শাহবাগসমগ্র

“কে যেনো প্রাচীর থেকে ডেকে ওঠে, যোশেফ, যোশেফ!
রাজার স্বপ্নের মানে বলে দেবে তুমিই সে-লোক?
না আমি যোশেফ নই, না জানি না ফ্যারাও কে, স্রেফ
নিজেরই রক্তের দাগে লাল করে রেখেছি দুচোখ…”

উৎসর্গ
ইমন জুবায়ের
বাংলা ব্লগের প্রাণরসায়নঃ অন্ত্যজ বাঙালি, আতরাফ মুসলমান

ফেব্রুয়ারিঃ আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুন হব

০৫

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রসংঘ [পরে শিবির] রাজনৈতিকভাব মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতাই দলটি চায় নাই, সেই রাষ্ট্রে দলটিকে কেন রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? কেন প্রতিহত করার রেটোরিকে এই দলটিকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে? ট্রাইব্যুনালের রায় আমরা মানি না। যুদ্ধাপরাধের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম। বাংলাদেশের জনগণ, আমরা আমাদের হৃদয়ের রক্তের ও আত্মসম্মানের আদালত থেকে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় ঘোষণা করলাম।

০৬

AT SHAHBAG. AND WILL BE.

০৭

শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস! যুদ্ধাপরাধী নরপিশাচ কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে এই গণজাগরণে শামিল হয়ে ইতিহাসের অংশ হোন! আর এই প্রজন্ম চত্বর থেকেই সকল যুদ্ধাপরাধী ও গণশত্রুদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হোক, আর তা কার্যকর করার জন্য হোক আপ্রাণ সংগ্রাম!

০৮

শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে তৈরি হচ্ছে নতুন ইতিহাস… (http://unmochon.net/node/2082)

– শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। কিন্তু গতকাল থেকেই একটি ব্যাপার নিয়ে একটু অস্বস্তিতে আছি। শাহবাগে অন্য সব শ্লোগানের সাথে একটি শ্লোগান উঠছেঃ “তুমি কে? আমি কে? বাঙালি! বাঙালি!” অসংখ্য আদিবাসি শাহবাগের এই গণজাগরণে অংশ নিয়েছেন। তাঁরাও কাদের মোল্লা-সহ সকল যুদ্ধাপরাধী নরপিশাচের ফাঁসি চান, তাঁরাও চান রাজনৈতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক। কিন্তু আমাদের আদিবাসি ভাইবোনদের পক্ষে কি এই শ্লোগানে সাড়া দেওয়া সম্ভব? তাঁরা অবশ্যই বাংলাদেশের মানুষ, কিন্তু তাঁরা তো বাঙালি না! তাই, সবাইকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি এই শ্লোগানটা যাতে না দেওয়া হয় সে-ব্যাপারে একটু ভেবে দেখতে। “তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ!” অই শ্লোগানের একটি সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে।

১০

– “ডিম পাড়ে হাঁসে, খায় বাঘডাঁশে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে ইতিহাসগড়া হাঁস হচ্ছি আমরাঃ এ-দেশের তরুন প্রজন্ম। আর বাঘডাঁশ তারা যারা জামাত শিবিরকে দুধকলা দিয়ে পুষেছে বিগত বেয়াল্লিশ বছর। বাঘডাঁশে যাতে ইতিহাস গিলতে না পারে। এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই জিততে হবে!!!

-_ “স্বাধীনতাকে যতবার তুমি পরাধীনতা করো
আর মানুষকে যতবার তুমি মারো
যতবার পরাও শৃঙ্খল
মানুষ তবুও তার বজ্র মুষ্টি থেকে
আগুনের রত্ন ছুঁড়ে দেবে।
আগুনে পুড়বে ভস্ম এবং শৃঙ্খল।”_

::: আবুল হাসান :::

১১

– (বাঁকা হাসি সহকারে ) আপনেরা এই মুক্তিযুদ্ধ ব্যাপারটা নিয়া এত লাফালাফি করেন ক্যান? ৩০ ৪০ বছর আগে কি হইছে না হইছে, তা ভাইবা লাভটা কী? পুরাইন্যা স্মৃতি জমাইয়া রাইখ্যা লাভ আসে? শোনেন মিয়া, আমগো মতোন রিয়াল-শিট হইতে শিখেন, আবেগ দিয়া দুনিয়া চলে না!

– (কিছুক্ষণ চুপ থেকে) আচ্ছা ভাই, একটা প্রশ্ন করি, আপনার বয়স কত? মানে, আসলে জানতে চাচ্ছি আপনার বাবা মার বিয়ে হয়েছিল কবে?

– আমার আঠারো চলতেছে। উনাদের বিয়া মনে হয় ২০ ২১ বছর আগে হইছিল।

– কাবিন আছে না সেই বিয়ের?

– এইটা কোন ধরণের প্রশ্ন?

– আরে ভাই বলেন না, লজ্জা পাচ্ছেন কেন? বলেন বলেন…

– অবশ্যই আছে, মুসলমানের বিয়া কাবিন ছাড়া হয় নাকি আবার?

– তাহলে এক কাজ করেন, আজকেই কাবিনটা ছিঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দিন, পুরনো জিনিশ জমিয়ে রেখে লাভ আছে?…

– (রাগে ও বিস্ময়ে ) কি বললেন, কি বললেন আপনি? আপনে আপনে একটা (তোতলাচ্ছে, মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না)

– ঠিকই তো বলেছি। (বাঁকা হাসি সহকারে) ২০ ২১ বছর আগে কি হয়েছে না হয়েছে, তা ভেবে লাভটা কী? আবেগ দিয়ে দুনিয়া চলে না…

১২

এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াইয়ে জিততে হবে… (http://unmochon.net/node/2095)

– [শাহবাগের ছড়া]

পায়ের নিচে মাটি নাই?
গৃহযুদ্ধের ডাক দিস?
তুই রাজাকার থাকলে সাহস
শাহবাগে পা ফেলিস!

বাঁইচ্যা ফিরতে পারবি না!
এবার তোদের ছাড়ব না!
একটা একটা কইরা ভাঙব
তোদের সকল আস্তানা!

ইমাম জাহানারার কসম
কসম আমার মায়ের
কসম বাংলাদেশের কসম
কসম শাহবাগের!

– :- “ভালবাসার নাম আজ শাহবাগ বসন্ত
ভালবাসার নাম আজ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি।” (মোহন রায়হান)

১৪

_”তুমি কে? আমি কে?
চাকমা মারমা বাঙালি!
সাঁওতাল মান্দি বাঙালি!
তুমি কে? আমি কে?
তোমার দেশ, আমার দেশ
বাংলাদেশ বাংলাদেশ!”_

১৬

– ব্লগার রাজীব ভাইয়ের মায়ের কান্না আর বাবার আহাজারি টিভিতে থেকে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছি না, জানাজায় অংশ নিতে পারি নাই আমার নিজের মায়ের অসুস্থতার কারণে বাসায় ফিরতে হয়েছে বলে, সন্ধ্যায় জানলাম আমার একটি কাজিন মারা গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়… মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি।

– জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ করার জন্য কি “দেশীয় ঐক্য” দরকার? কয়েকটা রাজনৈতিক দল নিয়েই শুধু দেশ হয় না, শেষবিচারে দেশ হয় মানুষ আর তার মনুষ্যত্ব নিয়ে। ব্লগার রাজীব ভাইয়ের কফিন ছুঁয়ে সেই দেশ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে জামাত শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে !!! আর কতো ঐক্য দরকার ???

১৮

– শহিদ জাফর মুন্সী
শহিদ আহমেদ রাজীব হায়দার
শহিদ তরিকুল ইসলাম শান্ত_

“মুক্তির মন্দির সোপানতলে কতো প্রাণ হল বলিদান লেখা আছে অশ্রুজলে…”

– শ্রদ্ধেয় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত তাঁর গবেষণায় দ্যাখাচ্ছেন যেঃ জামাত শিবির এদের ব্যবসাসমূহ থেকে বছরে গড়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আয় করে !!! তাই জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ তো করতেই হবে, তার সাথে এদের ব্যবসাসমূহ রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়াটাও সমান জরুরী ।

১৯

– : “বাতাসে লাশের গন্ধ, মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ… জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন!” (রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ)

– মানুষ যখন জেগে ওঠে, একসাথে রুখে দাঁড়ায়, লড়াই-সংগ্রামের জন্য জেদি হতে থাকে, তখনই তার সৌন্দর্য বিকশিত হতে থাকে। (কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর)

– আপনাদের কাছে জনগণ হচ্ছে গিনিপিগ, তাই আমাদেরকে নিয়ে বিগত বেয়াল্লিশ বছরে প্রচুর “পরীক্ষানিরীক্ষা” করেছেন আপনারা। বাট এনাফ ইজ এনাফ! তাই “পরীক্ষানিরীক্ষা”-র তাইরে নাইরে করা বাদ দিয়ে জামাত শিবিরকে নিষিদ্ধ করেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেন।

২০

আসুন শহিদ দিবসকে মুক্ত করার শপথ নেই ধূসর আনুষ্ঠানিকতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের হাত থেকে। এই একুশে ফেব্রুয়ারি থেকেই এ-ভুখণ্ডের সকল জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার অধিকার স্বীকৃতি পাক এবং প্রতিটি ভাষা সমান সুযোগ পাক চর্চিত ও বিকশিত হওয়ার।

২১

– জামাতিরা বলছে যে শাহবাগে আন্দোলন করছে “কতিপয় নাস্তিক, গাঁজাখোর আর বেশ্যা”। উল্লিখিত তিন গ্রুপের কেউই কিন্তু ১৯৭১এ মুক্তির আকাঙ্খার সাথে বেঈমানি করে নাই, লুটপাট খুন আর ধর্ষণে অংশ নেয় নাই সহায়তা করে নাই। আমি নাস্তিক/ গাঁজাখোর/বেশ্যা হতে রাজি, রাজাকার হতে নই!

– “কইতেও আরতো না বাপ কই! হাসতাছে। খেলতাছে।”

পারভিন ভাবী তাঁর ছোট মেয়ের কথা বলছিলো। তানহা, অর্থাত্‍ নিঃসঙ্গ, খাটে ঘুমাচ্ছে। সে তার বাবার ব্যাপারটা বুঝতে পারছে না। প্রভা, ওর বড়ো বোন, অবশ্য স্তব্ধ হয়ে গেছে!

আর আমি এই দুঃসহ দৃশ্যের সামনে অসহায়ের মতো বসে আছি…

২২

– “ইসলাম বনাম মুক্তিযুদ্ধ”- এই জামাতি চোরাবালিতে বিএনপি তো আগেই পা ফেলে ডুবে গেছে, এখন পা দিচ্ছে তথাকথিত ইসলামী দলগুলো। আর আওয়ামী লীগ চায় জনগণও এই চোরাবালিতে পা ফেলুক, কারণ তাহলে তার আর জামাত নিষিদ্ধ করা লাগে না!

তাই বিশ্বাস যাই হোক, শাহবাগের পক্ষে থাকুন…

– “মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি!” সেই ফুলটির নামঃ বাং লা দে শ…

২২

– Shahbag Movement is entering into a new dynamic phase as the extremely violent and anti-people activities of Jamat Shibir and their so-called “Islamic” allies’ have reached to the point extreme today. By burning our national flag and breaking shahid minars in different regions of our nation-state (Geographically trans-national: including Bangali, Chakma, Marma, Tripura, Bishnupriya Manipuri, Garo and other nations. Though not politically recognized for the irritating dominance of masculinist-militarized ‘Bangali Nationalism’.), they have thrown open challenge to our national (trans-national) identity !!! In this situation, it has been clear-as-daylight that masspeople are not going to leave Prajanma Chattar so soon. We have to continue our fight against these anti-people fascists to save our great motherland.
Beloved brothers and sisters are requested to gather in front of Jatiya Jadughar tomorrow at 2 PM. Thank you.

২৩

– Save Islam From Jamayat-E-Islam.

– “Don’t walk behind me; I may not lead. Don’t walk in front of me; I may not follow. Just walk beside me and be my friend.” (Albert Camus)

২৪

– ~ শহিদ মিনার বর্বরগুলো ভেঙেছে আমরা জানি জাতীয় পতাকা, মায়ের আঁচল, ছিঁড়েছে সেটাও জানা অশ্রু দিয়েই তাই জ্বালিয়েছি দ্রোহের মশাল কোটি পদ্মা-মেখনা-যমুনা এখনো তোমার-আমার ঠিকানা ! ~

– মাহমুদুর রহমান এদেশের তথাকথিত মূলধারার রাজনীতির আদর্শ প্রকাশ। এই ঐতিহাসিক দালাল অতীতে এশিয়া এনার্জি ও টাটার দালালি করেছে রূপসী বাংলার প্রাণ-প্রকৃতি-সম্পদের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে। আর এখন করছে জামাতিদের, অর্থাত্‍ দালালদের দালালি। তাকে সার্বিকভাবে প্রত্যাখান করুন!

