ধ্বংসস্তুপে শিশুর জন্ম ও আলিঙ্গনরত যুগলের মৃত্যু

সাভারে ধসে পড়া ভবনের চতুর্থ তলায় হটাৎ করে শোনা গেলো শিশুর চিত্কার। কান্নার আওয়াজ শুনে একটু কাছে এগিয়ে গেলেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মী সুজন। ভালো করে শুনে মনে হলো এক দু বছরের বাচ্চার কান্না। কিন্তু সন্দিহান হয়ে পড়লেন এই ভেবে যে, এতো ছোট বাচ্চা নিয়ে তো কেউ গার্মেন্টসে ঢুকতে পারে না। আরেকটু কাছে এগিয়ে গেলেন। আর তখন যা শুনতে পেলেন তাতেই নিজেই হাউ মাউ করে কেদে ফেললেন তিনি।

ভবনের ৪ তলায় দু’জন মা বাচ্চা প্রসব করেছে। মা ও বাচ্চা দু’জনে ভালো আছে। হাউ মাউ করে কাঁদতে কাঁদতে এ কথা বলেন ধসে যাওয়া রানা প্লাজার চতুর্থ তলায় ঢুকে ফিরে আসা উদ্ধারকর্মী সুজন। এরপর আটকে পড়া মহিলা ফোনে কথা বলেন তার স্বামীর সাথে। জানান, বাচ্চার হওয়ার তারিখ ছিল আরো পরে। কিন্তু অতিরিক্ত চাপে আর ভয়ের কারনে নির্ধারিত তারিখের অনেক আগেই বাচ্চা প্রসব করেছেন। তবে তারা দুজনই ভালো আছেন।

নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনে বাবাও তখন হাউ মাউ করে কাদছেন। ফোন লাউডস্পিকারে দিয়ে শোনান উপস্থিত সবাইকে। চারপাশে শত শত লাশের মাঝে কয়েক সেকেন্ডের জন্য অন্যরকম একটা অবস্থা তোরি হয়েছিল ওখানে।

উদ্ধারকারী সুজন বুধবার সকাল ৯টার দিকে ‘রানা প্লাজা’ ধসের খবর শুনে কামারাঙ্গীর চর থেকে ছুটে আসেন তিনি। তার এক বন্ধু চারতলার গার্মেন্টস কর্মী। বিকেলে এসে পৌঁছানোর পর এত মানুষের প্রাণহানি দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি সুজন। জীবন বাজি রেখে নেমে পড়েন উদ্ধার কাজে।

একটি রুমের এক কোনায় বড় দু’টো খণ্ডের মাঝখানে দু’মা বাচ্চা প্রসব করেছেন। সুজনই প্রথম দেখেন তা। কিন্তু যে ছিদ্র দিয়ে তিনি ঢুকেছিলেন সেখান দিয়ে মা ও বাচ্চাকে বের করা সম্ভব হয়নি। রাত সাড়ে চারটার সময় বাইরে খবর দেন তিনি। অনেক কষ্টে বের হওয়ার সময় মোট ৪০-৫০ জনকে উদ্ধার করেছেন তিনি।

আরেকটি দৃশ্য দেখে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল। রড আর পিলারের নিচে চাপা পড়া এক শ্রমিক যুগলের ছবি দেখে। মৃত্যুর আগে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা। যেমনটি করে প্রতিদিন ভালোবাসার স্ত্রীকে আলিঙ্গন করতেন। অভাবের সংসারে দুজনেই কাজ করতেন গার্মেন্টসে। বুধবারও একই সাথে এসেছিলেন অফিসে।

আমরা কি বধির হয়ে গেছি? অসহায় মানুষের কান্না কি আমরা শুনতে পাইনা? ক্ষত বিক্ষত লাশের চেহারা কি আমাদের ভাবায় না? তাহলে কেন আমরা জীবন বাজি করে রাস্তায় নামিনা? তাহলে কেন আমরা মালিক নামের ওইসব জন্তু জানোয়ারদের টেনেব রাস্তায় নামায় না?
আমি চাই, গনআদালতে্র রায়ে রানার ফাসি হোক। ১৬ কোটি মানুষ যদি সজাগ থেকে তাহলে এই বাংলায় পালিয়ে কোথায় থাকবে সে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২৮ thoughts on “ধ্বংসস্তুপে শিশুর জন্ম ও আলিঙ্গনরত যুগলের মৃত্যু

