নেতা বনাম শিক্ষক।

হত্যা, ধর্ষন, দখলবাজী, চাঁদাবাজী, ছিনতাই, দুর্নীতি, লুটপাট নেতার জন্য সবই যায়েজ। দলের ছায়ায় নিশ্চিন্তে সকল অপকর্ম করে যাওয়া যায়, বাধা কেউ দেবেনা, দেবার সাহসই পাবেনা। অবশ্য বিরোধী পক্ষ বাধা দিতে আসার আগেই তাদেরকে রুখে দেয়া হয়, বিরোধী রোখার ক্ষমতা না থাকলে কিসের নেতা?
যত খুনি-সন্ত্রাসী সবারই আশ্রয়স্থল হয় রাজনীতি, কালের বিব্তনে তারাই এক সময় হয়ে উঠে দেশের কর্ণধার।

রাজনৈতিক নেতা হওয়ার চাইতে সহজ কাজ আর দুটি নেই। মেধা মনন কোন কিছুরই প্রয়োজন পড়েনা, একটু তাঁবেদারী, একটু চাঁটুকারীতা, কয়েকটা খুন, কয়েকটা ধর্ষন, কয়েকবার কারাবরণ। তো হয়ে গেলো বড় নেতা, কারা নির্যাতিত নেতা। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্যও যদি কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামীও হয়ে যায় সত্যের পক্ষে লড়াকু সৈনিক। গোটা কয়েক চেলা জেল ফটকে বাসি মালা দিয়ে বরণ করে নিলে তো ঐ নেতার সাফল্য তুঙ্গে।
রাজনীতিতে দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ, চাঁদাবাজ তাদের কোন স্থান নেই কারণ একজন সন্ত্রাসী যখন রাজনীতিতে আসে তার চরিত্র হয়ে যায় ফুলের মতো পবিত্র। কিন্তু ঐ পবিত্র চরিত্রের নেতাটি সুযোগ বুঝে গোলাপকেও ধর্ষন করতে ভুল করেনা।

পবিত্র চরিত্রের নেতারা মন জুগিয়ে চলে সংখ্যাগরিষ্টদের, আর ভয় পায় শিক্ষাকে, জ্ঞানকে। তার চলে-বলে-কৌশলে চায় জনগনকে শিক্ষা হতে দুরে রাখতে। জনগন শিক্ষিত হয়ে উঠলে ধরা পড়ে যাবে তাদের প্রতারণা, অধিকার সচেতন হয়ে উঠবে তারা, অন্যায়ে প্রতিবাদ করবে, করবে সমালোচনাও। অশিক্ষিত মুর্খ নেতারা কখনোই সহ্য করতে পারেনা বিরোধীতা, পচন্দ করে ভাঁড়, চাটুকার, সন্ত্রাসীদের, যারা হবে তারই উত্তরসুরী।
বাবা- মা জন্মদেয় একটা শিশুকে, বড়ও করে তোলে আদরে যত্নে কিন্তু তাকে আলোর পথ দেখায় একমাত্র শিক্ষকই। মানুষের বিবেককে জাগ্রত করার দায়িত্ব তারাই কাঁধে তুলে নেন, একটু একটু করে তৈরী করেন পুর্নাঙ্গ মানুষ।

কিন্তু এই মানুষ তৈরীকারী কতটুকু মুল্যায়ন পায় আমাদের সমাজে-রাষ্ট্রে। ক্ষমতার জোরে অশিক্ষিত নেতাটি হয়ে উঠে অনেক জ্ঞানী, জ্ঞান বিতরনকারীর বিচার করা উদষ্টতা দেখায় জ্ঞানহীন মুর্খটি।
এ দেশে জ্ঞান বিতরণকারী শিক্ষকের নিজেদের পরিশ্রমের বেতন-ভাতার জন্য প্রয়োজন পড়ে অশিক্ষিত দুর্নীতিবাজ নেতার অনুমোদন।
শিক্ষকরা যেখানে নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার নূন্যতম অবলম্বনটুকু পায়না আর চাঁদাবাজ নেতাটি প্রসাদের পর প্রসাদ গড়ে, কালো টাকা বাড়াতে থাকে সুইস ব্যাংকে।
অাজব সমাজের মানুষরা ন্যায় বিচারের জন্য জ্ঞানীর কাছে ছোটেনা, ছোটে দলকানা, স্বজনপ্রীতিকারী নেতাটার কাছে।
জাতিকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়া শিক্ষকটি রোগে শোকে ধুকে ধুকে মরে পক্ষান্তরে জাতিকে কলঙ্কিত করা নেতাটি সামান্য হেলথ চেক আপের জন্য পায় মাউন্ট এলিজাবেথের নরম বিছানা।
রাষ্ট্রের কি অদ্ভুত বিচার, শিক্ষক নিজের দায়িত্ব পালন শেষে বাড়তি কিছু পাবার আশায় বাড়তি পরিশ্রম করে, যে সময়টা পরিবারকে দেয়ার কথা তা ছাত্রদের দিয়ে তাদের কাছ থেকে কিছু সম্মানী নেয় তাতে রাষ্ট্রের আপত্তি, কিন্তু নেতাটি দুর্নীতির পর দুর্নীতি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেও রাষ্ট্রের কোন রা নেই।

নেতা দেশের কোন উপকারে আসেনা তবুও সে প্রাধান্য পায় আর মানুষ গড়ার কারিগরটি সব সময় পড়ে থাকে অন্ধকারে, রাষ্ট্র তাকে ঠেলে দেয় আরো গভীর অন্ধকারে।
দেশ প্রেম দেশ প্রেম করে পাগল হওয়া নেতাটি নিজের স্বার্থে দলের স্বার্থে দেশটাকেই বিক্রি করে দিতে পিচপা হয়না আর গরীব শিক্ষকটি সব সময় চায় দেশটা ভাল থাকুক, জননীটা ভাল থাকুক।
একজন নেতা হওয়া যেমন সহজ, শিক্ষক হওয়া তেমন কঠিন। তার জানতে হয় অনেক কিছু, জানাতেও হয় তার ছাত্রদের। তাদের মতো করে জানাতে হবে।
শিশু শিক্ষকের হাত ধরে নীতি শেখে, আদর্শ শেখে, শেখে মানবতা, বুনে চলে স্বপ্ন। অবশ্য ঐ সব নীতি আদর্শ দিয়ে দেশ চলেনা, দেশ চলে মুজিবাদর্শে, শহীদ জিয়াদর্শে।
মানুষ্যত্ব বর্জিত, আদর্শচ্যুত, হীনমনস্ক নেতারা আজ বীরের সম্মানে সম্মানীত। শিক্ষার আলো ছড়ানে শিক্ষকটি পদদলিত।

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.