– “দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় … জামায়াতের আমির… নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল … মুজাহিদকে প্লট দিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ … মুজাহিদকে উত্তরায় আর … নিজামীকে বনানীতে প্লট দেওয়া হয়।”

(কালের কণ্ঠঃ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩)

কোন দেশের জন্য???!!!

২৫

– Re-reading Erick Maria Remarque’s “Three Comrades”. It had been written in the context of Post-war Germany (1920s). I first went through this novel when I was a student of class ten at SCPSC. I had fallen in love with Patricia and literally cried for her as the novel ends up with her death. Its the most heart-touching novel I’ve ever read…

– জামাত শিবিরের কর্মী সমর্থকদের বীরাঙ্গনাদের সন্তান বলার অর্থ বীরাঙ্গনাদের অপমান করা। একাত্তরে ধর্ষিতা আমাদের মা বোনদের এত বড় অপমান করার অধিকার কারো নাই। কারো নাই। জামাত শিবিরকে গালি দিতে গিয়ে আমাদের মা বোনদের অপমান যদি করেন, তাহলে হয় আপনি নির্বোধ নয় ভণ্ড…

২৬

জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার ওপর নির্ভর করছে শাহবাগ আন্দোলনের ন্যুনতম সফলতা… (http://unmochon.net/node/2142)

২৭

– “বাবাগো, কলকাত্তায় গিয়া দেখি, সক্কলেই সবকিছু জানে; শুধু আমিই কিছু জানি না !” (শঙ্খ ঘোষ)

– _ অন্ধ মেয়েটি তোমাকেই ভালোবাসে?
খুন হয়ে যাও হৃদয়ের সন্ত্রাসে!_

২৮

“ইতিহাসের মীমাংসা ছাড়া বাংলাদেশ এগোবে না। পূর্ণ বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।” (জোনায়েদ সাকী)

মার্চঃ হোয়ার হ্যাভ অল দি ফ্লাওয়ারস গন?

০১

তানজিম স্যারের লেখা। শাহবাগ নিয়ে। লেখার লিংকঃ http://www.countercurrents.org/tkhan250313.htm#sthash.2ypOhzIT.gbpl।

০২

– এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরর্থক-বিরক্তিকর-যন্ত্রণাদায়ক জিনিশঃ “টক শো”।

– “৮ মার্চ ২০১৩, শুক্রবার, বিকেল ৩টায় বিপ্লবী নারী সংহতির ‘ধর্ষণবিরোধী সংহতি সমাবেশ’-এ সবাইকে সংগ্রামী আহবান। সমাবেশ সড়কদ্বীপ, টিএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযে অনুষ্ঠিত হবে। “নারী মুক্তি ছাড়া বিপ্লব নাই, বিপ্লব ছাড়া মুক্তি নাই”…” (পোস্টারঃ কানিজ ফাতেমা মিথিলা)

– বিএনপি একবারে আত্মহত্যা করছে না, প্রতিদিন একটু একটু করে আত্মহত্যা করছে। আর রাজাকারের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য হাইকোর্ট-ইসি দেখিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের নার্ভ টেস্ট করছে…

– প্রশান্ত স্যারের লেখা। শাহবাগ নিয়ে। লেখার লিংকঃ http://opinion.bdnews24.com/2013/03/03/defining-a-generation-making-sense-of-our-lives-and-times-before-and-beyond-shahbagh/#sthash.5JpIAeMV.gbpl।

০৪

অদিতি। এলোমেলো অগোছালো কিছু কথা
লিখছি তোকে, কবি মনে করবি না
আবার, আমি তা হতে পারি নি অনেক
প্রবল চেষ্টায়। আমরা বহুদিন দেখিনা
স্বপ্ন, শুধু রক্ত আর লাশ পড়ে থাকে
প্রান্তরে প্রান্তরে, তার মাঝ দিয়ে হেঁটে
বেড়াই। তোর ভীরু ভাই আজ কী করে
জানি হয়ে গেছে সাহসী সৈনিক। আম্মাকে
এই…..ধূর ছাই…..এটাকে কী বলব?
যাই হোক, এটার কথা বলবি না, কষ্ট
পাবে অনেক। আব্বাকে দেখে
রাখিস ঠিক মতন, আর শোন
তুই একটু সাবধানে থাকিস খুব সাবধানে।

অদিতি। তোর কথা খুব মনে পড়ে।
তোর মনে আছে, আমাদের বিশাল
বাড়িতে যখন খুব ভোরে ঘুম ভেঙে
যেত। আমরা খুব ছুটোছুটি করতাম,
কয়েকটা কবুতর এখানে ওখানে উড়ে
বেড়াত, বাসার সামনে আনমনে আনিস
পাগলা গান গাইত আর শুধু হাঁটত।
আমিও আজ হাঁটি, শুধু হাঁটি, আমাদের
হাঁটতে হয়, যখন এক একটা রাজাকারকে
দেখি, ঘৃণায় মুখ ফেরাই, আর কখনো
মাঝে মাঝে দু একটাকে খুন করে
ফেলি। তোর ভীরু ভাই আজ পাকিস্তানি
শূয়োরগুলোকে, ওগুলোর অগ্নিদৃষ্টিকে ভয় পায় না।

অদিতি। কবে যে রক্তের লাল আল্পনা
হাতে নিয়ে স্বাধীনতা আসবে? কতদিন
ছাদটায় বর্ষায় শরীর ভেজাই না, কত
কতদিন? আবার আমি ফিরে আসব
আম্মার কাছে, তোর কাছে। আমার পায়ের
আওয়াজে আম্মা জায়নামাজ ছেড়ে উঠে
আসবেন, আকাশটা অনেক নীল লাগবে,
রোদ হবে, তুই আঙিনায় দাঁড়াবি, তোর
মুখে ঝলমলে হাসি, শরীরে সেই শাড়িটা,
যেটা পরে তুই প্রভাতফেরিতে গিয়েছিলি।
আবার জোছনার ছাদে বসব আমরা, তুই
গলা কাঁপিয়ে গান গাবি, আমি শুনব,
আম্মা শুনবে, তোর গান স্বয়ং রবিঠাকুর শুনবেন!

অদিতি। ভালো থাকিস। তোকে সবচেয়ে
বেশি ভালোবাসি। আম্মাকে দেখে রাখিস।
কাঁদবি না কখনোই, এতটুকুও না। তোর
জন্য সহস্র শিশিরের শব্দ নিয়ে ফিরব,
আকাশের নীল আলোয় পায়রা উড়বে আবার,
তুই বারান্দায় দাঁড়াবি বা আঙিনায়, রূপালী
শাড়িটা তোর শরীরে, আম্মার বিস্ময়, তোর হাসিমুখ!
ভালো থাকিস।

“০৪ মার্চ ২০১৩, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারতের সাথে সকল অমীমাংসিত ইস্যুর ন্যায্য মীমাংসার দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। (ছবিঃ সাদিক রেখা)”

“০২ মার্চ ২০১৩, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা, হত্যা ও সহিংসতা রুখে দাড়ানোর দাবিতে “গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা”র বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল। (ছবিঃ সাদিক রেজা)”

“২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে ‘গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা’র বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল।”

“আগে জনগণের কাছ থেকে শেখো, তারপর তাদেরকে শেখাও।” (মাও সে তুঙ)

০৫

– Kallol Mustafa ভাইয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে জানতে পারলাম গতকাল সাতকানিয়ায় জামাত-শিবির একজন হিন্দু নারীকে দিনে দুপুরে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে।

অথচ এখনো জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার জন্য কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নেয় নাই সরকার। আজকের কালের কণ্ঠ রিপোর্ট করেছে যে, জামাতি প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংকে ‘হাত দেবে না সরকার’। সরকার জামাত-শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসের হাত থেকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরু নির্বিশেষে এদেশের জনসাধারণকে, জামাত-শিবিরের ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারছে না মসজিদ-মন্দির, ঠেকাতে পারছে না জামাত-শিবিরের জাতীয় পতাকা ছেঁড়া ও শহিদ মিনার ভাঙা, রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আনতে পারছে না ইসলামী ব্যাংকসহ জামাতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে, জামাত-শিবিরের হাতে খুন হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারছে না এমনকি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মীদেরকেও…সরকার করছেটা কি? জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকার কি এখনো আইন খুঁজে চলেছে? আইন খোঁজা কবে শেষ হবে? কেয়ামতের পরের দিন? যেই সরকার নিজেকে “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি” দাবী করে, সে যদি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে এবং তাদের তাণ্ডব ঠেকাতে না পারে তাহলে তার নিজেকে “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি” দাবী করাটা কি দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠবে না???

জনসাধারণের একজন হিশেবে খুব অসহায় মনে হচ্ছে নিজেকে। আর আমি জানি অসহায়তার এই অনুভূতিটা ব্যাক্তিগত নয়…

– যাঁরা “সেনাবাহিনী নামাও, সেনাবাহিনী নামাও” করছেন তাঁরা কি জানেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপরে জামাতে ইসলামী আর হিযবুত তাহরীরের প্রভাব কতো বেশি? সেনাবাহিনী যদি হঠাৎ ক্ষমতা দখল করে তাহলে ক্ষতি জনগণের আর লাভ জামাতের…০৬

– আমি মুসলমান সম্প্রদায়ের লোক, কিন্তু সাম্প্রদায়িক মুসলমান নই।

০৭

– ভালো লোকগুলো (উগো শ্যাভেজের জন্য) : এলিস ওয়াকার (তর্জমাঃ আমার) [http://unmochon.net/node/2168]

– বাংলার আকাশে জাগা শ্বেত তারা, দরিদ্র নির্মূলের এক নির্ভীক ক্রুসেডার, মহামহিম সামাজিকব্যবসায়ী নোবেলবিজয়ী ড. ইউনূস যুক্তিসঙ্গতভাবেই পাচ্ছেন মিসাইলের-মাধ্যমে-মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান… কি আর বলার আছ, “জয় হো” ছাড়া !!!

০৮

– আমাদের নারীদের মুখসমূহ / নাজিম হিকমেত (তর্জমা আমার) [উৎসঃ https://www.marxists.org/subject/art/literature/nazim/facesofourwoman.html]

(ত্বকী হত্যাকাণ্ডের দিন। আমি সেদিন রাতেই ত্বকী হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলাম যেটি শাহবাগে সাইবার যুদ্ধ পেইজ থেকে শেয়ার করা হয়েছিলোঃ https://www.facebook.com/shahbagecyberjuddho/posts/539565999419555। কবিতাটার আবেগ সৎ হলেও তথ্যগতভাবে কবিতাটা ভুল, ত্বকী হত্যাকাণ্ডের জন্য শামিম ওসমান দায়ী, সেই সময় জামাত শিবির সারা দেশে তাণ্ডব চালাচ্ছিলো বলে আমি ভেবেছিলাম কাজটা জামাত শিবিরের।)

০৯

শহিদের রক্ত হচ্ছে ইতিহাসের অক্সিজেন, যা ছাড়া ইতিহাস বাঁচতে পারে না।

১০

: “আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যখন রক্ত দিয়েই চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছি।” (আহমদ ছফা)

১১

মধুপুরে ইকোপার্ক হবে, সেখানে দল বেঁধে ‘আমরা’ পিকনিক করবো, হাই ভলিউমে চিকনি চামেলি বাজাতে বাজাতে আর মুরগির ঠ্যাং চিবুতে চিবুতে চর্চা করবো ‘বাঙালি সংস্কৃতি’, আর ‘ওদের’ কেউ যদি হয়ে ওঠে চলেশ রিছিল তবে তাকে কেটে শতটুকরো করবো।
(তুমি কে? আমি কে? বাঙালি! বাঙালি!)

১৩

: ‘এই জল ভালো লাগে, বৃষ্টির রূপালী জল কতদিন এসে
ছুঁয়েছে আমার দেহ, বুলায়ে দিয়েছে চুল চোখের উপরে
তার শান্ত স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমু খেয়ে চলে গেছে কুমারীর মত ভালোবেসে !’ (জীবনানন্দ দাশ)

১৪

১৯৭৬এ কমরেড মাও সেতুং-য়ের মৃত্যুর পর চীনে মার্কসবাদের বেলা বারোটার ঘণ্টা বাজানো শুরু করেছিলো দেং জিয়াওপিং-এর লিবারালাইজড ‘চিন্তা’। সেই ঘণ্টা আজো বেজে চলেছে, চীন সমাজতন্ত্রের লেবাসে সাম্রাজ্যবাদী হয়ে উঠছে দিন কে দিন। হায় কমিউনিস্ট পার্টি, হায় রেড গার্ডস !!!

১৫

‘শ্রেণীর দেয়াল ভাঙবে এবার
আশুলিয়া
এসো আঁকি মুক্তির পথ
রক্ত দিয়া ।।

নিভে যাবে দাঁত কেলানো
হায়েনাদের হাসি
লড়বো এবার তোমার সাথে
কামার-কুমোর-চাষী ।।’

(রায়হান শরীফ)

– আমরা কেউ মায়ের পেট থেকে প্রগতিশীল হয়ে জন্মাই না। যেই ছেলেটা আজকে মাদ্রাসা-এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে-পড়ে ভুল জিহাদের ভুল ময়দানে যাচ্ছে তাকে দোষ দেওয়ার আগে সেই শিক্ষাব্যবস্থার দিকে আঙ্গুল তোলা উচিত যা বিজ্ঞান আর মানুষ বোঝে না, বোঝে বাজার আর মুনাফা!!! তাই নয় কি???