  1. সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
    সহ্য ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। হয় আমরা সবাই অমানুষ নয় ওই অমানুষ জানোয়ারদের দাস দাসী।

  2. আমরা কি বধির হয়ে গেছি?
    আমরা কি বধির হয়ে গেছি? অসহায় মানুষের কান্না কি আমরা শুনতে পাইনা? ক্ষত বিক্ষত লাশের চেহারা কি আমাদের ভাবায় না? তাহলে কেন আমরা জীবন বাজি করে রাস্তায় নামিনা? তাহলে কেন আমরা মালিক নামের ওইসব জন্তু জানোয়ারদের টেনেব রাস্তায় নামায় না?
    আমি চাই, গনআদালতে্র রায়ে রানারফাসি হোক। ১৬ কোটি মানুষ যদি সজাগ থেকে তাহলে এই বাংলায় পালিয়ে কোথায় থাকবে সে।

  3. ভেজা চোখ যতবার মুছেছি, ঠিক
    ভেজা চোখ যতবার মুছেছি, ঠিক ততবার আবার ভিজেছে । তবে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত..। চিৎকার আমরা করে যাব । শ্রমিকের লাশ আর দেখতে চাই না । শ্রমিকের মুখে হাসি দেখতে চাই…

  4. গরিবের জন্মই যেন আজন্ম পাপ
    গরিবের জন্মই যেন আজন্ম পাপ ।
    রাষ্ট্র , সমাজ , ধর্ম , আইন ,
    রাজনীতি…… সব যেন ধনীর পকেটের
    গোলাম !!!!!!!!

  5. ছবিটা মারাত্মক ইমোশনাল করে
    ছবিটা মারাত্মক ইমোশনাল করে দিলো, সত্যি আর কতো সহ্য করবো আমরা !

    প্রতিটি দোষী ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি চাই !

  6. আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আদালতের
    আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আদালতের রায়ের জন্য কেনো অপেক্ষা করতে হবে?
    আর এতগুলো মানুষ কে খুন করাআর অপরাধে ফাঁসি দিলেও তো কম হয়ে যায়… মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গলা থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা দরকার!!

  7. বাংলাদেশে এসব ঘটনার জন্য সব
    বাংলাদেশে এসব ঘটনার জন্য সব সময় আমি রাষ্ট্রকে দায়ী করি। রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতার কারণেই এই ধরনের ঝুকিপূর্ণ স্থাপনা গড়ে উঠে। শ্রমিকশ্রনীকে রাষ্ট্র কখনই মানুষ মনে করেনা। সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী যখন এই মানবিক বিপর্যয়ে রাজনীতি খুঁজে বেড়ান, তখই সরকার ও রাষ্ট্রের চরিত্র স্পষ্ট ফুটে উঠে। আজকে উদ্ধার কাজে কারা ছুটে গেছে? ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের মত সংগঠনগুলো কোথায়? আমাদের চৌকশ সেনাবাহিনীকে আমি এই ধরনের বিপর্যয়ে এতটা অক্ষম মনে করিনা, যতটা তারা দেখাচ্ছে। সরকার ও অন্যান্যদের চোখে যারা চক্ষুশুল, সেই অনলাইনের ছেলেরাই ছুটে গেছে সেখানে। সেই চীনা বাম, মস্কোবাম, বা তথাকথিত বামচিকাদেরই অনলাইনে দেখতে পাচ্ছি ছুটোছুটি করতে। রাত জেগে উদ্ধার কাজে সহযোগীতা করতে।

