‘এসএমএস’! :D

নিশি চুপচাপ বসে আছে প্ল্যাটফর্মে।

কৌশিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার ডিজিশনটা সে সকালেই নিয়ে নিলো;নাহলে,এতোক্ষণে তার হয়তো অন্যকারো সাথে বিয়ে হয়ে যেতো।

তাদের কয়েক বছরের এই সম্পর্কটা শুধু কৌশিকের একটা চাকরি না থাকায় ভেঙ্গে যাবে,এটা তার একটুও পছন্দ হচ্ছিলোনা। নিশি একটু একরোখা স্বভাবের ,একটু জেদি কিন্তু নিজের ভালোবাসার প্রতি অনেক সিরিয়াস। এদিকে কৌশিক প্রচুর ইন্টারভিউ দিচ্ছে,তার চাকরি এখন না হলেও তা হয়ে যাবে হয়তো একসময়;এখন এই ডিসিশান না নিলে তখন নেয়া হবেনা কখনোই। আর এক্সাথেও তাদের সারাজীবন থাকা হবেনা ।

তাই,সবকিছু ভুলে পালিয়ে যাওয়াই ঠিক মনে হলো তার কাছে;কৌশিককে সময়মতো স্টেশনে পৌঁছাতে বলে একটা এসএমএস দিয়ে চলে এলো।

স্টেশনে এসে তার মনে হচ্ছে এইটা করা একটুও ঠিক হয়নি। ট্রেন ছাড়বে দুপুর দুইটার দিকে,এখন দেড়টার মতো বেজে গেছে;কৌশিক এর এখনো পাত্তা নেই। কৌশিক না এলেও একাই ট্রেনে উঠে চলে যাওয়ার কথা ভেবে ফেলে নিশি। কারণ বাসায় এখন আর ফিরে যাওয়ার উপায় নেই।

সময় পেরিয়ে গেলেও এলোনা কৌশিক ।ট্রেনে উঠে বসে থাকে নিশি;ছেলেটার প্রতি ঘৃণা তার চেহারায়। কার জন্য এতো কিছু করলো ! কেনো করলো ! ভাবতে লাগলো …

তখন ট্রেন একটু দুলতে শুরু করলো _ হঠাত জানালার বাহিরে শেষবারের মতো তাকাতেই সে দেখতে পায় কৌশিক দৌড়াতে দৌড়াতে তার পাশে চলে এলো। তারপর,সে উঠেও পরলো ট্রেনে। ব্যাগট্যাগ রেখে দিয়ে তার পাশে বসে পরে সে বললো,’এসএমএস দিছো,ভালো কথা; জিপি থেকে দেয়া এসএমএস এর অত্যাচারে এসএমএস দেখিনা এখন,এইটা ভুলে গেছো নাকি তুমি ,হ্যাঁ?’??

নিশি এতোক্ষণ হাঁ করে তার দিকে তাকিয়ে থাকলেও নিশির চোখে পানি জমে টলটল করছে , কৌশিক এর এই কথা শেষ হতেই কৌশিক এর গালে ঠাস করে থাপ্পড় দিয়ে নিজেই কাঁদতে শুরু করলো। থাপ্পড় খেয়ে হাসতে থাকে কৌশিক ।

কৌশিক এবং নিশি ভালো থাক। আর বাস্তব জীবনেও তোমরা এক হোও সারাজীবনের জন্নে , দোয়া করি ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

21 − 12 =