এদেশের কিছুসংখ্যক মানুষ মনে করে তার পুরুষাঙ্গ উত্থিত হলেই সে মুসলমান! (প্রথম পর্ব)

এদেশের কিছুসংখ্যক মানুষ মনে করে তার পুরুষাঙ্গ উত্থিত হলেই সে মুসলমান! (প্রথম পর্ব)
সাইয়িদ রফিকুল হক

এই দেশের অনেক মানুষই মনে করে পুরুষাঙ্গের জোরেই সে মুসলমান। আর তার পুরুষাঙ্গ ঘন-ঘন বা বারবার উত্থিত হলে সে আরও বেশি খুশি হয়। এরা দুনিয়াটাকে পুরুষাঙ্গের জোরে বশ করতে চায়। এদের কাছে একমাত্র শিশ্নই সকলপ্রকার বাহাদুরীর মাপকাঠি। আর এই লিঙ্গ যদি ধর্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়—তাহলে, সে মনে করে: সে একজন বাহাদুর পুরুষ বটে। আর সে যদি পাকিস্তানীদের উত্তরসূরী কিংবা তাদের বংশধর হয়ে থাকে তাহলে তো আর কথাই নাই। সে একদম নিশ্চিন্তমনে শুধু পুরুষাঙ্গের জোরে নিজেকে মুসলমান ভাবতে থাকে।

বাংলাদেশের সাধারণ অনেক মুসলমানই মনে করে: বিয়ে করলেই সে মুসলমান! আর যে যতো বিয়ে করতে পারবে তার ঈমান তত মজবুত হবে! তাই, মসজিদের ভণ্ডইমামরা তারস্বরে চিৎকার ও চেঁচামেচি করে বলছে: “বিয়ে হলো নবীর সবচেয়ে বড় সুন্নত! আমাদের রাসুলের দলে থাকতে হলে আপনাকে আগে বিয়ে করতে হবে! আর যে বিয়েকে অস্বীকার করলো সে অমুসলমান বা কাফের!” এরা বিয়েকেই জীবনের একমাত্র ধর্ম বানিয়ে ফেলেছে। আর তাই, মসজিদে গেলে সবসময় শোনা যায়: “মুসলমানদের জন্য চার-বিবি বা চার-স্ত্রী রাখা সবসময় জায়েজ!” এদের মতো লম্পটরাই কুরআন-হাদিসের ভুলব্যাখ্যা দিয়ে লিঙ্গপূজার জন্য সমাজে বহুবিবাহের প্রচলন ঘটাচ্ছে, আর জনজীবন থেকে শুরু করে সমাজজীবন পেরিয়ে রাষ্ট্রীয় জীবনে বিশৃঙ্খলাসৃষ্টি করছে। এই শ্রেণীর ভণ্ডইমামরা একমাত্র বিবাহকেই মুসলমানদের জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ বলে অভিহিত করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। এখানে, ভোগের গন্ধ আছে! তাই, এইসব সস্তা-ইমাম একমাত্র বিবাহকেই মুসলমানদের ধর্মকর্ম বলে অভিহিত করছে।
সমাজে অনেক মূর্খ পাগল-ছাগল একের-পর-এক বিয়ে করছে, আর একশ্রেণীর ভণ্ডইমাম তাতে সায় জানাচ্ছে। আর তারা মসজিদের মিম্বরে বসে প্রকাশ্য-দিবালোকে বলছে: মরদানিশক্তি বেশি হলে একাধিক বিয়ে করা সবসময় শরীয়তে জায়েজ (অর্থাৎ, যার যতো বেশি লিঙ্গের জোর সে তত বেশি বিবাহ করবে)! এইসব ভণ্ডইমামের কথা শুনলে মনে হয়: এরা যেন লিঙ্গের গুণগান গাইবার জন্য পবিত্র জুম্মার দিনে মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশ্যে না হলেও ভিতরে-ভিতরে পাকিস্তানীরা কিন্তু সবসময় ‘লিঙ্গপূজা’ করে থাকে। তাই, ওদের কাছে নারীধর্ষণ সবসময় জায়েজ, আর এটি ওদের ধর্মচর্চার মতো। আধুনিকযুগে মানবসভ্যতার বিকাশেও পাকিস্তানীরা এখনও মনে করে থাকে লিঙ্গের জোরেই তারা মুসলমান। আর তাই, তারা পশু হয়ে হায়েনা হয়ে ১৯৭১ সালে তাদের যাবতীয় লিঙ্গ উত্থিত করে নিরীহ-ধার্মিকা-সুশীলা বাঙালি-রমণীদের দিনের-পর-দিন ধর্ষণ করেছে, গণধর্ষণ করেছে। আর পাকিস্তানীনরপশুদের এই ধর্ষণপ্রক্রিয়া চলেছে বংশানুক্রমে। ওরা এখনও লিঙ্গকেই ঈমানের মাপকাঠি বলে জানে। ওদের কাছে লিঙ্গই সবকিছু। আর ওদের মনে সবসময় ধর্ষণের বাসনা। ওদের একমাত্র কামনাবাসনা হলো নারীধর্ষণ করা।

