল ম্যাটারস। মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো ধর্মযুদ্ধ হচ্ছে না “ইহুদি মুসলমান আর ক্রিশ্চানদের” মধ্যে এটা দ্যাখানোই আমার লেখার মূল উদ্দেশ্য। লেখার সাফল্য ব্যর্থতা বিচারের ভার পাঠকপাঠিকার হাতে। আমি যদি মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক চিন্তার স্পেসটা সামান্য হলেও প্রসারিত করতে পারি, তাহলে, আমার শ্রমকে স্বার্থক মনে করবো।

নোটঃ ইজরায়েল নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে “ওয়েস্টার্ন স্টেট” হিসেবে দ্যাখে, এটা ধরে নিয়েই, ইজরায়েল নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয় নি। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইজরায়েল একটা গুরুত্বপূর্ণ এক্টর। সেই কারণেই মাঝেমধ্যে ইজরায়েলের প্রসঙ্গটা চলে এসেছে। ৯/১১এ আল কায়দার টুইন টাওয়ার হামলা ও আইসিসের হাতে মসুলের পতন হওয়ার পর জিহাদ ও খেলাফত এখন গ্লোবাল পলিটিকসএ আবার লাইমলাইটে চলে এসেছে। ইসলামের ইতিহাসে জিহাদ ও খেলাফত দুটোরই গুরুত্বপূর্ণ একটা স্পেস আছে, এসবের জেনিওলজি নিয়ে পারভেজ আলম জিহাদ ও খেলাফতের সিলসিলা নামক মূল্যবান একটি বই লিখেছেন, বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছেন। আমি এখানে আর সেই আলোচনায় গেলাম না। কষ্ট করে যারা পড়েছেন, তাঁদের জন্য অনেক বেশি কৃতজ্ঞতা, আর একটু খানি ভালোবাসা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 7 = 17