_ মানুষেরে ঘৃণা করি,
ও কারা কোরান-বেদ-বাইবেল চুম্বিছে মরি মরি !
ও মুখ হইতে কেতাব-গ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে,
যেই মানুষেরা আনিল গ্রন্থ সেই মানুষেরে মেরে
পূজিছে গ্রন্থ ভণ্ডের দল; মূর্খেরা সব শোনোঃ
মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো !

_ কাজী নজরুল ইসলাম

_ ‘গাছেরটাও খাবো, তলারটাও কুড়াবো !’ খুব সংক্ষেপে এই হচ্ছে বর্তমানে আওয়ামী লীগের স্ট্র্যাটেজি। তাই একদিকে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকে সমর্থন করে তারা বক্তব্য দেন, অন্যদিকে কক্সবাজারের ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ’ কমিটিতে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা স্থান পায় !!!_

: ‘আমি চাই বিজেপি নেতার সালমা খাতুন পুত্রবধূ আমি চাই ধর্ম বলতে মানুষ বুঝবে মানুষ শুধু !’ _কবীর সুমন_

– জামায়াত, হেফাজত, ঐক্যজোটঃ এদের শেকড় কিন্তু একটাই, আর সেটা হচ্ছে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার ! তাই শুধু জামায়াত নয়, জামায়াতসহ সকল ধর্মব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলকেই নিষিদ্ধ করতে হবে !! কারণ, ইতিহাসে কখনো কখনো এমন সময় আসে যখন একই দিনে অনেকগুলো পরীক্ষা দিতে হয় !!!

_ শহিদ জননী, শুধু আপনার স্মরণে
আগাছাবিরোধী এই পুষ্পের বাগানে
যদিও দেখতে পাই কিছু ক্যাকটাস
তবুও হইনি আর হবো না হতাশ !

কেননা যতোটা জানি ইতিহাস থেকে
আগাছা ও ক্যাকটাস পরস্পরকে
সাহায্য করতেই পারে, তবে পুষ্পেরই
শেষাবধি জয় হয় মৃত্যুঞ্জয়ীরই !_

(আলো অন্ধকারে যাই)

১৭

– শাহরিয়ার কবীর জঙ্গি মৌলবাদ দমনে আমেরিকার সহায়তা চেয়েছেন !!! নিকারাগুয়ায় কন্ট্রা আর আফগানিস্তানে মুজাহেদিন কোন দেশের গোয়েন্থা সংস্থা তৈরি করেছিল, জনাব কবীর ? বাংলাদেশের পরিণতি ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো হোক, সেই কারণেই তো আপনারা আমেরিকার সহায়তা চান, তাই না ?

– বিজেপি নাকি বাংলাদেশে আসছে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য ??? কিন্তু গুজরাট গণহত্যার শিকার ভারতের মুসলমান সম্প্রদায়ের রক্ত মাখা হাতে বিজেপি কিভাবে রক্ষা করবে আমাদের হিন্দু ভাইবোনদেরকে ??? হায় সাম্প্রদায়িকতা, কেন এই বিষই শুধু বিশ্বায়িত হয় !!

১৮

– কলকেতার রাস্তায় ডেরেন দিয়ে কলকল করে মানুষের রক্ত বয়ে যেছে। মোসলমানের রক্ত, হিঁদুর রক্ত। আলেদা কিছুই লয়, একই রক্ত। ঐ ডেরেনে হিঁদু-মোসলমান এক। আগুনপাখি (২০০৬) হাসান আজিজুল হক

– ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বামপন্থীরা দুটি হরতাল ডেকেছিল। তখন AL-BNP-JIর হরতালের মতো বাসে আগুন না দেয়া বা ককটেল না ফোটানোর কারণে কেউ কেউ ‘হাসাহাসি’ করেছিলেন! কেউ কেউরা আছেন, না শহিদ হয়ে গেছেন?

– ভারতীয় মৌলবাদী ও বর্ণবাদী চক্রান্ত এবং বাঙালি মৌলবাদী ও ধর্মান্ধ চক্রান্ত হল সাম্রাজ্যবাদের দুই জারজ সন্তান । (…) নিজ নিজ দেশে এরা কেবল বিশেষ সম্প্রদায়ের বিপক্ষ শক্তি নয়, এরা গোটা দেশবাসীর এক নম্বর শত্রু । সংস্কৃতির ভাঙা সেতু (১৯৯৮) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

– খালেদা জিয়া বলেছেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘স্বচ্ছ’, ‘নিরপেক্ষ’ ও ‘আন্তর্জাতিক মানের’ ট্রাইব্যুনালে সকল যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে “এনশাল্লাহ” ।

আলহামদুলিল্লাহ !!!

তা সেই ট্রাইব্যুনালের বিচারক কোন টাইপের মানুষজন হবে ??? সাকা চৌধুরী টাইপের ???

– মৃত্যুকে যাঁরা জয় করে তাঁদেরই তো বলি আমরা মৃত্যুঞ্জয়ী! শারীরিক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়ে গেলেন আমৃত্যু, প্রস্থানের পর আজ মৃত্যুঞ্জয়ী ছাড়া আর কিই বা বলার আছে আপনাকে! নাহিদ জাহান লিনা, রাজনৈতিক ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আমাদের যে লড়াই, আপনি তার বাতিঘর হয়ে থাকুন…

১৯

কালকে একটা পরীক্ষা আছে তাই আমার উচিত “বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবেশ রক্ষায় ইউনাইটেড নেশনসের ভূমিকা” বিষয়ে একটু পড়াশোনা করা। এর ধারেকাছেও না গিয়ে আমি কিছুক্ষণ আহমদ ছফার “যদ্যপি আমার গুরু” পড়লাম। পরীক্ষা আসলেই ভীষণ অস্থির লাগে আমার, ভবিষ্যত্‍ বড়ই অন্ধকার…

২০

US-OCCUPIED IRAQ : THE LAND OF BLOOD AND TEARS
(20. 03. 2003 – 20. 03. 2013)
10 YEARS OF AN IMPERIALIST WAR… (ছবিঃ আশরাফুল আলম সোহেল)

জামাত নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেই! – আনিস রায়হান (http://www.istishon.com/node/707)

ইরাক যুদ্ধের দশ বছর পূর্তিতে অরুন্ধতী রায়ঃ http://www.democracynow.org/2013/3/18/arundhati_roy_on_iraq_wars_10th

”চাঁদে সাঈদীর ছবি যদি ফটোশপ দিয়ে তৈরি করা যায়, তাহলে একাত্তরের গণহত্যা হিশেবে সেই সময়ের বিভিন্ন পত্রিকার যেই ছবিগুলোকে চালানো হয় সেগুলো যে ফটোশপ দিয়ে এডিট করা হয় নাই তার প্রমাণ কী !!!” এই ধরণের কথা যারা বলতে পারে, তাদের সাথে কি যুক্তিতর্ক করবেন আপনি ???
“মৃত্যু আমাকে নেবে, জাতিসংঘ আমাকে নেবে না !” (আবুল হাসান)

২১

মানুষের মধ্যে রয়েছে নিজেকে অতিক্রম করার সেই আগুন, যাকে গ্রীসীয় মনীষীরা প্রমিথিয়ান ফায়ার বলে চিহ্নিত করেছিলেন। মানুষের মৌলিক সংকট নিজের ভেতর থেকে নিজেকে উন্মোচন করার সংকট। আহমদ ছফা

২২

– পাশাপাশি থাকলেই অরণ্য হওয়া হয় না, টবের গাছ হয়েও পাশাপাশি থাকা যায়। একাধিক মানুষ পাশাপাশি থেকেও বাস করতে পারে যার যার বিচ্ছিন্ন দ্বীপে, যদি হৃদয়ের সম্পর্কটা ঠিকঠাক তৈরি না হয়। গোর্কির “মা” উপন্যাসটা হয়তো তাই বারবার পড়া উচিত, সম্পর্কনিমার্ণের আশ্চর্য দলিল!!!

– ইরেশ যাকের সায়েবরা এখন বেশ ‘দেশপ্রেমিক’ হয়ে উঠছেন !!!
তা খুনী-লুটেরা এশিয়া এনার্জির (এখনঃ জিসিএম) কাছে তাদের কোম্পানি এশিয়াটিক যখন বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, তখন এই ‘দেশপ্রেম’ ছিল কোথায় ???
“নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় যখন আমার দেশ ঢেকে যায় দালালেরই আলখাল্লায়”…

– আজ মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্মদিন
নিজামীরা এই দেশে মন্ত্রী হয়, সূর্যসেনকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে ঢাবির সূর্যসেন হলের নাম বদলাবার ধৃষ্ট প্রস্তাব দেয়, এবং তাদের পালা হয় জনগণের ট্যাক্সের টাকায়
এই অশুভ সময়ে কি করে আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাই, মাস্টারদা !

– আরাফ নামের একটি “এগারো বছর বয়সী” ছেলে তার বাসার ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্য নিয়ে সোলার এনার্জি কাজে লাগিয়ে রিকশা চালানোর একটি মডেল তৈরি করেছে, রিকশাওয়ালাদের কষ্ট লাঘব করার জন্য। এগারো বছর বয়স ছেলেটার !!! ভাবা যায় !!!
কংগ্রাচুলেশনস আরাফ !!!

– এত রোমান্টিক একটা ওয়েদার, এরকম পরিবেশে মানুষ কত কিছু করে, অথচ আমি কিনা দাঁত মুখ খিঁচে টার্মপেপার লিখছি !!! হে অবোধ বালক, তুমি কবে সব কাজ শেষ মূহুর্তে শুরু করার অভ্যাসটা ছাড়তে পারবে ? কবে, কবে, কবে ???

২৪

– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ভাইবোনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা সবাই জানি টর্নেডোতে দুমড়েমুচড়ে গেছে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার বিশটি গ্রামের অসংখ্য মানুষের জীবন। আমরা কি তাঁদের প্রতি ভালোবাসা আর সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি না যথাসাধ্য আর্থিক সাহায্যের মাধ্যমে ???

– “মার্ক্সবাদের কথা শুনলে এখন মোল্লারাও ক্ষেপে না, সমাজতন্ত্রের কথা তারা সন্তোষের সাথেই শোনে; কিন্তু শরীরের কথা শুনলে লম্পটরাও ধর্মযুদ্ধে নামে।” (হুমায়ুন আজাদ)

২৫

”Bahba shabash, boroder dol,/ Ei to chai!/ Chotora khelbe,/ Ashun amra boma banai!” (Kabir Suman) বোমা নিয়ে দুই শিশুর মরণখেলা [http://www.samakal.net/details.php?news=13&action=main&option=single&news_id=336078&pub_no=1358]

২৬

আজকের মশাল মিছিল সফল। সরকারের টনক নড়বে না জেনে, শাহবাগের একেবারে স্থায়ী ও মাঠের লোকদের ডাকে মশাল মিছিল আন্দোলনের টনক নড়ার লক্ষণ। মঞ্চও এবার নড়ুক। একুশের আলটিমেটাম নিয়ে কোনো ছেলেখেলার ফানুস ওড়ানো নয়। আন্দোলন যে পর্যায়ে এসেছে সেখানে ফানুস চাই না, সাংস্কৃতিক সাংস্কৃতিক গন্ধ চাই না, চাই প্রতিরোধের নতুন ঘোষণা ও কর্মসূচি। এই মশাল পাল্টা ডাকের সূচনা। এই মশাল জ্বলবেই, যারা অনেকদূর যেতে চান তারা আসুন। ২৬ মার্চ দেখা হবে। (ফারুক ওয়াসিফ)

একটু আগেই বৃষ্টি ছিল
বাইরে এবং বুকে
ইঙ্গিতময় পত্র দিলাম
বন্ধুর বন্ধুকে!

আইসক্রিমের সঙ্গে কফি
এমন স্বাধীনতা,
ব্যর্থ দুপুর সম্ভাবনা,
রাতে চাঁদহীনতা…

দ্বিধায় ছিলাম জ্বর-জড়িত
লুকানো ভয়, সেও–
বৃষ্টি, তুমি এখনই না,
একটু পরে যেও।

চুপ ছিল সে। নিজের হাতেই
তুলে নিলাম আইন,
পাখির ডানায় পাঠিয়ে দিলাম,
পত্রটি তিন লাইন–

মন ভালো নেই,
মনকে তোমার আঙুল ধরে হাঁটাও,
বৃষ্টিবতী,
পারো যদি রংধনুকে পাঠাও।

Nahyan Faahim

কবিতাটা যতবার পড়ি ততবার মুগ্ধ হই…”

২৭

– শহিদ রুমি স্কোয়াডের বীর যোদ্ধারা জামাত নিষিদ্ধের দাবীতে জাতীয় যাদুঘরের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন। মুক্তিযুদ্ধ যে কারো বাপের সম্পত্তি বা স্বামীর সম্পত্তি নয় তা রিক্লেইম করার জন্য এটার প্রয়োজন ছিল। শহিদ জননীর সন্তানেরা আজ আবার প্রস্তুত দেশের জন্য জান দিতে!!!

