সাভারে লাশভর্তি গাড়ি এবং মৃত্যুপুরীতে ১৫ ঘন্টা

সাভারের অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে লাশভর্তি গাড়ি আসছে, শত শত মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে, এই গাড়িতে থাকতে পার মা-বোন, বাবা-ভাই কিংবা কোনো আত্মীয়। লাশ পড়ে আছে সারি সারি। ক্রমেই লম্বা হচ্ছে সেই সারি।

কারো মাথা থেতলে গেছে, কারো হাত পা আলাদা হয়ে গেছে। বুকের পাজর ভেঙ্গেছে, কারো শরীরে রড এফোড় ওফোড় হয়ে গেছে। সে দৃশ্য ভাষায় বর্ননা করার মত না। কিছু ছবি তোলা হয়েছে যার ভয়াবহতা এতোই যে তা কখনো কোথাও প্রকাশ করার মতো না। যে ছবিগুলো শুধু ব্যক্তিগত দুঃস্বপ্নের স্মৃতি হয়েই তাড়া করবে সারা জীবন। এখনো যারা বেচে আছে, যাদের এখনো দেহে প্রান আছে তাদের বাচার আকুতি জানানোর শক্তিটুকুও শেষ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে।
উদ্ধারকারীদের উদ্ধার তৎপরায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। ধসে পড়া ভবনের পেছন দিকে কয়েকশ লাশ পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সর্বশেষ অবস্থা, যারাই এখন জীবিত উদ্ধার হচ্ছেন, উপস্থিত সকলে তাকে বুকে টেনে নিচ্ছে। সে নারী হোক আর পুরুষ। যাক একটা লাশ অন্তত কমলো।

খুব বেশি হিসেবের প্রয়োজন পড়ে না, সাধারন হিসেবেই বলা যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
সংখ্যার বিচারে তাহলে কেন এই লুকোচুরি। সরকারী হিসেবে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৮৫ জন। উদ্ধার করা হয়েছে হাজার খানেক মানুষকে। উপরের দুই তলায় শুধু ৪ টি গার্মেন্টসে কাজ করতো সাড়ে ৬ হাজার পোশাকশ্রমিক। তাহলে কি সত্যি মৃতের সংখ্যা ১৮৫ হতে পারে। যে সরকারের আমলেই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে লাশ গুম করার অদ্ভুত খেলায় মেতেছে সবাই। ফটিকছড়িতে শিবিরের তান্ডবে নিহত ছাত্রলীগ কর্মীদের মৃতের সংখ্যা কি আসলেই তিন ছিল?
মৃত লাশ গুম করার এই অসুস্থ প্রবনতা কবে থামবে। কেন সারা জীবন ধরে লাশ খুজে যেতে হবে স্বজনদের।
উদ্ধার হওয়া প্রতিটা মানুষ জানাচ্ছেন, বের হওয়ার সময় শত শত লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন তারা।
১২ ঘন্টা মৃত্যকুপে আটকে থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া জেসমিন বলেন, আমি আর আমার বান্ধবী লতা একসাথে সকালে গার্মেন্টসে আইছি। আমার চোখের সামনে পড়ে ছিল লতা, পুরো শরীর থেতলে গেছে। দেয়ালের সাথে আটকে ছিল।
শাহিন হাওলাদার জানান, তার পাশেই একজন গর্ভবতী মহিলা কাতরাচ্ছিল। বাচার জন্য কাকুতি মিনতি করছিল। পিলারের অন্যপাশে থাকায় কোনো ভাবেই উদ্ধার করতে পারেননি তাকে।
আমার ভাইগ্না ফোন কিরে কইলো, এই ঘরে আমার সাথে ৫০-৬০ জন এখনো বাইচা আছে। আমাগে বাচান। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে সবার। পানি খাবার কিছু চাইনা, আমাগে বাচান।
ধ্বসে পড়া ভবনের সামনে এসব বলেই আহাজারি করছেন রফিকুল মিয়া। হাতে ধরা মোবাইল। লাউডস্পিকারে দিয়ে সবাইকে শোনাচ্ছেন তার ভাইগ্নার কথা আর চিৎকার করে করে কাদছে্ন।
ওই কক্ষে এখনো ৫০-৬০ জন এখনো বেচে আছে। পাশে ৭-৮ জনের লাশ পড়ে আছে গার্মেন্টসের মেশিনের সাথে আটকে। আটকে পড়া ভাগ্নে কাকুতি মিনতি করছে্ন, আমাদের তাড়াতাড়ি এখান থেকে বের করে নেন। ফোনে কথা বলা যাচ্ছে, কিন্তু উদ্ধারকারীরা তাদের ট্রেস করতে পারছে না।

মধ্যরাতে ভবনের নীচে আটকে পড়াদের আহাজারি, সারিসারি লাশ আর অপেক্ষমান স্বজনদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে সাভারের আকাশ। কাদছে মানবতা, কাদছে ১৬ কোটি মানুষ। এই আহাজারি সইবার শক্তি আমাদের নেই। এতো লাশ, এতো কান্না এবারো কি বহু কাগজে ছাপ ফেলে, টিআরপি বাড়িয়ে হিমঘরে জায়গা করে নেবে? আর জন্তু জানোয়ারদের উল্লাস কি চলতেই থাকবে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “সাভারে লাশভর্তি গাড়ি এবং মৃত্যুপুরীতে ১৫ ঘন্টা