    পুঁজিবাদী ধ্যান-ধারনায় পরিচালিত আমাদের এই রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে শ্রমিক-মেহনতি জনতার কিছু পাওয়ার নাই। পেতে প্রয়োজন শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষা করার মত গণমানুষের সরকার। যতদিন গণমানুষের সরকার না আসছে, ততদিন পর্যন্ত এভাবেই আমাদের মৃত্যু বরন করতে হবে, আর রাজনীতিবিদরা জনগণের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করবে।

    এই ভবনের সকল মালিকসহ ভবনে অবস্থিত সকল গার্মেন্টস্‌ কারখানার মালিকদের এতগুলো মানুষ হত্যার দায়ে বিচারের মুখোমুখী করা হোক। তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক। না হয় ব্যর্থতার দায়ে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করুন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কান্ড-জ্ঞানহীনের মত আচরণের জন্য মন্ত্রীসভা থেকে কান ধরে বের করে দেওয়ার দাবী জানাচ্ছি।

  8. আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছি, ভয়ে
    আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছি, ভয়ে এসব দেখছি না। না জানি কখন বাচ্চার মত হাউমাউ করে কেঁদে উঠি……….

    1. কাইন্দা কি হবে? মরন হইবে?
      কাইন্দা কি হবে? মরন হইবে? আবালামি আবেগ বন্ধ রাইখা দুইটা ইটা মারেন আর চিল্লায়া বলেন হোগা মারিনা এই কুত্তা চোদা রাস্ট্রের।

  9. মধ্যবিত্তের আবেগ বিলাসিতা
    মধ্যবিত্তের আবেগ বিলাসিতা চোদাইতেসে দেকি একানে। এসব চোকের পানি রাইখা রাস্তায় গিয়া দুইটা ইটা মারেন। লোকজন বুজবো আপনারা প্রতিবাদ মারাইতেসেন।

    1. বাল পাকনামি দেখানো আগে জেনে
      বাল পাকনামি দেখানো আগে জেনে নেবেন কে কোথায় আছে। আর সাথে জানাই দিবেন আপনি কুতাই আছেন এবং থাকেন

  10. দেশে এখন আধুনিক দাসপ্রথা
    দেশে এখন আধুনিক দাসপ্রথা চলছে। আন্দোলন করতে যান, একদল কুত্তা চিনা বাম বলে গালি দিবে। এদের কথা হলো সরকারকে শুধু ধন্যবাদ দিতে হবে।

    দেশে একটা বিপ্লব দরকার, শ্রমিক বিপ্লব। যারা হাতুড়ি শাবল চালায় তাদের বিপ্লব।

  11. আমরা কি বধির হয়ে গেছি?
    আমরা কি বধির হয়ে গেছি? অসহায় মানুষের কান্না কি আমরা শুনতে পাইনা? ক্ষত বিক্ষত লাশের চেহারা কি আমাদের ভাবায় না? তাহলে কেন আমরা জীবন বাজি করে রাস্তায় নামিনা? তাহলে কেন আমরা মালিক নামের ওইসব জন্তু জানোয়ারদের টেনেব রাস্তায় নামায় না?
    আমি চাই, গনআদালতে্র রায়ে রানার ফাসি হোক। ১৬ কোটি মানুষ যদি সজাগ থেকে তাহলে এই বাংলায় পালিয়ে কোথায় থাকবে সে।

  12. আমি ভয়ে আজকাল আর ফেসবুকে ঢুকি
    আমি ভয়ে আজকাল আর ফেসবুকে ঢুকি না তেমন একটা। যদি আমিও হাউমাউ করে কেঁদে উঠি? ভাষা হারিয়ে ফেলেছিরে ভাই, কি বলব? কি করবো? আমাদের বধির, প্রতিবন্ধী রাষ্ট্র পরিচালকদের দিয়ে নুন্যতম কোনও আশা দেখি না। থুঃ দিলেও কম হয়।

    তোমাদের সবার জন্যে শুভকামনা রইল। আর যারা উদ্ধারকাজে ঝাপিয়ে পড়েছেন, তাদের কি বলবো? আপনারাই যোদ্ধা!! স্যালুট আপনাদের সবাইকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − = 16