– শহীদ রুমি স্কোয়াডের ব্যাপারে অমি রহমান পিয়ালের মত বিশিষ্ট ব্লগার না জেনে না শুনে মিথ্যে গুজব ছড়াচ্ছেন এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। জেনেশুনে ইচ্ছে করেই ছড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগাররা বাংলাদেশকে তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করেন, কিন্তু বাংলাদেশ কারো পৈত্রিক সম্পত্তি না…

– তুই খারাপ, তুই খারাপ, সংলাপ, সংলাপ, সমঝোতা, কার সাথে, জামাতের, না তাদের, অনেক তো, হল ভাই, এইবার, চাই চাই, পরিবর্তন চাই, জনতাই, জনতাই, উত্তর পাড়া নয়, সেনা নয়, হানা নয়, রাজাকারছানা নয়, জনতাই আনবে, রাজাকার পাহারাদার সবাইকে তাড়াবে, সংহতি, সংহতি, জনতার জনতার!!!

– শাহবাগ আন্দোলন জনতার প্রাণের আন্দোলন, আর এই প্রাণ যেই ধারণ করতে পারবে সেই সমর্থন পাবে। শহীদ রুমি স্কোয়াড সবচেয়ে তীব্রভাবে পেরেছে। গণজাগরণ মঞ্চ গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জনতার চেয়ে বেশি নয় নিশ্চয়!!! মঞ্চকে ধন্যবাদ শহীদ রুমি স্কোয়াডের সাথে সংহতি প্রকাশের জন্য…

২৮

– আরিফ জেবতিক ভাই, আপনাকে শ্রদ্ধা করি, শ্রদ্ধেয় বলেই করি। রুমি স্কোয়াডের ব্যাপারে আপনার স্ট্যাটাস দেখে তাই অবাক হয়েছি। গণজাগরণ মঞ্চের অনুমতি নিয়ে আন্দোলন করতে হবে কেন??? আমি একজন সামান্য মানুষ, বিনীতভাবে আপনাকে আপনার স্ট্যাটাস প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাচ্ছি!

– চীনা বাম, চীনা বাম করে চিল্লাতে পছন্দ করেন যাঁরা; এবং যাঁদের অধিকাংশের আসলে কোনো ধারণাই নাই মুক্তিযুদ্ধে কার কি ভূমিকা ছিল, তাঁরা ‘মূলধারা ৭১’, ‘বামপন্থী রাজনীতি ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর’ বই তিনটি পড়ে দেখতে পারেন। চিল্লানি একটু কমবে।

– এমন একটা সময় যখন সুবিধাবাদ সবকিছু, যখন মনে হয় আশা হারিয়ে যাচ্ছে (…) আমাদেরকে অবশ্যই সাহস খুঁজে পেতে হবে স্বপ্ন দ্যাখার। রোমান্সকে রিক্লেইম করার। ন্যায়বিচারে, মুক্তিতে আর আত্মমর্যাদাবোধে বিশ্বাস করার রোমান্স। সবার জন্য। – অরুন্ধতী রায় (তর্জমা আমার)

– সারারাত ধরে রঙিন চ্যানেলগুলো
চোখে ছুঁড়ে দেয় রহস্যময় ধুলো
বিজ্ঞাপনের অসমসাহসী ছেলে
তোমাকে ডাকবে শুধু কোকাকোলা খেলে

মোহময় চোখ, নরম দীর্ঘ চুল
বুকখোলা শার্ট, যুবকের কানে দুল
তোমার চোখেই চোখ মারা তার কাজ
তোমার গলিতে উড়াবে পক্ষিরাজ।

মন্দাক্রান্তা সেন

– রুমিরা জেগে আছেন, আর কিছুক্ষণ পর অনশনের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ণ হবে। এক যতীন দাস কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি, রুমীরা সমঝোতার রাজনীতির ভিত্তি কাঁপিয়ে দিতে পারবেন না? ইতিহাসব্যবসায়ীরা ইতিহাস নিয়ে ব্যবসা চালায় চালাক। রুমিরা জেগে আছেন, জেগে থাকবেন…

২৯

– রুমি আজাদ জুয়েলদের মৃত্যু নয়, জীবনটাই তো সত্য! তাই এই বাংলা যখন ‘ঢেকে যায় দালালেরই আলখাল্লায়’ তখন একাত্তরের সাথে রুমি আজাদ জুয়েলরাও ফিরে ফিরে আসে, ‘যমুনার বানের লাহান’ আসে, ‘মহররমে ধূলার সমান’ আসে। যেমন এসেছে শাহবাগে… শুভ জন্মদিন, শহিদ শাফি ইমাম রুমি!!!

– বুকে চিন চিন ব্যাথা লইয়া চিনা বাম চিনা বাম করিয়া চিল্লানো ঐতিহাসিক শিয়াল পণ্ডিত নাকি শহীদ রুমি স্কোয়াডের নিকট হাজির হইয়াছেন!!! যদি ক্ষমা চাহিতে যান তাহলে বুঝিব শুদ্ধ হইতে গিয়াছেন। আর যদি ভীতি প্রদর্শন করিতে যান তাহলে কেবল কহিবঃ রুমিরা ভয় পায় না কোনোদিন …

– ‘পশু আর মানুষের সহাবস্থানে পশুর সুবিধা, মানুষের বড়ই বিপদ।’ -সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

হয় এই বাংলায় জামাতশিবির ও আওয়ামি গডফাদার শামীম ওসমানরা থাকবে, নয় অসাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসবিরোধী জনগণ থাকবে। সহাবস্থান সম্ভব না। আর একটুও না।

নারায়ণগঞ্জ আমাদের পথ দ্যাখাচ্ছে…

– আজকে দুপুরে আমি বেশ কিছুটা সময় ছিলাম শহীদ রুমি স্কোয়াডের সাথে। দুয়েকজন ঘুমাচ্ছেন, একটা আপু পড়ছেন কার জানি কবিতাসংগ্রহ, একটা ভাইয়া ল্যাপটপে লিখছেন কিছু। ৫৫টা সংগঠন (তখন পর্যন্ত) সংহতি জানিয়েছেন, আর অসংখ্য ব্যক্তি।
জননী জাহানারা ইমাম যদি বেঁচে থাকতেন আজ !!!

৩০

– চৈতি, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছি। আমাদের মধ্যে দুয়েকজন হয়তো জামাল নজরুল ইসলাম বা জীবনানন্দ দাশ হবে। কিন্তু আমরা অধিকাংশই তো কর্পোরেট কেরাণি হব, বা সরকারি চাকর হব। বোন, বোন রে, কেরাণি চাকর তৈরির কারখানায় ঢুকতে না পেরে তুই ক্যান আত্মহত্যা করলি???

– তসলিমা নাসরিনের ‘ক’ বইটি যখন বেরিয়েছিল, তখন অনেকেই বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বইটির সমালোচনা করছিলেন। আমি বইটি পড়েছি, যৌক্তিক সমালোচনা হতেই পারে বইটির বিভিন্ন প্রসঙ্গে, ভিন্নমতও থাকতে পারে অনেক জায়গায়, আমার নিজেরই আছে। কিন্তু সে সময়, সমালোচনা নয়, সমালোচনার নামে তসলিমার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি কুৎসিৎ ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা লিখেছিলেন/বলেছিলেন সমরেশ মজুমদার থেকে হুমায়ুন আজাদ পর্যন্ত অনেক ‘প্রগতিশীল’ লেখক…। কিন্তু ভাষিক কদর্যতার প্রতিযোগিতায় সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন মাসুদা ভাট্টি। তাঁর পাঠপ্রতিক্রিয়ার ভাষা ছিলো অনেকটা এরকমঃ ‘বুড়ি বেশ্যা ল্যাম্পপোস্টের আলোর তলে বসে আত্মরতির কাহিনী লিখেছে।’ আজ সেই মাসুদা ভাট্টি মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল কাজী নুরউজ্জামান-কে, যিনি একাত্তরের ঘাতক ও দালাল নির্মূল কমিটির একজন অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন, ‘চীনা বাদাম’ বলেন!!! মাসুদারা এই করে করেই এই মরার দেশে ‘বিশিষ্ট’ হন। আর হবেনই বা না কেনো, এই দেশটা তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দলীয়করণকারী ঠিকাদার-গবেষক ইতিহাসব্যবসায়ী শিয়ালপণ্ডিত পীরসাহেব আর তাঁর মুরিদদের বাপের সম্পত্তি, তাই না???

– শহিদ রুমি স্কোয়াড নিয়ে মোশাহিদা ম্যাম। লেখার লিংকঃ http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/8775।

– মানিক সূত্রধর মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অন্যরাও। জানেন? শহীদ রুমি স্কোয়াডের পাশে স্টেট নাই মিডিয়া নাই মধ্যরাতের টকশোঅলারা নাই। আছেন শুধু জনগণ। জানেন? প্লিজ জাতীয় যাদুঘরের সামনে যান। একা বা সংগঠন নিয়ে সংহতি জানান, থাকেন কিছুক্ষণ। যাবেন না?

৩১

– আমাদের প্রশ্ন, আমরা জানতে চাই, সরকার কি অনশনকারীদের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছে? শহীদ রুমি স্কোয়াড

– চীনা বাদাম চীনা বাদাম করেন ক্যান?- চীন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাই চীনা বাম সহ্য করতে পারি না।
– কিন্তু আমেরিকাও তো বিরোধিতা করেছিল!
– তারে সহ্য করেন ক্যান?
– সে শক্তিশালী।
– আচ্ছা। জামাতও কি শক্তিশালী নাকি? জামাতরে সহ্য করছেন ক্যান?
– (নৈঃশব্দ)

– আমার চৌদ্দ গুষ্টির কপাল আমার মত অতি নগন্য একজন আজ শহীদ রুমি স্কোয়াডের পাশে স্বেচ্ছাসেবক হিশেবে ছিলাম কিছুক্ষণ! নিকোলাই অস্ত্রভস্কির ইস্পাত পড়া ছিল!! আজ দ্যাখার সৌভাগ্য হল!!! নিলয় ভাই ফয়েজ ভাইদের সাথে কথা বললাম। হেই সরকার, ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে’???

এপ্রিলঃ এপ্রিল ইজ দা ক্রুয়েলেস্ট মান্থ

০১

৮৬ জন ব্লগারের যে তালিকা তৈরি করা হল, এটা হচ্ছে সরাসরি অন্ধকারের কাছে আত্মসমর্পণ। চিন্তাকে ঠেকাতে হলে চিন্তা দিয়েই ঠেকাতে হয়, তালিকা তৈরি করা ঘাতক দালালদের বৈশিষ্ট্য। একজন নগন্য ব্লগার হিশেবে আমি মুক্তচিন্তার ওপর এই রাষ্ট্রীয় আগ্রাসণের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

০২

– Subrata Shuvo-কে ফেসবুকে চিনতাম অনেকদিন ধরে, বাস্তবে পরিচয় হয় শাহবাগ আন্দোলনের সময়। খুব সংক্ষেপে যদি বলতে হয়, অসাধারণ একজন মানুষ। সত্য বটে, বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত সবসময় আমি সমর্থন করি না, কিন্তু মানুষ হিশেবে তাঁকে আমার অসাধারণ মনে হয়েছে। শুভ ও অন্যান্য ব্লগারদের নিঃশর্ত মুক্তি কামনা করছি। তাঁদের চিন্তা যদি ভুল হয়, তাহলে সেটাকে সঠিক চিন্তা দ্বারা মোকাবিলা করা যায়। কিন্তু চিন্তা প্রকাশ কোনো অপরাধ নয়, হতে পারে না। আমি আশা করব, শুভ ও অন্যান্য ব্লগাররা সহিসালামতেই আমাদের কাছে ফিরে আসবেন।

– “এ-আঁধারে উন্মাদ ও অন্ধরাই শুধু আশাবাদী।” (হুমায়ুন আজাদ)

০৩

~ “এই দুনিয়ার সকল ভালো
আসল ভালো, নকল ভালো
সস্তাও ভালো, দামীও ভালো
তুমিও ভালো, আমিও ভালো…
ঠাণ্ডা জলে নাইতে ভালো
কিন্তু সবার চাইতে ভালোঃ
পাউরুটি আর ঝোলাগুড়!”

(সুকুমার রায়)

রায়সাহেব সমঝদার ছিলেন, তাঁর মতো সমঝদার যদি আমরা হতাম, তবে অনেককিছুই অন্যরকম হত!!!

– It is dangerous to be right when the government is wrong.
Voltaire

আনু স্যারের লেখা। শাহবাগ নিয়ে। লিংকঃ http://www.amaderbudhbar.com/?p=532

– রুহী কে? হেফাজতে ইসলাম কি? লংমার্চ করার সাহস এরা কার কাছ থেকে পায়?

২০০৩এ আমেরিকার ইরাক আগ্রাসণ শুরু হয়, যাতে প্রাণ হারানো লাখ মানুষের অধিকাংশই মুসলমান, তখন এরা কই ছিল? কি করেছে? লংমার্চ করেনি কেন?

