সেনাবাহিনী’র বাণিজ্য, বাণিজ্যর সেনাবাহিনী, পর্ব-১

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র বাণিজ্যর ইতিহাস নিয়ে লেখার ইচ্ছা অনেক দিনের।কিন্ত সংখ্যায় মামুলি এই বাহিনী’র বাণিজ্যর আকার এতো বড় যে তা নিয়ে যথেষ্ট গবেষণার প্রয়োজন, প্রয়োজন সময়ের। এই বিষয় নিয়ে কয়েক পর্বের একটি লেখা লিখছি। ঠিক কতো পর্বে গিয়ে লেখাটা শেষ হবে তা লেখা শেষ না করার আগ পর্যন্ত বলতে পারছিনা।লেখাটি ঠিকঠাক উপস্থাপনার জন্য বাংলা এবং ইংরেজী দুই ভাষাই ব্যবহার করেছি।

লেখাটি লিখতে ড:এমাজউদ্দিনের বইয়ের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। ডয়েচে ভেলে বাংলা,বিবিসি, ফাইনেন্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনসহ ড:জয়িতা ভট্ট্রাচার্যের The Bangladesh Army:Documenting its Corporate Interests পেপারের সাহায্যও নেয়া হয়েচে।এখানে একটা বিষয় বলতে চাই, বাংলাদেশের কিছু প্রথমসারির এবং দ্বিতীয় সারির গণ-মাধ্যমে অামি আমার লেখাটি ছাপানোর আগ্রহ জানিয়েছিলাম কেউই রাজি হননি। তাদের ভাষায় সেনাবাহিনী’র সম্পর্কে কিছু প্রকাশ করে উনারা উনাদের মিডিয়া ব্যবসা বন্ধ করতে রাজী নন।

যাই হোক, শুরু করি মূল লেখা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র বাণিজ্য বোঝার অাগে এই বাহিনী সমন্ধে কিছু সাধারন ধারনা দেয়া যাক। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়।দেশ স্বাধীনের পরপরই শুর হয় এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান। ১৯৭৫ সালে এসে দেখা যায় সেনাবাহিনী’র ৩৬ হাজার সদস্যদের মাঝে ২৮ হাজারই হচ্ছে পশ্চিমা পাকিস্তান ফেরত (আহমেদ ১৯৮৮)।এখানে বলে রাখা ভালো পাকিস্তান কিন্ত বাংলাদেশ ফেরত তার সেনাবহিনী সদস্যদের আর নিযমিত বাহিনীতে রাখেনি।একই সময়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী গোয়েন্দা সংস্থা Directorate General of Forces Intelligence (DGFI)অাদতে পাকিস্তানের Inter Services Intelligence (ISI)’র একটি অনুকরন।

‌১৯৭‌১ সালে’র পর থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র কলেবর বাড়তে থাকে।বিমানবাহিনী কিংবা নৌ-বাহিনী’র তুলনায় এ প্রায় ৭-৮গুন বেশি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী’র ৭টি পদাতিক বাহিনী বিভাগ বা infantry divisions আছে এবং ২৫টি পদাতিক ব্রিগেড সারাদেশে মোতায়েন করা আছে।এদের প্রত্যেকরেই একটি করে Armoured Division, Artillery Division, Engineering Division, Commando Brigade, Air Defence Artillery Brigade and Eleven Aviation Squadrons,এর বাইরে অাছে training and doctrinal policy formulation called the Army Training and Doctrine Command (ARTDOC) Division এবং বেশকিছু training institutions আছে কমব্যাট ক্যাপাবিলিটি বাড়ানোর জন্য।বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৬টি corps-এ বিভক্ত: এগুলো হচ্ছে 1)Armored 2)Artillery 3)Engineers 4)Signals 5)Infantry 6) Army Service Corps 7) Ordnance Corps 8)Electrical and Mechanical Engineering Corps 9) Special Operations 10) Aviation 11)Military Police 12) Army Dental Corps 13)Army Education Corps 14) Army Corps of Clerks 15) Remounts Veterinary and Farms Corps 16) Army Nursing Corps.

ক্ষমতার পর্যায়বিন্যাস অনেকটা এরকম: The basic hierarchical structure is similar to other professional armies.Under the Chief of BA, there are Commanders who hold key positions at the headquarters—Chief of General Staff, Quarter Master General,Adjutant General, Master General of Ordinance, Engineer in Chief and
Military Secretary. Besides, there are General Commanding Officers of
9 Infantry Division at Saver, 11 Infantry Division at Bogra,19 Infantry
Division at Ghatail, 24 Infantry Division at Chittagong, 33 Infantry
Division at Comilla, 55 Infantry Division at Jossore and 66 Infantry
Division at Rangpur. বাংলাদেশ সেনাবহিনী’র উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহন আছে United Nations Peace Keeping operations (UNPKO)’তে।

এবার আসি সেনাবাহিনী’র বাণিজ্য প্রসঙ্গে।এখানেও পাকিস্তান। সেনাবাহিনী’র ব্যবসা’র শুরু সেই পাকিস্তান অামল হতে।তাই একে পাকিস্তান লিগেসিও বলা যায়।১৯৫৪ সালের Fauji Foundation of East Pakistan’র জন্ম। যার আগের নাম ছিলো Post War Service Reconstruction Fund,(PWSRF)। PWSRF এর উদ্দেশ্য ছিলো ২য় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সেনাদের পরিবার ও সেনাসদস্যদের সাহায্য করা।

The Fauji Foundation of East-Pakistan ৫২.২২ লাখ টাকার প্রথম শেয়ার গ্রহন করে PWSRF’এর কাছ খেকে। এবং ৩.৫০ লাখ টাকা খরচ করে তারা জমি কেনার পেছনে এবং ১.৫লাখ খরচ করে সাবেক সেনাসদস্যদের র্পূনবাসনে। ১৯৬০ সালের মাঝামাঝি ফৌজি ফাউন্ডেশন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিনোয়োগ শুরু করে।এবং একই সময়ে পাকিস্তান সেনবাহিনী’র নিজস্ব আর্থিক ক্ষমতায়নের জন্য নানারকম খাতে বিনেয়োগ করা হতে থাকে।এর সার্বিক ইন্ধনদাতা ছিলেন নিজেকে ফিল্ড মার্শাল ঘোষনাকারী আইয়ৃব খান।১৯৬৭-৬৮ সালে ফৌজি ফাউন্ডেশনের বিনিয়োগ ছিলো মাত্র ২৪ লাখ টাকা যা কিনা ১৯৬৯-৭০ সালে গিয়ে দাড়াঁয় ২.৪০কোটিতে। (চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 7 =