কে দেবে বেঙ্গমা-বেঙ্গমীকে তাজা রক্ত??

বৃদ্ধা ঠাকুরমার কথাই বলি – সারারাত হ্যাজেকের আলোয় নাতি-পুতিদের গল্প শুনাছেন – হিড়িংবিড়িং ছট, মানুষের ঘাড়-কটমট কিংবা আরাম কাঠি, জিরামকাঠি রাখাল কৈ পাবে?? হাড়জিড়া রাখাল বাঁশি বাজিয়ে মন্ত্র ভাঙবে কিভাবে?? রাজা-রাণীর হাড় জুড়ালো, নটে গাছটি মুড়ালো কিন্তু গল্প ফুড়োয় না–
নীলকমল আর লালকমলের (অজিত-কুসুম)কথাই বলি, রাক্ষুসীর ছেলে কিন্তু মানুষ,, মানুষকে খোক্কস আর রাক্ষসরাজ্য, বোকারাজার হাত থেকে বাঁচাতে চায়– শুনে রাক্ষসীর মাথা তেঁতে ওঠলো ছেলেদের গিলে ওগড়ে দিলো- সোনার ডিম আর লোহার ডিম,, পুতে দিলো সাঁজনে গাছের তলায়। চাষীরা মাটি খুড়ে পেলো লোহা আর সোনার ডিম দুটি,, মাটির গন্ধ আর বাতাস-পানির ঝাপটা পেয়ে অজিত-কুসুম ডিম ভেঙে বের হলো, চাষীরা ভয়ে তটস্থ, কমলদের অতীত শুনে চাষীরা এক হয়ে সাহস দিলো, তারা লোহার খোসা দিয়ে কাস্তে-লাঙ্গল, আর সোনা দিয়ে বউদের গয়না বানাল,, সাথী হলো বেঙ্গমা-বেঙ্গমী। তারা তাজা রক্ত চাইলো- যদি অজিত-কুসুম তাদের বাচ্চাদের তাজা রক্ত দেয়,, তবেই তারা রাক্ষস-খোক্ষসদের রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।। দেখিয়ে দেবে রাক্ষসতালের প্রাণভোমরা!।
প্রাণভোমরা ডানা ছিড়েই মারা যাবে রাক্ষসরা আর রাজসিংহাসনে বসে ভোমরার মাথা ছিড়লেই মারা পড়বে রাক্ষসী রাণী, বাঁচবে বোকারাজা।
ঠাকুরমারা সব মারা গেছেন,,
ঝুলিগুলো সব বিলেতি ইদুররা ছিড়ে খেয়েছে ,,
ছেড়া ঝুলির টুকরো গিলে বেড়ে ওঠছে রাক্ষস -খোক্ষস, দেও-দানো, ডাইনী আর রাক্ষসীরা,,,
রাজ্য এখন রাক্ষসপুরী,, মানুষের রক্ত চুষে, হাড় চিবিয়ে হোলী খেলছে রাক্ষসী রাণী আর খোক্ষসরা,,,
বোকারাজা আজো কারগারে বন্ধি,,
কোথায় বেঙ্গমা-বেঙ্গমী,
কোথায় রাখালের বাঁশি, চাষির কাস্তে??
কোথায় অজিত-কুসুম??
ঠাকুরমা বেঁচে নেই, অজিত- কুসুম পাশে নেই—
রাক্ষসী রাণী আর রাক্ষসপুরী থেকে বাঁচাবে কে????
কে দেবে বেঙ্গমা-বেঙ্গমীর বাচ্চাদের নিজের তাজা রক্ত?? কে ফুটাবে তাদের চোখ???

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 7 =