এরা ইসলাম নয়; জামাতকে হেফাজত করতে চায়, কিন্তু পারবে না…

– বারিধারায় রিকশাঅলাদের লুঙ্গি পড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে

একদম ঠিক আছে! ব্যাটাদের কত বড় সাহস, লুঙ্গি পড়ে ‘আপারক্লাস’ এলাকার ‘সৌন্দর্য’ হানি করে!! এদের জন্যই দেশটার উন্নতি হচ্ছে না!!!

গরীবগুলিরেই নিষিদ্ধ করা হোক, দেশ উন্নতির জোয়ারে ভাসতে ভাসতে ইন্ডিয়ায় চলে যাবে।

– অনেক চিন্তা কইরা দেখলাম, হেফাজতে ইসলাম আসলে চীনা বাম।
– (বিস্মিত হয়ে) ক্যামনে???
– কমরেড মাও সেতুঙ লং মার্চ করেছিলেন। এরাও লং মার্চ করতে চায়। চীনা বাম না তো কি!

০৪

– “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সুব্রত অধিকারী শুভসহ গ্রেফতারকৃত অন্যান্য ব্লগার (রাসেল পারভেজ, মশিউর রহমান বিপ্লব ও আসিফ মহিউদ্দিন) দেরকে নিঃশর্তে মুক্তি দেবার দাবীতে আগামী ০৮ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সর্বাত্মকভাবে ধর্মঘট পালন করব।
আমাদের দাবীঃ

১/ চিন্তা প্রকাশ কোনো অপরাধ নয়, অতএব অবিলম্বে সকল গ্রেফতারকৃত ব্লগারকে নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে।
২/ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর সকল প্রকারের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
৩/ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।”

(এই সময়ে আমি আর তাহসিন একটা লেখা লিখেছিলাম ব্লগারদের মুক্তির দাবিতে, কিন্তু কোনো পত্রিকা লেখাটা নিতে রাজি হয় নাই, তাই ওটা হারিয়ে গেছে।)

– চিন্তা করছি লংমার্চ করবো।

লংমার্চ করে ফ্রান্সে চলে যাবো। শার্ল বোদলেয়ারের দেশ, পল সেজানের দেশ। আর ফরাশি মেয়েরাও শুনেছি খুব সুন্দর হয়, বিদেশি কিছু সুন্দরী মেয়ে বন্ধু থাকা খারাপ না। এই মুহুর্তে এর চেয়ে “স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের” চিন্তা আর কি হতে পারে !!!

– হেফাজতে ইসলামের “১৩ দফা” দেখলাম।

আমার ধারণা ছিল তারা ভণ্ড। ধারণাটা ভুল ছিল। তারা উন্মাদ, বদ্ধ উন্মাদ!!!

এই “১৩ দফা” বাস্তবায়ন করতে গেলে গোটা বাংলাদেশকেই নিষিদ্ধ করে দিতে হবে! সেটা সম্ভব না, তাই হেফাজতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করা হোক। সহজ সমস্যার সহজতম সমাধান…

০৫

– ফরহাদ মজহার নাস্তিক। তিনি লুঙ্গি পড়েন। আমরা জানি, জামাতও জানে।

তিনি তারেক রহমানের গুরুগিরি করেন। ‘রক্তের দাগ মুছে রবীন্দ্রপাঠ’ করেন। আমার দেশ ও নয়া দিগন্তে হাইডেগার থেকে মার্ক্স অনেককিছুই করেন।

তার নাস্তিকতা নিয়ে কিন্তু কারো আপত্তি নাই, লুঙ্গি নিয়েও নাই!

– মুক্তচিন্তার অধিকারের পক্ষে থাকায় জন্য আমরা সারা দুনিয়ার জনসাধারণের কাছে আহবান জানাতেই পারি। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে কেউ আবার আমেরিকা বা ভারতকে বাংলাদেশে এসে মুক্তচিন্তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাওয়ার আহবান জানায়েন না! আমাদের দেশটা দখল হয়ে যায় না যেন…

– লড়াইটা ব্লগার আর হেফাজতে ইসলাম এর নয়। লড়াইটা আস্তিক আর নাস্তিক এরও নয়। লড়াইটা আসলে রাজাকার আর আমাদের। মনজিল ঠিক না থাকলে আমরা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ব। ৭১এ, আহমদ ছফার ভাষায়, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ যেমন হাঁটতে হাঁটতে ভারতে গিয়েছিল। তাই সময় থাকতেই সচেতন হতে হবে…

০৬

– হেফাজতে ইসলামকে বলছি। শুনলাম আপনারা নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা, রাজু ভাস্কর্য ইত্যাদি ‘মূর্তি’ ভেঙে ফেলার চিন্তা করছেন। চিন্তা করা ভালো। আপনারা চিন্তাশীল মানুষ। তবে বাস্তবায়ন করতে আইসেন না, আসলে ঢাবির শিক্ষার্থীরা ওইখানেই কাইটা ফালায়া রাখবে।

– প্রিয় মধ্যবিত্ত। নিজের পোলারে তিন আর মাইয়ারে দুই মাস্টার রাইখা পড়াইসেন। জীবনে খোঁজ নিসেন, গরীবের পোলা মাইয়ারা মাদ্রাসায় কি শিখতাছে? আইজকা তাগোরে ঢাল হিশাবে ব্যবহার কইরা জামাত বাঁচতে চাইতাসে। তাগো নেতারা দায়ী। রাষ্ট্রও। কিন্তু আপনেও দায় এড়াইতে পারেন না…

– তুমি ঢাবিতে পড়, কিন্তু যেই হেফাজতে ইসলামের মূর্খ আর ধূর্ত নেতারা ‘মূর্তি’ আখ্যা দিয়ে মুক্তিযুদ্বের ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা ভাঙতে চায় তুমি তাদের সমর্থন কর। তোমার মত বেজন্মার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কোনো অধিকার নাই। ঢাবি ছেড়ে মাদ্রাসার তালেবে এলেম হয়ে যাও…

০৭

এই প্রথম একজনকে দেখলে যে তোমার মতই পড়ার সময় হাত নেড়ে নেড়ে নিজেই নিজেকে বোঝায়। ভালো। চমৎকার! সে এতো সুন্দর!!! হাসলে অবশ্য দাঁতের মাড়ি বের হয়ে থাকে। থাকলে থাকে, “সুন্দর যেভাবেই থাকে, সেভাবেই সুন্দর।” তুমি প্রেমে পড়ে যাচ্ছো ইরফান, মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছো। তোমার জন্মদিনের মাত্র তিন দিন আগে ‘হৃদয়ের সন্ত্রাসে’ খুন হয়ে গেলে? প্রপোজ করার তোমার সাহস নাই, করলে অবশ্য হ্যাঁ শোনারও কোনো সম্ভাবনা নাই, কই সে আর কই তুমি, তুমি বরং কবিতা লেখ, বড় বড় কথা তো খালি কবিতাতেই লিখতে পারো, তাই রাজকুমারী তোমারে দেখেও দেখবে না কোনোদিন, যদি কোনো মিরাকল না ঘটে…

(পতনটা স্বল্পস্থায়ী ছিলো। এক সপ্তাহের মধ্যেই পতন থেকে উঠে এসেছিলাম। কারণ বুদ্ধ কোথায় যেনো বলেছেন, হে বাবাসকল, তোমরা সহপাঠিনীর প্রেমে পড়িও না।)

০৮

– ৫ই ফেব্রুয়ারি এবং তারপর (http://unmochon.net/node/2229)

– জীবন মানুষের সবচেয়ে প্রিয়। এই জীবন সে পায় মাত্র একবার বাঁচবার জন্যে। এমনভাবে বাঁচতে হবে তাকে যাতে বছরের পর বছর লক্ষ্যহীন জীবনযাপন করার জন্যে পরে যন্ত্রণাভরা অনুশোচনায় ভুগতে না হয়, যাতে বিগত জীবনের গ্লানিভরা হীনতার জন্যে লজ্জার দগ্ধানি তাকে সইতে না হয়। এমনভাবে বাঁচতে হবে যাতে মৃত্যুর মুহূর্তে সে যেন বলতে পারে আমার সমস্ত জীবন, সমস্ত শক্তি আমি ব্যয় করেছি এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড়ো আদর্শের জন্যে- মানুষের মুক্তির জন্যে সংগ্রামের আদর্শ। এবং তার জন্যে জীবনের প্রত্যেকটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে পাছে হঠাৎ কোনো ব্যাধি বা কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা জীবনে আকস্মিক ছেদ টেনে দেয়। How the Steel Was Tempered/ Nicolai Ostrovski

– আমনে ধনীর পোলামাইয়ার লাইগা ইংলিশ মিডিয়াম, মধ্যবিত্তের পোলামাইয়ার লাইগা বাংলা মাধ্যম আর গরীবের পোলামাইয়ার লাইগা মাদ্রাসা মাধ্যম চান। তারপরে সেই মাদ্রাসার পোলাডির ব্রেইন ওয়াশ কইরা যহন জামাত তাগোরে ভুল জিহাদে নামায়, তহন আমনে তাগোরে গাইল দেন। হায়রে আধুনিক!!!

০৯

(এই দিনটা গুরুত্বপূর্ণ। এইদিন বাসদ ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেছিলো। মুবিনুল হায়দার চৌধুরী আর শুভ্রাংশু চক্রবর্তী মতাদর্শিক বিতর্কের কারণে বাসদ থেকে বেরিয়ে যান।)

(সে তোমার বন্ধু নয়)
তুমি কী ভেবেছো? তোমাকে সে ভালোবাসে?
হায় বোকা মেয়ে! এখনো কি তুমি বন্ধু চিনতে শেখো নি!
তোমাকে সে শুধু বিছানায় টেনে নিতে চায়!
চিলের চাউনি, নেকড়ের নখ, হায়েনার হাসি দেখো নি?

১০

– আজ ১০ এপ্রিল। ১৯৯২ সালের এই দিনে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাঙ নামক গ্রামে সেনাবাহিনীর সদস্য ও কিছু বাঙালি সেটলারের বর্বরোচিত হামলায় বহু পাহাড়ি নিহত হন। আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয় অনেক বাড়িঘর। এভাবেই একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের পাহাড়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীর নিপীড়ন-গণহত্যা-ধর্ষণ-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ-উচ্ছেদ। উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের অগ্নিশিখায় পুড়ে ছাই হওয়ার পথে পাহাড়ি-বাঙালির ভ্রাতৃত্ববোধ। আজ লোগাঙ গণহত্যার একবিংশ বার্ষিকীতে অবাঙালি জাতিসত্তার মানুষের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানাই, সকল গণহত্যা-অবিচার-রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিচার দাবি করি। (আবিদুল ইসলাম)

– ফিরোজ ভাইয়ের লেখা। হেফাজত নিয়ে। লেখার লিংকঃ http://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/8893।

– এই পহেলা বৈশাখেও প্রতি বছরের মতোই মঙ্গল শোভাযাত্রা হবে, কিন্তু তারপর কি হবে?

বন্ধুগণ, জামায়াতে ইসলামী কিন্তু এখনো নিষিদ্ধ হয়নি। আমরা সক্রিয়ভাবে না চাইলে হবেও না কোনোদিন। এই পহেলা বৈশাখ থেকে আমরা কি আবার শাহবাগে অবস্থান নিতে পারি না?

লেটস রিভাইভ শাহবাগ…

১১

– ঝিনুক নীরবে সহো ঝিনুক নীরবে সহো,
ঝিনুক নীরবে সহে যাও
ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও!

আবুল হাসান

– আমার দেশ সম্পাদক গ্রেফতার হয়েছেন। এতে জ্বলে উঠেছেন একগোত্র সাংবাদিক। ‘জ্বলে উঠি সাহসী মানুষ’! সাগর রুণি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবীতে সাংবাদিকরা যে দীর্ঘদিন ধরে যে আন্দোলন চালিয়েছেন, আপনারা কি সেখানে ছিলেন? নাকি ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা’ কেবল জামাতিদের জন্য?

– ভল্‌তেয়ার চাইতেন ধর্মকে শেকড়সুদ্ধ উপড়ে ফেলতে, রুশো চাইতেন ধর্মকে জালেমদের দখলমুক্ত করে ইশ্বরকে নিয়ে আসতে মানুষের মাঝখানে! তাই ভল্‌তেয়ার প্রিয় ছিলেন সংস্কারপন্থী অভিজাতদের, আর রুশো প্রিয় ছিলেন বিপ্লবী জনতার! ফরাশি বিপ্লবের ইতিহাস থেকে অনেক কিছু শেখার আছে!

