নলজুড়ি ডাকবাংলার প্রেমে আমি মুগ্ধ

ছোট্ট একটা চাকরি করি । চাকুরি সুবাধে বাংলাদেশের প্রা৪০/৪৫টি জেলা দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে । কিন্তু কোন জেলাই আমাকে মুগ্ধ করতে পারেনি সিলেটের মতো । যদিও আমি সিলেটের লোক তবুও সিলেটের রূপ দেখে আমার তৃপ্তি মিটেনি কোন দিন, মিটবে কি না জানি না । এই সিলেটকে আমি যতই দেখি ততই দেখতে ইচ্ছে করে । চাকুরির সুবাধেই সিলেটের প্রায় সবগুলো পর্যটন এলাকা আমি ঘুরে দেখেছি । অধিকাংশ রিসোর্ট, ডাকবাংলায় রাত্রিযাপন রাত্রিযাপন করেছি । অধিকাংশ চাইনিজেই খেয়েছি । কিন্তু নলজুড়ি ডাকবাংলোয় থাকার তৃপ্তি মিটেনা কোন দিন । যতবার ঐ এলাকায় যাই, ততবারই নলজুড়ি ডাকবাংলায় রাত্রিযাপনের ইচ্ছে জাগে । কিন্তু সেখানে চাইলেই রাত্রিযাপন করা সম্ভব নয় । কেন সম্ভব নয় তা পরে বলছি । তার আগে বলছি কোন কারণে নলজুড়ি ডাকবাংলা আমার ভালো লাগে ।

সিলেটের পশ্ববর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আকাশ ছোঁয়া খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়গুলো বর্ষাকালে সবুজে ভরে ওঠে। ঐ সময় পাহাড়ের গায়ের ঝরনাগুলো প্রাণ ফিরে। মেঘালয় রাজ্য পাহাড় গুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হয় সিলেট শহর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার জাফলং । সেখান থেকেই উপভোগ করা যায় মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনা আর প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দয্য । পর্যটকদের অতি পরিচিত স্থান জাফলংয়ের পাঁচ কিলোমিটার আগে নলজুড়ি। সেখানে আছে জেলা পরিষদ, সিলেট এর ব্যবস্থাপনায় মনোরম পরিবেশে একটি সরকারী ডাকবাংলা । নলজুড়ি ডাকবাংলা জৈন্তিয়া উপজেলার কাছে হলেও এটি মূলত গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত । গোয়াইনঘাটের নলজুড়ি এলাকায় বিশাল টিলার উপরে গড়ে তোলা হয়েছে এই ডাকবাংলো । ডাকবাংলার অত্যন্ত কাছে ভারত । ভারতের সীমান্ত এলাকায় খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের কোলে মনোরম পর্যটন কেন্দ্র এটি। পাহাড়ের সৌন্দর্য আর নির্জনতা উপভোগ করতে চাইলে নলজুড়ি ডাকবালায় রাত্রিযাপনের তুলনা নেই । নলজুড়ির জেলা পরিষদের ডাকবাংলা থেকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ী ঝর্ণা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং খুব সুন্দর দেখা যায়। রাতের বেলা স্পষ্টই শোনা যায় ঝর্ণা হতে নিরগত হওয়া পানির শনশন শব্দ । ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের কোলে মনোরম পরিবেশে সরকারী ব্যবস্থাপনায় একমাত্র ডাকবাংলা এটি। ডাকবাংলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর স্বচ্ছ পানি এবং নদী বেয়ে ছুট চলা ছোট ছোট বার্কি নৌকা দেখলে যে কেউ কবি হয়ে উঠবেন নিঃসন্দেহে । অবশ্য এখানে রুম পাওয়া খুব কঠিন । সাপ্তাহ কিংবা দশ দিন আগেই ভোকিং দেয়া থাকে নলজুড়ি ডাকবাংলা । এখানে থাকতে হলে পূর্ব অনুমতি ছাড়া থাকা সম্ভব নয় । যদি অনুমতি পাওয়া যায় তবে- রাত্রিযাপনে- শাধুমাত্র এক রাত্রের জন্য প্রতিটি রুমের ভাড়া- সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫০০ টাকা এবং সিভিলিয়নদের জন্য ১৫০০ টাকা। এখানে থাকতে পারলে তামাবিলের বিখ্যাত তিনটি ঝরনাই এখান থেকে দেখা যায়। এখানে থাকলে সরকারী নিরাপত্তা সহ যে নিরীবিলি পরিবেশ পাওয়া যাবে এবং নিরধারিত বাবুর্চি দ্বারা ঘরোয়া পরিবেশে খাবার রান্না করানো যাবে তা ঐ এলাকার অন্য কোন রিসোর্রট কিংবা হোটেল মোটেলে পাওয়া যাবে না । তাছাড়া ডাকবাংলার উচু পাহাড় বেয়ে উঠা চমৎকার রাস্তা, আঙ্গিনার ফুলবাগান, দুলনা, পযটক ছাউনি, মনোরম পরিবেশে উন্নত ফারনিচার সমৃদ্ধ ডাইনিং, ড্রয়িং, বেড ‍রুম (এসি নন এসি), সুবিশাল বারান্দা, মুক্ত বাতাশ, নিরিবিলি পরিবেশ আর সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার, সুবিশাল গাড়ি পার্কিং ইত্যাদি ঐ এলাকার অন্য কেথাও নেই। তাই নলজুড়ি ডাকবাংলার তুলনা কেবল নলজুড়ি ডাকবাংলাই । সুযোগ থাকলে যে কেউ রাত্রিযাপন করতে পারেন নলজুড়ি ডাকবাংলায়।