  1. এই লাশের মিছিলের দায় আমাদের
    এই লাশের মিছিলের দায় আমাদের সবার। কারন, এক একটা ঘটনা ঘটে আমরা দুইদিন হাউকাউ করে চুপ হয়ে যাই। প্রতিবাদ করিনা। বাধ্য করিনা দোষীদের শাস্তি দিতে।

  2. আমি সত্যি কিছুই বলার ভাষা
    আমি সত্যি কিছুই বলার ভাষা পাচ্ছিনা !! স্রষ্টার কাছে অনুরোধ করছি আমাদের ক্ষমা করতে, দয়া করে এতোবড় কোন বিপদ যেন আর না দেন তিনি।

    আহত বাকিলোকদের সবাই যেন বেচে বের হতে পারেন মৃত্যুকূপ থেকে সেই প্রার্থনা করছি

  3. সংখ্যার বিচারে তাহলে কেন এই

    সংখ্যার বিচারে তাহলে কেন এই লুকোচুরি। সরকারী হিসেবে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২৭ জন। উদ্ধার করা হয়েছে হাজার খানেক মানুষকে। উপরের দুই তলায় শুধু ৪ টি গার্মেন্টসে কাজ করতো সাড়ে ৬ হাজার পোশাকশ্রমিক। তাহলে কি সত্যি মৃতের সংখ্যা ১২৭ হতে পারে। যে সরকারের আমলেই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে লাশ গুম করার অদ্ভুত খেলায় মেতেছে সবাই। ফটিকছড়িতে শিবিরের তান্ডবে নিহত ছাত্রলীগ কর্মীদের মৃতের সংখ্যা কি আসলেই তিন ছিল?
    মৃত লাশ গুম করার এই অসুস্থ প্রবনতা কবে থামবে। কেন সারা জীবন ধরে লাশ খুজে যেতে হবে স্বজনদের।

    লাশ গুম করার বা দুঘর্টনায় আহত-নিহত সংখ্যার ভুল তথ্য সরবরাহ করা ন্যাক্কারজনক। আমাদেরকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় সরকার সঠিক তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত করছে।

  4. দু’দিন পর আমরাই হয়ত ভুলে যাব।
    দু’দিন পর আমরাই হয়ত ভুলে যাব। তাজরীন গার্মেন্টসের কথা এখন কেউ বলেনা…এদেশে জীবনের দাম আসলেই অনেক সস্তা হয়ে গেছে।

  5. বলার ভাষা নেই, যতদূর শুনলাম,
    বলার ভাষা নেই, যতদূর শুনলাম, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে থাকলেও উদ্ধারকাজে সক্রিয় নয়। আর প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী শুনে মনে হলো, এ কোন দেশে আছি আমরা?

  6. মিডিয়ায় যা বলা হচ্ছে বাস্তব
    মিডিয়ায় যা বলা হচ্ছে বাস্তব পরিস্থিতি তার ১৮০ ডিগ্রিতে আছে। মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াবে।এনামে সংকুলান হচ্ছে না। প্রয়োজন আহতদের অন্যান্য হাসপাতালে নেওয়া। কারো পক্ষে সম্ভব হলে এ্যম্বুলেন্স নিয়ে গিয়ে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।কিছু প্রান অন্তত বাঁচান।

  7. “আজ একজন ইয়োটাইপ ছেলের রক্ত
    “আজ একজন ইয়োটাইপ ছেলের রক্ত একজন শ্রমিকের ধমনীতে প্রবাহিত হলো। একজন ঢংগী মেয়ের রক্ত একজন চা পোষা চাকুরের ধমনীতে প্রবাহিত হলো। ড্রাইভারের রক্ত মালিকের ধমনীতে প্রবাহিত হলো। একজন হিন্দুর রক্ত মুসলমানের শরীরে ছুটছে। মুসলমানের রক্ত বৌদ্ধর শরীরে ছুটছে। আজ থেকে বাংলাদেশের সবার সাথে সবার রক্তের সম্পর্ক।” –

  8. মৃত্যুই এদেশে সবচেয়ে সস্তা।
    মৃত্যুই এদেশে সবচেয়ে সস্তা। এই করুন আর্তনাদ অমানুষদের কানে পৌঁছে না। খেলার পুতুল ভেবে অনেক নাচিয়েছে, আর না। এবার নিজের চলার চাবি নিজেকেই নিতে হবে। বিচার চাই সবকটা মৃত্যুর।
    নিশ্চয়তা চাই স্বাভাবিক মৃত্যুর।

  9. সংখ্যার বিচারে তাহলে কেন এই

    সংখ্যার বিচারে তাহলে কেন এই লুকোচুরি। সরকারী হিসেবে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২৭ জন। উদ্ধার করা হয়েছে হাজার খানেক মানুষকে। উপরের দুই তলায় শুধু ৪ টি গার্মেন্টসে কাজ করতো সাড়ে ৬ হাজার পোশাকশ্রমিক। তাহলে কি সত্যি মৃতের সংখ্যা ১২৭ হতে পারে। যে সরকারের আমলেই বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে লাশ গুম করার অদ্ভুত খেলায় মেতেছে সবাই। ফটিকছড়িতে শিবিরের তান্ডবে নিহত ছাত্রলীগ কর্মীদের মৃতের সংখ্যা কি আসলেই তিন ছিল?

    :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

    স্ংখ্যা নিয়া তাদের আজন্ম সমস্যা।
    :মাথানষ্ট:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 28 = 32