১২

– স্বাধীনতার প্রয়োজন আছে, কারণ মানুষ সমাজের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ব্যক্তি বিশেষের ওপর নির্ভরশীল হলে সমাজই হয়ে পড়ে দুর্বল; সাম্যের প্রয়োজন আছে, কারণ সাম্যের বিধান না হলে স্বাধীনতার নিশ্চয়তা মেলে না। সামাজিক চুক্তি/ জ্যাঁ-জাক্‌ রুশো (তর্জমাঃ সরদার ফজলুল করিম)
– বাঙালি আন্দোলন করে, সাধারণত ব্যর্থ হয়, কখনোকখনো সফল হয়; এবং সফল হওয়ার পর বাঙালির মনে থাকে না কেনো তারা আন্দোলন করেছিলো। – হুমায়ুন আজাদ

– I don’t want followers. – Noam Chomsky

১৪

– মঙ্গল শোভাযাত্রা নারীবান্ধব না।

অনেক নারী ভয়েই ঢুকতে পারেন না, যাঁরা সাহস করে ঢোকেন তাঁদের চারপাশে চক্রব্যুহ হয়ে থাকেন প্রেমিক/বন্ধু/ভাই জাতীয় পুরুষেরা, তাঁদেরকে বিকারগ্রস্তদের থাবা থেকে রক্ষা করার জন্য।

মঙ্গল শোভাযাত্রা দেখতে চাই, বিকার শোভাযাত্রা না…

– ইমরান এইচ সরকার একজন ভালো লোক। আমি তাঁকে পছন্দ করি। তাঁর সীমাবদ্ধতা আছে সেটা তো আমরা সবাই জানি, কিন্তু তিনি অন্তত মাঠে থেকে চেষ্টা করেছেন, অনলাইনে দেশপ্রেম আর বিপ্লবের মুদিদোকান খোলেন নাই।

– আত্মসম্মানবোধ কতটা কম হলে একটা মেয়ে ‘অই ছুঁড়ি, ওড়না গলায় না দিয়া বুকে দে’ টাইপের পেইজে লাইক দিতে পারে?

– শাহবাগ মরে নাই! মরে নাই!! মরে নাই!!!

প্রজন্ম চত্বরে জ্বলে উঠেছে আবারো লাখো মোমবাতির আগুন, আর তার চেয়ে উজ্জ্বলতর মানুষেরা।

আমি আশা ছাড়তে রাজি না রে ভাই। ‘হবে না রে ভাই হবে না’-র সংগীত ৪২ বছর ধরে গাওয়া হয়েছে, আর না। আমরা করবোই জয় একদিন, আজ অথবা আগামীকাল…

১৫

– ছিঃ, হাসনাত আবদুল হাই, ছিঃ!!!
আপনি একজন লেখক?

– সৌন্দর্য, অসুখ ও লেখক

সৌন্দর্য, অনন্ত নক্ষত্রবীথির মায়া
তোমার শরীর থেকে সরে যাক অসুখের অন্ধকার ছায়া!
সৌন্দর্য, উজ্জ্বল মহাপৃথিবীর দেশে
তোমাকে পাবার আশা নিয়ে বাঁচে একটি লেখক ভালবেসে!

দুপুরবেলা,
১৫ই এপ্রিল
লালমাটিয়া, ঢাকা।

::::::
“সুরঞ্জনা, অইখানে যেয়ো নাকো তুমি,
বোলো নাকো কথা অই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জণাঃ
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;
ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূরে – আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেয়ো নাকো আর।”

আকাশলীনা_জীবনানন্দ দাশ
::::::

১৬

– এই দেশের মাটিতে আমরা দেখতে পাইনি পুঁজিবাদের আদিম শৈশব, কিন্তু দেখেছি তার রক্তাক্ত জরাগ্রস্ত অবস্থা। অনুন্নয়ন উন্নয়নের কোনো ধাপ নয়, এটা তার ফলশ্রুতি। লাতিন আমেরিকার অনুন্নয়নের উৎপত্তি বহির্জগতের উন্নয়ন থেকে, যাকে সে ক্রমাগত পুষ্টি যুগিয়েছে। নিজেরা নির্বীর্য হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গোলামি করে, জন্ম থেকেই সে মুমূর্ষু, তার পা কাদায় ভরা। যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চায় এটাই তার নিয়তি এবং গুলিয়ে দিতে চায় চিরন্তন বলে। সমস্ত স্মৃতিই পরাভবী, কারণ এটা পৃথক, এবং ভবিষ্যতের সমস্ত প্রকল্পও। অলস লোককে খেতে বলা হয় লবণ ছাড়া। লবণ বড়ো বিপজ্জনক, জাগিয়ে দিতে পারে তাকে। রাষ্ট্র ব্যবস্থা তার উদাহরণ দেখতে পায় পিঁপড়েদের অপরিবর্তনশীল সমাজের মধ্যে। আর সেইজন্য সে সম্মান দেয় না মানবসমাজের ইতিহাসকে, কারণ তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আরও কারণ আছে, কারণ মানবজাতির ইতিহাসে প্রত্যেকটি ধ্বংসাত্মক কাজের প্রতিরোধ অবশ্যম্ভাবী, বিলম্বে অথবা তৎক্ষণাৎ, সৃষ্টির মধ্য দিয়ে। – লাতিন আমেরিকার রক্তাক্ত ইতিহাসঃ এদুয়ার্দো গালেয়ানো (১৯৭৮:১৯৭১ , তর্জমাঃ অশেষ রায়) র‍্যাডিক্যালঃ কলকাতা (২০১১)

– এমন আর কোনোদিনই হয়নি তো ছেলে তোর সাথে
সামান্য সময় দিনে দেখিস তাহারে আর ঘুম আসেনা রাতে!
কি যে মায়া তার হাসি আর মৃদু মাথা নাড়ানোয়
এ দৃশ্য হারিয়ে যাবে, ভয় হয়; বড়ো ভয় হয়!

– ”আমাকে ভালোবাসার পর আর কিছুই আগের মতো থাকবে না তোমার।”

১৭

সাদিয়া ইসলাম বৃষ্টি, তোমাকে আমার বোনের মত মনে হয়।

১৮

“শাদা মানুষেরা আমাদের দেশে এলো। হাতে বাইবেল ও শেকল নিয়ে। আমাদের কাছে ছিল সোনারুপা ও জমিজমা। তারা শেখাল প্রার্থনা করতে হয় চোখ বন্ধ করে। আমরা চোখ বন্ধ করে প্রার্থনা করলাম। চোখ খুলে দেখি আমাদের হাতে বাইবেল, পায়ে শেকল। আর ওদের কাছে চলে গেছে সোনারুপা ও জমিজমা!”

১৯

“এই যে বিপুল পরিমাণ অর্থ উড়ে যায় সেগুলো আসলে কীভাবে ব্যবহৃত হয়? সুইজারল্যান্ড কিংবা সিঙ্গাপুরের দিকে তাকালেই অনেকটা পরিষ্কার হয়। বিশেষ নিরাপত্তাযুক্ত ব্যাংকের সাথে সাথে সেখানে রয়েছে দুনিয়ার সবচেয়ে ধনবানদের বাড়ি, ব্যয়বহুল প্রাইভেট স্কুল, উন্নতমানের এবং দামি হাসপাতাল, আর অবকাশ যাপন কেন্দ্র। চীনা রিয়েল এস্টেটের ফাটকা ব্যবসায়ী, সিলিকন ভ্যালীর সফটওয়্যাল টাইকুন, দুবাই এর তেল মালিক শেখ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট, আফ্রিকার খনি ব্যবসায়ী, বাংলাদেশের এনজিও ও লর্ড বা মন্ত্রী কিংবা মেক্সিকোর মাদক সম্রাট সবারই সেখানে রয়েছে সাদর আমন্ত্রণ। কিছু পার্থক্য সত্ত্বেও এদের সবার রয়েছে কিছু সাধারণ চাহিদাÑ (১) তাদের নিজেদের, পরিবারের, ব্যবসার অথবা রাজনৈতিক কাজকারবারের গোপনীয়তা (২) ভবিষ্যৎ করের পরিমাণ ও কর ফাঁকির খরচ কমিয়ে আনা (৩) দুনিয়ার যে কোনো জায়গা থেকে তাদের সম্পদের সহজপ্রাপ্যতা ও দেখভাল করার নিশ্চয়তা (৪) বসবাস বা লুকানোর নিরাপদ জায়গা নিশ্চিত করা ও জীবন উপভোগ করা (৫) যারা এখনো বিনিয়োগ করতে আগ্রহী তাদের বিনিয়োগের ব্যবস্থাপনা (৬) প্রধানত তাদের কর না দেয়া গোপন বিপুল পরিমাণ সম্পদের লৌহ কঠিন নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা শুধু কর বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারীদের কাছ থেকেই নয় একই সাথে অপহরণকারী, ছিনতাইকারী, গোয়েন্দা, ঘাতক, বিরোধী পক্ষ, হ্যাকার, পাপারাজ্জি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, অসন্তুষ্ট আত্মীয়, প্রাক্তন প্রেমিক/প্রেমিকা, প্রাক্তন স্বামী/স্ত্রী এদের কাছ থেকেও।অর্থাৎ এদের বিত্ত-বৈভব, আরাম-আয়েশ, ভোগ-সঞ্চয় সবই রাষ্ট্রের কর ফাঁকি দেয়ার ওপর নির্ভর করে; যে করের টাকা জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে, কিংবা অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাত গঠনে ব্যবহৃত হতে পারতো। (উড়াল অর্থের রাজনৈতিক অর্থনীতি : গরিবের টাকায় বড়লোকি- আবুল হাসান রুবেল)

২০

“স্মরণ রাখিবে, মানুষ সম্মানিত, তাই কোন অবস্থায় মানুষকে অবহেলা করা চলিবে না।…হউক সে বেদ্বীন,…কাফির, মুনাফিক, সকলেই এক আল্লাহর বান্দা, সৃষ্টির সেরা সৃষ্টি মানুষ।…মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি ইসলামে অমার্জনীয় অপরাধ।” [হযরত শাহ জালালের (রহঃ) বিদায় ভাষণ]

২২

– পারি না পারি না আমি কিছুই পারি না বন্ধুগণ
যা কিছু ক্ষমতাময় হত্যাকাণ্ড অথবা ধর্ষণ!
আমি শুধু কবিতায় সহজ সরল বিশ্বাসী
জলের প্রেমিক তাই বৈশাখেও বৃষ্টি ভালবাসি!
আমি কি বাঁচতে পারি এ ভূখণ্ডে যেখানে নিঃশ্বাস
নেবার আগেই বহু শিশু আজো হয়ে যায় লাশ?

_ “লেনিন ভেঙেছে রুশে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন প্রথম প্রতিবাদ।”

শুভ জন্মদিন, কমরেড লেনিন!_

90s এ ঢাবির এক শিক্ষক একটি বইয়ে দাবি করেছিলেনঃ একজন মুসলমান ক্যাপিটালিস্ট দেশে ঈমান টেকাতে পারলেও সোশ্যালিস্ট দেশে পারবে না! তার লজিকঃ ক্যাপিটালিস্ট দেশে জাকাত দেওয়া যায়, সোশ্যালিস্ট দেশে কে কাকে জাকাত দেবে? আল্লাহ, ইসলামকে তুমি এদের হাত থেকে হেফাজত করো!

২৪

– আমরা যখন Savarএ থাকতাম, তখন আমার প্রিয় জায়গাগুলির একটা ছিল রানা প্লাজা (জাবি ক্যাম্পাস বা রেডিও কলোনির কথা এখানে আর নাই বা লিখলাম!)

আমার বন্ধু Syed Nazmus Sakib এর সাথে কতোদিন যে গিয়েছি সেখানে, আড্ডায় আড্ডায় কোনদিক দিয়ে যে সময় চলে যেতো আমরা বুঝতেই পারতাম না!!!
আজ সকালে রানা প্লাজা ভেঙে পড়েছে, তার চারটা গার্মেন্টস কারখানাসহ। এখান সেটা একটা ধবংসস্তূপ। মিনিটে মিনিটে মোবাইলে কল আসছে, আর জানতে পারছি মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বেড়েই চলেছে…

খুব অসহায় লাগছে। এই মৃত্যু-উপত্যকাই আমার দেশ। যেই সর্বব্যাপক অপরাজনৈতিক দুঃশাসন চলছে এই দেশে তার অবসান যদি না ঘটে, এবং কখনোই ঘটবে না আমরা যদি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত না হই, তবে নিশ্চিত থাকুন এই হিমশীতল মৃত্যুর মিছিলে নেক্সট লাশটা হবে আমার অথবা আপনার।

– সাভারের রানা প্লাজার ভবন ধবসে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু ঘটেছে আজ, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে, আর আহতের সংখ্যা ৬০০এরও অধিক। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। ত্রুটিপূর্ণ ভবন নির্মাণের অনুমতি না দিলে এই ঘটনা ঘটত না, তাই এটি হত্যাকাণ্ড। রানা প্লাজায় চারটা গার্মেন্টস কারখানা ছিল। আমরা তাজরীন ফ্যাশনসের কথা ভুলে যাইনি। আজকের ঘটনাটি গার্মেন্টস শ্রমিক হত্যার ধারাবাহিকতাও বটে। এবং এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

আজ বিকেল চারটায় প্রেসক্লাবে গণসংহতি আন্দোলন এই হত্যার প্রতিবাদে প্রেসক্লাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে।
তিনটা থেকেই আমরা প্রেসক্লাবে জমায়েত হতে থাকব।