১৯৭১ সালে, পাকিস্তানীরা হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল ধর্মের ও সকল বয়সের নারীকেই ধর্ষণ করেছে। তবে তারা হন্যে হয়ে খুঁজতো বাংলার সতীসাধ্বী-হিন্দুরমণীদের। কারণ, পাকিস্তানীরা মনে করতো, হিন্দুনারীদের ধর্ষণ করলে তাদের ছওয়াব বেশি হবে। এরা তো শয়তানের জারজপুত্র ইয়াহিয়া, টিক্কা, নিয়াজী কসাইদের অনুসারী মুসলমান। এদের কাছে নারীধর্ষণ তখনও জায়েজ ছিল, আর তা এখনও খুব জায়েজ। পাকিস্তানীরা সবসময় মনে-মনে ‘লিঙ্গপূজা’ করে থাকে। আর অধিকাংশ পাকিস্তানীদেরই মনের একমাত্র বাসনা হলো নারীধর্ষণ করা। আর সেই নারী যদি হয় বাঙালি কিংবা হিন্দু কিংবা ভারতীয়—তাহলে, তাদের জোশ আরও বেড়ে যায়।

১৯৭১ সালে, পাকিস্তানীজারজদের দেখাদেখি আমাদের দেশের একশ্রেণীর পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা মনে করে লিঙ্গের জোরেই সে মুসলমান হবে! কিন্তু আমি বলছি: আপনার পুরুষাঙ্গ উত্থিত হলেই আপনি মুসলমান না। আর পুরুষাঙ্গের জোরে এই দেশে মুসলমানিত্ব-কায়েম করার দিন শেষ। এখন আর তুর্কী-মোগল-পাঠান কিংবা ভারতবর্ষের কুখ্যাত দস্যু সুলতান মাহমুদের যুগ নয়। এখন মুসলমানিত্ব জাহির করতে হলে ঈমানের পরিচয় দিতে হবে। এখন এই দেশে জেগে উঠেছে নতুন একটি প্রজন্ম। তারা যুক্তিনির্ভর ধর্মচর্চা করছে।

খুব সহজে মুসলমান হওয়ার জন্য আমাদের দেশের একশ্রেণীর মুসলমান মনে করে তাড়াতাড়ি হাজাম ডেকে ছেলের লিঙ্গমুখের ত্বক অপসারণ করতে হবে। তার মানে, লিঙ্গমাথার ত্বকের সামনের দিকের কিছুটা অংশ কেটে ফেলতে হবে। তাই, তারা পুরুষাঙ্গের বা লিঙ্গমুখের ত্বকছেদকে নামকরণ করেছে ‘মুসলমানী’ হিসাবে! এরচেয়ে সহজে মুসলমান হওয়ার আর কোনো রাস্তা নাই। এরা ভেবেছে ছেলেকে খতনা করালেই সে মুসলমান হয়ে গেল। আর তার লিঙ্গের জোর বেড়ে গেল। আর সে এখন থেকে একজন পরিপূর্ণ ঈমানদার-মুসলমান! কী বিচিত্র আমাদের দেশের একশ্রেণীর সস্তা মুসলমানের চরিত্র! এরা কবে মানুষ হবে? আর কবেই বা সত্যিকারের মুসলমান হবে?
(ক্রমশঃ)

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৪/০৫/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

29 − 21 =