নলজুড়ি ডাকবাংলায় কিভাবে যাবেন ? বাংলাদেশের যে কোন জায়গা থেকে সর্বপ্রথম যেতে হবে বিভাগীয় শহর সিলেটে। নিজের সধ্যমতো সড়ক, রেল কিংবা আকাশ পথে ঢাকা কিংবা কক্সবাজার থেকে সরাসরি যাওয়া যায় সিলেট । ঢাকার ফকিরাপুল, সায়দাবাদ ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে ছাড়ে সিলেটের বাস । এ পথে গ্রীন লাইন পরিবহন, সৌদিয়া এস আলম পরিবহন, শ্যামলি পরিবহন ও এনা পরিবহনের এসি বাস চলাচল করে। এছাড়া শ্যামলী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, ইউনিক সার্ভিস, এনা পরিবহনের নন এসি বাসও সিলেটে যায়। তবে এনা পরিবহনের বাসগুলো মহাখালী থেকে ছেড়ে টঙ্গী ঘোড়াশাল হয়ে সিলেট যায়। এছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন জেলার সাথে বাস যোগাযোগ আছে সিলেটের সাথে । ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায় আন্তনগর ট্রেন পারাবত এক্সপ্রেস। সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর ২টায় ছাড়ে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং বুধবার ছাড়া সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে উপবন এক্সপ্রেস। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৪টায় ছাড়ে কালনী এক্সপ্রেস। চট্টগ্রাম থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউনাইটেড এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, নভো এয়ার এবং ইউএস বাংলা এয়ারের বিমান প্রতিদিন সিলেটে আসা যাওয়া করে । এছাড়াও কক্সবাজার থেকে ইউ এস বাংলা এয়ারের বিমান আসা যাওয়ো করে সিলেট ।

সিলেট শহর থেকে জাফলং এলাকায় যাওয়ার জন্য কয়েকটি লোকাল বাস আছে। তবে বেড়ানোর জন্য মাইক্রোবাস কিংবা অটো রিকশা রিজার্ভ নিয়াই ভালো । সিলেটের স্থানীয় ভাষায় মাইক্রোবাসকে বলা হয় লাইটেস। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে লাইটেস ষ্টেন্ড কিংবা রেন্ট এ কারের দোকান । ইচ্ছে করলে যে কেউ ঘুরে আসতে পারে জাফলং রাত্রি যাপন করতে পারনে আমার প্রিয় নলজুড়ি ডাকবাংলায় । নলজুড়ি ডাকবাংলা রাত্রিযাপন করতে হলে আপনাকে যোগাযোগ করে হতে- গোয়াইঘাট কিংবা জৈন্তা উপজেলার ইউ এন ও অফিস, জেলা প্রশাসক সিলেট, কিংবা জেলা পরিষদ সিলেট অফিসে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “নলজুড়ি ডাকবাংলার প্রেমে আমি মুগ্ধ

    1. জাফলং ছারাও সিলেটে দেখার মতো
      জাফলং ছারাও সিলেটে দেখার মতো অনেক কিছু আছে । যেমন- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, হাম হাম জলপ্রপাত, রাতারগুল, পান্তুমাই ও বিছনাকান্দি, লালাখাল , মালনীছড়া চা বাগান, লাক্ষাতুড়া চা বাগান, আলী বাহার চা বাগান, খাদিম, আহমদ টি স্টেট, লালাখাল টি স্টেট এত্যাদি । সবগুলো দেখতে হলে অনেক সময়ের প্রয়োজন ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

50 + = 54