সবাইকে আহবান জানাই। আসুন, অংশ নিন আমাদের সাথে।

– লুটপাট ও সন্ত্রাসভিত্তিক শাসকশ্রেণীর দখলে থাকা রাষ্ট্রের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় এক একটি কাঠামোগত গণহত্যা সংঘটিত হবার পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা একটি নির্মম রাজনৈতিক রসিকতা।

২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Savar যাচ্ছি আমরা কজন। ভবন ধবসের প্রাথমিক আঘাতের পরের এই সময়টায় ভিকটিমদের সাহায্য খুব দরকার, দেখি কতোটা করতে পারি। ভাই-বোন-বন্ধু-নামেমাত্র বন্ধু-শত্রু-অনলাইন শত্রু যাঁরাই আছেন ইচ্ছে হলে আমাদের সহযাত্রী হতে পারেন, যে-কোনো জায়গা থেকে সাভারের বাসে উঠে যান, ‘আমরাই আপনারা, আপনারাই আমরা’।

২৬

– কিছু প্রশ্নঃ কাফনশহর থেকে ফিরে… (http://www.somewhereinblog.net/blog/erfanrafen/29823421)

– জরুরি অক্সিজেন দরকার। পাওয়া যাচ্চেনা। ছাত্র ফেডারেশনের উদ্ধার টিম কাজ করে চলেছে। সারা ঢাকা খুজে আসলাম অক্সিজেন নাই। কেউ পাইলে যোগাযোগ করেন। যোগাযোগ- ০১৯১২৯১৫০৩০। (Ariful Islam)

– অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ আর অন্যান্য কিছু সরঞ্জাম নিয়ে সকালে রওয়ানা হয়েছেন ছাত্র ফেডারেশন এর সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একটি দল সাভার রওয়ানা হয়েছেন। আরও একটি দল বিকেলের দিকে রওয়ানা হচ্ছে। এই পুরো বিপর্যয়ে উদ্ধার-ত্রাণ-চিকিৎসার সিংহভাগ দায়িত্বই পালন করেছেন জনগণ। সরকার সার্চ লাইটের ব্যবস্থা করেনি, জনগণ টর্চের আলোয় উদ্ধারকর্মীদের পথ দেখিয়েছেন। সরকার বিম কাটার মত ভারী যন্ত্র বসিয়ে রেখেছে, জনগণ হাতুড়ি শাবল নিয়ে পথ বের করেছেন। সরকার অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ির সামান্য ব্যবস্থাই করেছেন, জনগণ সাধ্যমত সেগুলোর বন্দোবস্ত করেছেন। সরকার দম-বন্ধ-করা দুর্গন্ধে আটকে পড়া মানুষের দম নেয়ার ব্যবস্থা করেনি, সাধারণ মানুষ চাঁদা তুলে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করেছেন। উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাবার জন্য, পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য বিপুল অর্থ সহায়তা দরকার। মিনতি জানাই, যতদূর সম্ভব সহায়তা করুন। বন্ধুদের সহায়তা করতে বলুন। (Firoz Ahmed)

– রাষ্ট্র চাইছে ৯৬ ঘন্টা পার হয়ে যাক কোনোক্রমে। তারপর গণকবর তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হবে। হয়তো ঘোষিত হবে আরেকটি শোক দিবস। আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নাই, কেউ নাই, কেউ নাই…

– আমরা সবাই মিলে একটা কাজ করতে পারি। বিজিএমইএ’র বিল্ডিং-টা ধরে একটু নাড়াচাড়া করলেই পড়ে যাওয়ার কথা। স্পেকট্রাম-তাজরিন-রানায় মানুষ তো অনেক মরলো, কয়েকটা রক্তচোষা পিচাশের মরা দরকার এখন।

– গণসংহতি আন্দোলনের কর্মী ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য শরিফুল ইসলাম টানা ৬০ ঘন্টা যাবত সাভারের উদ্ধার তৎপরতায় কাজ কাজ করতে করতে ভয়াবহ অসুস্থ হয়ে পরেছে। তাকে এই মূহুর্তে অজ্ঞান অবস্থায় সেলাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। সাভারে গণজাগরণ ক্যাম্পে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আমরা শরিফের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। – (সৈকত মল্লিক)

– আমার বন্ধু Rayhan Sharif Sharifএর ছোট ভাই তার ক্লাস থেকে ৬০০০ টাকা তুলেছে রানা প্লাজা গণহত্যার ভিকটিমদের সাহায্যের জন্য। দেখতে শুনতে খুবই সাধারণ একটা ছেলে, কিন্তু, আসলে কি অসাধারণ!!! বাংলাদেশকে যদি কেউ বাঁচাতে পারে, এরাই…

– শাহবাগ আন্দোলনের সময় অসংখ্য মানুষের সাথে হৃদয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল খুব সামান্য সময়ে। এঁদের মধ্যে একটা গ্রুপকে সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো, ওরা সবাই কলেজ স্টুডেন্ট ( Amiable Zaed, Zannatul Remu, Miad Wahid Kòmmon)। আজকে ওদের একজনের কাছে জানতে পারলাম, ওরা বন্ধুরা মিলে ৪০০ অক্সিজেন প্যাক কিনে পাঠিয়েছে সাভারের রানা প্লাজা গণহত্যার ভিকটিমদের উদ্ধারকার্যে সহায়তার জন্য।

শাহবাগ শুধু রাজাকারের ফাঁসি আর যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবীই তোলে নাই। শাহবাগ ইনসানিয়াতের এক মহান আদর্শও বপন করেছে এই দেশের লাখ লাখ ছেলেমেয়ের মধ্যে। এরা তাদেরই খুব ছোট একটা অংশ।

Shahbag has not died. Shahbag will never die…

২৭

– “‘ভবনের ৪ তলায় দু’জন মা বাচ্চা প্রসব করেছে। মা ও বাচ্চা দু’জনে ভালো আছে।’ হাউ মাউ করে কাঁদতে কাঁদতে এ কথা বলেন ধসে যাওয়া রানা প্লাজার চতুর্থ তলায় ঢুকে ফিরে আসা উদ্ধারকর্মী সুজন।” (বাংলামেইলটোয়েন্টিফোরডটকম)

২৮

– রানা প্লাজার অবৈধ মালিক সোহেল রানার মা হার্ট ফেইল করে মারা গেছেন।

আপনার মৃত্যুতেও কষ্ট পেলাম, কারণ আমি নিশ্চিত আপনার এই পিশাচ সন্তানটির কাছে আপনিও অসহায়ের মতো জিম্মি হয়ে ছিলেন, বাংলার মায়েরা যেমন থাকেন! আর তাছাড়াঃ

“কী দোষ আপনার? মা কি কখনো জানে দশমাস ধ’রে যাকে সে ধারণ করেছে সে মানুষ না গোলাম?”

– “সাভারে ভবন ধসে বিপুল প্রাণহানির জন্য দায়ী ভবন ও কারখানা মালিকদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে ৩০ এপ্রিল সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।”

– গতকাল ভোররাত থেকে আমার মায়ের প্রচণ্ড দাঁতব্যাথা, আর উচ্চরক্তচাপসহ অন্যান্য অসুস্থতা তো সবসময়ই আছে। ঔষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে, এখন যন্ত্রণা একটু কমের দিকে। সকলের কাছে দোয়া চাইছি।

– সোহেল রানারে আমরা একটা সরকারি ভবনে ঢোকাবো, তারপর সবাই মিলে সেই ভবনে ধাক্কাধাক্কি করব! তাতেই ভবনটার ভেঙে পড়ে যাওয়ার কথা, যদি না পড়ে, তাহলে ভারত থেকে ন্যানো থার্মাইট নামক নিঃশব্দে ফাটা বোমা আমদানি করে সেটা দিয়ে ভবনটা ফেলে দেব!! তাতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বিএনপি তো আছেই, সেই তীব্রতায়ই রানা মরে যাবে!!!

– সাভারে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বন্ধুদের উদ্ধার তৎপরতা। (ছবিঃ সাদিক রেজা https://www.facebook.com/sadik.reza.7/media_set?set=a.627150253965910.1073741842.100000128247430&type=3)

– “বাইরে যারা উদ্ধারকাজের নানা সহযোগী কাজ করছে তাদের একটা বড় অংশের মাথায় হেলমেট, হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক থাকলেও ভেতরের উদ্ধারকারী জনতার সবাই এত সুসজ্জিত নয়। হাজার হাজার মানুষ আমরা চাঁন্দা তুলে তুলে হেলমেট, গ্লাভস, মাস্ক পাঠালাম অথচ সেগুলো সঠিক জায়গায় পৌঁছে নাই। বাইরে অনবরত মাইক চলছে। উদ্ধারকাজের আপডেট দেয়ার চেয়ে বেশি বেশি তারা ঘোষণা দিচ্ছেন- ‘মাননীয় এমপি মুরাদ জং এর কঠোর ‘তত্বাবধায়নে’, সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ ‘প্রচেষ্টায়’ এবং অন্যান্যদের ‘সহযোগীতায়’ উদ্ধারকাজ চলছে। ঘোষণায় ‘এই মুহূর্তে আরো ৪টি জীবিত লাশ উদ্ধার করল সেনাবাহিনী’ জাতীয় অদ্ভুত বাক্যাবলি ঘোষিত হচ্ছিল। (…) আমি ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে খুশি হতাম যদি ঘটনার পরপরই সকল সাধারণ মানুষ সরিয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে সেনাবাহিনী, ফায়ারসার্ভিসসহ রিলেটেড অভিজ্ঞতা মানুষেরাই এই কা্যক্রম সর্বাত্মকভাবে করত। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ‘ভালবাসা, আবেগ আর মানবিকতার’ সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন ‘দক্ষ, সমর্থ এবং আন্তরিকতার’ সমন্বিত বাহিনী।” (আনহা এফ খানের ফেসবুক নোট, পুরোটা এখানেঃ https://www.facebook.com/notes/anha-f-khan/%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A6%9B%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82%E0%A6%85%E0%A6%A5%E0%A6%AC%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%96%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A6%BF/565273976838035

– রানা প্লাজা কোনো অভিনব ঘটনা নয় (http://unmochon.net/node/2249)

২৯

– “১৯৭৪ সালের দীঘিনালা হাইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে লে. কবিরের বক্তব্য থেকেই উন্মোচিত হয় শাসক গোষ্ঠীর কালোমুখোশ-“No autonomy, no tribes, if necessary, sperms of five lakh Bangalees would be in your wombs and you give birth of Bangalee children”. আজ ৩৭ বছর পরেও, উল্লিখিত ধ্যান-ধারণার কোন ভিন্নতা দেখি না!!” (সূত্রঃ শুভ্রনীল সাগর)

– বিএনপি-জামায়াত রানা প্লাজা গণহত্যা নিয়ে মায়াকান্না কাঁদছে। কিন্তু স্পেকট্রাম-ফিনিক্স বা কেটিএস গার্মেন্টসে যেই কাঠামোগত গণহত্যা হয়েছিলো সেটার কোনো বিচার কি বিএনপি জামায়াত করেছিলো, গার্মেন্টস মালিকদের সংঘবদ্ধ খুনীচক্র বিজিএমইএ-র বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তারা নিয়েছিলো, যখন তারা ক্ষমতায় ছিল? ১৪ দল আর ১৮ দলের মধ্যে পার্থক্য এই জায়গায় যে এক জোটে আরেক জোটের চেয়ে ৪টা দল কম আছে, আর কোনো পার্থক্য নাই, থাকার কথাও না।

– আমি জাতীয়তাবোধে বিশ্বাস করি। জাতীয়তাবাদে নয়। ধন্যবাদ!

