বাংলাদেশে নতুন ট্রেন্ড ” ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি ”

দেশে এখন একটা নতুন ট্রেন্ড চালু হয়েছে।

”ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি”

গুগলে ” ধর্ম নিয়ে কটুক্তি ” সার্চ দিয়ে যে সব রেসাল্ট পেলামঃ

গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে একজন হিন্দু শিক্ষককে জনসম্মুখে কান ধরে উঠবস করিয়ে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে কুমিলার মনোহরগঞ্জে এক স্কুল শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইসলাম ধর্ম নিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কটুক্তি করায় দীপু বিশ্বাস নামে এক তরুনকে গ্রেফতার করেছে রমনা থানা পুলিশ।

কুমিল্লার লাকসাম পাইলট হাই স্কুলের হিন্দু শিক্ষক কৃষ্ণ পদ সরকার পবিত্র কোরআন , ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে ছাত্র বিক্ষোভ হয়েছে।

মহানবী (সা.) ও তাবলিগ জামায়াত সম্পর্কে কটুক্তি করার অভিযোগে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে নড়াইলের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিশ্বনাথের কাথলীপাড়া এলাকার বাসিন্দা পার্থ দাস পাপ্পু (২০) ও বিজয় চন্দ্র দাস (২১)কে পুলিশ আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় এক যুবককে গণধোলাই ও সামাজিক শাস্তি দিয়ে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে।

ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করায় জেলার শালিখা উপজেলার সিংড়া গ্রাম থেকে দীপু বিশ্বাস (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে।

গুগল ঘাটলে আরো এরকম শখানেক খবর পাওয়া যাবে। মজার ব্যাপারটা হল, বেশিরভাগ ইসলাম ধর্ম কটুক্তিকারী সনাতন ধর্মের অনুসারী। কিন্তু হিন্দু অথবা বৌদ্ধ ধর্মের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার কারনে কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে এমন কোন খবর চোখে পড়ল না।

আপনার সাথে কারো শত্রুতা আছে? তার নামে ইসলাম ধর্ম কটুক্তির খবর ছড়িয়ে দিন, সত্যতা বিচার না করেই জনগন উত্তম মধ্যম দিয়ে থানায় নিয়ে যাবে। যদিও বাংলাদেশে ব্লাসফেমী বিষয়ক কোন আইন নেই, তবুও তারা সবার চোখে ভয়ংকর অপরাধী। সাধারন জনগন এইসব খবরে বাহবা দিয়ে থাকে খবরের সত্যতা বিচার না করেই। মনে মনে বলে, একদম উচিৎ কাজ হয়েছে।

ব্যাপারটা এমন যে বাংলাদেশে শুধুই একটি ধর্ম, সেটা হল ইসলাম। অন্য ধর্ম বলতে কিছুই নেই। বাংলাদেশে ধর্মানুভুতি শুধু মুসলিমদেরই আছে, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টানদের আবার ধর্মানুভুতি কি?

কিছুদিন পরপর হিন্দুদের প্রতিমা ভাংচুর করা হয়, তাদের মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়, কারনে অকারনে শুধু হিন্দু অথবা বৌদ্ধ হবার কারনে তাদের অত্যাচার করা হয়। তখন কারো ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত লাগেনা। কিন্তু ইসলাম ধর্ম নিয়ে একটু কিছু বললেই আপনি ইসলাম ধর্মের অনুভুতিতে আঘাত করেছেন, তাই আপনার শাস্তি হওয়া বাধ্যতামুলক। একটু চিন্তা করে দেখেন, যদি হিন্দুরা মুসলমানদের মসজিদ ভাংচুর করার চেষ্টা করত তাহলে পরিস্থিতিটা কি হত। বাংলাদেশে একজন হিন্দুও বেঁচে থাকতে পারত কিনা সন্দেহ।

বিভিন্ন পোস্টে গিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কমেন্ট পড়লেই বোঝা যায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু আমাদের দেশে।
”হিন্দুদের পিটিয়ে ইন্ডিয়া পাঠিয়ে দেওয়া উচিৎ” এটা অত্যন্ত কমন একটা কমেন্ট।

আমরা নিজেদের সেক্যুলার জাতি হিসেবে দাবী করলেও আমরা এখনও মনে মনে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হিংস্র মুসলমান জাতিই হয়ে আছি। যে দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, যে দেশে ব্লগারদের হত্যা বিচারের আওতায় পড়েনা, যে দেশে নাস্তিক মানেই ঘৃণ্য ব্যাক্তি, সে দেশে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সমঅধিকারের আশা করা আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

89 − = 87