৩০

প্রথমত, আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির সামনে যেই আপু টাকা আর ভালো রেজাল্টের গরম দ্যাখালেন তাঁর কথা লিখছি।

আজ ৩০ই এপ্রিল যে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে সাভারে ভবন ধসে বিপুল প্রাণহানির জন্য দায়ী ভবন ও কারখানা মালিকদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে দেশব্যাপী সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্ট্রাইক ডাকা হয়েছিলো সেটা আপনার না জানার কথা না। যথেষ্ট পরিমাণে প্রচারণা চালানো হয়েছে, মিডিয়াতেও এসেছে নিউজটি। তার চেয়েও বড় কথা বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে, এবং আপনার দাবি অনুযায়ী যেহেতু আপনি একজন ভালো-রেজাল্ট-করা শিক্ষার্থী, আপনার অবশ্যই বিষয়টা জানা উচিত ছিলো। আপনি নিশ্চয়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে খালি ডিগ্রি নিতে আসেন নাই, নিশ্চয়ই আপনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করেন, আর ধারণ করলে এর কোথায় কি হচ্ছে ও কেন হচ্ছে এটা জানা আপনার দায়িত্বের পর্যায়ে পড়ে। আপনি আমাদের স্ট্রাইক সমর্থন করতে নাই পারেন, মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা রয়েছে যে-কোনো কিছু সমর্থন করার বা বিরোধিতা করার, কিন্তু বিরোধিতারও একটা ভদ্রতা থাকে।

আপনার সাথে আমাদের কেউ অভদ্র আচরণ করেন নাই। আপনি নিজেই মাথা-বিগড়ে-যাওয়া জন্তুর মত চিৎকার করা শুরু করলেন। আপনার ক্লাস আছে, ভালো কথা, আপনি ভদ্র ভাষায় সেটা বলতে পারতেন। তা না করে আপনি আমাদের জ্ঞান দেওয়া শুরু করলেন, আপনার ফ্যামিলি কতো টাকা রানা প্লাজার জন্য দিয়েছে তা বললেন, দাবি করলেন আপনি ৩. ৬৯ পাওয়া ছাত্রী এবং এই কারণে আপনার লাইফের ভ্যালু আছে (রানা প্লাজায় যেসব গার্মেন্টস শ্রমিক মারা গেছেন, তাঁদের লাইফের ভ্যালু নাই?) আপনি বিসিএস দিয়ে দেশের সেবা করবেন (বিজনেস ফ্যাকাল্টির ৩. ৬৯ পাওয়া শিক্ষার্থীকে বিসিএস দেওয়া লাগবে কেন? আপনার কথা অনুযায়ী আপনার রেজাল্ট যদি এতোই ভালো হয় তাহলে আপনার তো কোনো ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার কথা বা কোনো মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশনে। তাই না?) এরপর আপনি একটু দূরে সরে গিয়ে কারে কারে জানি ফোন করলেন, তারপর গুণ্ডাপাণ্ডা কয়টা জোগাড় করে আমরা বিজনেস ফ্যাকাল্টির গেইটে যে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলাম সেই তালা ভাঙার চেষ্টা করলেন। প্রথম দফায় পারলেন না, দ্বিতীয় দফায় সফল হলেন।

দ্বিতীয়ত, বিজনেস ফ্যাকাল্টির সেই নাম-না-জানা শিক্ষকের কথা লিখছি যার মতো শিক্ষক আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় ১৯৭১এও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দালালি করেছিলেন।

আপনার জায়গায় যদি আজকে শহিদ মুনির চৌধুরী বা শহিদ জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতার মত কোনো শিক্ষক থাকতেন, সেই ছাত্রীকে কষে একটা থাপ্পড় লাগাতেন, বাপ-মা যেমন শাসন করে সন্তানকে। এবং সেটা তারা করতেন, কারণ তাঁরা শুধু বইমুখস্ত বিদ্বান বানাতে চাইতেন না তাঁদের শিক্ষার্থীদের, চাইতেন মেরুদণ্ডসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গঠন করতে সন্তানসম শিক্ষকদের। কিন্তু আপনাদের নিজেদেরই তো মেরুদণ্ড নাই, আপনারা আমাদের কি মেরুদণ্ড শক্ত করবেন? আপনাদের মতো কতিপয় শিক্ষক তো কেরাণিগিরি করার জন্য ও শিক্ষার্থীদের কেরাণি হওয়ার শিক্ষা দেওয়ার জন্য আসে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে, যা দাঁড়িয়ে আছে উল্লিখিত শহিদ শিক্ষকদের রক্তাক্ত স্মৃতির ওপরে। তাই আপনি বলতে লাগলেন আমাদের পাশে নাকি কোনো জেনারেল স্টুডেন্টই নাই।

একটু পরে আপনার আবোলতাবোল কথাবার্তা আর সহ্য করতে না পেরে আমাদের নেতাকর্মীরা বাধ্য হলেন চিৎকার করে জবাব দিতে, তখন বিজনেস ফ্যাকাল্টির গেইটের সামনে দাঁড়ানো অসংখ্য শিক্ষার্থী ভাইবোনেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাততালি দিয়ে আমাদের সমর্থন দিলেন। আত্মসম্মানবোধ বলে যদি কিছু থাকতো স্যার, শিক্ষার্থীদের পালস বোঝার চেষ্টা করতেন। এবং আজকে আপনার নিজের ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থীদের কাছেই এভাবে অপমানিত হতে হত না, ফ্যাল ফ্যাল করে আহাম্মকের মতো এদিক ওদিক তাকাতে হত না।

আপনারা জাহান্নামে যান, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বাংলাদেশ তার জন্মের জন্য ঋণী, এবং একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেইসব শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, যাঁদের ইনসানিয়াত এখনো মরে যায় নাই, এবং যাঁরা শিয়াল কুকুরের মতো বেঁচে থাকতে অস্বীকার করেন, তাঁরাই বাঁচাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মাকে, যেই বিশ্ববিদ্যালয় চলছে এই দেশের লাখ কোটি মেহনতি মানুষের রক্ত-পানি-করা উপার্জনের টাকায়…

মেঃ শেষ হইয়াও হইল না শেষ…

০১

– আর তারপর একদিন মওসুমী মানবতা ধুয়ে মুছে যাবে চলে বুড়িগঙ্গার ময়লা জলে ভেসে।

‘ওরা’ হয়ে উঠবে বস্তিঃ ”দোস্তো, তোরে এই ড্রেসটায় পুরাই বস্তি লাগছে, গার্মেন্টসের মেয়েদের মতো।”

আর ‘আমরা’ হয়ে উঠবো পাক্কা ভদ্রলোক আর ভদ্রমহিলাঃ “হেই, ইউ লুক কুল ইন দিস আউটফিট!”

০২

“বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্ববায়ক Kakon Biswas আজ সকাল ৮.০০টায় মাছরাঙ্গা টিভিতে সাভারের উদ্ধার তৎপরতার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ২৪ এপ্রিল থেকে উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত রয়েছে।সাভারের আহত এবং নিহত শ্রমিক পরিবারের সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন।” (https://www.facebook.com/shafiqulalam.fariaz/videos/584182981606313/)

০৫

“The weapon of criticism cannot, of course, replace criticism of the weapon, material force must be overthrown by material force; but theory also becomes a material force as soon as it has gripped the masses. Theory is capable of gripping the masses as soon as it demonstrates ad hominem, and it demonstrates ad hominem as soon as it becomes radical. To be radical is to grasp the root of the matter. But, for man, the root is man himself.”

_Karl Marx_

Happy Birthday, Man!

– ০৫ তারিখে হেফাজতে ইসলাম ঢাকায় মহাসমাবেশ করে। সেটা নিয়ে আমি তিন দিন পর লিখি। তবু ঘটনাটি ৫ তারিখের বলে এখানেই থাকুক।

আওয়ামী লীগ সমর্থকঃ কাল সারারাত ছিলো মুক্তির রাত। সাকুল্যে দুইজন মরেছে- একজন পুলিশ কর্মকর্তা, আরেকজন আমজনতা। পুলিশ-র‍্যাব গোলাপজল ছিটাতে ছিটাতে মিষ্টি বিলাতে বিলাতে হেফাজতে ইসলামকে শাপলা চত্বর থেকে শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দিয়েছে।

জামাত সমর্থকঃ কাল সারারাত ছিলো দ্বিতীয় কালরাত। কমপক্ষে ১০ লাখ মুসলিম ভাই শহিদ হয়েছেন। বাঁশেরকেল্লার হিসেব এখনো চলছে, আশা করা যায় কালকের মধ্যেই সংখ্যাটা ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

বিএনপি সমর্থকঃ এতো কিছু বুঝি না, হরতাল! বুঝতেও চাই না, হরতাল! ক্ষমতায় যেতে চাই, হরতাল!

সুশীল সমাজ সমর্থকঃ তৃতীয় শক্তি লাগবে। আমরা অসভ্য, আমাদের সভ্য করার জন্য এই মুহূর্তে দরকার মার্কিন সরকার। কে আছিস, ইউনূস সাবরে একটা ফোন দে…

পলিটিকস সাকজ সমর্থকঃ হাই ফ্র্যানস! মিয়াও! পিজা খাই, ইয়াম ইয়াম!

হা হুতাশ সমর্থকঃ এই দ্যাশ দিয়া কিচ্ছু হবে না। ইনডিয়ারে দ্যাখো কত্ত এগিয়ে গেছে, আর আমরা (দীর্ঘশ্বাস)… কই গেলা সলিমের মা…

হেফাজতের কিশোর-কর্মীঃ হুজুরে কইসিলো, ঢাকায় এক খান বড় ওয়াজ মাহফিল হইবো, ২০০০ ট্যাকা দিসিলো। কইসিলো কোনো গণ্ডগোল হইবো না। আমি আর মাদ্রাসায় যামু না, ডর করে, আমি আমার মার কাসে যামু…

শেষকথাঃ দেশটা আমাদের। তাই ইসলাম বনাম মুক্তিযুদ্ধ বা শাহবাগ বনাম হেফাজতের গোলকধাঁধাঁ থেকে বেরোতে না পারলে আজ কোরান পুড়েছে কাল আমাদের কপাল পুড়বে। তাই সময় থাকতে শত্রু চিনতে হবে, নইলে ভাই ভাইয়ের রক্ত ঝরাবে আর উল্লাস করবে শকুনেরা।এটা নিয়ে আমি অবশ্য একটা কবিতাও লিখেছিলাম।

সেটা ৭ তারিখে।

কবিতাটা পড়েন।

বেয়াল্লিশ বছর তুমি ওদের গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রেখেছো সামন্তীয় ঐতিহ্যঅন্ধতায়
বেয়াল্লিশ বছর তুমি আমাদের গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রেখেছো পশ্চিমা আধুনিকতায়
বেয়াল্লিশ বছর তুমি ওদের জন্য সরবরাহ করেছ দেশকালবোধহীন ‘ইসলামী’ শিক্ষা
বেয়াল্লিশ বছর তুমি আমাদের জন্য সরবরাহ করেছ কেরানিগিরির ‘আধুনিক’ শিক্ষা
তুমি ওদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছ আমরা সবাই নাকি নাস্তিক!
তুমি ওদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছ আমরা সবাই নাকি বেশ্যা!
তুমি আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছ ওরা সবাই নাকি তালেবান!
তুমি আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছ ওরা সবাই নাকি হানাদার!
ওরা আমাদের ‘আন্দোলন রাষ্ট্র-নিরাপত্তায়’ দেখে হাসাহাসি করে
আমরা ওদের ‘ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালায়’ শুনে হাসাহাসি করি
তুমি মতিঝিলকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছ শাহবাগের বিরুদ্ধে
তুমি শাপলা চত্বরকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছ প্রজন্ম চত্বরের বিরুদ্ধে
তোমার চাতুর্যে খুশি পিশাচগোষ্ঠী মগবাজার আর কারওয়ানবাজারে
জামাত আর বিজিএমইএ দুই ভাই দাঁত কেলিয়ে কোলাকুলি করে!
তুমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা স্রেফ ভোটের বাক্সের জন্য বল
তুমি শ্রমিক গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নাও নাই
তাই জামাত নিষিদ্ধের জন্য কোনো পরিকল্পনাই থাকে না তোমার
তাই সদম্ভে দাঁড়িয়ে থাকে শাদ্দাদের বেহেশত অবৈধ ঘোষিত হয়েও!
তুমি চাও মধ্যবিত্তের সন্তান গরীবের সন্তানরে মেরে দ্বিতীয়বারের ‘মুক্তিযুদ্ধ’ করুক
তুমি চাও গরীবের সন্তান মধ্যবিত্তের সন্তানরে মেরে ‘ইসলাম’-রে হেফাজত করুক
তুমি চাও হেলিকপ্টার হুজুর আর মজিনা ফায়ারফক্স দুই লোকরেই খুশী করতে
তুমি চাও ঠিক ভুল সকল আন্দোলনই অস্ত্র আর প্রতিহিংসার জোরে রুখে দিতে
ভাবছো এই করে বেঁচে যাবে, না সোনা, বাঁচতে পারবে না
ইতিহাস কোনোদিন কাউকেই ক্ষমা করেনি এবং করে না
সেদিন সুদূর নয় যেদিন শাহবাগ আর মতিঝিলে ভাব হয়ে যাবে
যেদিন ওরা আর আমরা এক হয়ে বাংলাদেশকে হেফাজত করব
সেদিন জামাত বিজিএমইএ দুই ভাই তো পালানোর পথ খুঁজে পাবেই না
সেদিন তোমাদের-চেতনাঅলা খালকাটাঅলাদেরও-খুঁজে পাওয়া যাবে না!

[কবিতার নামটি নিয়েছি গুজরাট জেনোসাইড (২০০২) নিয়ে তৈরি করা নন্দিতা দাশের ছবি ‘ফিরাক’ (২০০৮) থেকে। ফিরাক উর্দু শব্দ। এর অনেকগুলো অর্থঃ বিচ্ছিন্নতা, দূরত্ব, আশংকা।]

আমার বিপজ্জনকভাবে স্বপ্ন দ্যাখার বছর এখানেই শেষ, যাঁরা ধৈর্য ধরে লেখাটি পড়েছেন, বা পড়েন নাই, সবাইকেই ধন্যবাদ। ২০১৩ সালের ০৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ০৫ মে আমাদের, যারা ৯০’এর প্রজন্ম, এযাবৎকালের জীবনের সবচেয়ে জটিল সময়। আমি সময়টাকে কিভাবে দেখেছি তা সংরক্ষণ করার জন্যই এই ফেসবুক পোস্ট সংকলনের অবতারণা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 84 = 88